নাম: আবদুল
কাইয়ুম
পিতার
নাম : মরহুম আবদুল
হাকিম
গ্রাম: চরনাল
ডাকঘর: কসবা
ইউনিয়ন: কসবা
থানা: কসবা
জেলা:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১৯৭১
সালে বয়স: ২৪
১৯৭১
সালে
শিক্ষাগত
যোগ্যতা: ছাত্র
১৯৭১
সালে পেশা: ছাত্র
বর্তমান
পেশা: চাকুরি
ছাত্রনেতা
আবদুর কাইয়ুম ‘স্বাধীন
বাংলা ছাত্র
সংগ্রাম পরিষদ’এর
সঙ্গে যুক্ত
থেকে ছাত্র
জনতাকে
সংগঠিত করেছেন,লড়াইয়ে
অংশ নিয়েছেন। তিনি
চন্দ্রপুর-কসবা
যুদ্ধের কথা,মুক্তিযুদ্ধের
সংগঠকদের কথা
যেমন বলেছেন-তেমনি
এলাকার
মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের
কথাও জানিয়েছেন
তাঁর সাক্ষাৎকারে।
প্র:
১৯৭০ সালের
নির্বাচন
সম্পর্কে
বলুন?
উ:
১৯৭০-এর
নির্বচানে পাকিস্তান
জাতীয়
পরিষদের
প্রার্থী
ছিলেন
অ্যাডভোকেট জনাব
সিরাজুর হক
এবং
প্রাদেশিক
পরিষদের প্রার্থী
ছিলেন
অ্যাডভোকেট
সৈয়দ এ. কে. এম
এমদাদুল বারী। তাঁদের পক্ষে
আমরা
নির্বাচনী
অভিযানে অত্যন্ত
সক্রিয়ভাবে
নেমেছি। তাঁদের
পক্ষে
নির্বাচনী
প্রচার
অভিযান
চালাতে গিয়ে
প্রতিটি
মিছিলে
আমাদেরকে
মুসলিম লীগের
সাথে অনেক
সংঘাতে জড়িত
হইতে হয়েছে। টি. আলী
সাহেবের
পার্টির সাথে
আমাদের অনেক
মারপিটও
হয়েছে। বর্তমান
নেতৃবৃন্দের
অনুগামী
ছেলেরা বা কর্মীরা
যেভাবে
সাহায্য
সহযোগিতা
পাচ্ছে,তখন আমরা
সেটা পেতাম না। আমাদের
নেতারা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জেলা আওয়ামী
লীগের পক্ষ
থেকে বা
ছাত্রলীগের
পক্ষ থেকে অথবা
কুমিল্লা
জেলা
ছাত্রলীগের
পক্ষ থেকে সেখানে
যাওয়া আসা করত। ছাত্রলীগ
ঐ সময়ই
প্রতিষ্ঠিত
হয়। তখন
কসবা এবং
আখাউড়া মিলে
কসবা থানা ছিল। সেই কসবা
থানায় তখন পর্যন্ত
কোনো কলেজ ছিল
না। যখন আমি
ছাত্রলীগ
প্রতিষ্ঠা
করি তখন
রিটায়ার্ড
কর্নেল আনিস
এবং অন্যান্য
আমার ছোট ভাইয়েরা
আমাকে
সার্বিক
সহযোগিতা
করেছে। তারা
ছাত্রলীগের
প্যানেল তৈরি
করে আমাকে সভাপতি
এবং
ছানাউল্লাহকে
সাধারণ
সম্পাদক করে। নির্বাচন
এগিয়ে আসতে
লাগল। আমরা
অনেক
প্রতিকূলতার
মুখে নির্বাচনে
নেমে পড়লাম
এবং আমরা সব
কিছু বাদ দিয়ে
জাতীয় স্বার্থে
নির্বাচনকে
সামনের দিকে
এগিয়ে নিয়ে
গেলাম।
প্র:
এই এলাকায়
আওয়ামী লীগের
নেতৃত্বে
কারা ছিল?
উ: আমি
তখন কসবা থানা
ছাত্রলীগের
সভাপতির দায়িত্ব
পালন করতাম। পরবর্তীতে
যুদ্ধের
প্রাক্কালে
আমি ছিলাম স্বাধীন
বাংলা ছাত্র
সংগ্রাম
পরিষদের কসবা
থানার
কনভেনার। এ সময় কসবা
থানা আওয়ামী
লীগের
সভাপতির
দায়িত্ব পালন
করছিলেন আমার
চাচা মরহুম
আবদুল জব্বার
সাহেব। সেক্রেটারি
জেনারেলের
দায়িত্ব পালন
করছিলেন সৈয়দ
আবু
আবদুল্লাহ
গেদু ভাই। যুগ্ম
সম্পাদকের
দায়িত্ব পালন
করছিলেন শহীদুল
ইসলাম শহীদ
ভাই,বর্তমানে
খাদ্য
মন্ত্রণালয়ের
উপসচিব। সাংগঠনিক
সম্পাদকের
দায়িত্ব পালন
করছিলেন আখাউড়ার
তেতৃয়া
গ্রামের জনাব
ফজলুর রহমান ছট্টু
মিয়া। আখাউড়া
তখন থানা ছিল
না। আখাউড়া
কসবা মিলে
একটি থানা ছিল। এই থানায়
মোট ১৫ টি
ইউনিয়ন ছিল।
প্র:
কসবাতে জামাত
এবং মুসলিম
লীগ খুব
সক্রিয় এবং
শাক্তিশালী
ছিল কি ?
উ: সেখানে
মুসলিম লীগ
অনেক আগে
থেকেই সক্রিয়
ছিল। তবে
আওয়ামী লীগ
সংগঠন হিসাবে
অনেক বড় ছিল। কিন্তু মুসলিম
লীগের মতো
এতটা
ঐক্যবদ্ধ ছিল
না। মুসলিম
লীগের কাছে পাকিস্তান
ছিল একটা
সত্যিকারের
পৈতৃক নিবাস। পাকিস্তান
নামের
বিরুদ্ধে
কোনো কথা বলা
যাবে না এবং
তারা যত
অপকর্মই করুক
না কেন আল্লাহ
আকবার এবং পাকিস্তান
জিন্দাবাদ
বলাটাই যেন সব
গুনাহ
মওকুফের একমাত্র
উপায় ছিল
তাদের কাছে।
প্র:
জামাত ও
মুসলিম লীগ
কিভাবে
নির্বাচনে প্রচারণা
চালাতো?
উ: জামাত
তখন সাংগঠনিক
দিক থেকে যথেষ্ট
শক্তিশালী
ছিল। শক্তিশালী
থাকলেও
মুসলিম লীগের
মতো এতটা আমাদের
মুখোমুখি হতে
পারতো না। তারা তাদের
কর্মকান্ড বা
তাদের
নির্বাচনী অভিযান,তাদের
সাংগঠনিক তৎপরতা
তাদের মতো করে
চালিয়েছে। আমাদের
বিরুদ্ধে
তারা অনেক কথা
বলেছে। আমরা
বাংলাদেশকে
ভারতের
অঙ্গরাজ্যে
পরিণত করতে
চাচ্ছি। ভারতের
দালাল হয়ে
যাচ্ছি। কিন্তু আমরা
জনগণকে ১৯৭০
সালের
নির্বাচনে
বুঝাতে সমর্থ
হয়েছিলাম যে,হাজার
মাইল
ব্যবধানে
দেশের দুটো
অংশ পূর্ব পাকিস্তান
পশ্চিম পাকিস্তানের
সাথে যদি যোগ
দিযে বা মিলিত
থেকে যদি ‘পাকিস্তান’ নামে
একটা রাস্ট্র
হতে
পারে-তাহলে পূর্ব
পাকিস্তান
ইরানের সাথে
যোগ দিয়েও
ইরান নামে
অধিষ্ঠিত থাকতে
পারে। আবার
পূর্ব পাকিস্তানতো
সৌদি আরবের
সাথেও যোগ
দিতে পারে। কারণ
আদর্শের দিক
থেকে তারা
মুসলমান
আমরাও মুসলমান। মুসলমান
তো
নাইজেরিয়াতে
আছে, মুসলমান
তো মরক্কোতেও
আছে। তাহরে
এটাকে তো
মরক্কো করা
যায়। এটা
একটা দেশ। তারা যেখানে
বক্তব্য
রেখেছে
মসজিদে
মসজিদে ঈদগাহে
যতখানে
বক্তব্য
রেখেছে আমরা
সেটাকে কাউন্টার
করেছি। কিন্তু জামাত
আমাদের সাথে
মুখোমুখি
কোনো সংঘর্ষে
আসার প্রয়াস
খুব কমই
পেয়েছে।
প্র:
৭০-এর
নির্বাচনে
বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান
সাহেব কি
কসবায় গিয়েছিলেন
?
উ: উনি
নভেম্বর
মাসের শেষ
দিকে,নির্বাচনের
আট দশদিন আগে
গেলেন কসবাতে। তিনি ডাক
বাংলাতো
উঠেছিলেন। তারপর উনাকে
আমরা সেখান
থেকে মঞ্চে
নিয়ে গেলাম। আমার সাথে
ছিল
জাহাঙ্গীর,তখন সে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
কলেজের ভিপি। ঐ সভায়
প্রায় লক্ষাধিক
মানুষ কসবা হাই
স্কুল মাঠে
সমবেত হয়েছিল।
প্র:
১৯৭১ সালের ২৫
মার্চ রাতে
পাকবাহিনীর
আক্রমণের পর
আপনি কি করলেন
?
উ:
বঙ্গবন্ধুর ৭
মার্চের ভাষণ
শুনার পর
থেকেই আমরা
এলাকায়
প্রত্যেক দিন
জঙ্গি মিচিল
বের করতাম। আমরা লাঠি
সোটা নিয়ে
এলাকায়
এলাকায় জঙ্গি
মিছিল বের
করেছি। ২৫
মার্চের কিছু
দিন আগে
চতুর্থ ইস্ট
বেঙ্গল
রেজিমেন্টের
একটা কি দুইটা
কোম্পানির
পোস্টিং ছিল
ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে। সেটা
দেখেও এসেছি। ক্যাপ্টেন
জাহাঙ্গীরের
সাথে কিছু কথা
বলেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
নেতৃবৃন্দের
সাথে কিছু কথা
বলেছি। আমাদের
নেতৃবৃন্দের
সাথে কথা বলে
তেনম একটা আশাপ্রদ
কিছু শুনিনি। সিরাজুর
হক সাহেবের
কাছে প্রশ্ন
করলে তিনি যথার্থ
বা সরাসরি
কোনো
দিকনির্দেশনা
দিতে পারেননি। তথাপি
কিছু না পেয়েও
আমরা আমাদের
প্রস্তুতিমূলক
ব্যবস্হা
হিসাবে কসবা
ক্লাব ময়দানে
চরনাল
গ্রামের মুজাহিদ
কমান্ডার
আবদুর নুর এবং
আনসার কমান্ডার
মোহাম্মদ
আলীকে দিয়ে
আমি,কসবা
হাইস্কুলের
সহকারী
শিক্ষক আবদুর
কাদের বি. কম.
মোজাম্মেল হক
(তখন কৃষি
বিশ্ববিদ্যালয়ের
প্রকৌশল
বিভাগে
অধ্যায়ণরত)
এবং কসবার অন্যান্য
সমমনাদের
নিয়ে প্রথম
দিকে ৫০/৬০ জন
নিয়ে সশস্ত্র
ট্রেনিং শুরু
করি। প্রথম
দিকে অল্প
দিয়ে শুরু
করলেও শেষ পর্যন্ত
এই সংখ্যা ১০০
জনের মতো
দাঁড়িয়েছিল। আমরা
প্রতিদিন
ট্রেনিং
নিতাম। ১৯৬৫
থেকেই আমার
রাইফেল
ট্রেনিং ছিল। আমরা
দুপুর ১ টার
দিকে মিছিল
বের করতাম। বিভিন্ন সভা
অনুষ্ঠান
করতাম। মার্চ
মাসের প্রথম
থেকেই জনগণকে
অবহিত করতাম
দেশের অবস্হা
সম্পর্কে।
প্র:
২৫ শে মার্চের
পাকবাহিনীর আক্রমণের
খবর আপনারা
কিভাবে পেলেন?
উ: ২৬ শে
মার্চ
আকাশবাণীর
খবরে পাকিস্তানে
গৃহযুদ্ধ
শুরু হয়েছে
এমন সংবাদ
পেলাম। তখনই
আমরা একটা
মিছিল নিয়ে
বের হই। রাস্তাঘাট
কাটতে আরম্ভ
করি। তবে ২৬
শে মার্চ সকার
পর্যন্ত তেন
একটা কেউ কিছু
মফস্বল থেকে
জানতে পারে নাই। আমাদের মতো
করে আমরা তখন প্রস্তুত
হইতে লাগলাম। কসবাতে
আমরা অবশ্য
পাহারার ব্যবস্হা
করলাম
রাইফেলধারী
আনসারদের
দিয়ে।
প্র:
কসবায় কখন
পাকবাহিনীর
হামলা হয়?
উ: ১৪ই
এপ্রিল পহেলা
বৈশাখ বুধবার
বেলা আনুমানিক
সাড়ে এগারটা
কি বারটার সময়
কসবায়
পাকবাহিনী
আক্রমণ চালায়। আক্রমণের
পর আকাশ বাতাস
কাঁপিয়ে
মানুষের চিৎকার
এবং আর্তনাদে
চারদিক
আতঙ্কিত হয়ে
ওঠে। চতুর্দিকে
মানুষের ঢল। পশ্চিম
দিক থেকে
পূর্ব দিকে
মানুষ যাচ্ছে। পাঞ্জাবি
আইসে গেছে,পাঞ্জাবি
আইসে গেছে এই
এক রব। মুহূতেই
দেখি কসবা
থানা একটা
নিঝুমপুরী। কোনো
জন-মানবের
সাড়া নেই। কেবল সেখানে
একজন পুলিশ
ছিল। সেও আস্তে
আস্তে পূর্ব
দিকে,ভারতের
দিকে চলে
যাচ্ছে। আমরা দেখলাম
কিছু রাইফেল
আছে থানায়। কিছু গুলি
ছড়ায়ে ছিটায়ে
আছে। থ্রি নট
থ্রি রাইফেল
আছে থানায়। কিছু গুলি
ছড়ায়ে ছিটায়ে
আছে। থ্রি নট
থ্রি রাইফেল। আমরা হাতে
নিলাম। তারপরে
সেই রাইফেলের
গুটি কয়েক
গুলি নিয়ে
আমরা
বেরিয়েছি। চলে গেলাম
ভেন্ডার
মুন্সী সাবের
বাবুর পুকুরে। সেইখানে
যাইয়া দেখলাম
আমরা যদি এখান
থেকে গুরি করি
আর গরু বাজার পর্যন্ত
যদি তারা আসে,তাহলে
সেটা আমদের
জন্য কোনো
নিরাপদ আশ্রয়স্হল
না। তখন
আমরা একটু
পিছু হটে আরও
ডানদিকে একটা
বাড়ি আছে এবং
একটা আইলের
আড়ের মধ্যে
চলে গেলাম। ঐ জায়গায় বসে
রইলাম। তার
কিছুক্ষণ পরে
পাঞ্জাবিরা
টি আলী সাবের
বাড়ির দিকে
আসে। ঐখানে
একটা রাস্তা
কাটা দেখে
গাড়ি আর আসতে
পারল না। ওরা তখন ঐখান
থেকে হেঁটে আস্তে
আস্তে
আড়াইবাড়ি
মোড়ে বর্তমান
থানা হেলথ
কমপ্লেক্সের
কাছে আসে। এই হেলথ
কমপ্লেক্স
তখন ছিল না। জাগাডা ছিল
ফাঁকা। এরা
আসাতে আসতে
যখন গুরু
বাজারের দিকে
অগ্রসর হইয়া
চইলা আসতেছে
ঠিক সেই
মুহূর্তে
আমরা রাইফেল
থেকে ফায়ার
করি। আমরা
গুরি করার
সাথে সাথে এরা
পজিশনে চলে
যায়। পজিশনে
যাইয়া এরা তখন
এদের লাইট
মেশিনগান দিয়ে
আমাদের উপরে গুলি
বর্ষণ আরম্ভ
করে। আমরা
তখন থ্রি নট
থ্রি রাইফেল
দিয়ে গুলি
চালাইছি।
প্র:
কতক্ষণ
পর্যন্ত
পাকসেনারা
গুলি ছুঁড়ছে?
উ: একটানা
সন্ধ্যা পর্যন্ত। আমরা সারা
দিন না খাওয়া
অভূক্ত ছিলাম,গোসলও
করতে পারি নাই। প্রচণ্ড
গোলাগুলির
জন্য আমরা
পিছু হটে আসলাম। রাত্রে
বাড়িতে আইসা
দেখি আমার বড়
ভাই ঘুমাইয়া
আছে। বাড়িতে
আর কিছু
পাইলাম না। মোজাম্মেলদের
বাড়িতে যাইয়া
দেখি যে
মোজাম্মেলের
আব্বা শুধু
ঘরে আছে। তখন তিনি
বলছেন একটু পান্তা
ভাত আছে খেয়ে
নে মুখ হাত
ধুয়ে। মোজাম্মেল
রয়ে গেল তার
আব্বার সাথে
রাত্রডা কাটানোর
জন্য। আমি
আবার বাড়িতে,আব্বা
আম্মার খোঁজ
করতে আসলাম। এসে দেখি
যে বাড়িতে
শুধু কুকুরটা
শুয়ে আছে। একটা নিস্তব্ধতা
বিরাজ করতেছে। আমি চললাম
এদিকে হাঁটতে
হাঁটতে। কেমন একটা
ভূতুড়ে
পরিবেশ। হাঁটতেও ভয়
লাগতেছিল। তারপরে আস্তে
আস্তে চলে
আসলাম রেল
লাইনে। নোয়াপাড়া
গ্রামে
আমাদের এক
ভাগিনা আছে
মুন্নাফ মিয়া। সেখানে
গিয়া দেখি যে
আব্বা আম্মা
আছে। সেইখানে
এসে একটু ভাত
খেলাম। খেয়ে
শরীরটা এলিয়ে
দিয়ে শুয়ে
পড়লাম এবং
তন্দ্রাচ্ছন্ন
হয়ে পড়লাম। এরপর কিছুই
বলতে পারবো না। রাইফেলটা
পাশে রইল। সারা রাত্র
ঘুমিয়ে
কাটালাম। ভোর বেলা ঘুম
থেকে উঠে
মোজাম্মেলের
কাছে চলে
আসলাম। মোজাম্মেলকে
এসে ডেকে বাইর
করলাম। রাইফেলগুলা
নিয়ে তখন এক
বাড়িতে
আকাবপুরে বা খিরনালে
একটা ধানের
তুষের গোলার
ভিতরে রাখলাম। রাখার
জায়গা ছিল না। রাইফেলগুলা
ফেলে দেওয়ার
মতোও না। এর মধ্যে চলে
গেলাম সকাল
বেলায় আমাদের
মামার বাড়ি
বাড়াই। আবার
চলে আসি
আকাবপুর পর্যন্ত। এই
হাঁটাটা যেন
তখন গাড়ি
চলতেছিল। একটা নতুন
প্রেরণা,একটা কেনম
অবস্হা যেন
মনের মধ্যে
বিরাজ
করতেছিল। তখন এসে দেখি
যে টি. আলীর
বাড়ি বরাবর
একটা হেলিকপ্টার
আসছে অনেক উপর
দিয়ে। আবার
একটু পরে
হেলিকপ্টারটা
চলে গেল। হেলিকপ্টারটা
ছিল পাক
আর্মিদের।
প্র:
আপনারা যে
পাকসেনাদের
প্রতিরোধ
করার চেষ্টা
করলেন তখন
আপনার সাথে যে
সকল সহযোদ্ধা
ছিল পরে তাদেরকে
আবার কোথায়
খুঁজে পেলেন?
উ: তাদের
অনেককেই পাই
নাই। যারা
আমার সাথে
ছাত্রলীগের
সংগঠনে
সক্রিয় ছিল,এমনকি
কসবা ক্লাব
ময়দানে যারা
নিয়মিত সশস্ত্র
প্রশিক্ষণ
গ্রহণ করত,তাদের
অনেককেই
সেদিন পাওয়া
যায় নাই। এখন
মুক্তিযুদ্ধটাকে
যেভাবে সহজ
ভাবা হচ্ছে,যুদ্ধটা
প্রকৃতপক্ষে
এতটা সহজ ছিল
না। যখন
কসবাতে পাক
আর্মির উপস্হিতিডা
সরবে জাহির
হয়ে গেছে তখন
অনেকেই
প্রাণের ভয়ে
ভিবিন্ন দিকে
চলে গেছে। আমরা গুটি
কয়েক লোকই
ছিলাম শুধু প্রথম
দিনের প্রতিরোধে
। পরবর্তীতে
আর কারও সাথে
তেমন কোনো
যোগাযোগ হয়
নাই। আমরা
বিক্ষিপ্তভাবে
দুই তিনটা দিন
কাটালাম। বাড়ি থেকে
মালামাল সরাই
নিলাম কিছু। আর কিছু
রয়ে গেল।
প্র:
তারপর কোথায়
যেয়ে আবার
সংগঠিত হলেন?
উ: তারপরে ১৪ই এপ্রিল ঘটনা ঘটার পর ১৮ই কি ১৯শে এপ্রিল সকাল বেলা আমি এবং মোজাম্মেল নোয়াপাড়া গ্রামে আমার আব্বা আম্মার সামরিয়ক অবস্হান ছিল সেখানে গেলাম। সেখান থেকে পূর্ব দিকে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে পূর্ব দিক থেকে একটা গেঞ্জির উপরে ছোট ছোট মেরুন বুটি হাফ প্যান্ট পরা একটা সুঠাম দেহী যুবক তার কাধে চাইনিজ স্টেনগান নিয়ে পাহাড়ের গা ঘেঁষে আসতেছে। আমরাও আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছি যে,সশস্ত্র ব্যক্তিটি কে? সেখান থেকে এগিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম সামনে সাঈদ,হারু,শহীদ,পিয়ার আহম্মদ-এই নামের তিনজন সিপাই,হাবিলদার বা নায়েক ছিল উনার সাথে। সামনে গিয়ে সালাম দিলাম। উনি পরিচয় দিলেন উনি ক্যাপ্টেন আবদুল গাফফার। দেবীপুর বি. এস. এফ. ক্যাম্পের পিছনে উনারা অবস্হান নিয়েছেন। চতুর্থ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের যে কোম্পানিটা মনতলী হয়ে উন্ডিয়াতে উঠে গেল ক্যাপ্টেন শাফায়াত জামিল,মেজর খালেদ মোশাররফ তাঁরা সবাই পিছু হটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কোম্পানি নিয়ে চলে আসল দেবীপুরে। এই কোম্পানি কসবা রণাঙ্গনে যুক্ত হলো। আমরা উনার সাথে দেখা করলাম। উনি আমাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন। আমি বললাম আমি স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কসবা থানা শাখার আহ্বায়ক। আমার সাথী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সশস্ত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তারপর উনি আমাদেরকে ক্যাম্পে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। আমাদের সঙ্গী সাথী যারা ছিল তাদের অনেককেই আর তখন পাইনি। এরপর আকাবপুর,চন্দ্রপুর গ্রামের অথবা অন্যান্য গ্রামের যে ১৫/২০ জনকে যোগাড় করতে পেরেছি তাদেরকে নিয়ে উনার সাথে ভারতের দেবীপুর ক্যাম্পের পাশে যেখানে বি.এস. এফ. ক্যাম্প ছিল সেখানে দেখা করলাম। দেখা করার পর উনি বললেন যে তোমরা সবাই আবার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করো। যু&