নাম : ফকির আবু হোসেন

পিতা : মরহুম আমিনউদ্দীন ফকির

গ্রাম : কচুবেনিয়া, ইউনিয়ন : রামচন্দ্রপুর, ডাক : কচুবেনিয়া

থানা : মোরেলগঞ্জ, জেলা : বাগেরহাট (১৯৭১ সালে খুলনা জেলার অন্তর্গত মহকুমা)

শিক্ষাগত যোগ্যতা : এম. কম.

১৯৭১ সালে বয়স : ৩০

১৯৭১ সালে পেশা : অধ্যাপনা

বর্তমান পেশা : অবসর জীবন

 

 

প্র: পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আক্রমণ সম্পর্কে আপনি কি শুনেছিলেন বা কি জানেন ?

 

উ: আমি তখন খুলনা শহরেই থাকতামআজম খান কমার্স কলেজে আমি তখন অধ্যাপনা করতামখুলনা সার্কিট হাউজের পাশেই আমার বাসা ছিলো২৫ মার্চ রাতে আমি কিছু শুনি নাইঐ রাতে সার্কিট হাউজে কিছু পাকিস্তানি সেনাকে আমি দেখলামতারা আগে থেকেই ওখানে ছিলোপরদিন সকাল বেলা পাকিস্তান রেডিওতে শুনতে পেলাম যে, প্রত্যেক শহরে সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছেপরে বিদেশী রেডিওতে জানতে পারলাম, পাক আর্মি ঢাকার বিভিন্নস্হানে আক্রমণ করে লোকজনদের হত্যা করছেখুলনা মূল শহরে তখন কারফিউসম্ভবত ২৬ বা ২৭ মার্চ দুপুরের দিকে তারা ঘন্টা দুই কারফিউ তুলে নেয়ঐ ফাঁকে আমি খুলনা শহর থেকে গ্রামে চলে যাইযাওয়ার সময় দেখলাম শহরের দু/এক জায়গায় লাশ পড়ে আছেবিদেশী রেডিও-র খবরে আমরা অবশ্য আরো জানতে পেরেছিলাম যে পাকিস্তান সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে পুলিশ এবং ইপিআর ফোর্স প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছেধারণা হলো, পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি যখন একতাবদ্ধ হয়েছে তখন এই যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করবোবঙ্গবন্ধু তো ৭ মার্চ বলেই ছিলেন যে, তোমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করোতাঁর সেই নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্নস্হানে বাঙালিরা তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করতে থাকে

 

প্র: ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর হাতে আপনি আক্রান্ত হয়েছিলেন কি ?

 

উ: পাক বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হইনিকিন্তু আমি একবার খুব বিপদে পড়েছিলামসেই সময় আমি আমার গ্রাম কচুবেনিয়াতে পালিয়ে আছিআমার বাড়ি থেকে একটু দূরে একটা রাজাকার ক্যাম্প ছিলোসেখানে অনেক রাজাকার থাকতোএরা প্রত্যেক দিন এখানে সেখানে যেতো এবং লোকজনের উপর অত্যাচার করতোতারা লোকজনের কাছ থেকে জোর করে এটা সেটা নিতোযেদিন আমি বাড়িতে পালিয়ে ছিলাম সেদিন রাতে একদল মুক্তিযোদ্ধা রাজাকার ক্যাম্পে আক্রমণ চালায়বহুক্ষণ গোলাগুলি হয়ভোর রাতে যুদ্ধটা থেমে গেলোরাজাকাররা প্রটেক্টেড একটা বিল্ডিংয়ে ছিলোসেদিন তাদের কেউ মারা যায়নিভোর রাতেই মুক্তিযোদ্ধারা ওখান থেকে চলে যায়

 

   ভোর বেলা আমি মনে করলাম যে, রাজাকাররা এখন নিশ্চয়ই এলাকায় ব্যাপক অত্যাচার শুরু করবেএই চিন্তা করে আমি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যযাওয়ার পথেই আমি হঠাৎ করে রাজাকারদের সামনে পড়ে গেলামপ্রায় ১০০শ রাজাকার তাদের আমর্স অ্যামুনিশন নিয়ে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে আমি যে পথ দিয়ে পালাচ্ছিলাম সেই পথ দিয়েই তারা আসছিলোএলাকার রাজাকারদের তখন যে নেতৃত্ব দিচ্ছিলো, সে আমার পরিচিতসে আমাকে দেখে ফেলেতখন আমি আরো ভীত হয়ে পড়িভাবলাম আমি আর বাঁচতে পারবো নাকিন্তু আল্লাহর কি ইচ্ছা ! ঐ রাজাকার লীডার আমাকে বললো, আবু ভাই, আপনি কোথায় যাচ্ছেন ? আমি বলি যে, আমি যাচ্ছি তো ঐ দিকেসে আমাকে বললো আপনি কি শুনেছেন যে, মুক্তিযোদ্ধারা গত রাতে আমাদের ক্যাম্প আক্রমণ করেছিলোআমি বললাম হ্যাঁ, শুনেছিও তখন বললো, যাই ব্যাটাগো আজকে ধরবো, আমরা সে জন্য যাচ্ছি-এই কথা বলে তারা চলে গেলোআমিও অন্যদিকে চলে গেলাম

 

   পরে শুনলাম রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের না পেয়ে পাশেই একটা হিন্দু এরিয়াতে ঢোকেসেদিন হাটের দিন ছিলোরাজাকাররা হাটটাকে ঘেরাও দিয়ে প্রায় শ খানেক লোককে খাল পারে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে

 

প্র: সেটা কোন হাট ?

 

উ: সেটা হলো শাঁখারিকাঠির হাটহাটটা কচুয়ার ভিতরেরাজাকাররা শাঁখারিকাঠির হাট ঘেরাও দিয়ে শখানেক লোককে খাল পারে নিয়ে হত্যা করেআরেক দিনের একটা ঘটনাতখন আমি পালিয়ে আছি আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতেদিনের বেলাতে বের হই নারাতে হয়তো এখানে সেখানে যাইলোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখিলোকজনদের একটু সাহস দেইমুক্তিযুদ্ধে যদি কেউ যেতে চায় তাহলে কোথায় যেতে হবে, কি করতে হবে এগুলা আমি বলিওই আত্মীয়ের বাড়িতে থাকার সময়ই একদিন বিকেল ৪টার দিকে শুনতে গেলাম যে, ঐ বাড়িতে মিলিটারি আসছেতখন আমার মনে ভয় হলো যে, নিশ্চয়ই তাদের কাছে কোনো ইনফরমেশন আছেকেউ হয়তো আমার কথা তাদের বলে দিয়েছেতখন ঐ বাড়ির মেয়েছেলে যারা ছিলো তারা আমাকে ওখান থেকে সরিয়ে একটা বাগানের ভিতর নিয়ে যায়পাক আর্মি এবং রাজাকাররা ঐ বাড়ির ভিতর ঢুকে সার্চ করতে থাকেতারা একটু দেখেটেখে চলে গেলোতারা আর কিছু করেনি

 

   পরে ওখান থেকে পালিয়ে আমাদের এলাকার ভিতরেই আরেকটা থানা এলাকায় চলে গেলামওটা আমার শ্বশুর বাড়ির এরিয়া, চন্দ্রপুরআমি সেখানে চলে গেলামচন্দ্রপুর গিয়ে আমি একটা হিন্দু পাড়ায় আশ্রয় নিলামওই এলাকায় থাকার সময় একদিন আমি আমার শ্বশুর বাড়িতে ছিলামসেখান থেকে নদীটা একেবারে কাছেওখানে একটা হাই স্কুলের সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি-এমন সময় খবর পেলাম যে, মিলিটারি আসছেচারদিকে লোকজনের ছুটাছুটি শুরু হলোশেষপর্যন্ত শোনা গেলো যে, মিলিটারি এখনও আসেনিতবে তারা আসবেতখন আমি ওখান থেকে চলে গেলামশেষ পর্যন্ত ঐ দিন তারা ওখানে আসে নাইতবে পরে ঠিকই আসছিলোপাকিস্তানিরা হিন্দু এরিয়াটা সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দিয়েছিলো এবং অন-ত ১০/১৫ জনকে গুলি করে মেরে ফেলেছিলোমিলিটারিরা পিরোজপুর থেকে স্পীডবোটে ওখানে আসছিলোওই পাড়ার ভিতর দিয়ে একটা খাল  গেছেসেই খাল দিয়ে মিলিটারিরা একবারে পাড়ার মধ্যে ঢুকে পড়েলোকজন পালাবারও সুযোগ পায়নিতারা যাকে যেখানে পেয়েছে তাকে গুলি করে মেরেছে

 

প্র: আপনি কি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন ?

 

উ: আমি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করিনিকিন্তু সহযোগিতা করেছিআমার এক চাচা কিছু ছেলেপেলে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে গিয়েছিলেনআমি মুক্তিযোদ্ধাদের ইনফর্মার হিসেবে কাজ করেছিলামকেউ কেউ আমাকে বললো, আমার আর ভারতে যাওয়ার দরকার নাইএখানে থেকে অন্যান্য কাজগুলা তুমি করোসেই কাজগুলা আমি করতামবিভিন্ন ধরনের সংবাদ পৌঁছে দিতাম

 

প্র: আপনি শত্রুদের সংবাদ সংগ্রহ কিভাবে করতেন ?

উ: আমাদের এখানে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের শেষের দিকে একটা ক্যাম্প করেছিলোওটা ছিলো মোরেলগঞ্জ থানার ভিতরেই, কিন্তু সুন্দরবন এরিয়াতেসেখানে আমার লোক যাতায়াত করতোতাদের দিয়ে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে শত্রুদের সম্পর্কে খবর পাঠাতামমুক্তিযোদ্ধারাও তাদের মারফত আমার কাছে খবর দিতোমোরেলগঞ্জে মুক্তিবাহিনী একটা অপারেশন করেছিলোসেই অপারেশনে তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিলোমোরেলগঞ্জ থানা হেড কোয়ার্টারে রাজাকার ক্যাম্প ছিলোবড় একটা রাজাকার ক্যাম্পমুসলেহউদ্দীন নামে মোরেলগঞ্জ কলেজের এক অধ্যাপক এই রাজাকার বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলোস্কুলের কিছু মাস্টারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিলোতারা কেউ কেউ আবার রাজাকারও ছিলোকেউ কেউ তাদের ইনফরমার ছিলোমধু সাহেবের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা মোরেলগঞ্জ রাজাকার ক্যাম্পে আক্রমণ চালায়সেটা সফল আক্রমণ ছিলোসারা রাত ধরে যুদ্ধ হয়কয়েকজন রাজাকার মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়েমুক্তিযোদ্ধারা ভোরের দিকে ওখান থেকে তাদের ক্যাম্পে চলে যায়এই যুদ্ধে আমি সাহায্য করি

 

প্র: আপনার এলাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী কখন আক্রমণ করলো ?

 

উ: বাগেরহাট এপ্রিলের প্রায় শেষ পর্যন্ত মুক্ত ছিলোবাগেরহাটের পূর্বপারে বিষ্ণুপুর এরিয়া সব সময়ই মুক্ত ছিলোএ এলাকায় আর্মি কোনো দিন ঢুকতে পারেনিএপ্রিল মাসের শেষে পাক বাহিনী বাগেরহাটে এসে যায়এর কিছু পরে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়রাজাকাররা গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে পড়েবাগেরহাটে রজব আলি ফকির নামে এক কুখ্যাত রাজাকার ছিলোসে লীডার ছিলোরজব আলি ফকির বিষ্ণুপুর, রামচন্দ্রপুর এরিয়ায় খুব অত্যাচার করেছেবাগেরহাট মডেল স্কুলের একজন শিক্ষক ছিলো, নাম সিরাজসেও খুব অত্যাচার করেছেবাগেরহাটে রাজাকাররা অত্যাচারটা খুব বেশি করেছেতারা লোক ধরে আনতো এবং জবাই দিতো

 

প্র: পাকিস্তান সেনাবাহিনী আপনার এলাকায় এসে কি করলো ? রাজাকারদের ভূমিকাই বা কি ছিলো ?

 

উ: পাকিস্তানিরা এ দেশের পথঘাট কিছুই চিনতো নাবিশেষত গ্রামগঞ্জে রাজাকাররা তাদের পথ প্রদর্শকের কাজ করেপাক আর্মি কিন্তু গ্রামগঞ্জে বাড়ি বাড়ি যায় নাইতারা রাস্তার দুপাশে যা পেয়েছে-তাতেই আগুন দিয়েছে, গুলিগালা করেছেযাকে সামনে পেয়েছে তাকেই গুলি করে মেরেছেরাজাকারদের সাথেই মুক্তিযোদ্ধাদের বেশি যুদ্ধ হয়েছেপাক বাহিনী মূলত বাগেরহাট প্রপারেই ছিলোতারা রাজাকারদের সহায়তায় লোক ধরে আনতোআমাদের বাড়ি থেকে পিরোজপুর খুব কাছেআমরা শুনতে পেতাম পিরোজপুরে প্রত্যেকদিন রাজাকাররা ১৫ থেকে ২০ জন করে লোক ধরে আনছেতারপর পাক আর্মি তাদেরকে নদীর পারে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করতোতখন নদীতে শুধু মানুষের লাশ আর লাশ দেখা যেতোরাজাকাররা যুবতী মেয়েদের ধরে এনে পাক আর্মিদের দিতোপাক আর্মি তাদের উপর অত্যাচার করে পরে মেরে ফেলতোএই সব ঘটনা দিনের পর দিন মাসের পর মাস ঘটেছেবাগেরহাটে যে পাক বাহিনী ছিলো তারা কিন্তু খুব বেশি গ্রামে যায়নিরাজাকাররাই তাদের হয়ে কাজ করতোতারা আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক হলে কিংবা হিন্দু পরিবারের লোক পেলে তাকে ধরে এনে পাক আর্মির হাতে তুলে দিতোতারপর পাক আর্মি এবং রাজাকাররা মিলে তাদের পিটিয়ে বা বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতন করে, হাত পা ভেঙে, চোখ উপড়িয়ে পরে হত্যা করতোশুনেছি তারা মানুষের গায়ের চামড়া পর্যন্ত ছিলে লবন দিয়েছেএ প্রসঙ্গে একটা ঘটনার কথা বলিএক লোক তাদের হাতে নির্যাতিত হওয়ার পরও বেঁচে যায়পাক আর্মি ঐ লোকটাকে ধরে প্রথমে ক্ষুর দিয়ে নাকি তার গায়ের চামড়া কেটেছেতারপর তার চোখ বেঁধে নদীর পারে নিয়ে গিয়ে গুলি করলে সে ঝাঁপিয়ে নদীতে পড়েতার গায়ে গুলি লাগলেও লোকটা কিন্তু বেঁচে গিয়েছিলোপরে আমরা দেখেছিলাম যে, তার সর্ব শরীরে কাটা দাগলোকটার নাম আমার এখন খেয়াল নাইতার বাড়ি পিরোজপুরেতার কাছ থেকে আমি পাক আর্মির নির্যাতনের ঘটনা শুনেছিলাম

 

   রাজাকাররা নারী নির্যাতনটা খুব বেশি করতোএকটা ঘটনা আমি নিজেই দেখেছিখুলনায় একটা বাড়িতে রাজাকার ক্যাম্প ছিলোমুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ওই বাড়িটায় কয়েকবার গিয়েছিওটা শান্তি কমিটির এক নেতার বাড়ি ছিলোতার বাড়ির এক অংশেই রাজাকার ক্যাম্পমুক্তিযুদ্ধের সময় আমি খুলনা গিয়েছিলাম তখন ওই বাড়িতে আমি গিয়েছিলামঐ বাড়িটা ছিলো ব্যারিস্টার আহাদেরসে পাক আর্মির বড় সহযোগী ছিলোআমি দেখলাম তার বাড়িতে ৪০/৫০ জন মেয়ে আটক রয়েছেব্যারিস্টার আহাদ বিভিন্ন স্হান থেকে তাদের ধরে আনাতোজানতে পারলাম ঐ মেয়েগুলোকে পাক আর্মি নিয়মিত নির্যাতন করেঐ বাড়ির নিরাপত্তার জন্যই তার বাড়িতে রাজাকার ক্যাম্প করা হয়েছিলো

 

   অত্যাচারে হিন্দুরা সব ইন্ডিয়ায় চলে গেলোতখন তাদের বাড়িঘর রাজাকাররা দখল করে নিলোরাজাকার বা পাকিস্তানি সহযোগীরা তাদের  জমি পর্যন্ত দখল করে চাষবাস শুরু করেতারা তো ভাবেই নাই যে দেশ কোনো দিন স্বাধীন হবেমুসলিম লীগাররা বা জামাতিরা হিন্দু এবং আওয়ামী লীগারদের জিনিসপত্রকে মালে গণিমাতের মাল হিসেবে একটা ফতোয়া দিয়েছিলোওরা রাজাকারদের নিয়ে একেবারে পাইকারিভাবে জিনিসপত্র লুট করতোগরু-বাছুর, ঘরের টিন,