নাম : এ. কে. এম আজিজুর রহমান

গ্রাম : কসবা স্টেশন রোড

ডাক : কসবা

থানা : কসবা

জেলা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া

১৯৭১ সালে বষয় : ২২

১৯৭১ সালে পেশা : ছাত্র

বর্তমান পেশা : ব্যবসা

 

 

ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক এ. কে. এম. আজিজুর রহমান একাত্তরের মার্চ মাসেই সশস্ত্র প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনগেরিলা ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান শান্তি কমিটির কোন কোন চেয়ারম্যান কিভাবে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছেন,পাকিস্তানি তপরতা এবং জনগণের প্রতিক্রিয়াও স্পষ্ট করেছেন তাঁর সাক্ষাকারে

 

প্র: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের পর আপনি কি করলেন?

 

উ: আমরা এই সময়ে সেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করলামসেচ্ছাসেবক বাহিনীর মাধ্যমে এলাকার শান্তি শৃংঙ্খলা এবং এডমিনিস্ট্রেশন রক্ষার চেস্টা করিযখন ২৫শে মার্চ রাতে পাকহানাদার বাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইন,পিলখানা,জগন্নাথ হল,রোকেয়া হল এ্যাটাক করলো তখন সাথে সাথে আমরা খবর পাইকুমিল্লার সাথে আমাদের সরাসরি যোগাযোগ ছিলসমস্ত খবরাখবর আমরা সংগ্রহ করতে থাকি এবং সাথে সাথে আমরাও অন্যান্য এলাকার মতো আমাদের এলাকার ছাত্রলীগ-এর নেতৃবৃন্দ,মুজাহিদ,আনসারের ইয়ং সদস্যদেরকে নিয়ে একটা সেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করিকসবা থানার কর্মকর্তা আবুল কাসেম সামস ওসি-র মাধ্যমে কসবার মুজাহিদ এবং আনসারের নামে যে রাইফেলগুলি ছিল সেগুলি আমরা সংগ্রহ করিমূলত তহন এম. পি.,এম. এন. এ এবং কসবার ওসি-র সমর্থন না পাইলে হয়তো এগুলা আমরা পাইতাম নাএগুলি দিয়া আমরা এহানে ট্রেনিং-এর ব্যবস্হা করিনতুন উদ্যমে ক্লাব মাঠে এবং স্কুল মাঠে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করিঅনেককে প্রথম আমরা পিটি প্যারেডের মাধ্যমে লেফট রাইট শিখাইছি,নিয়ম শৃঙ্খলা শিখাইছিএরপর আমরা শুরু করি কিভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ করতে হবে

 

প্র: তখন কি আপনারা কোনো ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেছিলেন?

 

উ: ছাত্র সংগ্রাম পরিষদও গঠন করেছি,সেই পরিষদের আমি আহ্বায়ক ছিলামআর এগুলোর সাথে সাথে আমরা যে কাজগুলি করি তা ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণশান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিলো আমাদেরআওয়ামী লীগ,ছাত্রলীগের মাধ্যমে এগুলা করেছিসাথে সাথে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা নিয়া আমরা বি.এস.এফ-এর একজন অফিসার মেজর মালহোত্রার নৈকট্য লাভ করি এবং তাঁর মাধ্যমে আমরা এক্সপ্লোসিভ এবং ডেমোলেশন করার জন্য আর যে সব জিনিসপত্র দরকার সেগুলো সংগ্রহ করি

 

প্র: আপনারা যখন প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ালেন এর প্রতিক্রিয়া কি দেখলেন?

 

উ: যেহেতু আর্মিরা তহন কসবাতে আসে নাই সেহেতু আমরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছি বলে আমাদেরকে মানুষ বাহবা দিয়েছে এবং দেশের পতাকা দেখার জন্য শত শত লোক তহন এখানে ভিড় জমানো আরম্ভ করছেতাদের বক্তব্য হলো স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ছে এখানেলোকাল প্রশাসন আমাদের পতাকা দেখছে কেউ কিছু বলে নাইআমাদেরকে উসাহ দিয়েছিলযদিও প্রকাশ্যে ছিল না মনে মনে ছিল আরকি

 

প্র: ১৯৭১ সালে আপনি কি আক্রান্ত হয়েছিলেন?

 

উ: ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় আমরা আক্রান্ত হয়েছিলামপ্রথম আক্রান্ত হই যখন আমরা কোম্পানীগঞ্জের ব্রিজ ভাঙ্গতে যাইওখানে ফেইলোর হয়ে আমরা ওখান থেকে আসতে পারি নাইতখন বিকল্প রাস্তায় পলাইয়া আসছি পর সরাসরি গুলির মুখে আমরা পড়িযখন তারা গুলি করতে করতে কোম্পানিগঞ্জে আসে তখন আমি ঐ বিকল্প রোড দিয়ে নবীনগর বাংলোর কাছাকাছি আইসা মহেশপুরের দিকে চলে আসিআমার মটর সাইকেলটা ঐখানে গ্রামের একটা রাস্তার পাড়ে ফেলে রেখে হাঁইটা চইলা আসিআমার গুলি লাগে নাই

 

প্র: আপনি কেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন?

 

উ: আমার দেশাত্মবোধ ছিলসর্বস্তরের বাঙালিদেরকে অবহেলা করা হতো,সরকারি উঁচু জায়গাতে নন বেঙ্গলিরা কাজ করতো,বাঙালিদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হতো না,এমনকি যারা নাকি সাঁতার জানেনা সেই লোকও তখন নৌবাহিনীতে ছিলকিন্তু বাঙালিরা সাঁতার জেনেও নৌবাহিনীতে স্হান পায়না এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য সিলেক্ট হয়েছিলাম কিন্তু আমাকে নেয়া হইল নাআমার অপরাধ বোর্ডে বলছি যে আমি ছাত্রলীগ করিএন্টি স্টেট এলিমেন্ট বলে আমাকে বঞ্চিত করা হলো

 

প্র: আপনার এলাকায় কখন পাকিস্তানিরা আক্রমণ করে?

 

উ: আমাদের এলাকাতে অর্থাৎ কসবাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীরা যে দিন আসে সে দিনটা ছিল ১ লা বৈশাখ বুধবার,১৪ই এপ্রিল ১৯৭১ইংপ্রথম দিন তাদেরকে আড়াইবাড়ির কাছে ডিফেন্স দিয়ে প্রথম গুলি করে আমার ছোট ভাই ফজলুপাকবাহিনীর একটা গাড়ি এই গুলির আওয়াজ পাইয়াই দাঁড়াইয়া পড়ে এবং ওখান থেকে পজিশন নিয়া গুলি করতে থাকেআমাদের বরি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদস্যদের যুদ্ধ সম্পর্কিত জ্ঞান না থাকলেও তারা প্রথম থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল দিয়েই পাকিস্তানিদের রুখার চেষ্টা করেছেএ সুযোগ কসবার সমস্ত ব্যবসায়ী এবং জনসাধারণ আত্মরক্ষার জন্য এক বস্ত্রে কোনো কিছু না নিয়ে সবাই কমলাসাগরে উঠে যায়হাজার হাজার মানুষ তহন পায়ে হেঁটে রেললাইন পার হয়ে ভারতে যেতে থাকেস্বেচ্ছাসেবক বাহিনী তাদেরকে নিরাপদে ভারতে উঠার সুযোগ করে দিয়ে তারপর আস্তেস্তে তারা নিজেরাও ভারতে চলে যায়

 

প্র: পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আপনার এলাকায় এসে কি করলো?

 

উ: যখন আমরা এলাকা ত্যাগ কইরা ফেললাম তখন তারা সাহাপাড়া এবং কসবার স্টেশন পর্যন্ত আইসা আমাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছেপাকিস্তানি আর্মির সাথে কসবার কিছু লোকজন ছিলতাদের নাম এখন মনে নাইতবে রমজান মিয়া ছিলোআর কিছু গোঁড়া পাকিস্তানপন্হী লোক তহন আর্মির সাথে আসছে আইসা আমাদের বাড়িঘর পোড়াইছে

 

প্র: আপনার এলাকায় কখন থেকে মুক্তিবাহিনীর তপরতা শুরু হয়?

 

উ: আমাদের এলাকায় মুক্তিবাহিনীর তপরতা শুরু হয় ২৫ মার্চের পরপরইএই এলাকার সমস্ত ছাত্র,যুবক এবং সাধারণ মানুষ ৭ই মার্চের ভাষণের পরেই মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তখন থেকেই আমরা ট্রেনিং শুরু করে দেই

 

প্র: তখন মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে এ এলাকার জনগণের মনোভাব কেমন ছিল?

 

উ: তারা আমাদেরকে সক্রিয়ভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে যার জন্য আমরা এ কাজটা সার্থকভাবে করতে পেরেছিএমনকি আমরা যহন ভারতে চইলা যাই তজন আমাদের খাওয়া দাওয়ার জন্য জনসাধারণ আমাদেরকে সালদা নদীর গোডাউন খাদ্য গুদাম ভেঙে খাদ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেপরে আমরা ক্যাপ্টেন গাফফার এর নেতৃত্বে ইপিআর,সেচ্ছাসেবক যারা ছিলাম সবাই যাইয়া সালদা নদীর খাদ্যগুদাম ভেঙে নৌকা বোঝাই করে সমস্ত গম আইনা ভারতের প্রাণ থানায় বি. এস. এফ ক্যাম্পের সামনে জড়ো করিকিন্তু ঐগুলা ভারতের সরকারকে দেই নাইওহান থেকে আমরা খাদ্য সংগ্রহ করিএই এলাকার মানুষ খাদ্য সাহায্য,আশ্রয় এবং সমবেদনা জানিয়ে আমাদেরকে প্রেরণা যুগিয়েছে

 

প্র: আপনার এলাকায় রাজাকার কারা ছিল?

 

উ: এই এলাকায় রাজাকারের নাম শুনিয়ে বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়ানো হতোসেই রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার ছিল আড়াইবাড়ির সিদ্দিক মিয়া এবং তার সাথী ছিল আড়াইবাড়ির শহিদ মিয়া এবং আরো অনেক ছোটখাট ছিলওদের নাম এহন মনে পড়তেছে নাপ্রচুর রাজাকার ছিল আড়াইবাড়ি,শাহপুর,বিশারাবাড়ি,তালতলা,কসবাকসবা প্রপার-এ এক দুইজন আছিল যারা এখনও আছে

 

প্র: কসবা থানায় তখন শান্তি কমিটি ছিল?

 

উ: শান্তি কমিটি ছিল

 

প্র: শান্তি কমিটিতে কারা ছিল?

 

উ: শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিল মঈনুল হোসেন সাহেবতবে এখানে একটা ব্যাপার অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করেকথা প্রসঙ্গে যখন উঠছে সেই জন্য আমাকে বলতেই হচ্ছে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হয়েও ঐ ভদ্রলোক প্রথম যেহেতু একজিস্টিং চেয়ারম্যান ছিল সেহেতু তিনি শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হযে এলাকার মানুষদের রক্ষার জন্য চেষ্টা করেনশান্তি কমিটির চেয়ারম্যান উনাকে চাপের মুখে করা হইছিলযেটুকু আমি শুনেছি শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিল আসলে মীরতলার লতিফ মোল্লা সাহেবআমরা যেটা করেছি তাহলো শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মঈনুল হোসেনকে আমরা ব্যবহার করেছি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকেবাড়ি থেকে এসে উনি চেয়ারম্যানি করেছেনআমরা মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন এলাকা থেকে যাইয়া মঈনুল হোসেনের কাছ থেকে আইডেন্টি কার্ড সহ করাইতামগোপনে সই করিয়ে নিয়ে হাজার হাজার আইডেন্টি কার্ড আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবহার করতাম

 

প্র: মঈনুল হোসেন সাহেব কি জানতেন যে আইডেন্টি কার্ডটা মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবহার করছে?

 

উ: না,মঈনুল হোসেন সাহেব প্রথম বুঝতে পারে নাইপরে যেহেতু তার সাথে আমার পরিচয় ছিল,আমার ফাদারের সাথে মঈনুল চলতেন সে হিসাবে ইনফরমেশনটা দিই এবং বলি আপনি একটু সচেতন থাকবেন নইলে আপনি বিপদে পড়তে পারেনতাঁর আইডেন্টি কার্ডটা আমরা আগরতলায় আমদের ক্যাম্পে বসে রেডি করতাম এবং সীর ছাপ্পড় দিয়া দিতামএটা দিয়ে বিভিন্ন শহরে ও ঢাকায় ঢোকা চলততার মূল সই দেওয়া আইডেন্টি কার্ডটা এলাকার কারো কাছে দেওয়া হইত না

 

প্র: ক্যাপ্টেন গাফফার সাব সেক্টর কমান্ডার ছিল?

 

উ: সাব সেক্টর কমান্ডার হলেও তাঁর নির্দেশেই আমরা এ এলাকাতে কাজ করেছিতাঁর সহযোগিতা নিয়ে প্রথম কাজ করেছিপরবর্তীতে যারা রাজনীতিক যোদ্ধা ছিলাম-ছাত্রলীগের যারা ছিলাম কসবার,তাদের সবাইকে নিয়ে দেরাদুন গেরিলা একাডেমীতে গেরিলা যুদ্ধের ট্রেনিং দেয়ানো হয় এবং আমরা আমাদের লোকজনকে নিয়ে বিভিন্ন শহরে ছড়াইয়া ছিটাইয়া পড়ি

 

প্র: স্বাধীতা বিরোধীদেরকে কি ধরা হয়েছিল?

 

উ: না,ধরা হয় নাইশুধুমাত্র সিদ্দিক মিয়ার খোঁজ পাওয়া যায় নাইসিদ্দিক মিয়া শহীদ মিয়ার নাম বললে বা রাজাকার সিদ্দিক মিয়া আসতেছে,রাজাকার শহীদ মিয়া আসতেছে বললে বাচ্চারা ঘুমায়ে পড়তসেই দুর্ধর্ষ রাজাকার সিদ্দিক মিয়া নিখোঁজ হইয়া গেছে স্বাধীনতা যুদ্ধের পরেআর শহীদ মিয়া পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে জেলখানায় ছিল্‌ ৪ বছর পরে ৭৪ সালে সে ছাড়া পায়

 

প্র: যুদ্ধের শেষে এলাকায় ফিরে কি দেখলেন? এলাকার স্কুল,কলেজ,মসজিদ মন্দির-এগুলোর অবস্হা?

 

উ: যুদ্ধের শেষে যহন আমরা কসবায় আসি তহন এটা ছিল একদম বিরান ভূমি,কোনো ঘর-দুয়ার নাইপুরাতন বিল্ডিং দু-একটা ছিল যেমন-আমার বিল্ডিং ছিল,দরজা জানালা ছিল নাএরকম দু-একটা বিল্ডিং ছাড়া টিনের ঘর এলাকাতে খুব কম ছিলপাকিস্তান সামরিক বাহিনী সমস্ত টিনের ঘর এলাকাতে খুব কম ছিলপাকিস্তান সামরিক বাহিনী সমস্ত টিনের ঘর ভাইংগা টিন আর কাঠ দিয়ে বাংকার করেছে,বাংকারে এ সমস্ত পাওয়া গেছেবাংকার তুলে বিরান ভূমি থেকে কিছু কিছু টিন কালেক্ট করে একান্ত গরিব অসহায় যারা তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আমরা সরবরাহ করছিটিন দিয়েছি এবং তাদেরকে বসবাস করার একটা মাথা গোঁজার মত ঠাঁই করে দিবার চেষ্টা করেছিআমাদের কসবাতে মূলত আমাদের চেষ্টায়ই মানুষ প্রথম ঘর দুয়ার করার সুযোগ পায় এবং সরকারি সাহায্য পায়

 

প্র: আপনার এলাকাতে কি প্রচুর মাইন পোতা ছিলো?

 

উ: ছিলো,তবে আমরা ভারতীয় আর্মির মাধ্যমে ডিটেকটর দিয়ে সেগুলো উঠাইএভাবে জনসাধারণের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্হা করা হয়তবুও কসবার অনেক লোকের মাইনে আক্রান্ত হইয়া পা চইলা গেছে,চাত চইলা গেছেমারাও গেছে প্রচুর লোকআর কসবাতে স্কুল সবগুলাই ধ্বংস হইয়া গেছিলআমরা স্কুলগুলা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করিতখন মমতাজ বেগম এখানে একা গার্লস স্কুল করেনআর এম. পি সিরাজুল হক সাহেব সাহায্য দিয়ে সরকারি স্কুলগুলা,মসজিদ,রাস্তাঘাট পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেমূলত কসবাতে ৭৩ সালের মধ্যেই আবার সমস্ত যোগাযোগ,স্কুল,কলেজ,মসজিদ,মাদ্রাসা সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়

 

প্র: যুদ্ধের শেষে আপনার অস্ত্র কি করলেন?

 

উ: আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টে (বি. এল.এফ.) ছিলামসর্বশেষ বি. এল. এফ.-এর জেলা কমান্ডের আমি জেলার কমান্ড টিম এডমিনিস্ট্রেটর হিসাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাবডিভিশনের দায়িত্বে ছিলামতখন আমি সাবডিভিশনের সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গিয়ে আমাদের বি.এল. এফ-এর নেতা  শেখ ফজলুল হক মণির নির্দেশ মোতাবেক ঢাকা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দেই

 

প্র: যুদ্ধের শেষে আপনি কি করলেন?

 

উ: যুদ্ধের পর অস্ত্র জমা দিয়ে আসার কিছু পরেই,৭৪ সালে আমার ফাদার মারা যায়তখন আমি খুব বেকায়দার পড়ে যাইতখন আমি পড়াশুনা এবং অন্যান্য চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে সংসারের হাল ধরি এবং পৈতৃক ব্যবসায় লেগে যাই

 

প্র: গণহত্যা এবং নারী নির্যাতন সম্পর্কে আপনি কি কিছু বলবেন?

 

উ: প্রত্যেক ক্যাম্পে যেমন কসবাতে টি. আলীর বাড়িতেও যে ক্যাম্প ছিল সেখানেও নারীদের ছড়াছড়ি ছিলসেখানে এক রাজাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে যুবতী মেয়েদেরকে ধরে  এনে পাক আর্মির মনোরঞ্জনের জন্য দিয়েছে-সে সব মহিলা স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ক্যাম্প থেকে ছাড়া পেয়েছেতারা স্বাভাবিকভাবেই লজ্জায় নিজেদের আত্মগোপন করে অন্যখানে চলে গিয়েছেআর যারা নাকি অসহায় ছিল এদেরকে চিকিসার জন্য আমরা পাঠাইছিতাদের নাম বলতে পারবো না,