নাম
:
আবদুল
মান্নান
গ্রাম
:
মঈনপুর
ডাকঘর
:
মঈনপুর বাজার
ইউনিয়ন
:
কাইয়ুমপুর
থানা
:
কসবা
জেলা
:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১৯৭১
সালে বয়স : ২৩
১৯৭১
সালে পেশা :
ক্ষুদ্র
ব্যবসায়ী
বর্তমান
পেশা : ক্ষুদ্র
ব্যবসায়ী
আবদুল
মান্নানও
অস্ত্র হাতে
লড়ই করেননি। কিন্তু তিনি
মুক্তিযোদ্ধাদের
সাহায্য
করেছেন
নানাভাবে। সাহায্য-সহযোগিতা
সূত্রে
মুক্তিযুদ্ধকে
প্রত্যক্ষও
করেছেন অতি
কাছ থেকে। তাঁর সেই
প্রত্যক্ষ
অভিজ্ঞতার
বর্ণনা পাওয়া
যাবে বর্তমান
সাক্ষাৎকারে।
প্র:
১৯৭১ সালে
আপনি কি
মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ
করেছিলেন?
উ:
প্রত্যক্ষভাবে
অস্ত্র হাতে আমি
মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ করি
নাই। তবে
মুক্তিযোদ্ধাদের
আমি সাহায্য
করছি। আমার
দোকান থেকে
তাদের টিফিন
করার জন্য
খাবার দিয়েছি। আমরা যখন
ভারতে চাইলা
গেছি,ভারতেও
আমার দোকান
ছিল রাধানগরে। এমন কি
মঈনপুর গ্রাম
যখন খালি পইড়া
ছিল-তখন ঐ গ্রামেও
মুক্তিযোদ্ধারা
আমাকে দোকানে
রাখছে। তাদের
কাছে আমি
বেচাকিনি
করছি। মালটাল
আমি ভারত
থেইকা আনছি। খবরা-খবর
দিছি-নিছি।
প্র:
১৯৭১ সালে
পাকবাহিনী
কিভাবে কখন
আপনার এলাকায়
এলো ? এসে
কি করলো?
উ: কুঠি
চৌমুহনী
থেইকা তারা
শাহপুরের রাস্তায় কসবার
পথে রওয়ানা
হইছে এবং
কসবাতে আসছে
১লা বৈশাখ রোজ
বুধবার। আমি ঐসময়
বাজারেই
ছিলাম। আমি
সদাইয়ের
লাইগা বাজারে
গেছি। কিছু সদাই
করব এমন সময়
তারা দুপুর
প্রায় বারোটার
সময় গাড়ি নিয়া
আসতাছে। তহন
চতুর্দিক
দিয়া একটা
দৌড়াদৌড়ি
লইগা গেছে যে
কি করন। তহন
পুরান বাজারে
কয়েকজন
আনাসার আছিল। তারা কয়েক
রাউন্ড গুলি
করছে। এই
গুলির শব্দে
পরে তারা
মুসলিম লীগের
নেতা টি আলী
সাহেবের
বাড়িতে যাইয়া
তাদের ঘাঁটি
করে। পরদিন
বৃহস্পতিবার
যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের
লোক ছিল
দোকানের
মালিক
ছিল-তারা সমস্ত কিছু
ফেলিয়া দেশ
ছাইড়া ভারতে
চইলা গেল যার
যার ঘর বন্ধ
কইরা। ঐদিন
সারারাত্র
আশেপাশের
মানুষে ঐসব দোকান
বাড়িঘর
লুটপাট করছে। লুটপাট
করছে এই
দেশেরই লোক। ঐ সমস্ত
লোকই
আবার
রাজাকারে
যাইয়া ভর্তি
হইছে। এর
পরের দিন
পাকবাহিনী
কসবা পুরাণ
বাজার কৃষি
ব্যাংক রোড
দিযা আইসা
বাজারে আগুন
দেয়। তহনও
আমি ঐ বাজারেই
ছিলাম। তহন
আমরাও জানের
ভয়ে দৌড়াইয়া
গ্রামে চইলা
আসছি। তারা
আইসা মসজিদের
ঐদিক থেইকা
কয়েক রাউন্ড
গুলি করছে
বাজারের দিকে। এদের সাথে
অনেক বাঙালি
দালাল-রাজাকারও
ছিল। তারা
বাজারে
লুটপাট শুরু
কইরা দিল। তহন তারা
যারারে লাগ
(দেখা) পাইছে
তাদের বেড়ম মাইর
ধইর করছে। মারার পরে সমস্ত লোক
নিয়া অফিসের
সামনে লাইন
দিয়া দাঁড়া
করাইছে গুলি
করবো। এমন
সময় আমাদের এই
মসজিদের একজন
ইমাম সাব,উনার
নাম ছিল
মাওলানা
মোহাম্মদ
সুরুজ মিয়া বাড়ি
নোয়াগ্রামে,উনি
আইসা তাদের
কাছে প্রাণ
ভিক্ষা চাইছে
আর বলছে যে
এরা কোনো
হিন্দু নয়। এরা সমস্ত
মুসলমান। আমি এই
মসজিদের ইমাম। এরা নামাজ
পড়ে। রোজা
থাহে,সবকিছু
করে। তারা
দেশের কোনো
ধ্বংসাত্মক
কাজে লিপ্ত নয়। তাদের জান
বাঁচাইয়া দেন
দয়া কইরা। উনি অনুরোধ
কইরা মাফ
চাইয়া তহন
আমরারে উদ্ধার
করছে। বাজার
থেইকা উদ্ধার
পাওয়ার পরে
আমরা যার যার ঘরে
ফিরা আইসা
দেহি আমাদের
কেউর ঘরে কোনো
মালামাল নাই। কেবল আমার
ঘরে তহন তিনটা
ছবি ছিল। আর কিছু
মালামাল ছিল। যহন
সংগ্রাম
লাইগা গেছে
তহন আমি
বঙ্গবন্ধুর ছবিটা
লামাইয়া
ফেলছি। একটি
ছবি ছিল আইয়ুব
খানের,একটা
ইয়াহিয়া খান
এবং আর একটি
কায়েদে আযম
মোহাম্মদ আলী
জিন্নাহর। ঐ ছবিগুলা
দেইখা আমার
ঘরে আর তেমন
কোনো লুটপাট
করে নাই। আমি আমার ঘরে
যাইয়া প্রায়
সব মাল ঠিকঠাকমত
পাইছি।
কিছুদিন
পর আবার
রাজাকার আইছে
বাজার লুট করতে। তারা
বাজার লুট
কইরা পরে এক
মিয়া সে
গ্রামের ব্যবসায়ী
ছিল। সে
বাইরে বইসা
চাউলের
ব্যবসা করতো। রাজাকাররা
আইয়া তাকে
মাইর ধইর কইরা
তার মাথা পর্যন্ত
ফাটাইয়া
ফেলছে। এরপর
রাজাকাররা
আইসা আমার
ঘরের থেইকা আমার
সম্পূর্ণ
মালামাল নিয়া
চইলা যাইতেছে। এমন সময়
আমি তাদের হাত
থেইকা ঐ
ছবিগুলো
কাইড়া রাখছি। জোরপূর্বক
ছিনাইয়া
রাখছি। তহন
আমার মনে একটি
জিজ্ঞাসা
হইয়া গেল যে
এইভাবে
দুইদিন পরপর
আইসা যা কিছু
থাকবে তাই
লইয়া যাইব,এহন
প্রাণ রক্ষার্থে
আমরা কই যাই? বাড়িঘর
ফেলিয়া আমরা
কই যাই? তহন আমি নিজে
কসবা ঐ টি. আলী
সাহেবের
বাড়িত গেলাম
মেজর সাহেবের
কাছে। আমি
রাস্তা দিয়া
যাইতেছি। আকসিনা
ঈদগার সামনে
কবরস্হানে
নিকটে
পাঞ্জাবিরার
একটি বাংকার
আছিল। ঐ
বাংকারের
মাঝে যে
সৈন্যরা ছিল
যহন আমি পুলের
উপরে উঠছি তহন
তারা আমার
দিকে আসার
জন্যে। আমি
উনার কাছে
যাওয়ার পরে
উনি বলতেছে
আমি উর্দু
জানি কিনা? তহন আমি
বলছি যে জানি
না। তহন
জিগাইছে
ইংলিশ জানিনি? তাও আমি
জানি না বলছি। তহন আর
একজন সিপাই
দিয়া সে আমার
পরিচয় চাইল। তখন আমাকে
টি. আলী
সাহেবের
বাড়ির দক্ষিণ
দিক দিয়া যে
পুস্কুর্নিডা
ছিল ঐ
পুস্কুর্নির
পশ্চিম পাড়
নিয়া বসাইছে। আর ইকবাল
নামে যে
হাবিলদার এই
গ্রামে আইয়া
লুটপাট কইরা
গেছে ঐ
হাবিলদারও
ছিল। আর
কয়েকজন
সিপাইও আইছে। মেজর নাইম
সাহেব আইছে পর
উনি আমার সাথে
হ্যান্ডসেক
করছে। এরপর
আমাকে
জিজ্ঞাসা
করছে। তখন
আমি ঐ ছবিগুলা
দেহাইছি এবং
বলছি যে স্যার,আমার
ঘরে এই
ছবিগুলা
থাকতে আমার
ঘরে কোনো
লুটপাট হয় নাই। আজকা
রাজাকারে
আমার ঘরে
লুটপাট করছে। তারা আমার
মালামল নিয়া
আইয়া পড়ছে। আমি গরিব
মানুষ,আমি কি কইরা
বাঁচি। আমার
থেকা সিদ্দিক
মাস্টার যে সমস্ত
বক্তব্য
পাইছে উনি
আবার মেজর
সাহেবকে
উর্দুতে
বুঝাইছে। এরপর মেজর
সাব আমাকে বলছে
আমার
সম্পূর্ণ মাল
ফেরত দিব। আমরা যদি শান্তিতে
থাকতে চাই
তাহলে গ্রামে
একটা শান্তি কমিটি
করার লাইগা
গ্রামের
লোকজন নিয়া
আগামী কাল
দশটার সময়
কসবা মৌলুক
হোসেন
চেয়ারম্যানের
বাড়িতে
যাওয়ার জন্য
কইল। তখন
আমরা গ্রামের
যে প্রাক্তন
চেয়ারম্যান আছে
শাহু মিয়া
সাহেব উনাকে
নিয়া,গ্রামের
সর্দার,মাতব্বর
নিয়া,আমরা
চইলা গেলাম
মৌলুক হোসেন
চেয়ারম্যানের
বাড়িতে। মৌলুক হোসেন
চেয়ারম্যান
ছিল
পাকবাহিনীর
কেনা
চেয়ারম্যান।
প্র:
চেয়ারম্যান
কিছু বক্তব্য
রাখছে ?
উ: উনি
বললেন যে,মিয়ারা
আওয়ামী লীগ
করছেন ঐ সমস্ত ছাইড়া
দেন। অহন
পাকবাহিনীর কথা
মতো চলেন। এই দেশ
মুসলিম লীগের। মুসলিম
লীগের কথা
বলেন। আপনেরা
সমস্ত যদি
একত্রিত হন
তাহলে আওয়ামী
লীগ এই দেশ আর
থাকবে না। এই কথা বইলা
চইলা গেল আড়াই
বাড়ির
হুজুরের বাড়িতে
মেজর সাহেবরে
আনতে। মাদ্রাসার
মাঝে নিয়া
আমরারে
বয়াইছে। আমরা বইয়া
রইলাম। মেজর
সাহেব আসলেন। মেজর
সাহেবের সাথে
আরও আসলেন
পাকবাহিনীর
লোকজন। তারা
আমরারে বক্তৃতা
দিয়া
বুঝাইতেছে এই
দেশ হিন্দুর
নয়,মুসলমানের
। প্রথমে
চেয়ারম্যান
সাহেব বলছে। তিনি বলছে,আমরা
পরিশ্রম করি,এই
পরিশ্রমের
টাকা দিয়া
হিন্দুরা বড়
লোক হইতে চলছে। হিন্দুরা
আমরারে সুদে
টাকা দেয়। আমরা যা
পরিশ্রম কইরা
আয় করি এগুলা
হিন্দুরা
নিয়া যায়। এই সমস-
ব্যাপার
বুঝাইয়া
শুনাইয়া
তারপরে আমাদেরকে
তাদের পক্ষে
কাজ করতে বলে
মৌলুক হোসেন চেয়ারম্যান
সাহেব আমরারে
বলছেন
হিন্দুরা কি
কি করছে। আমরা আওয়ামী
লীগকে যদি ভোট
না দিতাম তা
হইলে আমরার
কপালে
দুর্দশা
লাগছে। ইন্ডিয়া
থেইকা
ইন্ডিয়ার
সৈন্য আসে
তাহলে তারারে
ধইরা আইন্না
এই হানে জমা
দিবেন। জমা
দিলে আপনাদের
পুরস্কার
দেওয়া হবে। আমরা
গ্রামের
ইজ্জত
রক্ষার্থে
বলছি যে,হাঁ আমরা তা
করব।
প্র:
ঐ জায়গাতে পীর
সাব হাক্কানী
কোনো বক্তব্য
রাখছেন?
উ: হাঁ
রাখছেন। পীর সাব বলছে
যে আপনেরা
হুজ্জুগে
চলবেন না। গুজবে কান
দিনের না। কারণ আওয়ামী
লীগ হইছে একটা
হিন্দুরার
প্রতিষ্ঠান। তহন উনার
কথামত
পাকবাহিনীর
সোলজাররা চলত।
প্র:
আর উনি
মুক্তিবাহিনী
সম্পর্কে কি
বলছেন?
উ: উনি
বলছে যে
মুক্তিবাহিনী
দেখলে আপনেরা
ধইরা আইন্না
পাঞ্জাবিদের
কাছে জমা
দিবেন তাহলে
আপনাদের
পুরস্কার দিব। আর আপনেরা
দেশে শান্তি
শৃঙ্খলা মতো
থাকতে পারবেন। সিদ্দিক
মাস্টারও একই
কথা বলছে। আর যহন মেজর
নাইম সাহেব
কক্তৃতা
দেওয়া আরম্ভ করছে
তখনি পুব দিক
থেকে কিছু
গুলি আইতাছে। তজন সভাডা
ভাইঙ্গা দিল। তারা কইলো
আপনেরা যার
যার বাড়িতে
যাইয়া শান্তি রক্ষা
করেন,আবার
আসবেন,এরপর আমরা
সুন্দরভাবে
কমিটি গঠন
কইরা দিমু। তখন আমরা
বাড়িতে চইলা
আসছি।
পরদিন
সকালে যখন
আবার আমার
দোকান খুললাম
তহন দেহি যে
পুর্ব দিক
থেইকা
এল.এম.জি. নিয়া
প্রায় ১৫/১৬
জন লোক আসছে
আমার দোকানের
দিকে। তখন
সকাল সাড়ে
নয়টা হবে। এটা আষাঢ়
মাসের শেষ সপ্তাহের
দিকের ঘটনা। আমাকে
জিজ্ঞাসা করে
যে আবদুল
মান্নান কার
নাম? আমি
বলি যে স্যার,আমার
নাম আবদুল
মান্নান। আমি যহন মনে
করলাম যে
রাজাকার নাকি। তারা তহন
জিজ্ঞাসা করল
যে আপনি টি.
আলীর বাড়িতে
গেছিলেন মেজর
সাহেবের সাথে
দেখা করতে? আমি বললাম
স্যার গেছি। তারা কয়
যে কেন গেছেন? গেছি
আমার গাঁও
গেরাম দুইবার
কইরা আইয়া লুট
করছে। এর
সমাধান চাইতে
গেছি। তারা
আইসা আমারে
যহন জিজ্ঞাসা
করে তহন আমি
ভয় পাইয়া গেছি। আমাকে
আমার
জিজ্ঞাসা
করছে আপনি
কসবা গেছিলেন? জ্বি। কসবা কেন
গেছেন? কসবা গেছি
আমার গ্রাম
রক্ষার্থে। পরে উনারা
বলছে শান্তি কমিটি
করার জন্য
গেছেন? করছেন শান্তি কমিটি? জ্বি না। আমরা শান্তি কমিটি
করছি না। শান্তি কমিটি
করার সময়
পূর্ব দিক
থেইকা কিছু
গুলি আসায়
আমরারে তাড়াই
দিয়ে বলছে,আবার
আপনেরা আসবেন। তারা কইলো
অহন কি আপনেরা
আবার যাওয়ার মনস্হ
করছেন? কইলাম
যে অহন আমরা
কি করলাম। আমরার উপায়
নাই। আমরা
অহন বাড়িঘর
ফালাইয়া কই
যাই? আমরার
বাড়িঘর
রক্ষার্থে
আমরা গেছি। তহন উনি বলল
যে আচ্ছা এই
যে অহন আমরা
কি করাম। আমরার উপায়
নাই। আমরা
অহন বাড়িঘর
ফালাইয়া কই
যাই? আমরার
বাড়িঘর
রক্ষার্থে
আমরা গেছি। তহন উনি বলল
যে আচ্ছা এই যে
স্পিডবোট আসা
যাওয়া
করে-বলতে
পারেন এগুলা কই
থেইকা আসে,কই যায়? তহন
বললাম যে হাঁ,কালামুড়া
ব্রিজ থেইকা
আসে। আইসা
এগুলা
মন্দভাগ আর
সালদা নদী যায়। আবার
এইখান থেইকা
ফিরে। আমারারে
স্পিডবোটের
রাস্তায় নিয়ে
যাইতে পারবেন? জ্বি
পারমু। চলেন,কইলাম
আমি। তহন
আমাদের গ্রামের
আরো কিছু লোক
নিয়া আমরা
তাদের সাথে
গেলাম ঐখানে। আমাদের
গ্রামে তাদের
জন্য পাকশাস
প্রায় রেডি। এ ঘটনা
ঘটছে মঈনপুরে। সুবেদার
ওহাব-এর
নেতৃত্বে এটা
মুক্তিযোদ্ধাদের
একটা দল ছিল। যাহোক,তহন
তারা যাইয়া
চারটা
ডিফেন্স করল। গাংগের
পশ্চিম পাড়ে
দুইটা আর
পূর্ব পাড়ে
দুইটা। সুবেদার
সাহেব বললেন
যে,বোটটা
যখন ঐ দিক
থেইকা আসবে
এবং আমি যখন
সংকেত দিব তখন
সবাই ফায়ার
দিবা নদীর
ভিতরে। যেন
কোনো ফায়ার ঐ
পারে না যায়। আবার ঐ
পারেরটা যেন এ
পারে না আসে। আমরা
দেখলাম যে
পাঞ্জাবিদের
একটা
স্পিডবোট আসতাছে। স্পিডবোটটা
যখন চার দলের
মাঝামাঝি আইয়া
পৌঁছচে তহন
সুবেদার সাব
একটা নিশানা
দিলেন। এরপরই
এক সাথে ফায়ার
শুরু অইছে। ঐ স্পিডবোটে
পনের ষোলজন
পাঞ্জাবি
আছিল। এরা
সবাই মারা
পড়ছে। স্পিডবোটটার
চরম ক্ষতি
হইছে। মনে
হয়
পাঞ্জাবিরা
গুলির সাথে
সাথে ওয়ারলেস করছে
তখন আমরা দেখি
যে মন্দভাগ
থাইকা বিস্তর
পাকিস্তান
ফোর্স
জগন্নাপুরের
উপর দিয়া
মঈনপুরের
দিকে আইতেছে। মনে হইল
হাজার খানেক
সৈন্য। এরা
যহন এই দিকে
অ্যাডভান্স
করা ধরছে তহন
মুক্তিবাহিনীরা
আক্রমণ করছে। পরে ওখান
থেইকা
মুক্তিবাহিনী
সইরা পড়ছে। আমরা তখন
গ্রামের
ভিতরে আইয়া
ঢুকলাম। ঢুকার পরে
দেখতেছি যে
পাঞ্জাবি
আইয়া আমাদের
জমিনগুলাতে
ভইরা গেছে। এদিকে
মুক্তিবাহিনী
রাধানগরের
ঠাকুর বাড়িতে
যাইয়া থ্রি
ইঞ্চি মর্টার
মারা আরম্ভ
করল আমার
গ্রামের
পশ্চিম সাইডে
পাঞ্জাবিদের
লক্ষ্য কইরা। যহন
মর্টার মারা
শুরু হইল তহন
পাঞ্জাবিরা
তাদের লাশ টাশ
উদ্ধার কইরা
চইল্লা গেল। তহন আমরা
মুক্তিবাহিনীর
কাছে যাইয়া
বললাম আমাদের
কি হইব? তহন কইল যে,আপনাদের
মালামাল নিয়া
সব চইল্লা
আসেন। তহন
গ্রামে যারা
লোকজন আছিল,মেয়ে-ছেলে,গরু
বাছুর সব নিয়া
আমরা
ইন্ডিয়ার
রাধানগরে উঠলাম। কিছু উঠলো
কাজলাদীঘিরপাড়
গ্রামে। যার যার
আত্মীয়-স্বজনের
বাড়িতে অনেকে
আশ্রয় লইল। পরে আমরা
মালামাল আস্তে আস্তে সব
সরাইয়া ঐখানে
নিলাম।
এরপর মুক্তিবাহিনীর আম্বিয়া সাব একদিন আইয়া আমাকে বলছে যে তুমি এখানে দোকানদারি শুরু করো। আমাদের লোকের চা-টা খাওয়ার অসুবিধা,তারা অপারেশনে যায়। তিনি বললেন,তুমি তোমার মঈনপুরের দোকানডাও চালু কর। ঐ গ্রামে মানুষ নাই ঐখানের দোকানডা দরকার আর এইহানেও আমাদের লোকজনের লাইগা একটা দোকান দেও।