নাম
:
মোঃ
রহিমউদ্দীন
পিতা
:
হানিফ উল্লাহ
মানিক
গ্রাম
:
মন্মথপুর
দক্ষিণপাড়া,
ইউনিয়ন
:
মন্মথপুর
থানা
:
পার্বতীপুর,
জেলা
:
দিনাজপুর
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : অষ্টম
শ্রেণী পর্যন্ত
১৯৭১
সালে বয়স : ২০
১৯৭১
সালে পেশা : বেকার
বর্তমান
পেশা : শ্রমিক
প্র:
১৯৭১ সালে
আপনি
পাকিস্তানি
সেনাবাহিনীর
হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন কি ?
উ: আমিসহ
আমাদের
গ্রামের সবাই আক্রান্ত
হয়েছিলাম। পাকিস্তানি
সেনারা
আমাদের
গ্রামে আইসা
গ্রামের সব
বাড়িঘর
জ্বালাও
পোড়াও করে। একজন
মুসলমান, তিনি
ছিলেন
তহশীলদার, তেনাকে পাকিস্তানি
সেনাবাহিনী
গুলি করে মারছিলো। সেই সঙ্গে
আরও দুইজন
হিন্দু
ব্যক্তিকেও
তারা গুলি করে
মারছিলো।
প্র:
আপনি কেন
মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ
করলেন ?
উ: দেখলাম, পাকিস্তানি
সেনাবাহিনী
আমাদের
বাঙালিদের এ
দেশে আর থাকতে
দেবে না বা এই
দেশটা তারা
তাদের আওতায়
নিয়ে নিবে। আমাদের দেশে
উর্দু ভাষা
চালু করবে। তারা শুধু
আওয়ামী লীগ
যারা করে
তাদেরকেই নয়, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খৃষ্টান
সবার উপরই নির্বিচারে
নির্যাতন
করছিলো। মহিলাদের
উপরেই তারা
বেশি
নির্যাতন
করছিলো। তাদের অপহরণ
করে নিয়ে যেতো। এই সব
দেখে মনে
করলাম যে, সত্যি
তো আমাদের
দেশকে শত্রু
মুক্ত করতে
হবে-- এই জন্যই
আমি
মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ করি।
প্র:
আপনার এলাকা
কখন
পাকিস্তানিরা
আক্রমণ করলো ?
উ: এটা
১৯৭১ সালের
এপ্রিল মাসে।
প্র:
তারা কিভাবে
আক্রমণ করলো ?
উ: পাকিস্তানি
সৈন্যরা
পার্বতীপুর
থেকে
দিনাজপুর
অভিমুখে
ট্রেনে
গিয়েছিলো। মন্মথপুর
রেল স্টেশন
সংলগ্ন আমার
বাড়ি। তারা
রেল স্টেশনের
কাছেই ট্রেন
দাঁড় করাইয়া আমাদের
গ্রামে হামলা
করে। তাদের
সঙ্গে
সহযোগিতায়
ছিলো
পার্বতীপুরের
অনেক অবাঙালি-
যাদের আমরা
বিহারী বলি। তাদের
নেতৃত্ব দিতো
বাদশা খান। বাদশা খানই
ছিলো তাদের
লিডার। আমাদের
এই এলাকায়
হিন্দু বসতি
বেশি। বিহারী
বাদশা খানের
কথায় পাকিস্তানি
সেনারা
আমাদের
মন্মথপুরে
ট্রেন থামায়
আক্রমণ
করছিলো। তখন লোকজন
ভয়ে পালাইয়া
যায়। গ্রামের
লোকজন
গ্রাণের ভয়ে
পালাচ্ছিলো। পাকিস্তানি
সেনারা তখন
তাদেরকে গুলি
করে। তাদের
গুলিতে অনেক
লোক আহত ও
মারা যায়।
প্র:
আপনার এলাকায়
ঐ দিন
পাকিস্তানি সেনাদের
গুলিতে কতজন
মারা
গিয়েছিলো ?
উ: ঐ দিন
আমাদের এখানে
মারা গেছিলো
তিন জন। দুই
জন হিন্দু, একজন
মুসলমান।
প্র:
পাকিস্তানি
সৈন্যদের
হাতে আপনার
পরিবারের কেউ
শহীদ হয়েছেন
কি ?
উ: না, আমার
পরিবারে কেউ
শহীদ হয়নি। কেউ
গুলিবিদ্ধও
হয়নি।
প্র:
আপনার এলাকায়
মুক্তিবাহিনীর
তৎপরতা কখন
থেকে শুরু হয় ?
উ: আমাদের
এলাকায়
মুক্তিবাহিনীর
তৎপরতা শুরু
হয়েছিলো ১৯৭১
সালের জুলাই
মাস থেকে।
প্র:
সেই সময়
মুক্তিবাহিনী
সম্পর্কে
জনগণের মনোভাব
কেমন ছিলো ?
উ:
মুক্তিবাহিনী
সম্পর্কে
জনগণের
মনোভাব খুবই
ভালো ছিলো। এলাকার
লোকজন
মুক্তিযোদ্ধা
ছেলেপেলেদের
দেখে খুশি
হয়েছিলো। পাকিস্তানিরা
আমাদের দেশের
বাড়িঘর
জ্বালাও
পোড়াও করছিলো, মেয়েদের
উপরে অন্যায়
অত্যাচার
করতেছিলো, এটা
দেখে গ্রামের
লোকদের মনে ভয়
ধরছে বেশি। তারপর আমরা
যখন গেছি- তখন
আমাদের থাকার
জায়গা দিছে, খাওয়া
দিছে। জনগণ
আমাদের খুব উৎসাহ
দিছে।
প্র:
আপনি
মুক্তিযোদ্ধা
হিসাবে কোন্
কোন্ এলাকায়
যুদ্ধ করেছেন ?
উ: আমরা
ট্রেনিং করি
পানিঘাটায়। সেখান
থেকে ট্রেনিং
শেষ করে আসার
পর কোমঙানি কমান্ডার
সাহেব আমাদের
সামনে
পার্বতীপুর থানার
একটা ম্যাপ
মেলে ধরলেন। ম্যাপ
দেখিয়ে
আমাদের বললেন
যে,
আপনার
নিজ গ্রাম সহ
পাশের কয়েকটি
গ্রাম
আপনাদের
অপারেশন এরিয়া। কমান্ডার
সাহেব
মন্মথপুর, চককৃষ্ণপুর, বড়হরিপুর, তাজনগর-এই
চারটি গ্রাম
আমাদের
অপারেশন এরিয়া
হিসেবে
নির্ধারণ করে
দিয়েছিলেন।
প্র:
এই এলাকায়
আপনি কিভাবে তৎপরতা
চালিয়েছেন ?
উ: আমরা
ভারত থেকে
রাতের
অন্ধকারে
গোলাবারুদ
নিয়া চলে
আসতাম এপারে। এদিকে
দেশের মধ্যে
আমাদের
সহযোগিতা
করতেন মুক্তিযোদ্ধাদের
আত্মীয়-স্বজন। তারা কেউ
কেউ নিজ গ্রাম
ছেড়ে হয়তো
একটু দর
গিয়েছিলেন। তাদের
সঙ্গে আমরা
যোগাযোগ
রক্ষা করতাম। মুক্তিযোদ্ধাদের
তারা
সহযোগিতা
করতেন। তারা
আমাদেরকে
দিনের বেলায়
তাদের নিজের
ঘরের ভিতর বা
অন্য কোনো
জায়গায় লুকাই
রাখতেন। অনেক সময়
দেখা গেছে এ
জন্য আমাদের
আত্মীয়-স্বজনদের
কেউ কেউ খান
সেনাদের হাতে
ধরা পড়েছেন। একবার
একজনের
বাড়িতে আমরা
লুকাইছিলাম। তিনি খান
সেনাদের হাতে
পরে ধরা
পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি
আমাদের কথা
খান সেনাদের
কাছে স্বীকার
করেন নাই। তিনি
নির্যাতিত
হওয়ার পরেও
পরবর্তীতে
গোপনে
মুক্তিযোদ্ধাদের
সহযোগিতা
করেছেন। জনগণ
মুক্তিযোদ্ধাদের
কথা খান
সেনাদের কাছে
কোনো সময়
স্বীকার করেন
নাই। গ্রামের
লোকেরাই
এলাকায় ঘুরে
ফিরে আমাদের জন্য
সংবাদ সংগ্রহ
করে দিতেন। আমরাও অনেক
সময় নিজেরাই ক্যাম্প
ক্লোজ করে
কৃষক সেজে বা
বাজার করার
জন্য সাধারণ
থলি হাতে নিয়ে
পার্বতীপুর
শহরে আসতাম। এইভাবে
আমরা সংবাদ
সংগ্রহ করে
খান সেনাদের উপর
হঠাৎ আক্রমণ
করতাম।
প্র:
এ সময়
মুক্তিযোদ্ধা
হিসেবে
আপনারা কি কি সমস্যার
সম্মুখীন
হয়েছেন ?
উ: এ
প্রসঙ্গে
একটি ঘটনার
কথা বলবো। সে দিনের
তারিখটা আমার
সঠিক মনে নেই। আমরা এক
গ্রামে ছিলাম, দক্ষিণ
সালন্দা
গ্রাম। শেষ
রাতের দিকে
ভারত থেকে এসে
এই গ্রামের এক
জায়গায় আমরা অবস্হান
করছিলাম। পার্শ্ববতী
গ্রামে খান
সেনাদের এক
দালাল ছিলো। বর্তমানে
সে বেঁচে নেই। তার নাম
ছিলো মাহতাব
উদ্দীন
চৌধুরী। সে ছিলো খান
সেনাদের
দালাল, শান্তি
কমিটির
চেয়ারম্যান
ছিলেন। সে
কিভাবে যেন
আমাদের সংবাদ
পেয়েছিলো। সম্ভবত:
তাদের
রাজাকার
বাহিনী তাকে এ
সংবাদ দেয়। সে আবার
পার্বতীপুরে
খান সেনাদের
সংবাদ দেয়। সংবাদ পেয়ে
খান সেনা, রাজাকার
আর বিহারীরা
আমরা যে
গ্রামে ছিলাম
সেই গ্রাম
চারদিক দিয়ে
ঘেরাও করে
আমাদেরকে
অ্যাটাক করে। ঐ গ্রামে
আমাদের আবার
কিছু স্পাই ছিলো। তারা
আমাদেরকে
সংবাদ দিলো যে, খান
সেনারা
আমাদের ঘেরাও
করে ফেলেছে। আমরা যে
গ্রামে ছিলাম
তার দক্ষিণে
আরেকটি গ্রামে
প্রায় ১০০
জনের মতো
মুক্তিযোদ্ধা
ছিলো। আমরা
একজন স্পাইকে
তাদের কাছে
পাঠিয়ে দিলাম। আমাদেরকে
অ্যাটাক করার
জন্য খান
সেনারা যে স্হানে অবস্হান
করছিলো
সেখানে একটা
নদী ছিলো। তারা নদীর
পশ্চিম পারে অবস্হান
করছিলো। আমরা ছিলাম
নদীর পূর্ব
পার্শ্বে। খান সেনারা
আমাদেরকে
অ্যাটাক করার
পর্বেই
আমরা তাদের
উপর আক্রমণ
শুরু করি। আমরা তিনদলে
বিভক্ত হয়ে
তাদেরকে
আক্রমণ করি। যারা
ঘেরাও করছে
সেই দলে খান
সেনা কম ছিলো। বেশি ছিলো
রাজাকার আর
বিহারী। খান সেনা
কিছু
পার্বতীপুর
থেকে আসছিলো। আর কিছু
খান সেনা
মন্মথপুর
থেকে
আসছে। ঐ
সময় মন্মথপুর
রেল স্টেশনের
পাশে খান
সেনাদের একটা ক্যাম্প
ছিলো। সেখান
থেকে প্রথমে
অল্পসংখ্যক
পাকসেনা
গিয়েছিলো আমাদেরকে
ঘেরাও করে
রাখার জন্য। পরবর্তীতে
একটি ট্রেন
পার্বতীপুর
থেকে মন্মথপুরের
দিকে আসছিলো। ট্রেনটি
মন্মথপুর
পৌঁছানোর পর্বেই
আমরা তাদের
উপরে ঝাঁপিয়ে
পড়ি। গোলা
গুলির আওয়াজ
এবং স্পাই
মারফত খবর
পেয়ে আমাদের
দক্ষিণে
প্রায় মাইল
দুয়েক দরে
যে,
পার্টি
ছিলো তারাও
অ্যাডভান্স
করে। পাকিস্তানিরা
আমাদের
পালানোর একটা রাস্তা
ঘিরে রেখে
ছিলো। তারা
বোধহয়
ভেবেছিলো যে
আমরা হয়তো ঐ রাস্তা
সেই দিয়ে
নিরাপদ
এলাকায় চলে
যাবো। আর
এক দিকেও পিছু
হটার রাস্তা
ছিলো। সেই
দিকে
রাজাকাররা
ছিলো। সেখানে
আবার খান
সেনারা ছিলো
না। আমরা
রাজাকারদের অবস্হানে
প্রচন্ড
গোলাগুলি
করলে তারা
তাদের হাতিয়ারগুলি
ফেলে সেখান
থেকে
পালিয়ে যায়। আমরা তখন
তাদের পিছে
ধাওয়া করি। তাদের
হাতিয়ারগুলিও
আমরা ওখান
থেকে পাই। অল্প কয়েকজন
খান সেনা যে
দিকে ছিলো সে
দিকে আমরা
আক্রমণ করিনি। পরর্বতীতে
আমরা ঐ গ্রাম
থেকে আরও
পশ্চিম দিকে
রায়পুর, জয়পুর, মধুপুর
গ্রাম পর্যন্ত
অগ্রসর হয়ে
সংবাদদাতা শান্তি
কমিটির
চেয়ারম্যান
মাহতাব
উদ্দীনের
বাড়ি ঘেরাও
করি। আমরা
আরো জানতে
পারলাম, কয়েকদিন আগে
কয়েক জন
হিন্দু
মেয়েকে সে এবং
তার দলবল ধরে
এনে তার
বাড়িতেই রাখছে। আমরা তার
বাড়ি অ্যাটাক
করে সেখান
থেকে দু’জন হিন্দু
মেয়েকে
উদ্ধার করি। তাদের
উদ্ধার করে
যখন আসছি-তখন
সংবাদ পেলাম পার্বতীপুর
থেকে আর এক দল
খান সেনা
মন্মথপুর রেল
স্টেশনে নেমে
আমাদের দিকে
অগ্রসর হচ্ছে। পাকিস্তানিরা
মন্মথপুর রেল
স্টেশন থেকে
সালন্দার
দক্ষিণ দিকে
অগ্রসর হয়। তাদের
অগ্রসরের
সংবাদ পেয়ে
আমরা আবার
উত্তর দিকে
অ্যাডভান্স
করি। আমরা
তাদের
কাছাকাছি হয়ে
টার্গেটের
অনেক দরে
থাকতেই কিছু
হাতবোমা
নিক্ষেপ করি
এবং এল.এম.জি-র
ফায়ার শুরু
করি। খান
সেনারা
আমাদের দিকে
কিছু
গোলাগুলি
করার পর যখন
বুঝলো যে, মুক্তিযোদ্ধারা
সংখ্যায় বেশি
তখন তারা
মন্মথপুর
স্টেশনে ফিরে
গিয়ে ঐ ট্রেনে
করেই অতি
দ্রুত
পার্বতীপুরের
দিকে চলে যায়। আমাদের
প্রধান
সমস্যা ছিলো স্হানীয়
রাজাকার এবং
দালাল গ্রুপ। এরাই পাকিস্তানিদের
খবরা খবর দিতো, পথঘাট
চিনিয়ে দিতো।
প্র:
এ দিনের
যুদ্ধে কতজন
মুক্তিযোদ্ধা
হতাহত
হয়েছিলো ?
উ: এ দিন
আমাদের
মুক্তিযোদ্ধাদের
মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ
হয়েছিলো। আল্লাহর
অশেষ রহমতে
আমাদের মধ্যে
আর কেউ গুলিবিদ্ধ
হয় নাই।
প্র:
এই যুদ্ধে
পাকিস্তানি
সৈন্যরা
হতাহত হয়েছিলো
কি ?
উ: পাকিস্তানিরা
আমাদের থেকে
অনেক দরে ছিলো। তাদের কথা
ঠিক বলতে পারবো
না। তবে
আমরা কয়েকজন
রাজাকারকে
ধরেছিলাম। তাদের কাউকে
আমরা মেরে
ফেলিনি। আমরা
তাদেরকে ধরে
নিয়ে গিয়ে
ভারতে ক্যাম্পে
জমা
দিয়েছিলাম।
প্র:
আর কোন্ কোন্
জায়গার
যুদ্ধে আপনি
অংশগ্রহণ
করেছিলেন ?
উ: ঐ সময়
জলপাইতলিতে
বিরাট একটা
যুদ্ধ
হয়েছিলো। সেখানে আমরা
নিজেরাই
অ্যাটাক
করেছিলাম। ওখানে খান
সেনাদের ক্যাম্প
ছিলো। প্রায়
বর্ডারের
পাশেই ছিলো ক্যাম্পটা। আমরা
প্রায় দুইশ’ আড়াইশ’র মতোন
মুক্তিযোদ্ধা
ঐ ক্যাম্পে
অ্যাটাক
করেছিলাম। তুমুল
যুদ্ধের পর
খান সেনারা
পালাইয়া যায়। একজন খান
সেনাকে আমরা
ধরে
ফেলেছিলাম। আমাদের
মুক্তিযোদ্ধাদের
মধ্যে দু’জন
গুলিবিদ্ধ
হয়েছিলো। আহত
মুক্তিযোদ্ধাদের
আমরা সঙ্গে
সঙ্গে পতিরামে
যে হাসপাতাল
ছিলো-সেখানে
পৌছাই দিছি।
প্র:
আপনার গ্রাম
বা এলাকায়
কারা রাজাকার
ছিলো ?
উ: আমাদের
গ্রামে অনেক
রাজাকার ছিলো। আমি স্পষ্ট করে
বলতে পারি, তাদের
মধ্যে আমার এক
আপন মামাও
ছিলেন। তিনি
আমাদের দলের
লোকের হাতেই
মারা গেছেন। যে দিন
আমাদের দেশ
স্বাধীন হয়
তার আগের
দিনের ঘটনা। পার্বতীপুরে
ভারতীয় প্লেন
এসে বোম্বিং
করছিলো। তখন আমার
মামা এবং আরো
কয়েকজন
রাজাকার নাকি
পালিয়ে
যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে
তারা আমাদের
অন্য এক দলের
সামনে পড়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা
তাদেরকে ধরে
হত্যা করে। অন্যদিকে
দেশ যখন
স্বাধীন হতে
যাচ্ছিলো তখন অনেকেই
আবার নিজেরা
গোপনে আমাদের
সঙ্গে যোগাযোগ
করে
হাতিয়ারসহ
সারেন্ডার
করে। আমরা
তখন ঐ সব
হাতিয়ারসহ
রাজাকারদের
ভারতে জমা
দিয়া আসি।
আমরা
এর আগে বশীর
এবং তার সঙ্গে
যে আরও ৫ জন ছিলো-
তাদেরকে আমরা
ধরেছিলাম। তারা আমাদের
ওখানকার রেল
লাইনে
ডিউটিতে ছিলো। তাদের আমি
ভালোভাবেই
চিনতাম। তাদের ঘেরাও
করার পর আমি
বশীরের নাম
উচ্চারণ করে
বলেছিলাম, বশীর, আমি
রহিম
মুক্তিযোদ্ধা
বলছি, তুমি
যদি বাঁচতে
চাও তা হলে
তোমার দলবল
নিয়ে হাতিয়ার
ফেলে দিয়ে
সারেন্ডার
করো। আর
সারেন্ডার না
করলে আমরা
গুলি চালাবো
এবং তোমরা কেউ
বাঁচতে পারবে
না। সে আমার
গলার আওয়াজ
শুনে হাতিয়ার
ফেলে দিয়ে কইলো
যে,
ভাই, আমরা
সবাই হাতিয়ার
ফেলে দিয়েছি, আপনারা
আমাদেরকে
মারবেন না, আমরা
সারেন্ডার
করছি। তখন
আমরা তাদেরকে
হাতিয়ারপত্র
সহ ভারতে নিয়ে
যাই এবং
সেখানকার ক্যাম্পে
তাদের জমা দেই।
প্র:
দেশ যখন
শত্রুমুক্ত
হয় তখন আপনি
কোথায় ছিলেন ?
উ: আমরা পার্বতীপুর এলাকাতেই ছিলাম। ভোররাতের দিকে সালন্দা, মন্মথপুর, তাজনগর এবং পলাশবাড়ির দিক থেকে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা পার্বতীপুর শহর অ্যাটাক করি। দক্ষিণ এবং পশ্চিম দিক থেকে পার্বতীপুর শহরে আমরা গোলাগুলি শুরু করি। এখানে তখন খান সেনা, রাজাকার এবং অবাঙালিরা ছিলো। তারা আমাদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি চালায়। পরে তারা যখন দেখলো যে, মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করছে তখন বিহারীরা মাইকিং শুরু করে। বিহারীরা মাইকিং করে বলছিলো যে, যার যা আছে সব রেখে যদি জীবন বাঁচাতে চান তাহলে এখনই ট্রেনে ওঠেন। এই মুহূর্তে ট্রেন সৈয়দপুরের দিকে চলে যাবে। এই মাইকের আওয়াজ আমি শুনিনি, কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই নাকি শুনেছিলো। ম