নাম : হাবিলদার শহীদুল ইসলাম

গ্রাম : গোপীনাথপুর

ডাক : গোপীনাথপুর

থানা : কসবা

জেলা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া

১৯৭১ সালে বয়স : আনুমানিক ১৮

১৯৭১ সালে শিক্ষাগত যোগ্যতা : ছাত্র (এস. এস. সি পরীক্ষার্থী)

বর্তমান পেশা : কৃষিকাজ

 

 

একাত্তরে এস এস সি পরীক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে প্রত্যন্ত অঞ্চল গোপীনাথপুরে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেনতিনি তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেছেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের কথা,যুদ্ধ জয়ের কথা

 

 

প্র: ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা কি আপনার মনে আছে? সে সম্পর্কে কিছু বলুন?

 

উ: ১৯৭০ সালের নির্বাচন দুইটা পর্যায়ে বিভক্ত ছিল,একটি অইলো এম.পি.এ আর একটি এম এন এপ্রাদেশিক পরিষদ এবং জাতীয় পরিষদজাতীয পরিষদের প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আ্যাডভোকেট সিরাজুল হক,পিডিপির ছিলেন শহীদুর রহমান, মুসলিম লীগের ছিলেন টি আলী সাব, আর কে ছিলেন তা আমার স্মরণ নাইআর প্রাদেশিক পষিদের ছিলেন সৈয়দ এমদাদুল বারী সাহেবআর পিয়ারা মিয়া সাহেব মুসলিম লীগ থেকে ছিলেন,আর জামাতে ইসলাম থেকে ছিলেন দেবু গ্রামের খালেক সাব১৯৭০ এর নির্বাচনে আমাদের দেশের অধিকাংশ জনসাধারণ স্বতঃস্ফর্তভাবেই আওয়ামী লীগকে সাপোর্ট করতেন,সবাই আওয়ামী লীগকে ভোট দিছে, ম্যাক্সিমাম ভোট আওয়ামী লীগই পাইছেবাঙালিদের পক্ষে কথা বলার দর হিসাবেআমরা আওয়ামী লীগকেই মনে করেছি বা আওয়ামী লীগকেই পাইছিবাকি অন্যান্য যেমন পি.পি.পি. ছিল,জামাতে ইসলাম ছিল,মুসলিম লীগ ছিল,কনভেনশন মুসলিম লীগ ছিল-এসব দলকে আমরা মনে করতাম যে এরা ঐ পাঞ্জাবিদের পক্ষের লোক

 

প্র: তখন আপনার  ন্যাপ ভাসানী,ন্যাপ মোজাফফর এই দলগুলিকে কি মনে করতেন?

 

উ: ন্যাপ ভাসানী ছিলোন্যাপ মোজাফফর ছিলোকিন্তু তাদের সংগঠন ছিল ছোটএদের ভূমিকা ছিল খুব কমএদের সাপোর্টার কম ছিলতবে ভাসানী ন্যাপ এবং মোজাফফর ন্যাপও এই দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষেই কথা বলছেতাদের অবদানও অনেক

 

প্র: ৭ই মার্চের পর আপনারা কি করলেন?

 

উ: আমাদের এই গোপীনাথপুর ইউনিয়ন এলাকাতে কিছু সংখ্যক প্রাক্তন আর্মির লোক ছিলতাদের মাধ্যমে এই এলাকার ছাত্র,কৃষক যুবকদের স্বাভাবিক ট্রেনিং  যে রকম হয় ঠিক সে ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা করা হয়েছিলস্হানটা ছিল প্রথম অবস্হায় গোপীনাথপুর প্রাইমারি স্কুলের সামনেকয়েক দিন যাওয়ার পরেই চিন্তা করা হইল এখানে যে আমরা ট্রেনিং করতাছি এটা জানাজানি হলে হয়তো অসুবিধা হইতে পারে বা কিছু হইতে পারেসেইজন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্হা করা অইলো ইমাম বাড়ি ফুটবল খেলার মাটেএখানে আমাদের গ্রামের আবদুল গফুর ছিলেনএরপরে আনসার কমান্ডার আওয়ামী লীগের কনভেনার ছিলেন খন্দকার রমজান আলীউনাদের সহযোগিতায় আমি সাথে থাইকা প্রশিক্ষণ চালিয়েছিএ ছাড়া গঙ্গাসাগরে ছিলো গোলাম রফিক সাবআমাদের এখানে আইসা তিনি লিয়াজো করতেন

 

প্র: ১৯৭১ সারে ২৫ মার্চ রাত্রে পাকিস্তানের সামরিক জান্তার আক্রমণ সম্পর্কে কি শুনেছেন ?

 

উ: ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ দিবাগত রাত্রে যে আক্রমণটা হইছিল সেটা আমরা এখান থেইকা জানছিবাংলাদেশের বিভিন্ন সেনানিবাস,ইপিআর হেডকোয়ার্টার এবং ডিস্ট্রিক্টে ডিস্ট্রিক্টে পুলিশ লাই এরা আক্রমণ করছেকুমিল্লা পুলিশ লাইনেও আক্রমণ করা হয়েছিলআমরা এটা জানছি ২৬ তারিখ ১০ টার দিকেসালদা নদী থেইকা দুইজন ছাত্রনেতা আমার বাড়িতে আসছিলোতারা খবরটা দিছিলো যে,কুমিল্লাতে পুলিশ লাইন এবং ক্যান্টনমেন্টে আক্রমণ হইছে,সমস্ত কিছু পাকিস্তানিদের ক্যাপচারেএই কথা শুইন্না আমি ছেলেদেরকে নিয়া ব্রাহ্মণগ্রামের সামনে এখন যে পাকা ব্রিজ আছে সেই ব্রিজটা ঐ বৎসরই নতুন কইরা কাঠের ব্রিজ করা হইছিল,সেই ব্রিজের মধ্যে যে একটা গেট ছিলো সেই গেটটা আমি আমার লোকজন নিয়া কুড়াল দিয়া ভাইঙ্গা রাখছি

 

প্র: তখন আপনাদের কসবা থানায় কি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়েছিল?

 

উ: ২৫ তারিখ এর পূর্ব থেইকাই কসবাতে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হইছেছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের উদ্যোগে এটা করা হয়েছেতবে ঐ সময়ে কসবার সাথে আমাদের খুব বেশি একটা যোগ ছিল নাআমাদের এই এলাকাতেই আমরা কে কিভাবে প্রস্তুতি নেবো এটা নিয়ে বেশি ব্য্ত ছিলামতখনকার দিনে কাইয়ুম,শাহ আলম এরা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতো এবং দাদুল এর ফাদার ছিলো বিহারী সেও ছাত্রলীগের সমর্থক ছিল

 

প্র: কসবাতে পাকবাহিনী কখন এসেছিল?

 

উ: কসবাতে পাকবাহিনী প্রথমে টি আলী সাহেবের বাড়িতে আসে ১৪ এপ্রিলতখন আনুমানিক বেলা প্রায় ১০ থেকে ১১টা বাজেএদিন সকার থেকে মুষলধারে বৃষ্টি ছিলসেই বৃষ্টির ভিতরেই এরা গাড়ি নিয়া উজানীসার ব্রিজ আর ওদিগে আইসা টি. আলী সাবের বাড়ি পর্যন্ত পৌছেটি. আলী সাবের বাড়িতে আইসা বোম ফায়ার করলোকিসের বোম তখন জানিনা,শব্দ পাইলাম বিকটতখন আমি গোপীনাথপুর বাজারে বইসা আছিবৃষ্টি ছাড়লবৃষ্টি ছাড়ার পর আমি দৌড়াইয়া গেলামকসবা যাওয়ার পরে দেখলাম পুলিশ থানাতে নাইওরা ইন্ডিয়ার দিকে চইলা গেছেশাহ আলম,কাইয়ুম আরো দু-একজন ছেলে যাদের নাম জানি না এরা তিন চারটা বন্দুক নিয়া সিভিল গান নিয়া এইপাড় থেইকা জালু বাড়ির দিক থেইকা এক দুইটা ফায়ার করতাছেআর পাঞ্জাবিরা টি আলীর বাড়ি থেইকা ফায়ার করতেছেতখন ঐখান থেইকা আইসা আমি আবার এই খবর গঙ্গাসাগর পৌছাইঐখানে ডিফেন্স আছেগোলাম রফিক সাহেবের কাছে বলি সব ব্যাপারপাকবাহিনী কসবর দিকে এডভান্স করে বাই রোডে ও রেল লাইন ধরেআমাদের এখানে প্রায় বারটার দিকে আইসা ভাঙ্গা ব্রিজ পাইয়াই ফায়ার করলোফায়ারের শব্দ পাইয়া আমরা চাইরা গেলাম যার যার বাড়িতেভোরে উইঠা আমি আমার বাড়িতে ব্রিজের পূর্ব পার্শ্ব থেকে দেখলাম যে ব্রিজ পর্যন্ত হেরা আইসা পড়ছেব্রিজের দুই সাইডে রেলের রাস্তা এবং কাঁচা রাস্তারাস্তার দুই পাশে পাঞ্জাবিরা শোয়া পজিশন অবস্হায় দেখছিএরপরে এইখান থেইকা রেললাইন এবং কাঁচা রাস্তা ধইরা গঙ্গাসাগরের দিকে মার্চ করছে

 

প্র: এরা কি এখানে বাধাপ্রাপ্ত হইছিল?

 

উ: এখানে তখন বাধাপ্রাপ্ত হয় নাইএখানে ঐ যে ভাঙ্গা ব্রিজ সেইজন্যই এরা স্টপ হইছিলঅস্ত্রধারী কোনো মুক্তিবাহিনীও তখন এখানে ছিল নাতখন মুক্তিবাহিনী সংগঠন হয় নাইএপ্রিলের ১ তারিখে ৫০ জন লোককে পাঠান হইছিল ভারতে যার নেতা ছিল গ্রুপ কমান্ডার জলিএরপরে আরো ৫০ জন পাঠান হইছিলসেই গ্রুপ কমান্ডারের নাম মনে নাই১৪ তারিখে আরো ৫০ জন পাঠানোর কথা ছিলসেইগুলা আর পাঠানো হয় নাইতখন পাঞ্জাবি আইসা গেছে

 

প্র: আপনার ব্রাহ্মণগ্রামে যখন পাঞ্জাবি আসলো তখন তারা কি করলো আইসা?

 

উ: ব্রাহ্মণগ্রাম পর্যন্ত আইসা তখন এরা এইখানে কিছুই করে নাইকিন্তু এইখান থেইকা অতিক্রম কইরা ১৫ তারিখ যখন গঙ্গাসাগরের দিকে যায় তখন ১৫ তারিখ বিকালে শুনলাম গিরিশনগর গ্রামের (প্র: এটা কোনো জায়গায়? উ: গিরিশনগর গঙ্গাসাগর রেলের পশ্চিম পাশে দক্ষিণ দিকে একটা গ্রাম।) এক লোক এবং এর ছেলের সামনে তার মেয়েকে ধর্ষণ করছেএরপরে এখান থেইকা আমি বাড়িতে আসলামআমার দুই ভাই চিটাগাং ইপিআর-এ ছিলএরা আবার ঐ ২৪ তারিখে বড়িতে আসছিল চিটাগাং থেইকাঐদিন তারা বাড়িতেই ছিলআমার আম্মাকে বললাম যে আমি অন্তত সাত দিনের ট্রেনিং-এ ইন্ডিয়া চইলা যাইপাঞ্জাবিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ট্রেনিং দরকারআমার আম্মা ঐ খবরটা পাইছিল যে পাঞ্জাবিরা বাপ এবং ভাইয়ের সামনে মেয়েদেরকে লাঞ্জিত করছেতখন আমার আম্মা শুধু এই কথাই বলছিল যে হাঁ,গিরিশনগরের খবর যা পাইছি তাতে তুমি থাইকা আর লাভ নাই

 

প্র: আপনার আম্মা আর কি বললেন?

 

উ: গিরিশনগরের নারী নির্যাতনের কথা আমার আম্মা শুনছেনআমি আমার আম্মার কাছে ট্রেনিংয়ে যাওয়ার অনুমতি চাইলামআমার আম্মা খোলাখুলিভাবে নারী নির্যাতনের কথাটা না বইলা এই কথাই বলল যে গিরিশনগরে যেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে তুমি থাইকা আর কি করবা,তুমি চইলা যাওতুমি যাইয়া ট্রেনিং নিয়া মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতখন আমি ১৯ এপ্রিল তারিখে এখান থেইকা গেলাম আগরতলা কংগ্রেস ভবনে

 

প্র: তাহলে কি কসবা আক্রমণ ও ক্যাপচার করার পরেই কি আখাউড়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাপচার করেছিল পাক সেনারা?

 

উ: হাঁ,কসবার পরে আখাউড়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া দখল করে নেয়

 

প্র: যখন এসব এলাকা পাকিস্তানিরা দখলে নিয়ে গেল তখন এ এলাকার মুক্তিবাহিনীরা কি করল?

 

উ: এই এলাকায় আমি তখন ছিলাম নাট্রেনিং-এর জন্য গেলাম তেলিয়াপাড়াতেলিয়াপাড়া থেইকা স্পেশাল ট্রেনিং এর জন্য পাঠাইল ইন্দ্রনগরঐখান থেইকা আসামে ছিলামপরবর্তীতে আমি জানছি আমাদের গ্রামে দু-একবার হামলা করছে,বাড়িঘর পুড়াইছে,যেমন আমাদের বাড়িও পুড়ছেআমাদের বাড়ি যখন পুড়ায় তখন আমি সেক্টরেঅনেক বাড়িঘর পুড়াইছে,স্কুল পুড়াইছে,বাজার পুড়াইছে,মানু মারছেযেমন উত্তর পাড়ার সেলু মিয়া,এয়ার ফোর্সের মজনু ছিলো ওদেরকে মারছেতারপর খায়রুল বাসার খন্দকারকে মারছে,আমীর আলী খানকে মারছেতারপরে ফরিদ আহম্মদ চৌধুরীর আম্মাকে মারছে বেয়নেট চার্জ করেএরকমভাবে বহু লোককে এরা মারছে

 

প্র: ভারতে আপনি কোথায় ট্রেনিং নিলেন?

 

উ: আমি মাত্র সাত দিন ছিলাম তেলিয়াপাড়াতারপরে আসাম ইন্দ্রনগর চইলা গেলামঐকানে গেরিলা ট্রেনিং নিলাম নাইন্টিফোর কমান্ডো ব্যাটালিয়নের আন্ডারেসেই কমান্ডো ব্যাটালিয়নের কমান্ডো অফিসার ছিলেন কর্নেল বাগচি,চৌহান এবং আরো কিছু অফিসারএদের আন্ডারে আমরা প্রশিক্ষণ করছিঐখানে তিনটা ক্যাম্প হইছিলবাছাই কইরা তিনটা ক্যাম্পে প্রায় তিন হাজার লোক ছিলএকটা ক্যাম্পে আমি ছিলামসেই ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ছিলেন সিলেটের বিয়ানী বাজারের মাহবুবুর রব সাদীআরেকটা ক্যাম্পে ছিল বাবুল কইরা নামসিলেটের বাবু পরবর্তীতে শুনছি নাকি সে পৌরসভার চেয়ারম্যান অইছিলআরেক জন ছিল উনাকে হক সাব বলে জানতাম আরকিক্যাপ্টেন হক বলে সবাই জানতামতহন তো সব নাম জানতাম না

 

প্র: আপনার এলাকায় ককন থেকে মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা শুরু হলো?

 

উ: মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা আমাদের এলাকায় মনে করেন সংগ্রাম যখন শুরু হইছে তখন থেকেই শুরু হইছেআমি তো প্রথমেই বললাম যে আমরা এইখান থেইকা লোক পাঠাইছি এবং আগেই যারা অরিজিন্যাল পুলিশ,ইপিআর ছিল এরাতো ইন্ডিয়াতে যাইয়া বি এস এফ ক্যাম্পে উঠছেঐ পিরিয়ডটায় কিন্তু উনাদের কোনো তৎপরতা ছিল নাআমি যতদিন এইখানে ছিলাম তখন মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা ছিলনা,উনারা সংগঠিত ছিল না

 

প্র: কসবা থানার কোন এলাকায় রাজাকার ছিল?

 

উ: কসবা থানা বলতে মনে করেন আমিতো ১৯ তারিখে এই এলাকা থেকে চইলা গেছিআইসা যেডা জানছি যেমন আড়াইবাড়ি,সাহাবাড়ি,শাহপুর,খাররা,কুঠি এই সমস্ত গেরামে মোটামুটি রাজাকার ছিলউজানীসার ব্রিজের পাশে যে কয়েকটা গ্রাম ছিল এবং সেই গ্রামগুলাতে যে রাজাকার তাদের মেধ্য আর অন্য গ্রামের রাজাকারের মধ্যে একটু প্রভেদ ছিলএই গ্রামগুলাতে অর্থাৎ উজানীসার ব্রিজ এলাকায় যে রাজাকার ছিলো তাদের অধিকাংশ মানুষ আওয়ামী লীগের ছিলোযখন পাকবাহিনী এই জাগা ক্যাপচার কইরা ফেলছে তখন এরা আগরতলার সাথে যোগাযোগ কইরা অধিকাংশ রাজাকার হিসাবে রইয়া গেছেতারা বলছে যে আমরা যদি এইখান থেকে চইলা যাই তাইলে আমাদের সব কিছু নষ্ট কইরা দেবেপরবর্তীতে এই এলাকাতে আইসা দেশ স্বাধীনের পরে জানছি যে এই এলাকাতে যত মুক্তিবাহিনী ছিল তাদের অধিকাংশ আমাদের এই সাইড দিয়া এই রোড দিয়া সীমান্ত অতিক্রম করছে

 

প্র: ১৯৭১ সালে আপনি আক্রান্ত হয়েছিলেন?

 

উ: ১৯৭১ সালে আমি আক্রান্ত হয়েছিলাম ফাইভ সেক্টরে

 

প্র: কিভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন?

 

উ: আমি কয়েকটা অপারেশন করছি,কয়েক জায়গাতে গেছিজুলাই মাসে রহিমপুর ব্রিজ নামে একটা জায়গা আছে সেখানে আমরা ব্রিজ উড়াইতে গেছিলাম এক্সপ্লোসিভের সাহায্যেএখানে একটা বাজার ছিলোকয়েকটা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আমরা বাজারে উঠার সাথে সাথে ফায়ার আসছিল আমাদের উপর পিছন দিক থেকেএইখানে আমরা ৬০ জন গেছিলামআমরা সবাই ফায়ার স্টার্ট করলামকরার পরে আমরা যে পাশে যাইয়া উঠছিলাম এর উত্তর পাশ থেইকা পাঞ্জাবিরা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে চইলা গেলপরে আমরা যাইয়া রাস্তায় উঠলামরাস্তায় উইঠা এদেরকে এইখান থেকে হটাইয়া দিলামসেই সময় মুসলিম নামে একজন প্লাটুন কমান্ডার অত্যন্ত বীরত্বের সহিত একটা এল এম জি নিয়ে দৌড়াইয়া ব্রিজটা অতিক্রম কইরা ঐ পাশে যাইয়া পজিশন নিছিলআমার দায়িত্বে ছিল তখন ডেমোলিশন লাগানোতখন ব্রিজের রাস্তাতে লোকজন নিয়া মাইন বসাইয়া আমরা রাস্তাটা এবং ব্রিজটা-দুইটাই উড়াইছিএই সময় আমি আহত হই

 

প্র: এই এলাকার স্বাধীনতা বিরোধীদেরকে ধরা হয়েছিল কি?

 

উ: স্বাধীনতা বিরোধী অনেককেই মুক্তিবাহিনী এরেস্ট করছিলপরবর্তীতে অনেকের বিরুদ্ধে কেইস হইছিল,কেউ ভাইগা গেছেযেমন ঐ সিদ্দিক মাস্টারের কথা বলা হয়,নিখোঁজ হইছে