নাম
:
বলরাম
গুহঠাকুরতা
পিতা
:
সুরেশচন্দ্র
গুহঠাকুরতা
পাড়া
:
আশ্রমপাড়া,
ডাক :
ঠাকুরগাঁও
টাউন
ইউনিয়ন :
নিশ্চিন্তপুর,
থানা :
ঠাকুরগাঁও
জেলা
:
ঠাকুরগাঁও (
১৯৭১ সালে
দিনাজপুর
জেলার অন্তর্গত
মহকুমা)
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : বি.এ.,এল.এল.বি.
১৯৭১
সালে বয়স : ৩৫
১৯৭১
সালে পেশা :
আইনজীবী,
বর্তমান
পেশা : আইনজীবী
প্র:
১৯৭০ সালের
নির্বাচন ও
তার পরবর্তী
ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে
আপনি কি জানেন
?
উ: ১৯৭০
সালে আমি
ঠাকুরগাঁওয়ে
আইন পেশার
সাথে জড়িত
ছিলাম এবং
রাজনৈতিকভাবে
ন্যাশনাল
আওয়ামী
পার্টি
(ওয়ালি)-এর
একজন সক্রিয়
সদস্য ছিলাম। আমি
ন্যাপ-এর
ঠাকুরগাঁও
মহকুমার ভাইস
প্রেসিডেন্ট
ছিলাম। স্বাধীনতার
পর এটা
মোজাফফর
ন্যাপ নামে
অভিহিত হয়। ১৯৭১ সালে
ঠাকুরগাঁও
দিনাজপুর
জেলার একটি মহকুমা
ছিলো। নির্বাচনে
আওয়ামী লীগ
নিরঙ্কুশ
সংখ্যাগরিষ্ঠতা
লাভ করে। কিন্তু তারপরও
যখন আওয়ামী
লীগকে ক্ষমতা
হস্তান্তর করা
হলো না, তখন গোটা
দেশের সঙ্গে
ঠাকুরগাঁওয়ের
মানুষও আন্দোলনে
নেমে পড়ে। আমরা
বিভিন্ন
জায়গায় সভা
মিছিল করে তৎকালীন
পাকিস্তানি
সরকারের
বিরুদ্ধে
আন্দোলন
জোরদার করতে লাগলাম। ঠাকুরগাঁও
মহকুমায়
প্রাদেশিক
পরিষদের তিনটা
সিট ছিলো। একটা সিট
হচ্ছে
ঠাকুরগাঁও
সদর আর অন্য
একটা থানার
কিছুটা অংশ
নিয়ে। এই
সিটে বিজয়ী
এম. পি. এ. ছিলেন
আওয়ামী লীগের
মোঃ ফজলুল
করিম সাহেব। তাঁর
সঙ্গে
নির্বাচনী
লড়াইয়ে
নেমেছিলেন মুসলিম
লীগের
সম্ভবতঃ
মীর্জা রুহুল
আমিন। বর্তমান
প্রতিমন্ত্রী ফখরুল
ইসলাম
আলমগীর-এর
পিতা। আরেকটা
সিট ছিলো
বীরগঞ্জ আর রানীশংকৈল
এলাকা নিয়ে। এখানে
নির্বাচিত
সদস্য ছিলেন
আওয়ামী লীগের সম্ভবত:
আকরাম। আরেকটা
সিট ছিলো। সেটাও ছিলো
আওয়ামী লীগের। এখানকার
নির্বাচিত
সদস্যের
নামটা এই
মুহূর্তে মনে
করতে পারছি না। এ সময়
মুসলিম লীগ
থেকে মীর্জা
রুহুল আমিন
নির্বাচন
করেছিলেন- যে
কথা আমি বলেছি। আর
অন্যান্য
জায়গা থেকে এ
দলের
উল্লেখযোগ্যদের
মধ্য থেকে
কনটেস্ট
করেছিলেন নূরুল হক
চৌধুরী সাহেব। ন্যাপ
ওয়ালি থেকে
কনটেস্ট
করেছিলেন এফ.
এ. মোহাম্মদ
হোসেন সাহেব। ঠাকুরগাঁওয়ে
তিনি ন্যাপের
সভাপতি ছিলেন। তিনি
ঠাকুরগাঁও
সিট থেকে
কনটেস্ট
করেছিলেন। নির্বাচনে
তিনটা সিট-ই
আওয়ামী লীগ
পেলো। তারপর
তো ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে
গোটা দেশে যখন
আন্দোলন শুরু
হলো তখন ঠাকুরগাঁওয়েও
এর ব্যতিক্রম
ছিলো না। ৭ মার্চে
বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর
রহমান যখন ভাষণ
দিলেন যে, ‘এবারের
সংগ্রাম
স্বাধীনতার
সংগ্রাম।’ তারপরই
আমরা
ঠাকুরগাঁওয়ে ‘সংগ্রাম
পরিষদ’ গঠন করি। সংগ্রাম
পরিষদে
আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল
আওয়ামী
পার্টি
(ওয়ালি) এবং
কমিউনিস্ট পার্টি-এই
তিন দলের
নেতৃবর্গকেই
অন্তর্ভুক্ত
করা হয়েছিলো।
প্র:
সংগ্রাম
পরিষদের
সঙ্গে যুক্ত
সদস্যদের নামগুলো
বলবেন কি ? সংগ্রাম
পরিষদের কাজই
বা কি ছিলো ?
উ: আওয়ামী
লীগের মো: ফজলুল
করিম সাহেব
এম. পি. এ. ছিলেন। ঠাকুরগাঁও
আওয়ামী লীগ
সেক্রেটারি
আবদুর রশিদ
সাহেব ছিলেন। এ দিকে
কমিউনিস্ট
পার্টির
কামরুল হোসেন, মেরাজুল
হোসেন এবং
ওয়ালি
ন্যাপ-এর
ছিলেন এফ. এ.
মোঃ হোসেন, মোঃ নূরুল হক
আর আমি বলরাম
গুহঠাকুরতা। আরো
কয়েকজন ছিলেন। কিন্তু এই মুহূর্তে
তাঁদের নাম
আমার মনে পড়ছে
না। সংগ্রাম
পরিষদ অনেক
কাজই করেছিলো।
৭
মার্চের পরে
আমরা কিছু
লিফলেট
ছাপিয়েছিলাম। পাকিস্তান সরকার
যে নির্বাচিত
প্রতিনিধিদের
কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করছে
না এবং এরই
প্রেক্ষিতে
বঙ্গবন্ধু যে
৭ মার্চের
ভাষণ দিলেন
সেই
প্রেক্ষিত
মনে রেখেই
আমরা কিছু
লিফলেট
ছেপেছিলাম
এবং সেই লিফলেট
ঠাকুরগাঁওয়ের
প্রত্যেকটি
অংশে পৌঁছে
দেওয়া
হয়েছিলো। সে সময় তো
পঞ্চগড়
ঠাকুরগাঁও
মহকুমার অন্তর্ভুক্ত
অন্তর্ভুক্ত ছিলো। অর্থাৎ
পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া, আটোয়ারি, দেবীগঞ্জ-এ
সব এলাকা
আমাদের
ঠাকুরগাঁওয়ের
অধীনে ছিলো। আমরা অর্থাৎ
নেতৃবর্গ
যাঁরা ছিলাম
তাঁরা বিভিন্ন
জায়গায় ছড়িয়ে
পড়ে ঐ সমস্যা লিফলেট
বিলি এবং
সভা-সমিতি
করতে লাগলাম। আমরা
জনতাকে
বুঝাতে
চেষ্টা করলাম
যে,
আমাদের
এবারের
সংগ্রাম
স্বাধীনতা
অর্জনের সংগ্রাম। সংগ্রাম
পরিষদে
আমাদের সঙ্গে
আরো একজন ছিলেন
এম. পি. এ.
সিরাজুল ইসলাম-
যিনি পঞ্চগড়
আটোয়ারি থেকে
নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমরা সবাই
ভাগ ভাগ করে
বিভিন্ন
থানায় মিটিং করতে
লাগলাম।
প্র:
৭ মার্চের পরে
আপনার কি কোনো
উল্লেখযোগ্য
জনসভার কথা
মনে পড়ে ?
উ: এমন
কোনো থানা নেই
যেখানে আমরা
মিটিং করিনি। প্রত্যেকটি
থানাতে এমন কি
ইউনিয়নেও আমরা
মিটিং করেছি। ২/১ দিন পর
পর আমরা মিটিং
করেছি আওয়ামী
লীগ, কমিউনিস্ট
পার্টি এবং
ন্যাপ মিলে। এভাবে মিটিং
মিছিল
চলাকালে ২৫
মার্চ পাকিস্তান আর্মি
হঠাৎ করেই
ব্যাপকভাবে
আক্রমণ শুরু
করে। এ সংবাদ
আমরা ২৫ মার্চ
রাতেই পেয়ে
যাই। পর দিন
২৬ মার্চ বেলা
১০টায় এর
প্রতিবাদে
আমরা বিশাল এক
মিছিল বের
করলাম
ঠাকুরগাঁও শহরে। এই মিছিলে
সর্বস্তরের
জনগণ আমাদের
সাথে ছিলো। সব রাজনৈতিক
দলই এই মিছিলে
অংশগ্রহণ
করেছিলো। এ দিন বিকালে
আওয়ামী লীগ
দলীয় এম. পি.
খাদেমুল ইসলামের
ভাড়া বাড়ির
মালিক রফিউল
এহসান-এর বাড়ির
ভিতর ছোট্ট
একটি ঘরে আমরা
অত্যন্ত গোপনে
মিটিং করলাম। এই সভাতেই
মুক্তিযুদ্ধ
পরিচালনা বা
নেতৃত্ব
দেয়ার জন্য
একটা সেল গঠন
করা হয়। আমরা
সভায়
বসেছিলাম ২৬
মার্চ বিকাল
পাঁচটায়।
প্র:
কারা কারা এই
মিটিংয়ে
ছিলেন ?
উ: আমার
যতদূর মনে পড়ে
আওয়ামী লীগের
এম. পি. এ. ফজলুল
করিম সাহেব, আবদুর
রশীদ সাহেব, ন্যাপের
এফ. এ. মোঃ
হোসেন সাহেব, ন্যাপের
সেক্রেটারি
মোঃ নূরুল হক
সাহেব, ন্যাপের
ভাইস
প্রেসিডেন্ট
আমি ছিলাম, কমিউনিস্ট
পার্টির
কামরুল হোসেন
এবং আলা বলে
একটি ছেলে
ছিলো। কমিউনিস্ট
পার্টির সৈয়দ
মেরাজুল
হোসেন ছিলেন
কিনা আমার ঠিক
মনে পড়ছে না। ঐ সভায়
আমরা সিদ্ধান্ত
নিয়েছিলাম
যে,
এখন
যে সংগ্রামটা
শুরু হলো সেটা
পুরোপুরি যুদ্ধে
রূপ নিতে পারে। সে
ক্ষেত্রে
সংগ্রাম বা
যুদ্ধ
পরিচালনার জন্য
আমরা আমাদের
নেতা এবং
নেতৃত্ব ভাগ
করে নেই। একটা চার্ট
আমরা তৈরি
করলাম। সেই
চার্টে আমরা
প্রথম
নেতৃত্বে
রাখলাম এফ. এ.
মোঃ হোসেন
সাহেব এবং
আওয়ামী লীগ
দলীয় এম. পি. এ.
জনাব ফজলুল
করিম সাহেবকে। যদি এরা
দু’জন মারা
যান তাহলে
পরবর্তীতে
আবদুর রশীদ
সাহেব ও
কামরুল হোসেন
সাহেব
নেতৃত্ব
দেবেন। এরা
দু’জন মারা
গেলে আমি
বলরাম
গুহঠাকুরতা ও নূরুল হক
নেতৃত্ব দেবো। আরো
সিদ্ধান্ত
হয়
যে,
এই
রাতেই আমরা
প্রতিটি থানা
থেকে জনগণকে With Arms অর্থাৎ
তাদের কাছে যে
বন্দুক, গাদাবন্দুক, লাঠি
সোটা- যা আছে
তাই নিয়ে আমরা
ঠাকুরগাঁও শহরে
আসবো এবং
তারপর আমরা
ই.পি.আর ক্যাম্পে
যাবো। এই
শো ডাউনের
কারণ ছিলো। ই.পি.আর. ক্যাম্পের
কিছু বাঙালি
জওয়ান ৭
মার্চের পর
থেকেই আমাদের
সাথে যোগাযোগ
রাখছিলো। তারা আমাদের
এমন ইঙ্গিত
দিয়েছিলো যে, আমরা
যদি
ই.পি.আর.-বাহিনীর
৯ নম্বর
উইং-এর গেটে বিশাল
জনতার মিছিল
নিয়ে যেতে
পারি তাহলে
বাঙালি
ইপিআর-রা
আমাদের সাথে
যোগ দেবে। তাদের সেই
আশ্বাসের
ভিত্তিতেই
আমরা সব থানাতেই
২৬ মার্চ সারা
রাত জেগে
অরগানাইজ
করলাম। আমার
দায়িত্ব
পড়েছিলো
আটোয়ারি থানা। আমি একটা
মটর সাইকেলে
সাথে একজনকে
নিয়ে আটোয়ারি
থানার চরেয়া, মীর্জাপুর, রসেয়াসহ
পুরো আটোয়ারি
থানার যে সব
বয়স্ক রাজনীতিক
ছিলেন তাঁদের
সাথে যোগাযোগ
করলাম। তাঁরা
তাদের বন্দুক, লাঠিসোটা, চাল-ডাল
নিয়ে প্রস্তুত হলো
শহরে যাবার
জন্য। চাল-ডাল
নেয়ার কারণ
হলো যারা শহরে
থাকবে তাদের
খাবার
প্রয়োজন হবে। তাই তারা
তাদের
সামর্থ্য মতো
যে যা পারলো
তাই দিলো। আমি চাল-ডাল, জিনিসপত্র
এবং লোকজন
নিয়ে ট্রাকে
করে ২৭ মার্চ
সকাল ৯টায়
ঠাকুরগাঁও
শহরে এলাম। আমরা
ঠাকুরগাঁও
চৌরাস্তা থেকে
মিছিল বের
করলাম। আমাদের
লক্ষ্য ছিলো এই
মিছিল নিয়ে
আমরা ইপিআর
ক্যাম্পে যাবো
এবং তারা
আমাদের সঙ্গে
যোগ দেবে। বড় আশা নিয়েই
আমরা ইপিআর
উইং
হেডকোয়ার্টার
গেটে
গিয়েছিলাম। আমি যেমন
আটোয়ারি থানা
থেকে লোকজন
নিয়ে এসেছিলাম। সে
রকমভাবে
বিভিন্ন থানা
থেকেই লোকজন
নিয়ে আসা
হয়েছিলো। মোঃ নূরুল হক সাহেব
পঞ্চগড় থেকে
ব্যক্তিগতভাবে
এসেছিলেন। কিন্তু পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া
থেকে তার
পক্ষে লোকজন
আনা সম্ভব
হয়নি দূরত্বের
কারণে। তবে
আশ পাশের যত
থানা ছিলো-
সকল থানা
থেকেই লোকজন
আসলো। সর্বস্তরের
জনগণ মিলে এমন
কি মুসলিম লীগ, যাদেরকে
আমরা
স্বাধীনতা
বিরোধী বলে
মনে করি তাদেরও
অনেক সমর্থক ও
কর্মী আমাদের
সাথে যোগ দিয়েছিলো। আমরা
ঠাকুরগাঁও
শহর থেকে
মিছিল করে
ইপিআর ক্যাম্পের
গেটে গেলাম। সেখানে
গিয়ে দেখি
ইপিআর বাহিনী
মেশিনগান, থ্রি নট
থ্রি রাইফেল ও
অন্যান্য অস্ত্র হাতে
পজিশন নিয়ে
বসে আছে। ওখান থেকেই
কয়েকজন
বাঙালি ইপিআর
সদস্য আমাদেরকে
ইশারা করলো
চলে যাবার
জন্যে। চলে
যাবার
ইশারাটা আমরা
ঠিক বুঝতে
পারছিলাম না। তারা
আমাদের চলে
যেতে বলছে না
আসতে বলছে
সেটা বুঝতে
পারিনি। সেই
মুহূর্তে
একজন
পাঞ্জাবি
ক্যাপ্টেন
একটি রাইফেল
নিয়ে ফায়ার
শুরু করে
ইপিআরদের
আমাদের দিকে
তাক করে পজিশন
নিতে বললো। ওরা যখন
পজিশন নিতে
আরম্ভ করলো
আমরা তখন
ছত্রভঙ্গ হয়ে
গেলাম। কথা
ছিলো, বাঙালি
ইপিআর-রা
আমাদের সাথে
যোগ দেবে। কিন্তু যোগ না
দিয়ে যখন গুলি
চালাতে আরম্ভ
করলো তখন আমরা
ওখান থেকে
ব্যাক করে
শহরে ঢুকলাম। কিন্তু শহরে
ঢুকেই দেখতে
পেলাম যে, অন্য রাস্তা দিয়ে
ইপিআর বাহিনী
ঠাকুরগাঁও
শহরে এসে বিভিন্ন
রাস্তার কোণে
অবস্থান
নিয়েছে
মেশিনগান, রাইফেল
ইত্যাদি নিয়ে। প্রতিটি
গ্রুপের
সাথেই দু’জন করে
পাঞ্জাবি
জেসিও ছিলো। তাদের
কাছে পিস্তল ছিলো, এস. এল.
আর-ও থাকতে
পারে। ইপিআর-এর
যারা বাঙালি
জোয়ান ছিলো
তারা সামনে ছিলো
এবং তারা
পজিশন নিয়ে
ছিলো।
তখন
বেলা বারোটা
কিংবা একটা
হবে। আমরা
যখন মিছিল
নিয়ে
ফিরছিলাম তখন
মোহাম্মদ আলী
নামে একজন
রিক্সাওয়ালা
এবং তার সাথে
আরো কয়েকজন
মিছিলে সামিল
হতে যাচ্ছিলো। তারা
মিছিলের
শেষভাগে ছিলো। এ সময়
তাদেরকে
ইপিআর-রা চেজ
করলো। ওদের
তারা বললো, ‘রুখ যাও, কেয়া
মাংতা, ? তখন তারা
বললো, ‘জয়
বাংলা’। হাত
তুলে ‘জয়
বাংলা’ বলে চিৎকার
করতে শুরু
করলো। তখন
ইপিআররা মোঃ
আলীকে লক্ষ্য
করে গুলি করে। ফলে, সে সেখানেই
মারা যায়। যেখানে সে
মারা যায়
পরবর্তীতে
সেখানেই তার কবর
হয়েছে। যাহোক, গুলি
হওয়ার
কিছুক্ষণ পরই
আমরা খবর
পেলাম যে, নরেশ চৌহান
নামে অপর একটা
ছেলেও গুলিতে
নিহত হয়েছে। যদিও
ছেলেটা ঘরের
মধ্যে ছিলো। গুলিটা
বেড়ার ভিতর
দিয়ে ঢুকে
তাকে বিদ্ধ
করায় সে
মৃত্যুবরণ
করে। স্বাধীনতার
পর তার
স্মরণেও একটা
স্মৃতি সৌধ হয়েছে। এই দু’টো
মৃত্যুর পর
ঠাকুরগাঁও-য়ের
লোকজন পালাতে
শুরু করে। তখন থেকেই
ঠাকুরগাঁওয়ে
কার্ফু শুরু
হলো। এ সময়
আমার বাড়িতে
কিছু আওয়ামী
লীগের নেতৃস্থানীয়
ব্যক্তি এবং
এফ. এ.
মোহাম্মদ
হোসেন সাহেব সহ
আরো কয়েকজন
ছিলেন। আমরা
বাড়ি থেকে বের
হবার কোনো রাস্তা
পাচ্ছিলাম না। কারণ আমার
বাড়ির
চারদিকেই
ইপিআরদের
মেশিনগান ফিট
করা ছিলো। আমরা তখন
চিন্তা করছি
কিভাবে কোথায়
থাকবো। এভাবে
যখন ভাবছি তখন
রাত্রি
বারোটার দিকে
আমরা গুলির
আওয়াজ পেলাম
ইপিআর ক্যাম্প
থেকে। ইপিআর
ক্যাম্পের এই
আওয়াজ আস্তে আস্তে প্রচন্ড
আকার ধারণ
করলো। এদিকে
ইপিআর যারা
শহরে অবস্থান
নিয়েছিলো
তারা উইথড্র
করে চলে গেলো। ইপিআর-রা
চলে যাবার পর
আমরা যারা
ইয়াং ছিলাম
তারা বাড়ি
থেকে বেরিয়ে
পড়লাম এবং
ইপিআর ক্যাম্পের দিকে
গেলাম।
তখন রাত দু’টো আড়াইটে হবে। দূর থেকে আমরা দেখছি গোলাগুলি হচ্ছে। কিন্তু সাহস করে এগুতে পারছি না। যুদ্ধটা যে কাদের মধ্যে হচ্ছে, কে করছে এ সব কিছুই জানা যাচ্ছে না। এর মধ্যে হঠাৎ করে আমরা ইপিআর-এর চারজনকে দেখতে পেলাম যারা রীতিমতো যুদ্ধের পোষাক পড়ে অস্ত্র হাতে এগিয়ে আসছে। আমরা ভয় পেয়ে গেলাম। বুঝতে পারছিলাম না, এরা পাকিস্তানের সমর্থক না আমাদের সমর্থক। আমরা গাছের আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম। কিছদূর এগিয়ে এসে তারা ‘জয় বাংলা’ বলে চিৎকার করে উঠলো। ‘জয় বাংলা’ চিৎকার শুনে আমরা দৌঁড়ে তাদের কাছে গেলাম এবং তাদের সাথে হাত মেলালাম। তারা বললো, ‘আমরা অনেক দুশমনকে খতম করেছি এবং এখনও খতম করা হচ্ছে। আপনারা শহরের দুশমনদের মারেন।’ শহরের দুশমন কথাটার অর্থ হচ্ছে যখন অসহযোগ আন্দোলন চলছিলো তখন আমাদের কাছে খবর আসে যে, ইপিআর ক্যাম্প থেকে কিছু অস্ত্র শহরের অবাঙালিদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। এটা আমরা কেউ কেউ দেখেছি এবং এটা আমাদের নলেজে ছিলো। এরা আমাদের ইঙ্গিত করলো ঐ সমস্যা লোকজনদের মেরে ফেলার জন্য। দু’টো কারণে তারা আমাদের এ কথা বলেছিলো