নাম
:
বিভুরঞ্জন
সরকার
পিতা
:
অনিলচন্দ্র
সরকার
গ্রাম
: বোদা,
ইউনিয়ন
:
বোদা,
ডাক
:
বোদা
থানা
: বোদা,
জেলা
:
পঞ্চগড়, (১৯৭১ সালে
দিনাজপুর
জেলার অন্তর্গত ঠাকুরগাঁও
মহকুমার একটি
থানা)
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : এম.
এ.
১৯৭১
সালে বয়স : ১৮
১৯৭১
সালে পেশা : ছাত্র,
বর্তমান
পেশা : সাংবাদিকতা
প্র:
১৯৭০ সালের
নির্বাচন এবং
তার পরবর্তী
ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে
আপনি কি জানেন
?
উ: সেই
সময় আমি
ইন্টারমিডিয়েটের
ছাত্র ছিলাম। একজন
ছাত্র কর্মী
হিসেবে আমি
সক্রিয়ভাবে
সেই
নির্বাচনে
কাজ করি। আমি সে সময়
ছাত্র
ইউনিয়ন-এর
সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ৭০ সালের
নির্বাচনে
ছাত্র
ইউনিয়নের
একজন কর্মী
হিসেবে আমি
ন্যাশনাল
আওয়ামী
পার্টির (ন্যাপ)
প্রার্থীর, পক্ষে
প্রচারণা
চালিয়েছি। বর্তমান
বৃহত্তর
দিনাজপুর
জেলায়
(দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও
ও পঞ্চগড়
জেলা) আগে
থেকেই বাম
রাজনীতির
একটা বিরাট
প্রভাব ছিলো। দিনাজপুর-রংপুর
এলাকায় ১৯৪৭
সালে ভারত
ভাগের পরে
তেভাগা
আন্দোলন হয়। তার
নেতৃত্বে
ছিলো
বামদলগুলো। দিনাজপুর
এলাকায় বাম
রাজনীতির
একটা ঐতিহ্য ছিলো। দিনাজপুরের
বিভিন্ন
অঞ্চলে ন্যাপ, কমিউনিস্ট
পার্টি এবং
ছাত্র ইউনিয়ন
একটা সংগঠিত
শক্তি ছিলো। তখন
কমিউনিস্ট
পার্টি
অপ্রকাশ্যে অর্র্থাৎ
আন্ডার
গ্রাউন্ড
পার্টি
হিসেবে কাজ
করতো। কমিউনিস্টরা
তখন ন্যাপের
ব্যানারেই
কাজ করতেন। ন্যাপ বলতে
ওয়ালী খান
ন্যাপ। যেটা
পরে মোজাফফর
ন্যাপ নামে
অভিহিত হয়। আমাদের
নির্বাচনী
এলাকায় অর্থাৎ
পঞ্চগড়
এলাকায় ন্যাপ
মনোনীত
ন্যাশনাল
অ্যাসেম্বলির
অর্থাৎ এম. এন.
এ. পদে
প্রার্থী
ছিলেন
অ্যাডভোকেট
গোলাম রহমান। তিনি
নির্বাচনের
আগে ভাসানী
ন্যাপ করতেন। কিন্তু
নির্বাচনে
প্রার্থী হয়ে
তিনি ওয়ালী
ন্যাপে যোগ
দেন। ঐ
এলাকার
প্রভিনশিয়াল
অ্যাসেম্বলির
আসনে অর্থাৎ
এম. পি. এ. পদে
ন্যাপের
প্রার্থী
ছিলেন
দীপেন্দ্র
নাথ রায়। আমরা এই দুই
প্রার্থীর
পক্ষে ছাত্র
ইউনিয়নের
কর্মী হিসেবে
কাজ করতাম। তখন অবস্হাটা এমন
ছিলো যে, আমাদের মনে
হয়েছিলো এম.
পি. এ. পদে
দীপেন্দ্রনাথ
রায় হয়তো জয়ী
হবেন। আমাদের
এই অনুমানের
কারণও ছিলো। আমি আগেই
বলেছি, ঐ এলাকায়
ন্যাপের খুব
ভালো সংগঠন
এবং ব্যাপক জন
সমর্থন ছিলো।
কিন্তু
বাস্তবে দেখা
গেলো অন্যরকম। ১৯৬৯
সালের
গণআন্দোলন
এবং আগরতলা
ষড়যন্ত্র মামলা
থেকে
বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর
রহমান মুক্ত
হবার পর এই
এলাকার
মানুষের মনের
মধ্যে
রাজনৈতিক অবস্হানটার যে
দ্রুত
পরিবর্তন
ঘটছিলো- সেটা
আমরা ততোটা
বুঝতে পারিনি। আওয়ামী
লীগের
সাংগঠনিক কাঠামো
তখন বৃহত্তর
দিনাজপুর
জেলায় খুব যে
ভালো ছিলো-
এটা বলা যাবে
না। যেমন-
আমাদের বোদা
থানায় সেই সময়
আওয়ামী লীগের
কোনো
সাংগঠনিক
কমিটি ছিলো
বলে আমাদের
জানা ছিলো না। কয়েকজন
লোক
বিচ্ছিন্নভাবে
আওয়ামী লীগের
কর্মী বা
সংগঠক হিসেবে
কাজ করতেন। ৬৯
সালের আগেও
আওয়ামী লীগের
তেমন সমর্থক
ছিলো না। কিন্তু ১৯৬৯
সালের পর থেকে
মানুষ দ্রুতই
আওয়ামী লীগের
পক্ষে চলে
যেতে থাকে। ঐ সময় আওয়ামী
লীগের পক্ষ
থেকে সারা
বাংলাদেশে
একটা পোস্টার
ছড়িয়ে দেওয়া
হয়েছিলো। সেই
পোস্টারের
শিরোনাম ছিলো:
সোনার
বাংলা শ্মশান
কেন ? এই
পোস্টারের
বক্তব্য এবং
আবেদন
মানুষের কাছে
খুবই
তীব্রভাবে
অনুভূত
হয়েছিলো। তখন মানুষ
মনে করেছিলো, পাকিস্তানিদের
শোষণ বঞ্চনার
হাত থেকে
বাঙালির
মুক্তি পাওয়ার
একটাই পথ সেটা
হলো, শেখ
মুজিবের
নেতৃত্বে
সমগ্র জাতি
ঐক্যবদ্ধ
হওয়া এবং তাঁর
দলকে ভোট দিয়ে
ক্ষমতায় নিয়ে
আসা। আমরা
ছাত্র কর্মী
হিসেবে
ন্যাপের
প্রার্থীর
পক্ষে
প্রচারণা চালাতে
তখন নিয়মিত
বিভিন্ন
গ্রামে যেতাম। কিন্তু
আমরা যেখানেই
গেছি, দেখেছি
মানুষ আমাদের
প্রচারণায়
আগের মতো অনুকূল
সাড়া দিচ্ছে
না। সমগ্র
দিনাজপুরেই
বাম দল, বিশেষ করে
ন্যাপ ওয়ালীর
ভালো সংগঠন
এবং বিপুলসংখ্যক
কর্মী সমর্থক
ছিলো, যে
কথা আমি আগেই
বলেছি। এমন
কি যে
জায়গাগুলোকে
ন্যাপের
দুর্গ বলে মনে
করে হতো, যে এলাকায়
গ্রামকে
গ্রাম
ন্যাপের
সমর্থক ভরা
ছিলো- সেখানেও
আমরা মানুষের
মধ্যে দেখেছি
তারা আমাদের
দলের সমর্থক
হওয়া
সত্ত্বেও
আমাদের
প্রার্থীর
পক্ষে তাদের
স্বতঃস্ফূর্ত
কোনো প্রতিক্রিয়া
দেখাচ্ছে না। অনেক
ক্ষেত্রেই
আমরা তাদের
বলেছি যে, আমরাও
আওয়ামী লীগের
সঙ্গে আছি এবং
এক সঙ্গেই স্বাধিকারের
আন্দোলন করছি; কিন্তু
তারপরও মানুষ
আমাদের
ব্যাপারে
স্বতঃস্ফূর্ত
আগ্রহ প্রকাশ
করেনি। কিন্তু
আওয়ামী লীগের
পক্ষে কেউ
কিছু বললেই
মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে
তাতে সাড়া
দিয়েছে। যে আওয়ামী
লীগের পক্ষে
বলছে, তাকে
মানুষ সাদরে
আমন্ত্রন
জানাচ্ছে, সাদরে
গ্রহণ করছে। সত্য কথা
বলতে কি, গ্রামের
সাধারণ
মানুষের
মধ্যে তখন
স্বতঃস্ফূর্তভাবেই
আওয়ামী লীগের
পক্ষে
গণ-জাগরণ সৃষ্টি
হয়েছিলো। আমাদের
এলাকায়
আওয়ামী লীগের
কোনো ভালো সংগঠন
না থাকলেও
সাধারণ মানুষ
শেখ মুজিবের
পক্ষে চলে
গিয়েছিলো।
আমার
নিজের একটা
অভিজ্ঞতার
কথা এখানে বলা
দরকার। নির্বাচনের
কদিন আগে
আমাদের থানা
পর্যায় থেকে
বলা হলো, ন্যাপের
একটা
নির্বাচনী ক্যাম্প
পরিচালনার
জন্য কিছু
টাকা, পোস্টার
এবং অন্যান্য
উপকরণ একটি
এলাকায় পৌঁছে
দেয়ার জন্য। সেটা
প্রত্যন্ত একটা
এলাকা। সেখানকার
একজন লোকের
নামও আমাদের
বলা হলো। আমরা
পোস্টার
ইত্যাদি নিয়ে
সেখানে পৌছে
দেখি, সেই
লোক বিপুল উৎসাহে
আওয়ামী লীগের
হয়ে কাজ করছে। সে তখন আর
ন্যাপের
সঙ্গে নাই। তখন
ব্যাপারটা এ
রকমই হয়ে
গিয়েছিলো। আমরা যেখানে মনে
করেছিলাম
অমুক অমুক
সেন্টারে
ন্যাপের প্রার্থী
বিজয়ী হবে। কিন্তু
নির্বাচন
হওয়ার পর দেখা
গেছে সেখানে
ন্যাপের
প্রার্থী
পেয়েছে কোথাও
১০০শ, কোথাও
৫০ কি ৬০ ভোট। সর্বোচ্চ
কোথাও দেড়শ ভোট। তখন দেখা
গেলো, ঐ
গণজোয়ারে
ন্যাপ বা অন্য
সমমনা দল কোনো
অবস্হান গ্রহণ
করতে পারেনি
এবং মানুষ
স্বতঃস্ফূর্তভাবেই
আওয়ামী লীগকে
ভোট দিয়েছে।
পঞ্চগড়
থেকে
ন্যাশনাল
অ্যাসেম্বলির
আসনে অর্থাৎ
এম. এন. এ. পদে
আওয়ামী লীগের
মোশাররফ
হোসেন চৌধুরী
বিজয়ী হন। প্রভিনশিয়াল
অ্যাসেম্বলির
দুটি আসন
ছিলো। একটাতে
বিজয়ী হলেন
অ্যাডভোকেট
সিরাজুল ইসলাম, আর
একটিতে
কমরউদ্দীন
আহমদ। তিনি
পেশায়
মোক্তার
ছিলেন। দুজনই
আওয়ামী লীগের। এই তিন
জনের মধ্যে
অ্যাডভোকেট
সিরাজুল ইসলাম
বয়সে নবীন
হলেও
রাজনৈতিকভাবে
যথেষ্ট অভিজ্ঞ
ও পরিচিত লোক। এর
কিছুদিন আগেই
তিনি ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে পড়াশোনা
শেষ করে ঐ
এলাকায় যান
এবং আইয়ুব বিরোধী
আন্দোলনে
তিনি বিশেষ
ভূমিকা পালন
করেন। তাঁর
বিরুদ্ধে
একাধিক মামলা
ও হুলিয়াও
জারি হয়। ঐ আন্দোলনের
মাধ্যমে
মানুষ তাকেই ঐ
এলাকার নেতা
হিসেবে গ্রহণ
করেছিলো। জনগণ মনে
করতো তিনিই
তাদের নেতা। তাঁর একটা
বিশেষ
জনপ্রিয়তা
আইয়ুব বিরোধী
আন্দোলনের
সময় থেকে গড়ে
ওঠে।
নির্বাচন
হয়ে গেলো। নির্বাচনে
তো আওয়ামী লীগ
বিপুলভাবে
বিজয়ী হলো। তারপর থেকেই
শুরু হলো নানা
ধরনের
কথাবার্তা। নির্বাচনের
পর থেকে আমরা
নানা ধরনের
গুঞ্জন শুনতে
পাচ্ছিলাম। এই সময়
একদিন ন্যাপ
ওয়ালী
প্রার্থী
অ্যাডভোকেট
গোলাম রহমান
সাহেব আমাদের
বললেন, পাকিস্তানিরা
আওয়ামী লীগকে
ক্ষমতা দেবে
না। তাঁর এই
কথাটা আমার
এখনও মনে আছে। তিনি
বললেন, আমাদের এখন
সশস্ত্র লড়াইয়ে
যেতে হবে। গোলাম রহমান
সাহেব যেহেতু
আগে ভাসানী
ন্যাপ করতেন
এবং আগে থেকেই
কিছুটা চরমপন্হার মানুষ
ছিলেন, তাই তিনি জোর
দিয়েই বললেন, সশস্ত্র লড়াইয়ের
কথা এখন শেখ
মুজিবকে
বলতেই হবে। তাঁর এই কথার
মর্মটা আমরা
তখন বুঝতে
পারিনি। যাহোক, তখন আমরা
যারা ছাত্র
ইউনিয়ন এবং
ন্যাপের কর্মী
ছিলাম তারা যে
আওয়ামী লীগের
এই বিজয়ে খুব
আলোড়িত
হয়েছিলাম-
একথা বলা যাবে
না। বরং
আমরা
নির্বাচনের
ফলাফলে একটু
হতাশই হয়েছিলাম। মনে মনে
ভাবলাম, মানুষকে যে
আমরা এতো
বুঝালাম, শোষণমুক্ত
সমাজ, সমাজতন্ত্র এবং
অন্যান্য
ব্যাপারে, সে সম্পর্কে
তো আওয়ামী লীগ
কিংবা তাদের
নেতা শেখ
মুজিবুর রহমান
কিছু বলে নাই। তারপরও
আওয়ামী লীগের
বক্তব্যই
তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য
মনে হয়েছে। এই কারণে
আমাদের
অনেকের মধ্যে
এক ধরনের ব্যক্তিগত
হতাশা ছিলো।
নির্বাচনের
পর আমরা
ছাত্ররা আবার
কলেজে পড়াশোনায়
ফিরে গেলাম। আমি তখন
দিনাজপুর
কলেজে
পড়াশোনা
করতাম। এ
দিকে ১৯৭১
সালের
ফেব্রুয়ারি
মাসের শেষ দিন
আমাদের কলেজে
ছাত্র সংসদের
নির্বাচন হয়। সেই
নির্বাচনেও
ছাত্র
ইউনিয়নের
প্যানেল পরাজিত
হয়। এ জন্য
আমাদের খুব মন
খারাপ ছিলো। ১৯৭০-৭১
সালের আগে এই
এলাকার
কলেজগুলোর
ছাত্র-সংসদ
নির্বাচনে
ছাত্র
ইউনিয়নই
একচেটিয়া বিজয়ী
হতো। পরদিন
১লা মার্চ
সকালে আমরা
কয়েকজন ছাত্র
বন্ধু
দিনাজপুর
শহরে একটা
সিনেমা হলে
মর্নিং শোতে
সিনেমা দেখতে
গেছি। সিনেমাটার
নাম ছিলো রোড টু
সোয়াত। উর্দু
ছবি। ছবি
দেখে আমরা
দুপুরের দিকে
হল থেকে
বেরিয়েছি। হল থেকে
বেরিয়েই
সামনের রাস্তায় দেখি
একটা মিছিল। মিছিলে
সবাই স্লোগান
দিচ্ছে, বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ
স্বাধীন করো, ভুট্টোর
মাথায় লাথি
মারো, বাংলাদেশ
স্বাধীন করো, ইয়াহিয়ার
মাথায় লাথি
মারো, বাংলাদেশ
স্বাধীন করো। আমরা তো
সেটা দেখে খুব
অবাক হয়ে
গেলাম। আমরা
তো আগের দিন
শুনিনি যে, এ রকম
মিছিল হবে বা
এমন কোনো কর্মসূচি আছে। পরে আমরা
শুনলাম যে, ইয়াহিয়া
খান বেতার
ভাষণ দিয়ে
ন্যাশনাল
অ্যাসেম্বলির
অধিবেশন স'গিত
করেছেন। সেই ভাষণের
প্রতিক্রিয়াতেই
মানুষ যে
যেখানে ছিলো
রাস্তায়
বেরিয়ে এসেছে
এবং
স্বতঃস্ফূর্তভাবে
মিছিল করছে। ঐ দুপুর
বেলাতেই
হাজার হাজার
মানুষ
দিনাজপুর
ইন্সটিটিউটের
সামনে সমবেত
হলো। আমরাও
সেখানে গেলাম। আওয়ামী
লীগের
দিনাজপুরের তৎকালীন
নেতৃবৃন্দ
যারা ছিলেন
তারাও সেখানে এলেন
এবং বক্তৃতা
দিলেন। আওয়ামী
লীগের আজিজুর
রহমান এম.এন. এ.
সাহেব বক্তৃতায়
বললেন, ইয়াহিয়া খান
পার্লামেন্টের
অধিবেশন স্হগিত
ঘোষণা করেছে, তারা
বাঙালিদের
হাতে ক্ষমতা
দিতে চায় না। আমাদেরকে
এর বিরুদ্ধে
আন্দোলন করতে
হবে। আজিজুর
রহমান সাহেব
মুক্তিযুদ্ধ
চলাকালে অত্যন গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন
করেন। তিনি
ছিলেন অত্যন্ত সহজ সরল
অমায়িক মানুষ। কিন্তু
স্বাধীনতার
পর তিনি
সক্রিয়
রাজনীতি থেকে দূরে সরে
যান। যাহোক, আন্দোলন
কিভাবে হবে, তার ধরন
কি হবে, সে সম্পর্কে
অবশ্য আজিজুর
রহমান সাহেব বিস্তারিত
কিছু বললেন না। কিন্তু
মানুষের
মধ্যে তখনই
একটা জঙ্গি মনোভাব। সেটা ছিলো
সত্যি অভূতপূর্ব। আগে থেকে
মাইকিং করে বা
প্রচার করে যে
এই সব মানুষদের
সেখানে ডাকা
হয়েছে তাও নয়। সবাই
স্বতঃস্ফূর্তভাবে
সেখানে চলে
এসেছে। তাৎক্ষণিকভাবেই
এই সভাটা
ওখানে হলো। তারপর থেকে
প্রতিদিনই এই
অবস্হাটা চলতে
থাকে। বিক্ষোভ, মিছিল, মিটিং
প্রতিদিনই
শহরে হতে থাকে
এবং মানুষ
ভুট্টো ইয়াহিয়াকে
ঘৃণা এবং
ধিক্কার
জানাতে থাকে। ১লা মার্চ
থেকেই শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানগুলো
ক্রমশ: বন্ধ
হয়ে যেতে থাকে। অফিস
আদালতে
লোকজনের উপস্হিতি কমে
গেলো। চারিদিকে
এক উত্তপ্ত অবস্হা।
এ
দিকে
দিনাজপুরে
তখন
বিপুলসংখ্যক
বিহারী ছিলো। বাঙালিরা
বিক্ষিপ্তভাবে
বিহারীদের
উপর কয়েকবার
আক্রমণ করে। এই সময়
যারা
প্রগতিশীল
রাজনীতি
করতেন তারা তাদের
রক্ষা করার
চেষ্টা করেন। কিন্তু
বিহারীরা মনে
প্রাণে ছিলো
খুব বাঙালি
বিদ্বেষী। ফলে, এক
ধরনের
উত্তেজনা
চলতেই থাকে
বিহারী এলাকাকে
কেন্দ্র করে। ৫ মার্চ
পর্যন্ত আমি
দিনাজপুর
শহরে ছিলাম। কলেজ বন্ধ
হয়ে যাওয়ার
কারণে আমি
গ্রামের বাড়ি
বোদায় চলে যাই।
প্র:
বোদা গিয়ে
আপনি কি করলেন
?
উ: বোদায় গিয়ে আমরা যারা রাজনৈতিক সচেতন ছিলাম তারা আবার সংগঠিত হতে থাকি। তখন পর্যন্ত তো মুক্তিযুদ্ধের কথাটা আমাদের সামনে আসে নাই। কি হবে, তখন পর্যন্ত তো অনিশ্চিত। সর্বত্র মানুষের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, কানাঘুষা হচ্ছে। আর মিছিল প্রতিদিনই হচ্ছে। গ্রামে গিয়েও দেখি মিটিং মিছিল সমানে হচ্ছে। মিছিলে মানুষ স্লোগান দিচ্ছে, পদ্মা-মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা, কিংবা ভুট্টোর মাথায় লাথি মারো, ইয়াহিয়ার মাথায় লাথি মারো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো, বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো, ইত্যাদি। এই কথাগুলো মানুষের মুখে মুখে প্রচার হয়ে গেছে গ্রাম পর্যন্ত। এটা একটা বিস্ময়কর ঘটনা। আমি তো তখন সক্রিয় ছাত্র কর্মী। কিন্তু আমি দেখেছি, মানুষকে কেউ এই কথাগুলো শিখিয়ে দেয়নি। কিংবা আমরাও গিয়ে বলিনি। অথচ এই কথাগুলো গ্রামের সকল মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সে সময় প্রচুর মিটিং মিছিল করেছে। কিন্তু তারাও যে মানুষের কাছে এই ধরনের কথা প্রচার করেছে তা শুনিনি। আমাদের বোদায় দুজন লোক ছিলেন। একজনের নাম আবদুল লতিফ। লতিফ সাহেব একটা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। আর এক