নাম : মোঃ আবদুর রকিব স্বপন

গ্রাম : চরনাল

ডাক : কসবা

জেলা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া

১৯৭১ সালে বয়স : আনুমানিক ১৪-১৫

১৯৭১ সালে পেশা : স্কুল ছাত্র

বর্তমান পেশা : সরকারি কলেজের প্রভাষক

 

 

আবদুর রকিব স্বপন মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেননিকিন্তু তিনি মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেনতিনি তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বর্তমান সাক্ষাৎকারে

 

 

প্র: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তার আক্রমণ সম্পর্কে আপনার কি কিছু মনে আছে?

 

উ: জ্বি,তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় ঘটনাটি প্রথম ঘটেছিলঢাকা থেকে কসবার অবস্হান ৯৭ মাইল দূরেতবু ঢাকাতে আমার আপন বড় ভাই ছিলেন,চাচাত ভাইরা ছিলেন,এলাকার অনেক লোকজন ছিলেনতারা ২৫ মার্চের ঘটনার পর ঢাকা থেকে পদব্রজে এবং অন্যান্য উপায়ে অত্যন্ত কষ্ট করে বাড়িতে চলে এসেছিলেনউনারা মোটামুটি প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেনউনারা এসে যে বর্ণনা দিয়েছিলেন তাতে আমরা শিউরে উঠেছিলামএ অনাচার,অত্যাচার আমাদের রুখতে হবে এমন একটা মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম

 

প্র: ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তার আক্রমণ সম্পর্কে যখন আপনার এলাকার মানুষ জানতে পারে তখন তারা কি ধরনের মনোভাব পোষণ করেছিল? এবং পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্হা নিয়েছিল ?

 

উ: ২৫শে মার্চ ঢাকায় যে ঘটনা ঘটল তার বেশ কিছু পরে আমাদের এলাকায় পাক হানাদার বাহিনী এসেছিলকিন্তু ২৫ মার্চের ঘটনার পর থেকে প্রত্যেক দিনই আমাদের এলাকার পাশ দিয়ে যে রেল লাইন গেছে এবং যে সড়ক গেছে,সে সড়ক দিয়ে প্রচুর মানুষ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতেছিলসন্ধ্যা হলে আমরা অর্থাৎ এলাকার লোকজন দল বেঁধে তিনজন,চারজন করে বিভিন্ন বাড়িতে নিয়ে আসতামতাদের রাখার ব্যবস্হা করতাম,খাওয়ার ব্যবস্হা করতামতাদের অকথ্য দুঃখ কষ্টের কথা আমরা সে সময় জানতাম্‌ অধিকাংশ পথই তারা পায়ে হেঁটে এসেছেনকেউ নৌকা অথবা রিক্সাযোগে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছেনসবাই একটা ভয়ের মধ্যে ছিল কি হবেআমরা কি করতে পারি এরকম সব ভাবছি

 

প্র: আপনার এলাকায় কখন পাকিস্তানিরা আসলো?

 

উ: আমাদের এলাকায় প্রথম পাকিস্তানিরা আসে ১৪ই এপ্রিল ১৯৭১সেদিন বুধবার,১লা বৈশাখআমার যখন ঘুম থেকে উঠলাম তখন শুনলাম যে,পাঞ্জাবিরা কসবা থেকে চার মাইল দূরে কুঠি চৌমুহনীতে এসেছে এবং কসবার দিকে অগ্রসর হচ্ছেসকাল ৮টা কি ৯টার দিকে তারা একেবারে কসবা থানা থেকে মাত্র ১ কি: মি: দুরে টি. আলী সাহেব বা তোফাজ্জল আলী সাহেব তদানীন্তন পাকিস্তানের মন্ত্রী ছিলেন,উনার বাড়িতে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে

 

প্র: তারা কসবা কিভাবে আক্রমণ করেছিল?

 

উ: কসবা থানার সমস্ত পুলিশ থানা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্নখানে আশ্রয় নেয়বিভিন্নখান বলতে আমি প্রথমত বুঝাছি যে কসবা থানা থেকে মাত্র পৌনে এক কি: মি: দূরে অথবা আরো কাছে ভারতের অবস্হান-তারা ভারতের ত্রিপুরার কমলাসাগর,দেবীপুর ইত্যাদি এলাকায় গিয়ে উঠেকেউ কেউ অন্যত্র চলে যায়তখন এলাকার সচেতন লোকেরা বিশেষকরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকেরা থানাতে এসে থানার যে অস্ত্রাগার ছিল-সেই অস্ত্রাগার ভেঙ্গে অস্ত্র সংগ্রহ করেতখন থানাতে অস্ত্র বলতে ছিল কিছু গাদা বন্দুক আর সামান্য ৩০৩ রাইফেল এসব অস্ত্র নিয়েই একটু দূর থেকে পাঞ্জাবিদের দিকে অর্থাৎ হানাদার বাহিনীর দিকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়েসে কারণে পাঞ্জাবিরা সরাসরি কসবা সদরে না এসে প্রায় ১ কি: মি: দূরে জনাব তোফাজ্জল আলী সাহেবের বাড়িতে আশ্রয় নেয়কিন্তু সন্ধ্যা অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় এলাকার লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে সবাই ভারতে প্রাণভয়ে আশ্রয় নেয়সেদিন রাতের বেলা পাঞ্জাবিরা কসবা সদরে এসে উপস্হিত হয়প্রথমে তারা কসবা বাজারের সমস্ত দোকানে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ফেলেপাশাপাশি কসবার সাহা পাড়া এবং কসবার আরো বিভিন্ন অঞ্চলে অগ্নিসংযোগ করেপরের দিন আগুনের লেলিহান শিখা আমরা প্রত্যক্ষ করেছিআমরাও তখন বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে চলে গিয়েছিলামপরদিন আমরা এসে দেখি শুধু ছাই আর আগুন পড়ে আছেসমস্ত কিছু পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে

 

প্র: তারা কি লুটপাট করেছিল?

 

উ: হাঁ,তারা লুটপাট করেছিলহানাদার বাহিনীকে সাহায্যকারী লোকজন এসেও লুটপাট করে

 

প্র: তৎকালীন ইপিআর ক্যাম্প বর্তমান বিডিআর ক্যাম্পে তিন জন অবাঙালি ই.পি.আর সদস্যকে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করে সে সম্পর্কে কিছু বলবেন?

 

উ: জ্বি,মুক্তিবাহিনী তাদের হত্যা করেছিল কথাটা ঠিক নয়কারণ তখনও মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়নিযেদিন নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল তার একদিন পর কসবা পুরাতন বাজারের সব দোকানে দোকানে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিলতৎকালীন ইপিআর এর সদস্য তিজন ছিল পাঞ্জাবিএকজন ছিল সম্ভবত হাবিলদারউনি কসবা বাজারে এসে যখন দেখে গেলেন সে সর্বত্র স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে তখন তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেনতিনি ক্যাম্পে চলে গিয়ে বাঙালি ই.পি.আর যারা ছিলেন তাদেরকে আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুতি নিলেনঠিক সেই মুহূর্তে যিনি সেন্ট্রি ছিলেন ই.পি.আর ক্যাম্পের গেটে উনি বুঝে ফেললেন ব্যাপারটিএরপর তাদেরকে যখন অস্ত্র জমা দিতে বলা হল তখন তাদের আরও সন্দেহ হলো যে অস্ত্র যদি আমাদের কাছ থেকে জমা নিতে পারে তাহলে সমস্ত বাঙালি ই.পি.আরদেরকে পাঞ্জাবিরা হত্যা করবেসেজন্য বাঙালিরা আগেই প্রস্তুতি নিলেন পাঞ্জাবিদেরকে গুলি করার জন্যকিন্তু তার আগেই পাঞ্জাবিরা ক্যাম্পের দোতলায় আশ্রয় নিয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করেগুলির শব্দ শুনে থানা থেকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পের দোতলার দিকে গুলি ছুঁড়তে শুরু করলোএক পর্যায়ে এলাকার জনগণ যখন দেখলো যে পাঞ্জাবিদের গুলি প্রায় শেষ হয়ে গেছে তখন সাহসী ভূমিকা নিয়ে তারা দোতলায় উঠলো এবং দোতলাতে উঠার পরে গ্রামীণ অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তাদেরকে পিটিয়ে হত্যা করে

 

প্র: তখন মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে জনগণের মনোভাব কি ছিল?

 

উ: এখানে একটি কথা পরিষ্কারভাবে বলতে হচ্ছে পাঞ্জাবিরা যে ঘটনা ২৫শে মার্চ ঢাকাসহ কয়েকটি শহরে ঘটিয়েছিল সে ঘটনার পর থেকেই এ দেশে স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের এই মনোভাব জেগে ওঠে যে,আমাদেরকে পাঞ্জাবিরা হত্যা করবেসুতরাং তাদেরকে প্রতিরোধ করতে হবেএই প্রতিরোধের মানসিকতার কারণে মুক্তিবাহিনীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে তারা সহযোগিতা করে আসছিল এবং চাচ্ছিল যে মুক্তিযোদ্ধারা যেন অচিরেই কামিয়াব হতে পারে

 

প্র: শান্তি কমিটিতে কারা ছিল? সে সম্পর্কে কি কিছু জানেন?

 

উ: আমাদের এ এলাকায় রাজাকারও ছিল না এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে আচরণ করেছেন-এমন কোনো লোকও ছিল নাতবে কসবা ইউনিয়নে শান্তি কমিটিতে ছিলেন এমন দুই একজন লোকের নাম আমর জানা আছেএর মধ্যে তদানীন্তন কসবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মৌলুক হোসেন উল্লেখযোগ্য

 

প্র: আপনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোথায় ছিলেন?

 

উ: স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমরা বাড়ি ছেড়ে ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রাম আতাবপুরে আশ্রয় নিইযখন দেখলাম ঐখানেও আমাদের অবস্হান নিরাপদ নয় তখন আমরা ভারতে চলে যাইভারতের মধুপুরে যে আশ্রয়কেন্দ্র ছিল ওখানে আমরা বাকি সময়টুকু অর্থাৎ স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত অবস্হান করি

 

প্র: মধুপুর শরণার্থী ক্যাম্পে কি শুধু আপনার এলাকার লোকজন ছিল? নাকি অন্যান্য এলাকার লোকও ছিল?

 

উ: মধুপুরে ক্যাম্প ছিল দুটিএকটি মধুপুর ক্যাম্প আর একটি ছিল আদিবাসী ক্যাম্পআমরা মূলত আদিবাসী ক্যাম্পে ছিলামএ ক্যাম্পটি ছিল শরণার্থী ক্যাম্পের মধ্যে অনেক বড়এখানে আমাদের এলাকার লোকজন ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজনও আশ্রয় গ্রহণ করেছিল

 

প্র: এ ক্যাম্প সম্পর্কে একটু বলবেন?

 

উ: এদেশ থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে এবং স্বাধীনতাযুদ্ধকে সংগঠিত করার স্বার্থে লোকজন যখন ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিল তখন ভারত সরকার এ সমস্ত লোকজনকে আশ্রয় দেয়ার জন্য ক্যাম্প গড়ে তুললো এবং নামের তালিকা তৈরি করে তাদেরকে রিলিফ হিসেবে খাবারদাবার ইত্যাদি পরিবেশন শুরু করলোআমরা আদিবাসী ক্যাম্পে কয়েক হাজার লোক ছিলামকয়েক হাজার বলতে গেলে কয়েক হাজার পরিবারসমস্ত পরিবারের লোকজন ওখানে জীবন বাঁচানোর জন্যেই ছিলআজকে আমরা যেমন সুন্দরভাবে জীবন যাপন করছি সে রকম ব্যবস্হা ছিল নাকিন্তু নূন্যতম চাহিদাগুলা আমাদের মিটনতআমরা সেখানে থেকে স্বাধীন কবে হবে সে অপেক্ষায় ছিলামআমরা সব সময় উদগ্রীব হয়ে থাকতাম এই ভেবে যে আজকে যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাদের এই ক্যাম্প থেকে বা সারাদেশে থেকে অংশগ্রহণ করছে তারা শেষ পর্যন্ত বিজয় লাভ করতে পারবে কি না এবং তাদের প্রাণ বাঁচবে কি না

 

প্র: যুদ্ধের শেষে গ্রামে ফিরলেন কখন?

 

উ: ৬ই ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করেস্বীকৃতি প্রদানের পর মুক্তিযুদ্ধ তুমুল আকার ধারণ করেআমাদের অঞ্চল থেকে সম্ভবত ১৩ই ডিসেম্বর পাঞ্জাবিরা হটে যায়আমরা ১৪ই ডিসেম্বর ভারত থেকে আমাদের বাড়ির দিকে রওনা করি এবং বাড়িতে এসে পৌছি

 

প্র: ১৪ই ডিসেম্বর আপনার গ্রামে পৌছে গ্রামের অবস্হা কি রকম দেখলেন ?

 

উ: ঐ দিনের একটি স্মরণীয় ঘটনা আছে১৪ ডিসেম্বর আমরা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসিআমাদের গ্রামের পার্শ্ববর্তী গ্রামটা ছিল তেতিয়াঐ গ্রামের আবেদ আলী আমাদের পরিবারের কিছু জিনিসপত্র আমাদের বাড়িতে পৌছে দেয় এবং আরো কিছু জিনিসপত্র আনার জন্য একটু পরেই সে আবার ভারতের উদ্দেশে রওনা করেসে আমাদের বাড়িতে প্রথম কিছু জিনিস পৌছে দিয়ে তেতিয়াতে তার বাড়িঘর দেখতে যায়বাড়িঘর দেখতে যাওয়ার পথে একটি মাইন বিস্ফোরিত হয় এবং তার একটি পা হারিয়ে ফেলেআমরা যখন মাইনের প্রচন্ড আওয়াজ শুনলাম তখন আমরাও মাঠের উপর দিয়ে দৌড়িয়ে তেতিয়ার দিকে আসতে শুরু করলামআমাদের পথ আগলে দাঁড়ালেন ভারতের কয়েকজন শিখ সৈন্য,বললেন যে,তোমরা যে যেখানে আছ সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকআর এক কদমও এগোবে নাআমরা জিজ্ঞেস করলাম কেন? বললেন ওখানে মাইন থাকতে পারেতারপর আমরা অত্যন্ত সাবধানে এগিয়ে আসলামওখান থেকে শিখ সৈন্যরা আবেদ আলীকে কাঁধে করে নিয়ে আসলেন এবং তাকে চিকিৎসার্থে ভারতে পাঠিয়ে দিলেনপরবর্তীতে তার পাটাকে কেটে ফেলে দেয়া হয়এই মাইনগুলি পাকহানাদার বাহিনী পেতেছিলো যেন অতর্কিতে মুক্তিযোদ্ধারা পাঞ্জাবিদেরকে আক্রমণ করতে না পারেআর মূল প্রশ্ন যেটা করেছিলেন,বাড়িতে এসে আমরা কি দেখলাম আমাদের গ্রামের উত্তরাংশের এবং পশ্চিমাংশের অনেকগুলি বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিলআমাদের বাড়ির উপরে কয়েকটি শেল পড়েছেবাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হযে গেছেবাড়িঘরের মধ্যে বড় বড় ঘাস হয়ে আছেএলোপাতাড়ি সমস্ত কিছু পড়ে আছেগ্রামের অধিকাংশ মানুষেরই ঘরদোর ছিল নাঅত্যন্ত দুঃখের সাথে বেদনা ভারাক্রান- মন নিয়ে গ্রামের লোকজনদেরকে গ্রামে ফিরতে হয়েছিলতাদের মাথার উপর যেমন আশ্রয়ের চালা ছিল না তেমনি কারুর পকেটেও তেমন টাকা ছিল নাঘরে ধান চাল কিছুই ছিল নাএকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে আমরা দেশে ফিরেছিলামতবু আমাদের মনে একটা আনন্দ ছিল অন-তপক্ষে আমরা পাক হানাদার বাহিনীকে খেদিয়ে দিতে পেরেছিকি খাব,কিভাবে বাঁচব সে চিন্তা তখন আমাদের মাথায় ছিল নাআমাদের মনে ছিল প্রচণ্ড আনন্দ যে আমরা দেশে ফিরতে পেরেছি

 

প্র: এলাকার ব্রিজের অবস্হা,রাস্তাঘাটের অবস্হা কি দেখলেন?

 

উ: আমাদের একটি ব্রিজ ছিল পাঞ্জাবিরা যেন অবাধে চলাফেরা না করতে পারে সে জন্য মুক্তিযোদ্ধারা এই ব্রিজটিকে ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিলপাশাপাশি কসবা সদর থেকে অনতিদূরে ব্রাহ্মণ গ্রামে একটি রেলব্রিজ ছিল ওটাকেও ডিনামাইট দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা উড়িয়ে দিয়েছিলেনকসবায় যে সমস্ত রাস্তা ছিল সে সমস্ত রাস্তা তখন পাকা ছিল না,কাঁচা ছিলঐ সমস্ত রাস্তায় পাঞ্জাবিরা ট্রেঞ্চ করেছিলঐ ট্রেঞ্চ দিয়ে তারা নিরাপদে যাতায়াত করতোরাস্তাঘাট খুঁড়ে একেবারে চলাচলের অনুপযোগী করে রেখেছিলবিভিন্নখানে রাস্তা কেটেও ফেলা হয়েছিল

 

প্র: আমরা শুনেছি কসবায় প্রতিদিন পাকহানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হতএ সম্পর্কে কিছু জানেন?

 

উ: জ্বি,এ যুদ্ধ সম্মুখযুদ্ধ ছিল নামুক্তিযোদ্ধারা তাদের অবস্হান থেকে এবং পাঞ্জাবিরা তাদের অবস্হান থেকে গোলাগুলি করতকিন্তু সম্মুখ যুদ্ধ ছিল নাবিশেষ করে রাতের বেলায যদি গোলাগুলির আওয়াজ না হত এলাকার জনগণ মনে স্বস্তি পেত নাগোলাগুলির আওয়াজ শুনতে শুনতে মানুষ বেশ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলএ ছাড়াও কসবার দক্ষিণাঞ্চল সালদা নদীতে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়েছেকসবা এবং ব্রাহ্মণপাড়ার সংগমস্হল মাধবপুরে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়েছেসম্মুখযুদ্ধ হয়েছে ওখানেপাঞ্জাবি অনেক মারা গেছে যুদ্ধগুলাতেজ্যান্ত পাঞ্জাবিরা কসবা আসে তারপর থেকে ১৩ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত তাদের সাথে প্রতিদিন খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের

 

প্র: যুদ্ধের শেষে আপনি কি করলেন?

 

উ: যুদ্ধ শেষে আবার স্কুলে পড়াশুনায় মন দিলাম

 

 

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর নাম : মো: সোলেমান খান

সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ : ২৮ জুলাই ১৯৯৬

ক্যাসেট নম্বর : কসবা ২৭