নাম
:
মোঃ আবদুর
রহিম
গ্রাম
:
নেয়ামতাবাদ
ডাক
:
নেয়ামতাবাদ
ইউনিয়ন
:
বিনাউটি
থানা
:
কসবা
জেলা
:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১৯৭১
সালে বয়স : ১৯
১৯৭১
সালে পেশা :
কৃষিকাজ
বর্তমান
পেশা : কৃষিকাজ
মোঃ
আবদুর রহিম
একজন কৃষক। বাবা-মায়ের
কথা অগ্রাহ্য
করে তিনি
মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ
করেছিলেন। তিনি তাঁর
সাক্ষাৎকারে
মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ,ট্রেনিংকাল
এবং যুদ্ধ
দিনের কথা
বর্ণনা করেছেন।
প্র:
পাকবাহিনী
আপনার এলাকায়
আসার পর কি
করলো?
উ: এপ্রিল
মাসে কসবাতে
পাঞ্জাবিরা
আইয়া আক্রমণ
করলো। আমরাত
কৃষক মানুষ,আমরা
মাছ মারার
কাজে থাকি,ক্ষেতে
খামারের কাজে
থাকি। পাকসেনারা
আমাদের
নেয়ামতাবাদ
গ্রামে আসছে। আইসা
সাইরাই মোরগ
ধরছে কিছু
কিছু লোক দিয়া। ধরাধরি
শুরু করছে। এরা এরপরে
চইলা গেছে। তারা প্রায়
১০/১৫ জন
আসছিল।
প্র:
আপনি তখন কি
করলেন?
উ: তখন
আমার এলাকার
হারুন
মাস্টার,ইদ্রিছ,ইউনুস,শাহজাহান,ঐ বাশার
ভূঁইয়া হেরা
২০/২৫ জন লোক
একত্র হইছে। তখন অমি
আইসা
জিজ্ঞাসা
করলাম আপনারা
কই যাইবেন? তারা
বললেন যে
আমরাতো
মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ
করতে যামু। বললাম আমিও
যামু। আমারে
লইয়া যান। এই কইয়া আমি
দৌড়দা বাড়িতে
গেলাম, ভাতও খাই নাই। আমি একটা
কাঁথা,একটা বালিশ
আর একটা প্লেট
লগে লইয়া চইলা
গেছি। আমার
মা বাপে
পিছেদা ডাকছে,ডাকলেও
আমি শুনি নাই।
প্র:
আপনি ভারতের
কোথায় গেলেন
এবং কি করলেন?
উ: চইলা
গেলাম আপনের
আগরতলা
কংগ্রেস ভবন। কংগ্রেস
ভবন গিয়া
পাইলাম
এমদাদুল বারী,শহীদ
মাস্টারে এই
সয়দাবাজের। এরপরে
আপনের
সয়দাবাজের
একজন মাহতাব
বইলা নাম,সিদ্দিক
সাব এদের
পাইলাম। এরা চিড়া গুড়
মুড়ি এইগুলা
আইনা দিছে। খাওয়াইয়া
সাইরা সকার
বেলা আবার
আমরারে চাইরপাড়া
শরণার্থী
ক্যাম্পে
পাঠাই দিল। শরণার্থী
ক্যাম্পে
দুইদিন ছিলাম। থাকার পর
এখানে আমাদের
খানা দেওয়া হল। খাওয়া
দাওয়ার পর
এখান থাইকা তৎকালীন
বেঙ্গল
রেজিমেন্টের
হাবিলদার
মাহতাব
আমাদেরকে
নিয়া চইলা
গেলেন শিমনা। শিমনা
যাইয়া আমরা
এখানে ১৫দিন
থাকার পর একদিন
বিকাল বেলা
ট্রেনিং
সেন্টারে
পাঠাইছে। খুব সকালে
রাত্র প্রায়
চারটার দিগে
গিয়া পৌঁছছি। এখানে
আমরা এক মাস
ট্রেনিং করছি। যার
আন্ডারে
ট্রেনিং করছি
হের নাম আছিল
ক্যাপ্টেন
ভাটিয়ারি। একজন ওস্তাদ আছিল ‘ডি’ কোম্পানির। আর সাথে
তিনটা
কোম্পানি
আছিল। আমরা
আছিলাম ‘বি’ কোম্পানিতে।
প্র:
আপনার
সহযোদ্ধা ছিল
কারা কারা?
উ: আমার
সাথে ইউনুছ
আছিল,ইদ্রিছ
মিয়া আছিল,তোতা
মিয়া আছিল,মোতাহার
হোসেন আছিল,মুছা
মিয়া আছিল,সাত্তার
মুন্সী আছিল,হারুণ অর
রশিদ চৌধুরী
আছিল,আবু
ছালেহ আছিল,বাশার
ভূঁইয়া আছিল। এমন আরও
অনেকে ছিল। আমরা ছিলাম
২নং সেক্টরে। আমাদের
সেক্টর
কমান্ডার
ছিলেন মেজর
খালেদ মোশাররফ।
প্র:
মেজর খালেদ
মোশাররফের
ভূমিকা কি ছিল? উনি
আপনাদের কি
বুঝাইত?
উ: খালেদ
মোশাররফ
আমাদেরকে
মায়ার চোখে
দেখত,খুব
স্নেহ করত। কোনো কোনো
সময় গোসল করতে
গিয়া আমরা
সাবান পাইছি
না,তৈল
পাইছি না তখন
উনার কাছে
আমরা এইগুলা
বলতাম যে,স্যার
আমরা কিভাবে
চলব? উনি
বলত আমি এইটার
একটা বন্দোবস্ত করব। শেষে উনি
আমাদেরকে ১০০
টাকা কইরা
মাসিক একটা ভাতা
কইরা দিল।
প্র:
ট্রেনিং করার
পরে আপনি কোথায়
গেলেন?
উ:
ট্রেনিং করার
পরে ঐখান
থাইকা
আমাদেরকে
পাঠাইল
মেলাঘর,মেজর হায়দার
সাবের
আন্ডারে। এখানে মেজর
মতিন সাব আছিল। মেলাঘরে
১৫ দিন থাকার
পর উনারা
আমাদেরকে পাঠাই
দিল মনতলিতে। এই
মনতলিতে আইসা
আমরা পাইলাম
কমান্ডিং
অফিসার
আইনউদ্দিন
সাবকে।
প্র:
আপনি প্রথম
কোন জাগায়
যুদ্ধ করলেন?
উ: প্রথম
টঙ্গীতে আমরা
একটা যুদ্ধ
করছি,টঙ্গীতে
আমাদের সাথে
ছিল ৫/৭জন লোক। ‘বি’ কোম্পানি
থাইকা এখানে
আমাদেরকে
পোস্টিং করছে। করার পর
তখন আর্মির
সাথে আমরা
আইস্যা পড়ছি
বেঙ্গল
রেজিমেন্টের
সাথে। তখন
বেঙ্গল
রেজিমেন্টের
মধ্যে
হাবিলদার হালিম
চাঁদপুর বাড়ি,উনি
আছিল। আর
মজলিশপুরের
আছিল নুরুল হক
সিপাহি। আমাদের
প্রায় ৮/৯ জন
লোককে
পাঠাইছে। পাঠানোর পর
তখন আমরা
টঙ্গী আসছি। আসার পর
কয়েকজন লোকে
কইল আপনারা কি
জানেন এখানে
প্রত্যেক দিন
দুপুর বেলা
এবং
বিকালবেলা ৮/১০
জন কইরা
পাঞ্জাবি আসে? আপনারা
বিপদে পড়বেন। একথা শুনে
মজলিশপুরের
তরুন নুরুল হক
সিপাহি গেলগা
ঘাবড়াইয়া। হে আর্মির
লোক ঘাবড়াইযা
গেছেগা তো
আমরা কি করুম। হাবিলদার
হালিম ছিল খুব
সাহসী লোক। উনি বলল যে
তোমরা
ঘাবড়াইও না। তোমরা এক
কাজ কর,তোমরা একটা
এম্বুশ লাগাও
এখানে। যে
রাস্তাদা হেরা
আসা যাওয়া করত
এখানে একটা
শুকনা পুকুর
ছিল। পুশকুর্নিটার
ভিতরে একটা
সিপটি (এক
প্রকার গাছ)
গাছ আছিল। উনি করছে কি
সিপটি গাছটার
উপরে উইঠা
বইয়া গেছেগা
পানি
সাঁতরাইয়া। আর আমরা
এম্বুশ
লাগাইয়া বইয়া
রইছি। ঐ
সময় বইসা
থাকতে থাকতে
একটার দিগে
ছজন পাঞ্জাবি
এই রাস্তাদা
আসতাছে। আসার পর
আমরাত এম্বুশ
লাগাইয়া বইসা
আছি। তারা
আমাদের
কাছাকাছি
আসতেই পায়ার
দিছি। আর
উনি কভারিং
ফায়ার দিছে,উনার
কাছে ছিল
চাইনিজ স্টেন
গান। আটাশ
রাউন্ড গুলি
ছিল একবারে। রেফ
ট্রিগারে টিপ
দিলেই
রেগুলার
ফায়ার হয়। এর মধ্যে যখন
টিপ দিছে
সবগুলা গুলি
একবারে বাইর
হয়া গেছে। তখন ছয়জন পাঞ্জাবির
মধ্যে পাঁচ
জনই মারা গেছে।
প্র:
এই লাশগুলা
আপনারা কি
করলেন?
উ:
লাশগুলা
ওখানে ফালাই
দিয়া আইছি। এরপরে আপনের
এই তিনলাখ
পীরের ব্রিজ
দিয়া বাইর
হইয়া আইছি।
প্র:
এই ঘটনার
কয়দিন পরে এই
ব্রিজ সেটা
ভাঙ্গলেন?
উ: মনে
করেন এর আরও
এক মাস পরে। এই তিনলাখ
পীরের ব্রিজ
ভাংতে আমরা
তিন বার
অ্যাটাক করছি। তিন বার
অ্যাটাকে
আমাদের সাড়ে
সাতশ পাউন্ড এক্সপ্লোসিভ
করচ হইছে। প্রত্যেক
অ্যাটাকে
আড়াইশ পাউন্ড
গেছে আমাদের
ভুলে। আমরা
ব্যর্থ হইছি
দুইটা
অ্যাটাকে।
প্র:
আপনি প্রথম
যেদিন
অ্যাটাক
করলেন সেই দিনটা
খেয়াল আছে?
উ:
সেপ্টেম্বরের
পহেলা সপ্তাহ। আমরা
পাঁচটা নৌকায়
কইরা আসছি।
প্র:
পাঁচটা
নৌকাতে
আপনারা
মুক্তিযোদ্ধা
কতজন ছিলেন?
উ: প্রায়
২৬/২৭ জন আমরা
মুক্তিযোদ্ধা। এরপরে ছিল
এক্সপ্লোসিভ
পার্টি। হেরা এইডারে
কয় কমান্ডো। হেরাও
আছিল ৮/১০ জন। আমরা
মুক্তিযোদ্ধা
হইলাম চার
নৌকা আর কমান্ডো
গেরিলা হইল এক
নৌকা। এরা
হইল আপনের
এক্সপ্লোসিভ
অ্যাটাকের। আর আমরা
অইলাম কভার
দেওয়ার
পার্টি। শেষ পর্যন্ত আমরা
বিনাউটি আসছি। বিনাউটি
আইসা আমরা
রেকি করতে দুই
জন লোক পাঠাইছি
যে এখানে
রাজাকার
আলবদর আছে
কিনা বা পাঞ্জাবি
আছে কিনা। তখন দেখা গেল
আমরা গাংডায়
(ছোট নদী) দুইজন
লোক পাঠাইতে
না পাঠাইতে
পাঞ্জাবির
গাড়ি আইসা
পড়ছে। আমরা
সুবিধা করতে
পারছি না। তখন আমরা
ফেরত গেছি। যাওয়ার পরে
আরেক দিন
দ্বিতীয়
অ্যাটাক করি। আবার তিন
চারদিন পরেই
আসলাম। আসার
পর এবারো
আমাদের
সৌভাগ্য হইল
না,এইডা
করতে পারছি না
পাঞ্জাবির
গাড়ি আইসা পড়ছে। এরপরে
তৃতীয় দিন
ছতরার
ক্যাপ্টেন
জাহাঙ্গীর
ওসমান আমাদের
সাথে আসল। আর গেরিলা
হাবিলদার
আজিজ বইলা নাম
বাড়ি বরিশার
উনি আসল
আমাদের সাথে। তৎকালীন
বেঙ্গল রেজিমেন্টের
লোক আসল প্রায়
৮/৯ জন। আর
আমরা আসছি ২৬
জন লোক। পাঁচটি
নৌকায় আমরা,তারা এক
নৌকায়। তখন
আমাদের
জাহাঙ্গীর
ওসমান আর
ময়মনসিংহের
একজন লোক নাম
ছিদ্দিকুর রহমান
তারা দুইজন
রেকি করতে গেল।
ব্রিজে
যাওয়ার পর
দেখছে যে কোনো
কিছু সেখানে নাই। তখন হেরা
আমাদেরকে
ডিরেকশন দিল
লাইট দিয়া। দেওয়ার পর
আমরা আগাইয়া
গেলাম। যাওয়ার
পর তারা আমরার
দুইটা নৌকা
রাখলো ব্রিজের
দক্ষিণ সাইডে,আর দুইটা
নৌকা রাখল
ব্রিজের
উত্তর সাইডে। আমরা
কভারিং দিয়া
বইয়া রইছি। ঐ সময় তারা
ব্রিজ খুইলা
খুইলা
ডিনামাইট আর
হাই
এক্সপ্লোসিভ
ফিটিং করছে। কইরা
তারপর হাতে
একটা সেফটি
ফোর ফিউজ
লাগাইছে। এই সেফটি
ফিউজের মাঝে
আগুন দিছে। সেফটি ফিউজ
ফোর ফিউজ
লাগাইছে। এই সেফটি
ফিউজের মাঝে
আগুন দিছে। সেফটি ফিউজ
পুড়তে পুড়তে
আরও মনে করেন
এক মিনিট টাইম
লাগছে। এরপরে
হিডার মাঝে
যখন গিয়া
লাগছে তখন
এইডা এক সেকেন্ডে
ব্রাস্ট হইয়া
ব্রিজ ফালাই
দিল। ঐ সময়
আমরার নৌকা
ডুইবা গেল। এই ডুবা
নৌকার মাঝে
আমরার হারুন
অর রশিদ চৌধুরী
ছিল। উনি পইড়া
গেল। নৌকাতে
আরও ৬/৭ জন ছিল। ব্রিজটা
ভাংছি এদের
লাইন কাট অফ
করার জন্য,লাইন
বন্ধ করার
জন্য
পাকবাহিনী
যাতে চলাফেরা
করতে না পারে।
প্র:
এরপরে কি আর
কোনো দিন ঐ
এলাকায়
পাঞ্জাবি আসছিল?
উ: আমরা
ব্রিজ ভাইংগা
দেওয়ার চার
পাঁচদিন পর এরা
আবার এইডা ঠিক
কইরা নিছে। টানা ব্রিজ
দিয়া ঠিক কইরা
নিছে।
প্র:
তারপরে কোথায়
গেলেন?
উ: তারপরে
আমরা এখান
থাইকা ভারতে
চইলা গেলাম। চইলা
যাওয়ার পর শেষ
পর্যন্ত আর
কোনো অ্যাটাক
হইছে না। আমাদেরকে আর
কোনোখানে
পাঠায়ও নাই। শেষ পর্যন্ত
দেশ স্বাধীন
হইবার আগে মনে
করেন ৬
ডিসেম্বরের
দিকে
বাংলাদেশ যখন
স্বীকৃতি
পাইল তখন ভারত
থেইকা
মুক্তিযোদ্ধাদের
নামই দিল। আমাদেরকেও
নামাইল। তৎকালীন
বেঙ্গল
রেজিমেন্টের
লোক,আমরা
আর ইন্ডিয়ান
সৈন্য মিলা
মনে হয় একবারে
৯শ লোক আসছি। এইসব লোক
নাইমা কাইতলা
আসার পরেই
উজানিসার থাইকা
পাঞ্জাবিরা
আর্টিলারি
মারতাছে। আমরার
কমান্ডার বলতাছে
যে,তাড়াতাড়ি
আগাও। তখন
আগাইতে লইলাম। আমরার
সাথে আর আর
আছিল। আরও
অনেক ধরনের
অস্ত্র-শস্ত্র
আছিল। আমরা
কুসুমবাড়ি
আসি। কুসুমাবাড়ি
আইসা খুদতাছি,এই
টাইমে অপনের
প্রায় ৫/৭ জন
ইন্ডিয়ান
সৈন্য মারা
গেছে। আমরা
রাত্রে শীতে
এখানে খুব
কষ্ট করছি। পরদিন সকাল
বেলা মুখ
ধুইতে গেছি,গিয়া
দেখি ১৬/১৭ জন
পাঞ্জাবিকে
গেরিলারা ধইরা
আনছে। এদেরকে
মাইর ধইর করা
হইছে না। এদেরকে
ভারতে পাঠাই
দেওয়া হইছে। দিনের
বারটার দিকে
আমরা এখানে
খাওয়া-দাওয়া করার
পর আমাদেরকে
বলল যে,চল,আমরা
মার্চ করি
দেবগ্রাম। দেবগ্রাম
মার্চ করতে
খালি মাঠের
মধ্যে নামছি
এমন সময়
আমাদের উপরে
দুইটা বিমান
অ্যাটাক করা
হইছে। যখন
অ্যাটাক করছে
আমরা তখন খোলা
ময়দানে। খোলা ময়দানে
আপনের যে গর্ত
পাইছে সে
গর্তেই ঢুকছে,কেউ
নাড়ার (ধানের
শুকনো গাছ)
ওপর দিয়া পইড়া
রইছে। এখানে
আমরার কিছু
লোক মারা গেছে। প্রায়
২৪/২৫ জন লোক
মারা গেছে। ভারতের সৈন্যই
বেশি মারা
গেছে,আমাদের
দেশের অল্প
মারা গেছে।
প্র:
এদের লাশ কি
করলেন?
উ: এদেরকে
আমরা আবার
টাইন্যা ঐ যে
গাড়ি আছিল আমরার
পিছেদা সে
গাড়িতে
তুইল্যা দিছি,এদের
নিয়া গেছে
ভারতে।
প্র:
আপনি
পাঞ্জাবিদের
সাথে শেষ
যুদ্ধ কখন করলেন?
উ: শেষ যুদ্ধ করি কোড্ডাতে। এয়ার এটাকের পরে দেবগ্রাম থাইকা রাত্রে আমাদেরকে নিয়া গেল বৈশাল। বৈশাল যাওয়ার পর আমার পেটে খুব খিদা লাগছে। এক লোকে আমারে ভাত খাওয়াইছে। সেখানে প্রত্যেক লোকে আপনের যার যার মইরচা খোদাইতেছে জান বাঁচাইতেতো হইব। যুদ্ধ করতে তখন গর্ত করতেছি। আমার ঘুমে আর গর্ত খোদবার ক্ষমতা নাই। আমি এক ঘরের মধ্যে কাঁথা গতরে দিয়া শুইয়া রইছি। ঘুম খুব আইছে। হঠাৎ কইরা এই ঘরের কোণার মাঝে একটা মর্টারের বোম পইড়া ঘরটা ভাইঙ্গা পরছে। আমার কিন্তু খবর নাই। সকাল বেলা প্রায় ৮ টার দিকে একজন ইন্ডিয়ান অফিসার আমার উপর লাথি দেয়া শুরু কইরা দিছে। শালা এতনা পরছ,দুশমন গেরাও কররাহা। তখন আমি উঠলাম। তখন উইঠা তাড়াতাড়ি ডিফেন্সে গিয়া আমার স্টেন গান নিয়া আমি গর্তে বসছি। বসার পর চাইয়া দেখতাছি আমার থাইকা প্রায় ২০০ গজ সামনে প্রায় ৫৫ জন পাঞ্জাবি সিঙ্গেল লাইনে লেফট রাইট পজিশনে আমাদের দিকে আগাইয়া আসতাছে। আমরা যে ডিফেন্সে আছি হেরা জানে না। তখন ২০০ গজ সামনে থাকতেই আমাদের কমান্ডার এদেরকে ডাক দিছে হ্যান্ডস আপ। হেরা হ্যান্ডস আপ করছে না। আমাদের শব্দ পাইয়াই টপ টপ হেরা জমিনে পইড়া গেছে। পইড়া হেরা ফায়ার শুরু করছে। শুরু করলে কি হইব তখন আমরার থাইকা অর্ডার হইছে তোমরাও ফায়ার কর। তখন আমরার যত লোক ছিল সব লোক এক সাথে ফায়ার আরম্ভ করছে। তখন আমরার যত লোক ছিল সব লোক একসাথে ফায়ার আরম্ভ করছে। এরা হইল মনে হয় ৫৫ জনের মতো। আমরা হইলাম প্রায় ৯শ জন। তখন আমরা ফায়ার আরম্ভ করছি।