নাম
:
আবদুল আউয়াল
(বীর প্রতীক)
পিতার
নাম : মোহর আলী
গ্রাম
:
মান্দারপুর
থানা
:
কসবা
জেলা
:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১৯৭১
সালে পেশা :
সেনাবাহিনীতে
চাকুরি
বর্তমান
পেশা :
অবসরপ্রাপ্ত
সুবেদার
ইস্ট
বেঙ্গল
রেজিমেন্টের
সুবেদার
আবদুর আউয়ার
২৫ মার্চ রাতে
পাকিস্তানি
হামলার পরদিনই
নিরস্ত্র
বাঙালির পাশে
এসে দাঁড়ান। ৯ম
বেঙ্গলের
কমান্ডিং
অফিসার মেজর
আইন উদ্দিন-এর
কমান্ডে তিনি
যুদ্ধ করেন। কসবা,গোপীনাথপুর,বাড়াই,উজানিসার,চারগাছ,রায়তলাসহ
অসংখ্য স্হানে
পাকিস্তানিদের
বিরুদ্ধে
লড়াই করেছেন
তিনি। বীরত্বপূর্ণ
লড়াইয়ের জন্য
তিনি
বীরপ্রতীক খেতাব
লাভ করেন।
প্র:
২৫ মার্চ
ঢাকায়
পাকবাহিনীর
আক্রমণের পর আপনি
কি করলেন?
উ: ১৯৭১
সালের মার্চ
মাসের ১৮
তারিখ আমি ২
মাসের ছুটি
নিয়া বাড়ি আসি। বাড়িতে
থাকাকালীন অবস্হায়
স্বাধীনতা
যুদ্ধ আরম্ভ
হইয়া যায়। তখন আমি আমার
নিকটতম যে
রেজিমেন্ট
অর্থাৎ ফোর ইস্ট
বেঙ্গল
রেজিমেন্ট
তখন
ব্রহ্মণবাড়িযায়
ছিল,সেই
ফোর ইস্ট
বেঙ্গল
রেজিমেন্টে
যাইয়া ২৬ তারিখে
আমি যোগদান
করি। ফোর
ইস্ট বেঙ্গল
রেজিমেন্টের
সাথে যুদ্ধ করে
শেষ পর্যন-
আমরা আগরতলা
যাই। আগরতলা
যাওয়ার বেশ
কিছু দিন পর
নাইন ইস্ট বেঙ্গল
রেজিমেন্ট
এবং ফোর ইস্ট
বেঙ্গল
রেজিমেন্ট দুই
ভাগে বিভক্ত
হয়। আমি
নাইন বেঙ্গলে
চইলা যাই। নাইন
বেঙ্গলের
কমান্ডিং
অফিসার ছিলেন
মেজর আইনউদ্দিন
সাহেব। উনার
সাথে আমি কাজ
করতে থাকি।
প্র:
আপনি কোথায়
কোথায় কিভাবে
যুদ্ধে
অংশগ্রহণ
করলেন?
উ: তখন
কসবা এবং
কুমিল্লা
সিলেট সড়কে পাকিস্তান
হানাদারদের তৎপরতা
বেড়ে গেছে। একটা খবর
পাওয়া গেল যে,প্রতিদিন
সকাল ৬টা কি
৭টার দিকে
কসবা থেকে পাকবাহিনীর
একটা
কোম্পানি
গঙ্গাসাগর
যায় এবং দুপুর
১২টার দিকে
তারা আবার
কসবা ফিরে আসে। এইভাবে
রেল লাইনের
উপর দিয়া তারা
টহল দেয়। তখন আমি
আইনউদ্দিন
সাবের
নির্দেশে সেই
জাগাতে যাইয়া
এম্বুশ করি। এম্বুশ
করার পর দেখা
গেল যে ৭টার
সময় ঠিকই তাদের
লোক আসতেছে। যখন তারা
আমাদের সামনে
আইস্যা গেল
তখন তাদের উপরে
ফায়ার করা
হইছে। তাদের
একটা
কোম্পানিতে
প্রায় দেড়শ
লোক ছিল। তাদের সাথে
সেখানে
আমাদের যুদ্ধ
আরম্ভ হইয়া গেল। সেই
যুদ্ধে তাদের
অনেক
ক্ষয়ক্ষিতি
হইল। অনেক
লোক মারা গেল। এম্বুশটা
ছিল এইরকম:
রেল স্টেশনের
পশ্চিম পার্শ্বে
একটা বাড়ি ছিল। সেই বাড়ির
মধ্যে আমি এবং
আমার সাথের ৫
জন লোক নিয়া
বাড়ির পশ্চিম
পার্শ্বে
চইলা যাই এবং
বাকি লোক যারা
আছিল তাদেরকে
রেল লাইনের
পূর্ব পাশে যে
কাঁচা সড়ক আছে
সেই সড়কে
রাইখা যাই। আমার নির্দেশ
ছিল ওদেরকে
পশ্চিম দিক
থেকে প্রথম আমি
ফায়ার করব। তারা রেল
লাইনের উপর
দিয়া আসতেছে। আমি যখন
ফায়ার করি তখন
উপরে যা লোক
ছিল তাদের মধ্যে
অনেক লোক মারা
গেল। এল. এম.
জি. এবং
পাঁচটা
রাইফেল ছিল
ফায়ার করার জন্য। তারপরে
যাইয়া যখন ওরা
পুব পাশে
পজিশন নিছে সেই
মুহূর্তে
আবার পূব
পাশের থাইকা
ফায়ার করল। পাকিস্তানিদের
সম্মুখের যে
ভাগটা ছিল
৮০/৯০ জনের
মতন লোক তারা
সবাই সেদিন
মারা গেল। পরবর্তীতে
আমি ঐদিক
থাইকা সইরা
আমার যে ট্রুপস
ছিল রেল
লাইনের পুব
পাশে তাদের
সাথে যোগ দেই। এরপর দেখা
গেল যে
উজানিসার এবং
কুঠি চৌমুহনী থেকে
আমাদের উপরে
আর্টিলারি
খুব আসতাছে। যদিও
আর্টিলারি
আমাদের উপরে
আসে কিন্তু আমাদের
কোনো ক্ষতি
করতে পারে নাই। কারণ আমরা
তাদের সেফটি
মার্জিনের
ভিতরে ছিলাম। আমার উপরে
আর্টিলারি
ফায়ার কোনো
এফেক্ট করে নাই। যুদ্ধ
তখনও চলতেছে। তাদের
পিছনের যে
দ্বিতীয় লাইন
ছিল সেটা আস্তে
আস্তে পশ্চিম
পাশ দিয়া
আমাদের সামনা
সামনি হয়া গেছে। এখন খুব
যুদ্ধ চলতেছে। এইভাবে
প্রায় ১০টা
পর্যন্ত
যুদ্ধ চলল। পরে দেখা গেল
যে তাদের সাথে
যোগ দিবার
জন্য সয়দাবাজের
মোড়ের থাইকা
আর একটা
কোম্পানি
আসতাছে। এই বিষয়গুলা
লক্ষ্য করছি
আমরা দেবীপুর। থাইকা
কারণ সেকানে
আমাদের ফাস্ট
বেঙ্গল-এর
একজন সুবেদার
ছিলেন
সুবেদার
শামছুল হক। উনি ছিলেন
মর্টার
কমান্ডার। উনার থ্রি
ইঞ্চি মর্টার
ছিল। উনি যখন
খবর পাইলেন যে
আমি সেখানে
যুদ্ধ করতেছি
তখন উনি
লতুয়ামুড়া
আইসা থ্রি
ইঞ্চি মর্টার
লাগায়া এদের
উপরে ফায়ার
আরম্ভ করছে। এটাই আমার
সৌভাগ্য ছিল,আমি যে
পজিশনে পইড়া
গেছিলাম যদি
শামছুল হক সাব
সেখান থাইকা ফায়ার
না করতেন
তাহলে আমার
সেখান থাইকা
উইথড্র কইরা
আসাই আসম্ভব
ছিল। এটা
সুবেদার
সাহেবের
অবদান। আমাদের
মনতলী যে
ক্যাম্প আছে
সেখান থাইকা
আমি কোনো
সাহায্য
পাইতেছি না। শামছুল হক
সাহেবের
মর্টার ফায়ারের
কারণে এরা
আমার কাছে
ভিড়তে পারে
নাই।
এই
মুহূর্তে এক
জন লোকের কথা
স্মরণ করতে হয়
তিনি হলেন
মরহুম
চেয়ারম্যান
রমজান সাহেব। উনার
অবদান যথেষ্ট। উনি
আমাদের সাথে
সাথে সব সময়
রইছে। উনি
গোপীনাথপুর
ইউনিয়ন থেকে
যেভাবে হোক
কস্ট কইরা
আমাদের
লোকজনেরে
পানি খাওয়ানো,চিড়া,মুড়ি যা
দরকার যতটুকু
উনি পারছেন
করছেন। লোকগুলাকে
বাঁচাই
রাখছেন। তখন বাজে
প্রায় ৪টা। তখন আমি
বাধ্য হই
লোকগুলাকে
উইথড্র করতে। আমি একটা
মেশিন গান
রাখছিলাম
মুড়ার (টিলা)
উপরে। সেই
মেশিন গানটাও
আমার অনেক কাজ
করছে। এইটারে
কভারেজ দিয়া
আমি এদেরকে
সেখান থাইক্যা
খুব সতর্কতার
সাথে উইথড্র
করালাম।
আমি
চইলা গেলাম
গোপীনাথপুর
এর পূর্বদিকে। শেষ পর্যন্ত
আমি চইলা
গেলাম বাড়াই। কারণ
এখানে একা
থাকা আবার সেই
জাগা দখলে
রাখা আমার
দ্বারা সম্ভব
না। বাড়াই
যাইয়া আমি
লোকগুলাকে
খাওয়া-দাওয়া
করাইলাম। ওখানে
খাওয়া-দাওয়া
করাইলাম
মুহুরি বাড়ির
আবুল হাশিম এর
বাড়িতে। সে সম্পর্কে
আমার আত্মীয়। উনার
বাড়িতে উনি
খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্হা
করলেন। খাওয়া-দাওয়ার
পর ক্যাপ্টেন
সালেহ সাহেব
আসছেন। উনাকে
আমার কাছে
পাঠাইছেন
আইনউদ্দিন
সাব। উনি
আমাকে বললেন
যে,সুবেদার
সাব আমি এখানে
আসছি আপনার যে
পজিশনটা আছে
ইমাম বাড়ি স্টেশনে
সেই জাগাটা
দখলে রাখবেন,আমি
আপনাকে
সাহায্য করবো। এখানে
বিদেশী
সাংবাদিক
আসবে জাগাটার
ফটো নিবে
আপনার সাক্ষাৎকার
নিবে। আমার
কাছে একটা
প্লাটুন রৈাক
দিছে। একজন
সুবেদার সাব
আছে। আপনারা
দুনোজনে মিলা
জায়গাটা
রাখেন। এই
জাগাটা
ক্যাপচারে
রাখবার জন্য
আমি আছি। তখন আমি
বললাম যে ঠিক
আছে স্যার,আপনি
আমার সাথে
থাকেন। আপনাকে
আমি পরে
সুবেদার
সাবের কাছে
দিয়া দিব। সুবেদার
সাবকে আমি
বললাম যে,আপনি
চারটার সময়
ইমাম বাড়ি
স্টেশনে
পৌঁছায়া যাবেন। আর আমি
আগেদা
সয়দাবাজের
মোড়ে চইলা যাব। বিদেশী
সাংবাদিক
আসবে। এদের
উপর যাতে কোনো
আক্রমণ না হয়। সয়দাবাজের
মোড় থেইকা
এখানে লোক
আসবে। সেখানে
আমি আমার
লোকগুলা
রাইখা আসি। পজিশন
লাগায়া আমি
আসব। এখানে
যা কথা বলার
উনাদের সাথে
আমি বলব। এই কথা বলার
পর উনাকে
গোপীনাথপুর
পাঠাই দিলাম।
সকাল
বেলা যখন আমি
আসি তখন
কিছুটা
অন্ধকার ছিল। এইরকম অবস্হায়
যখন পূর্ব
পাশে মুড়ার
থাইকা আমি
নিচের দিকে
নামবার লাগছি
তখন আমার উপরে
পাঞ্জাবিরা
ব্রাশ করল। তখন আমি
সেখানে সাইড
নিয়া নিলাম। লোকগুলা
সরাই ফেললাম। পরে বুঝতে
পারলাম যে,আমার
লোক পজিশনে
যায় নাই। পরে খবর নিয়া
দেখলাম যে,উনি
উনার প্লাটুন
নিয়া ভাইগা
গেছে। ফায়ার
যখন আরম্ভ হইছে
তখন দেখা গেল
গোপীনাপুরের
দক্ষিণ পাশের
থাইকাও ফায়ার
আরম্ভ করছে। তখন এই
জাগা থাইকা
আমার আগে বাড়া
সম্ভব ছিল না। সেই সময়
আমি লোকগুলা
আগে সরাইয়া
বাড়াই গেলাম। শেষ পর্যন্ত
দেখা গেল,তারা আর
এদিকে অগ্রসর
হয় নাই। গোপীনাথপুরের
দিকে আসে নাই। পরবর্তীতে
কি করা যায় এই নিয়া
চিন্তা ভাবনা
করতেছি এই সময়
আইনউদ্দিন
সাবের অর্ডার
আসল আইসা পড়ার
জন্য। আমি
সেখান থাইকা
চইলা যাই
মনতলী।
পরবর্তীতে
আমার উপর একটা
অর্ডার আসল
উজানিসার
অপারেশনের
জন্য। সেখানে
খবর নিয়ে জানা
গেল যে
ব্রিজের
পশ্চিম পার্শ্বে
ছয়টা
আর্টিলারি
গান এবং এক
কোম্পানি পাকিস্তানি
আর্মি আছে। এই খবর
পাওয়ার পর
আমাদের
ফোর্সকে
কমান্ডার খালেদ
মোশাররফ সাব
অর্ডার দিলেন
উজানিসার ব্রিজের
নিচে যে
আর্টিলারী
আছে তাদের
উপরে রেইড
করার জন্য। আইনউদ্দিন
সাবের মারফতে
সেই অর্ডার
পাওয়ার পর আমি
সেখান থাইকা
আসলাম। আসার
পরে এখানে
আমাদের যে থানা
আওয়ামী লীগ
কনভেনার
ছিলেন মনা
মিয়া উনার আসল
নাম ডাক্তার
ওয়াহিদ
উদ্দিন আহমেদ,উনার
সাথে যোগাযোগ
করলাম রাইতলা
আইসা। আসার
পর গোপনে আমরা
লোক নিয়া
সেখানে অবস্হান
করলাম। সেখান
থাইকা আমার
লোক নিয়া আমি
উজানিসার ব্রিজ
রেকি করার
জন্য যাই। সাথে
রাইতলার শহীদ
ছিলো। তাকে
সাথে নিই কারণ
রাস্তাঘাট
সম্বন্ধে
আমার অত জানা
ছিল না। সে
আমাকে গাইড
কইরা নিয়া যায়
এবং
রানীক্ষেত যাইয়া
সিভিল বেশে
উজানিসারের
ব্রিজের
কাছাকাছি
গিয়া আমরা সেই
জাগা রেকি
কইরা আসি। তারপরের দিন
আমরা সেখান
থাইক্যা
অন্ধকারে রওয়ানা
হই উজানিসার
ব্রিজ রেইড
করার উদ্দেশ্যে। আমার
লোকগুলাকে
অর্ডারে যা
বলেছিলাম সেই
টাইম মতে
রাত্র ৮টা ১০
মিনিটে
সেখানে আমরা
রেইড করি। একটা
প্লাটুন মানে
৩৭জন লোক আমরা
ছিলাম এবং সব
লোকই আমার
আর্মির লোক
ছিল। এদেরকে
নিয়া সেখানে
রেইড করি। এখানে একটা
মজার বিষয় ছিল
যে,আমরা
যখন পজিশনে
যাইয়া পৌঁছি
এবং আমাদের
টাইম হইয়া
গেছে সেই
মুহূর্তে ২টা
ট্রাক বোঝাই
পাঞ্জাবি
উজানিসার
ব্রিজের
সামনে আইসা
দাঁড়াই পড়ছে
এবং সেখানে
লোক উঠানামা
করতাছে। সেই
মুহূর্তে আমি
সেখানে ফায়ার
ওপেন করি। এহানে ঐটাও
আমাদের
টার্গেটে
পইড়া গেছে। আবার এখানেও
যে লোক আছে
সেই লোকও
আমাদের টার্গেট
হইছে। এখনে
প্রায় আধা
ঘন্টার মতন
আমরা ফায়ার
করি। এখানে
বেশ লোক হতাহত
হইল। রেইডের
যে নিয়ম কানুন
সে হিসাবে
এইটা বেশি টাইম
হইয়া গেছে। কারণ চার্জ
করার ক্ষমতা
আমাদের ছিল না। যেহেতু
তাদের একটা
কোম্পানি,আবার
আছে ছয়টা
মর্টার গান, আর্টিলারি
গান,তারপর
আবার ২ ট্রাক
আইসা পড়ছে। সেজন্য
আমাদের আর
বেশি কিছু করা
সম্ভব ছিলো না।
প্র:
আপনার গ্রুপে
বেঙ্গল
রেজিমেন্টের
এবং ইপিআরের
কতজন লোক ছিল?
উ: আমার
সাথে ইপিআরের
লোক ছিল তিনজন। তিন জনের
মধ্যে একজন
চরনাল-এ শহীদ
হইছে। পরবর্তীতে
তার কথা আমি
বলব। বেঙ্গল
রেজিমেন্টের
ধরেন লাস্ট
পর্যন্ত আমার
সঙ্গে ৩৭ জন
ছিলো। একটা
প্লাটুন পুরা
ছিল। তাছাড়াও
আমি কিছু আলগা
ছাত্র রাখছি। এছাড়াও
আমি আরও অনেক
লোক
বাড়াইছিলাম
প্রায় ৫০-এর
মত আমার কাছে
লোক ছিল।
এরপরে
সেখান থাইকা
গাফফার সাব
এবং ওহাব সাব
চইলা যায়
নয়নপুর সাইডে। খালেদ
মোশাররফ
সাবের
অর্ডারে
আমাকে আইনউদ্দিন
সাবে
পাঠাইলেন
দেবীপুরে। সেখানে আসার
পরে আমরা একটা
অপারেশন করি। আমার মনে
হয় মে মাসের
মাঝামাঝি
সময়ে আমি কসবা
পুরান
বাজারের
পূর্ব পাশ
দিয়া চরনাল
যাই। চরনাল
গিয়ে জানতে
পারলাম যে রেল
লাইন দিয়া উত্তর
দিক থাইকা
চরনালের দিকে
পাঞ্জাবি
আসতাছে। প্রায়
৩০/৩৫জন
পাঞ্জাবি
অর্থাৎ একটা
প্লাটুন
আসতাছে। তখন এখান
থাইকা আমি
তড়িঘড়ি কইরা
কভারিং এ চইলা
গেলাম।
প্র:
দেশের ভেতরে
কোথায় কোথায়
লড়াই করলেন? কোন পথ
দিয়ে কিভাবে
ঢুকলেন? কতজন নিয়া
ঢুকলেন?
উ: দেশের
ভিতরে আমি
প্রথমে ৪৭ জন
লোক নিয়া ঢুকি। মনিয়ন্দ
আসি। মনিয়ন্দ
থাইকা
নৌকাযোগে
চারগাছ আসি। প্রথমে
আমি এখানে
থাইসা এদের অবস্হানগুলা
কোথায় কি আছে,কি
পজিশনে আছে,সব আমি
লোক মারফতে
জানলাম। এখানে আইসা
অনেক
মুক্তিফৌজ
পাইলাম। ফারুক নামে
একজন ১৬০ জন
লোক নিয়া ছিল। তার আসল
নাম ছিল হিমাংশু। সে তার
নাম দিছে
ফারুক। ১৬০
জন লোক নিয়া সে
অপারেশন করে। তার বাড়ি
হইছে
কালিকচ্ছ। এইভাবে সবাই
কাজ করতেছি।
সেপ্টেম্বর
মাসের
লাস্টের
দিকের ঘটনা। আমার
লোকগুলাকে
আমি তিনভাগে
বিভক্ত করি। একটা
সেকশন দেওয়া
হলো হাবিলদার
মকবুলকে। আর একটা
সেকশন দেওয়া
হইল হাবিলদার
হালিমকে। আর একটা
সেকশানে
হাবিলদার
আজিজকে দিলাম। হালিমকে
রাখলাম
চারগাছ। মকবুলকে
দিলাম বিটঘর। আর আজিজকে
আমার সাথেই
রাখছি। এই
অবস্হায় হঠাৎ একদিন
কুঠি থাইকা ৪টা
নৌকায় করে
পাকসেনারা রাস্তায়
ফায়ার করতে
করতে আসতেছে। তখন আমি
চারগাছেই
ছিলাম এবং
মকবুল বিটঘরে
ছিল। তাদের
আসা সম্ভব ছিল
না। আমরা
জানি তাদের
উদ্দেশ্য
চারগাছ। চারগাছটা
ছিল আমাদের
একটা ঘাঁটির
মতো। এটা
আমাদের হেড
কোয়ার্টারের
মতো। এখানে
আমাদের লোকজন
আদান
প্রদানের
একটা কেন্দ্রস্হল
ছিল। সেই
হিসাবে
চারগাছই
আমাদের
যোগাযোগের
জাগা ছিল। আর তাদেরও
টার্গেট ছিল
চারগাছ। এদিকে
চারগাছ
বাজারে হালিম
অ্যাকশনে
যাবার পূর্ব
মুহূর্তে
পাঞ্জাবিরা
ঢুইকা গেছে
এবং চারগাছে
আগুন দিয়া
কিছু বাড়ি
পুড়াইছে। বিনা
প্রতিরোধেই
তারা ঢুইকা
গেছে। চেয়ারম্যান
আশরাফ আলী উনি
ছিলেন আমদের
মানি আগে উনি
আওয়ামী লীগ
করছেন। যখন
মুক্তিসংগ্রাম
লাইগা গেছে
তখন উনি মুক্তিফৌজের
জন্য টাকা
পয়সা বা খাওয়া
দাওয়ার ব্যবস্হা
করতেন। আশরাফ
চেয়ারম্যানের
বাড়ি যে
মুক্তিফৌজের
একটা ঘাঁটি
এইটা
পাকবাহিনীও
জানতো। ঐ
বাড়িটা
পুড়াইয়া দিছে। আরও কতক
বাড়ি পুড়ছে। আমরা কিছু
করতে পারি নাই।
এরপর একদিন খবর পাইলাম যে মুলক গ্রামের দিকে তিনটা লঞ্চ আসতেছে। তখন আমি হাবিলদার আজিজকে নিয়া প্লাটুন হেড কোয়ার্টার থাইকা মূলক গ্রামে চইলা যাই। মূলক গ্রামে যাওয়ার পর আমি ওদের পিছনে পিছনে আসতে থাকি। সেখানে অর্থাৎ মূলক গ্রামের পূর্ব পাশে বিলের মধ্যে ২টা বটগাছ আছে। সেখানে তারা আইসা লঞ্চগুলা দাড়া করাইছে। কোনো দিকে আর সরে না সেখান থাইকা। তহন সন্ধ্যা হইয়া গেছে। তারা রাত্র সেখানে কাটাল। আমি এই লঞ্চগুলাকে ফলো করতেছি। পরের দিন দেখা গেল প্রায় ১০ টার দিকে লঞ্চগুলা দক্ষিণ দিকে আসতেছে।