নাম: আবদুর করিম

পিতার নাম: আবদুল  হামিদ

গ্রাম: গোপীনাথপুর

ডাকঘর: গোপীনাথপুর

ইউনিয়ন       : গোপীনাথপুর

থানা : কসবা

জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া

১৯৭১ সালে বয়স: ৩৫

১৯৭১ সালে পেশা: চাকুরি (ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস)

বর্তমান পেশা: অবসরপ্রাপ্ত

 

 

ইপিয়ার সদস্য আবদুল করিম সিলেটে পাকসেনাদের ঘাঁটি থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনবার বার পাকিস্তানিদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি ছিলেন অকুতোভয় ও স্হিরচিত্তবেশ কয়েটি সীমান-ফাঁড়ি,মন্দভাগ, মঈনপুর আর সালদা নদীর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই মুক্তিযোদ্ধা তাঁর জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন বর্তমান সাক্ষাকারে

 

প্র: ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ  রাতে পাকহানাদার বাহিনীর আক্রমণের পর আপনি কিভাবে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন?

 

উ: আমি ছিলাম সিলেটেঐখানে পাকিস্তানের পাঞ্জাব রেজিমেন্ট ছিলতাদের ইউনিটের ভিতরে আমি ছিলামকোচ হিসাবে সেখানে আমাকে নিছিলেনতাদের ইউনিট কমান্ডারতখনকার যুগে তাদেরকে বাস্কেট বল শিখাবার জন্য আমি তাদের সাথে এটাস্ট ছিলামতাদের ওখানে থাকতাম,খাইতাম২৫ শে মার্চে যখন ঢাকা আক্রমণ করলো, তখন তারা আগে ভাগে বাঙালিরেদকে হত্যা করতে লাগলতখন সিলেট শহরে কোনো সময় কারফিউ থাকে,কোনো সময় এইটা,কোনো সময় সেইটা,এই ধরনের একটা অবস্হাআমার পাশেই আমার ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস-এর সেক্টর হেডকোয়ার্টার ছিলসেখানে তাদের সাথে আমি সময় সময় যাইয়া একটু যোগাযোগ করতামতারা আমাকে তেমন কোন বিছু বলত নাঅনেক সময় দেখা যায় রাত্রে যখন আমি  শুইয়া  থাকি,তখন পাকসেনাদের পুরা ইউনিট কোথায় বাইরে চইল্যা যায়,আর আসে নাআমি একা তাদের ডিউনিটের ইউনিটের মধ্যেবাবুর্চি-টাবুর্চি থাকেআবার দেখা যায় যে রাত দুইটা আড়াইটার সময় তারা আসেআসলে পরে আমি মশারির তলে শুইয়া শুইয়া দেখি যে,তাদের কাপড় চোপড়ের মধ্যে রক্ত টক্ত ভরাতাদের কমান্ডাররা গার্ডকে বলতাছে আগুন দিয়া জ্বালায়ে ফেলাও,ধুয়ে ফেলাওএইভাবে যখন ২৬/২৭/২৮ মার্চ  গেল তখন আমারও একটু ভয় লাইগা গেল যে,এরা কি কাজ করে,ডেলি ডেলি রাত্রে চইলা যায়আমার পাশে যে ইউনিট ছিল  ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস-সেখানে এক সুবেদার মেজর ছিলেন বিহারি কবির নামউনার সাথে যাইয়া আমি সাক্ষা করিউনাকে বললাম যে,স্যার আমারত একটু বয় লাগেআপনি যে দিলেন আমাকে ঐ ইউনিটে,এরাতো এইরকম ঘটনা করে, এরা রাত্রের বেলা থাকে না

 

উনি বিহারি হলেও উনার উপর আমার একটু আস্হা ছিলজিঙ্গাসা করার পর উনি আমাকে বলল,করিম তুমি এগুলি তলাইও না,তুমি যাইয়া তোমার কাজ করোতখন আমি কি করব! আমি আবার তাদের ইউনিটে চইল্যা যাইচইল্যা যাওয়ার পরে একদিন রাত্রের বেলা শুনতেছি যে,সিলেট টাউনের মধ্যে প্রচুর গোলাগুলি হইহতেছে রাত্রে ২ টার সময়আমার ও খুব ভয় লাইগা গেছেতখন আমি চিন্তা করতেছি যে,আমার ইউনিট ফাদারের কাছে গেলামউনি ও আমাকে ভাল মন্দ কিছু বলল নাআর আমিও এখানে তাদের ভিতরে থাকতেছিএখন যাদি কোনো সময় আমাকে ধইরা মাইরা ফেলে? আমি নানান চিন্তায় পইড়া আছিতখন আমি ঘুইরা ঘুইরা দেখতেছি যে বাঙালি কাউকে পাওয়া যায় কিনাদেখছি যে,না,বাঙালি পাওয়া যাচ্ছে নাতখন আমি সেখান থেইক্যা একদিন রাত্রে সাড়ে বারোটা একটার সময় একটা গেঞ্জি গায়ে একটা লোহা হাতে নিয়া বাহির চইল্যা আসিযে জাগাতে আমার ঘটনাটা হইছে সেটা হল খাদেমনগরআমি যাব সিলেট টাউনেসেখান থাইক্যা রাস্তা হইল সাড়ে চার মাইলতখন আমি গ্রামের ভিতর দিয়া সিলেট টাউনের দিকে যাইতে থাকিতখন টাউনে খুব গোলাগুলি হইতেছে,এর ভিতরেই আমি সিলেট টাউনে পৌঁছলাম তখনকার সময় সিলেটে একজন সুবেদার মেজর ছিলেন পাঞ্জাবিনাম নোয়াব খানউনি আমার রিক্রুটের সময় আমার সি. আই ছিলেনআমাকে খুব আদর সাদর করতেনআমি উনার বাসাতেউ গেলামবাসাতে যাওয়ার পর উনাকে দেখতাছি যে,উনি তাহাজ্জুতের নামাজ পড়তাছেজানালা দিয়া বাতি দেখা যায়রাত্র তখন আড়াইটার মতনআমি যাওয়ার পর চিন্তা করলাম যে,ব্যাটম্যান ছিলেনতাহের নাম,মামার বাড়ির পাশে তার বাড়ি ফেনীতে সেই তাহেরের সাথে দেখা করব

 

আমি তাহেরকে ডাক দিয়েছি পরে তাহের উঠেছেতাহের উইঠা আমাকে বলল যে,কি ব্যাপার? কে আপনি?  আমি বললাম যে,আমি করিমসে বললো ভিতরে আসতখন কিন্তু টাউনে খুব গোলাগুলি হইতাছেআমি ভিতরে  গেলাম,যাওয়ার পর দুই থাইকা তিন মিনিট পর সুবেদার মেজর নামাজ শেষ করলেননামজ শেষ করার পরে আমাকে দেখতে পাইলেনআমাকে দেইখ্যা গলার মধ্যে পাঞ্জাদা ধইরা কানতে লাগলেন,সুবেদার মেজর এম. সি. নোয়াব খানআমি তখন উনাকে বললাম যে,স্যার,আপনাকে তো এক অর্থে জন্মদাতাই বলতে হবে, যেহেতু আপনি আমার ট্রেনিং কোম্পানির সি. আই. ছিলেনআপনি আমাকে অনেক শিখাইছেন,পালছেনএখন এই মুহূর্তে যে আমাকে দিলেন পাঞ্জাব রেজিমেন্টের সাথে,কিন্তু রেজিমেন্টের এই অবস্হাআমি এখন কি করতে পারি বলেন? তখন উনি আমাকে ধইরা কানতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন যে,করিম,আমি আর এখন তোমাদেরকে কোনো কিছু বলতে পারব নাযেই দিকে তোমার চোখ চায় সেই দিকেই তুমি চইল্যা যাইতে পারতখন আমার সাথে সাথে তাহেরকেও বললেন উনারও ব্যাটম্যান ছিলেনতখন তাহেরকে আমি বললাম যে,তাহের,চল আমরা দুইজন যে দিকেই যাই যাবতখন তাহের বলল যে,না,আমি এখন যাইতে পারব না,আমার অসুবিধা আছেআমি তখন সেখান থাইক্যা বাহির হইয়া চইল্যা আসিরাত্রে তখন সাড়ে তিনটা

 

সিলেট মেইন টাউনের  মধ্যেই পুলিশ লাইনের সামনে,জাগাটার নাম জানি কি  ছিল ভুইল্যা গেছি আমিমুরারী চাঁদ কলেজের সামনে দিয়াই তখন আমি  তাদের বাসা থাইক্যা বাহির হইয়া চইল্যা আসিআসার পরে সুরমা ব্রিজের এখানে আসিআসার পরে দেখলাম যে,ব্রিজের উপর যথেষ্ট পাঞ্জাবি দেখা যায়তার পিছনে একটা রাস্তা আছে তোপখানা রোডসেই তোপখানা রোড দিয়া আমি একটু ঘুইরা যাইসেখানে আমার চাচা শ্বশুর ছিলেন সিও রেভিনিউফুল মিয়া চৌধুরীসায়দাবাদ তার বাড়ি,উনার বাসাতে যাই

 

বাসায় বাসয় ধরপাকড়া তখনও শুরু হয় নাইপঞ্জাবিরা বাহির হইয়া যে সমস্ত লোকজন পাচ্ছে গুলি কইরা মারতেছেলোকজন বাসা থাইক্যা তেমন বাহির হয় নাদিনের বেলা কিছু কিছু বাহির হয় যারা অফিস আদালত করার তারাঅন্যরা যারা ছাত্র তারা বের হয়না; স্কুল সব বন্ধরাতের বেলা বাইরে লোকজন পাইলে তারা গুলি কইরা মাইরা ফালায়আমি আমার চাচা শ্বশুরের বাসার মধ্যে আইস্যা দরজা পিটতে লাগলামতারা ভয়ে দরজা খুলে নাইরাত তখন সাড়ে চারটা বাজেঅনেক চিল্লাফাল্লা করার পরে তারা দরজা খুলছেখোলার পরে বাসাতে ঢুকলামঢুকার পরে আমাকে দেইখ্যা তারা খুব দুঃখ প্রকাশ করল যে,তুমি কেমনে আসলা,কি বিষয়? তখন আমি বললাম যে,আমি এইভাবে চইল্যা আসছিএখনত আমার যাইতে হবেআমার কোম্পানি আছে বর্ডারে আমি খেলাতে ছিলাম ঢাকাঢাকা থাইক্যা আসছি সিলেটেসিলেট থাইক্যা আবার এখানে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের সাথে ছিলাম কিন্তু এখানে এই অবস্হাএখন আমি চইল্যা যামু আমার ইউনিট যেখানে আছে সেখানেতখন আমার শ্বশুর বললেন যে,তুমি কেমনে যাবা,এখানে রাস্তার মধ্যে যদি মাইরা ফেলায়ঐ মুহূর্তে আমার এক শালা মুরারী চাঁদ কলেজে পড়ত,বর্তমানে বিমানের ডি জি এম. মাজহরুল হক চৌধুরী,সে একটু রাজনীতি করততারে নিয়া একটু কথা হলোতখন আমার শ্বাশুড়ি তারে আমার সাথে দিয়া দিলআমি তাকে নিয়ে তখন বর্ডারে রওয়ানা  দেইগ্রামের বিতর দিয়া হাঁটতে হাঁটতে যেভাবেই হোক আমি আসি সিলেট বর্ডারেযেদিন নাকি আমি তাদের এখান থাইক্যা সুরমা ব্রিজ পার হই তখন ফজর নামাজের সময় প্রায় ৫টার দিক দিয়া৫টার দিক দিয়া সুরমা ব্রিজের এদিগদা আসা যায় নাইনদী পার হলাম একটা গোদারার (খেয়া) নৌকা দিয়াপার হইয়া হাঁইটা তখন রওয়ানা দিলামআমি রওনা দেই লাতুর দিকেলাতু হইল আমার কোম্পানি হেডকোয়ার্টারআমি সেই জাগায় আসবআসতে যাইয়া রাস্তার মধ্যে আমি শুনতে পাইলাম যারা নাকি বর্ডারে আছে আমাদের লোকজন তারা জানে না হেডকোয়ার্টার বা শহরে কি হইতাছে না হইতাছেআমাদের একজন ক্যাপ্টেন ছিলেন মহিউদ্দিন স্যার,বাড়ি ফরিদপুরউনাকে প্রকাশ্যে গুলি কইরা আমাদের হেড কোয়ার্টারে পাঞ্জাবিরা মাইরা ফেলছেমাইরা ফালার পরে যারা নাকি বাঙালি চিল সিলেট হেডকোয়ার্টারে তারা সবাই যে যার মতো ভাইগা চইলা গেছেআর যারা ভাইগা যায় নাই তাদেরকে এরেস্ট কইরা লইছেএটা কিন্তু আমার দেখার ব্যাপার নয়,এটা  আমি শুনছি রাস্তার মধ্যে যখন নাকি আমি বর্ডারে আসিযেই ভাবেই হোক আমি  আসলাম লাতুসিলেট টাউনে হইল আমাদের উইং হেডকোয়ার্টারআর কোম্পানি হেডকোয়ার্টার হইল লাতু

 

প্র: তারপর কি করলেন?

 

উ: তারপরে লাতুতে আসতাম পারি নাইআধা রাস্তা আসার পরে আমাকে পাবলিকে বলল যে আপনি এগিয়ে যাইয়েন না,গেলে অসুবিধা হবেলাতু ক্যাম্পে পাঞ্জাবি বহুত১১ জন পাঞ্জাবি ২ জন বাঙালিবাঙালি যে দুই জন আছে সেই দুইজনই প্যাচে আছে,গেলে পরে আপনিও মারা যাইতে পারেনআপনি লাতু না যাইয়া বিকল্প যে কোনো একটা ব্যবস্হা বা আপনি যেটা ভালো মনে কনে সেইটাই করেনতখন আমি চিন্তা করলাম যে,ঠিক আছে,তাহলে পরে আমি লাতুর পাশেই আগাই মাইল ডিসটেন্সে একটা বিওপি আছে,সারুপা,সেখানে যাবসারুপাতে আমার জানামতে ৭ জন বাঙালি আছে তিন চারজন পাঞ্জাবি আছেএই বিধায় আমি সেখান থেকে কাইটা পরলামঐ সারুপায় গেলামসারুপায় ছিল নায়েক বাশার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাড়িবাশারের কাছে যাইয়া আমি হাজির হইএরা আমার থাইক্যা অনেক কিছু জানতে চাইলপাঞ্জাবিরা,পাঠানরাও আমার থাইক্যা অনেক কিছু জানতে চাইলবাঙালিরা জানতে যাচ্ছে যে,আপনি  কিভাবে আসলেন কি বিষয়? আমি পাঠান পাঞ্জাবিদেরকে তেমন কিছু বলি নাইএকজন জেসি আছে সে বাঙালিআর বিওপি কমান্ডার আছে সেও বাঙালিসিপাই তিন জন আর একজন ল্যান্স নায়েক আছে এগুলো হইল পাঠানঐ খানে যাওয়ার পরে পাঠান পাঞ্জাবিরা আমাকে বলছে যে করিম তুমি গেছিলা,তুমি কি কইরা এখানে আসলা? আমি বলি আমাকে পাঠাই দিছে,আমি চইল্যা আসছিএদেরকে এই কথাই বললামবাঙালিরা অবশ্যই আমাকে জিঙ্গাসা করছে যে কি ব্যাপার? তুমিত টাউন থাইকা আসছতখন আমি তাদেরকে বললাম যে,দেখ আমি যতটুকু জানি বা যতটুকু আমার উপরেদা হইছে ততটুকু আমি বলতে পারিরাস্তাতে আসার পথে আমি শুইন্যা আসছি যে মহিউদ্দিন সাবকে মাইরা ফেলছেতোমরা এখনো বইসা রইছ টাউনে যুদ্ধ শুরু হইয়া গেছে বাঙালি এবং পাঠান পাঞ্জাবিদের মধ্যেতোমরা দেখি এখনও চাকরিই করতেছতখন বামার আমাকে উত্তর দিল যে কি করব আমিরা কোনো হুকুম পাচ্ছি নাহুকুম না পাইলেত কোনো নিজের হুকুম নিজেই বানাইতে হবেপাঞ্জাবিরা শহরের মধ্যে ইপিআরের যে সমস্ত বাঙালি ছিল তাদেরকে সাইরা সাফ কিইরা ফালাইছেআর কিছুসংখ্যক লোকেরে এরেস্ট কইরা লইছেকাজেই এখন এই পাঠান পাঞ্জাবিদের  লগে আমাদের চাকুরি করা সম্ভব নাতখন বলল যে ঠিক আছে,তুমি যতটুকু শুনছ ততটুকু তোমার পেটে রাখ,এইটা আর পাঠান পাঞ্জাবিদের কছে বইল নাদেখি আমি একটু আলাপ কইরাতখন বাশার নায়েব সুবেদার ফরিদের সাথে আলাপ করলপরে শুনছি যে,সে বলছে স্যার করিম আসছে সিলেট থাইক্যা,সে বলছে যুদ্ধ শুরু হইয়া গেছে এখন আমরা যদি এইভাবে বস্যাইয়া থাকি তাইলেত দেশের  জনগণকে মাইরা ধইরা সাফ কইরা ফালাইবেজনগণ ও বলতাছে তারা যুদ্ধ করে না কেন তারা বেকুবের মতো বইস্যা বইস্যা শুধু খাচ্ছেফরিদ সাব বলল যে,করিম যদি এই সমস্ত কথা বইল্যা থাকে ত করিম দেশের সাথে বিট্রে করতে চাচ্ছেকরিমকে এরেস্ট করতখন বাশার আইস্যা আমাকে বলল  করিম তুমি  যতটুকু বলছ না  বলছ আর কোন কিছুই  বইল নাকারণ তোমার প্লাটুন কমান্ডার যে আছে সে এইটার পক্ষপাতী না,সে পাঞ্জাবির পক্ষপাতী সবসময়কজেই তুমি এইকথা বলতে গেলে তোমাকে এরেস্ট কইরা  ফালাইবেতুমি আর এই সম্বন্ধে কোনো কিছু  বইল নাআমি  চুপ কইরা রইলামএকদিন গেল দুই দিনের দিন মাঠে বইস্যা খবর শুনতেছি আমরা ৪টার দিকটাতখন পাঠান এক সিপাই,এক ল্যান্স নায়েক আর এক পাঞ্জাবি সিপাই সেখানে ছিলআমি বললাম যে দেখ রাজা দুনিয়া জুইড়াই  বদলি হয় যাকে নাকি &