নাম
: মোঃ
শাহজাহান
গ্রাম
:
নেয়ামতাবাদ
ডাকঘর
:
নেয়ামতাবাদ
ইউনিয়ন
:
বিনাউটি
থানা
:
কসবা
জেলা
:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১৯৭১
সালে
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : এইচ. এস. সি
১৯৭১
সালে পেশা : ছাত্র
বর্তমান
পেশা : সমাজসেবা
মোহাম্মদ
শাহজাহান
হাজীপুর
গ্রামের
গণহত্যা
প্রত্যক্ষ
করেছেন একজন
বন্দী হিসাবে। এক
পর্যায়ে
পাকিস্তানিদের
কবল থেকে
মুক্ত হয়ে
তিনি
মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ
করেন। মোহাম্মদ
শাহজাহান
নির্মম
নির্যাতন,গণহত্যা
আর
মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণের
কথা জানিয়েছেন
বর্তমান
সাক্ষাৎকারে।
প্র:
ঢাকায়
পাকবাহিনীর
আক্রমণ
সম্পর্কে কিভাবে
শুনলেন? আপনার তখন
কি
প্রতিক্রিয়া
হয়েছিল?
উ: যখন
বাঙালিদের
উপর অত্যাচার
আরম্ভ হইল তখন
মনে হইল যে আর
কারে বলব,আল্লারে
বলতাম যে,আল্লাহ
তাদের
অত্যাচার
থেকে
আমাদেরকে
রেহাই করো। এই জন্য
আল্লার কাছে
অনেক
প্রার্থনা
করতাম। লোক
মুখে সব খবর
শুনছি। এই
এলাকার
মানুষের
মনোভাব ছিল যে
দেশ স্বাধীন
হবেই। পাকসেনাদের
প্রথম আক্রমণ
আমরা দেখি নাই। আমাদের
এলাকাতে যখন
আসছে তখন আমরা
দেখছি। এলাকাতে
যখন আসা আরম্ভ
করে তখন তারা
প্রথম সি এন্ড
বিতে আসে। আমরা তখন
একটা গোপন
জায়গাতে বইসা
দেখতাম এরা কি
করে। তাদের
অবস্হানটা
দেখার পরে
আমরা আওয়ামী
লীগের যারা
ছিলাম তারা
যুবকদের নিয়া
একটা ট্রেনিং
এর বন্দোবস্ত করা
যায় কি না তা
নিয়া গোপন
জায়গায়
আলোচনা করছি।
প্র:
আপনাদের এই
হাজিপুর
গ্রামটাতে যে
গণহত্যা
হয়েছিল সে
সম্পর্কে
আপনি কি জানেন?
উ: এই
গণহত্যার সময়
আমার চারজন
সহকারীসহ
আমরা ছিলাম এই
স্কুলের
পশ্চিম পার্শ্বে। আমরা
ভাবছিলাম যে
এখানে বোধহয়
কোনো পাঞ্জাবি
সেনা নেই। দেখা গেলো যে
না এখানে
পাঞ্জাবি
সেনা গোপনীয়ভাবে
আছে। আমরা
যখন রওয়ানা
দিছি তখন
আমরার পেছনে
পাঞ্জাবি
লাগছে। আমার
সাথে যে আরো
তিনজন ছিল
তারা আইসা
গেছে আমি একটু
দূরে সইরা
গেলাম। আমার
মনে হলো এরা
মারবে না। তখন আমি
নিজেই আইসা
এদের কাছে ধরা
দেই যাতে সবাই
বাঁচতে পারি। তখন
আড়াইবাড়ির
একজন রাজাকার
ছিল। এই
রাজাকারের
নামটা আমি
জানি না। ঐ লোকটারে
জিজ্ঞাসা
করলাম যে ভাই
আমরারে কি করবে। বললো যে
তোমরারে কিছু
করবে না। ছাইড়া দিবে। সেই
মুহূর্তে
একজন বিহারী
এই গ্রামেরই মকবুল
নামের একজন
লোককে নিয়া
আসলো। সে
আইসা আমাকে
প্রথম চার্জ
করলো। পাশের
লোকজন আমাকে
বলছে ভাই তুমি
কাপড় উল্টাইয়া
তাদেরকে
দেখাইয়া দেও। তখন আমি
বাধ্য হইছি
কাপড়
উল্টাইয়া
দেখাইতে। এরপরে
হাজিপুর
গ্রামের আরো
কয়েকজন লোককে
এখানে আনলো। কাপড়
উল্টাইছে
মুসলমান কিনা
চেক করছে। এরপরে আরো ৪
জন লোককে
এখানে আনলো। এই চারজন
লোক হইল ডা:
আবদুল জলিল,তারপরে
মতিন সাব,আবুল
কাসেম,আর একজনের
নাম মনে নাই। চারজন
তাদের
অফিসারে
বাঁশিতে
হুইসেল দিছে। দেওয়ার
পরে দক্ষিণ
দিকের মসজিদ
থেকে লোকজন নিয়ে
আসলো। আর
পূর্বদিগ
থাইকা কিছু
মুচি আর
মেয়েছেলে নিয়ে
আসলো। তারা
মেয়েছেলেদের
কি যে জিগাইল
জানি না। তারপরে
এরারে ছাইড়া
দিল। তারা
হাউ মাউ করে
কাঁদতে
কাঁদতে চইলা
গেল। তারা
চইলা যাওয়ার
পরে
পাকসেনা-রাজাকাররা
নানান ধরনের
টর্চারিং
আরম্ভ করলো
আমাদের উপরে। অনেক
টর্চারিং
করার পরে
দুইটা লাইন
করলো। একটা
লাইন হইল
পূর্ব
পশ্চিমে আর
একটা উত্তর
দক্ষিণে-ডিপটিউবওয়েলের
কাছে। কইরা
সাইরা
সবগুলারে
মাটিতে
শোয়াইয়া দিল। শোয়ানের
পরে একজন একজন
কইরা যার যার
শরীরে চেক
করলো হিন্দু
না মুসলমান। ঐ দুই
লাইন চেক করলো। চেক কইরা
সাইরা দুনো
লাইন থাইকা ১৪
জন ঋষি বাহির
করলো। ঐ
ঋষি গুলোকে
তারা বাছাই
করে আমাদের
কাছ েেকই
আলাদা করে
নিয়ে গেল। আলাদা কইরা
তাদেরকে খুব
পিটাইল। আমাদেরকে
জিজ্ঞাসা
করলো তোমরা
মুলমান? আমরা কই হাঁ,মুসলমান। তোমরা
কলেমা পড়তে
জান? আমরা
কই জানি। বললো যদি
কলেমা পড়তে না
জান তবে
ইমামের কাছ থেকে
জাইনা নিও। এরপরে
স্লোগান দিল ‘পাকিস্তান
জিন্দাবাদ,’ তারপরে ‘টিক্কাখান
জিন্দাবাদ,’ আমরা
সাথে বলতেছি। অনিচ্ছাকৃতভাবে
বলতেছি। এরপরে হেরা ঐ
যে সেই ১৪
জনকে আলাদা
করলো ১৪ জনের
মধ্যে ৭ জনরে
পশ্চিম দিক
করিয়া দাঁড়
করাইল। আর
পাকিস্তানি
সোলজার ৭ জনের
বরাবর বেয়নেট
নিয়া
দাঁড়াইলো। দাঁড়ানোর
পরে এদেরে
পাঞ্জাবি সেনাদলের
একজন অফিসার
বললো যে তোমরা
তোমাদের সৃষ্টিকর্তার
কাছে কিছু বল। তখন এরা
হাত জোড় কইরা
আল্লার কাছে
কি বলছে এরাই
জানে। বলার
পরে এই ৭ জনকে
বেয়নেট চার্জ
আরম্ভ করলো। বেয়নেট
দিয়া ঘাই দিল,দেওয়ার
পরে পইড়া গেলো। এই ৭ জনের
মধ্যে ২ জন ২
সাইড দিয়া
দৌঁড় দিল,দৌড়ানের
পর তাদেরকে
খাড়া অবস্হায় গুলি
করচে। একজন
যাইয়া ছালাম
ভাইয়ের
পুস্কুর্নিতে
পড়ছে আর একজন
উত্তর দিকে
বেতের ঝোপ ছিল
ঐখানে যাইয়া
পড়ছে। এরপরে
বাকি ৫ জনকে
যখন মারছে তখন
আর লাইন করছে
না। সৃষ্টিকর্তার
কাছে বল তেমন
কিছু জিগাইছে
না। তাদেরে
বসার মধ্যেই
বেয়নেট চার্জ
আরম্ভ করছে। রমানাথ
নামে এক ঋষি
সরকার একটু
জিন্দা আছিল। সে
হাতটারে একটু
লাড়া দেওয়ার
পরে একটা
সিপাই আবার
বেয়নেট চার্জ
করলো। বেয়নেট
চার্জ করার
পরে যখন চইলা
যায় তখন রাউতহাট
গ্রামের
যোগেন্দ্র
মাঝি
সিপাইটার
পায়ের মাঝে
লাফ দিয়া পইড়া
যায়। সিপাইটা
হিন্দু
মুসলমান
মর্যাদা করে
নাই। না কইরা
বুট দিয়া লাথি
দিয়া উড়াইয়া
ফালাইয়া দেয়। তখন দুইটা
ঘাই দেওয়ার
পরে সে এইখানে
মারা যায়। মারা যাওয়ার
পরে সিপাইরা
আমরার
চারজনের হাতে
চারটা ছাতি
ছিল ছাতিগুলা
নিয়া যাইতেছে। তখন আমি ঐ
ব্রিজ এর উপরে
আইসা বললাম
ভাই আমার ছাতিগুলা
নিয়া যাইতাছে। বললো তুমি
সামনে আস। সৈনিকটা
ছাতিগুলা
আইনা আমার
হাতে দিল। সৈনিকটা
ছাতিগুলা
হাতে দেওয়ার
পরে রওয়ানা হইছি। তখন মফিজ
মিঞার পশ্চিম
ভিটার ঘরটার
মধ্যে আমরা
ঢুকছি। তখন
একটা ছেলে
ছেলেটার
নামটা আমার
সঠিক স্মরণ
নাই,আইসা
বলচে আমারে
পানি দাও,পানি
দাও। তখন
আমাদের ভয়
হইছে। ভয়
হওয়ার পরে
আমরা এই ঘর
থাইকা বাহির
হইছি। বাহির
হওয়ার পরে তখন
আমরা চইলা
গেলাম নদীর পাড়ে। কত
মানুষের যে কি
অবস্হা তখন
বুঝতেই
পারিনি। নদীর পাড়ে
যাওয়ার পরে
আমার এক ফুফা
আছিল সে শুনছে
যে এরা নাকি
আটক হইছে। তখন উনায়
রামদাও লইয়া
কয় পাঞ্জাবি
কুইট্টালাম
(কেটে ফেলবো)
এই কথা কইয়া
সাইরা দেয় দৌড়। দৌড়াইয়া
নদীর পাড়ে
আইছে। আমরাও
নদীর পাড়ে
আইছি। নদীর
পাড়ে নৌকা ছিল। নৌকাটা
নিয়া নদীর এই
পাড়ে আইছি পর
নামছি। কিন্তু আমরা
হাঁটতে পারি
নাই। শুক্রবার
ছিল। বৃষ্টি
খুব বেশি
হইছিল। বৃষ্টিতে
ভিইজা অবশ
হইয়া গেছি। তারপরে ঐ
পারে চইলা
গেছি। যাওয়ার
পরে এক বাড়িতে
গেলাম। যাইয়া
আগুন
পোহাইলাম। তারপরে
বাড়িতে আইসা
তাদেরে বললাম
যে এই এই করছে।
প্র:
পাকবাহিনী
আসার পরে
মুক্তিবাহিনী
কি করলো?
উ:
মুক্তিযোদ্ধারা
ডিফেন্স দিছে
সি এন্ড বি সড়কে। সেই খবর
পাকিস্তানিদের
কাছে গেল। এই খবর পাইয়া
পাকিস্তানিরা
পরেরদিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
হিল দিয়া
এডভান্স করছে। এদিগ দিয়া
মুক্তিযোদ্ধারাও
তাদের
এডভান্স হওয়ার
খবর পাইয়া গেল। তারপর
মুক্তিযোদ্ধারা
দুইটা বেইস
লাগাইল,একটা হইল
গফুর
মাস্টারের
বাড়িতে,আর একটা
আবদুল হাইয়ের
বাড়িতে। লাগাইয়া
সাইরা
নেয়ামতবাদের
লোকজনরে তারা
বলছে আপনারা
সইরা যান। আমরা কিন্তু ঐখানে
পজিশন নিব। এদিকে
পাকিস্তানি
সৈন্যরা
সুন্দরভাবে
গ্রামের দিকে
আসতাছে। আসার পরে ৭/৮
জনরে তারা
মাইরা লাইছে। মারার পর
পাঞ্জাবিরা
আবার
নেয়ামতবাদ
গ্রামের
ভিতরের দিকে
চইলা গেল। এই অবস্হা দেইখা
আমি ভারতে
চইলা গেছি। কিন্তু আমার
বাপ চাচারা
ছিল পাঁচ জন। তারা যখন
চইলা
যাইতেছিল তখন
পাঞ্জাবিরা
তাগোরে দেইখা
গুলি করে এবং
তখন আমার
আব্বার হাতে দুইটা
গুলি লাগছে। এই ঘটনা
আমি আবার
বাড়িতে আইসা
শুনছি।
প্র:
আপনি
মুক্তিযুদ্ধে
কিভাবে
অংশগ্রহণ করলেন
এবং ভারতের
কোথায়
ট্রেনিং
নিলেন?
উ: এই
দেশকে,আমার এই
মা-বোনদেরকে
রক্ষা করার
জন্য যুদ্ধে
অংশগ্রহণ
করছি। আমি
ছিলাম ২ নম্বর
সেক্টরে। আমার সাথে
আরও লোক ছিল। আমরা
যাইয়া প্রথম
চারপাড়া
ক্যাম্পে
যোগদান করছি। চারপাড়া
ক্যাম্পটা
আমরা গঠন করি। তখন এখান
থাইকা আমরা
আন্দোলন শুরু
করি যে আমরা
এখানে ডাউল
চাউল খাইতে
আসি নাই। আমাদেরকে ট্রেনিং
সেন্টারে
নিয়ে যাওয়া
হোক। তখন উপরস্হ অফিসাররা
আইয়া বলছে ঠিক
আছে
তোমাদেরকে
ট্রেনিং
সেন্টারে
নেওয়া নিল না। আমি একদিন
মেইন গেইটে
দাঁড়াইয়া আছি। আমাদের
নেতা
শাহজাহান
সিরাজ,আবদুল
কুদ্দুস মাখন,আ.স.ম.
আবদুর রব আর
আমাদের
জাহাঙ্গীর
ভাইসহ উনারা
আসছে। আইসা
সাইরা বলে
বাবু আমরা
তোমাদের
এখানে আসছি
তোমরা আন্দোলন
কইরো না। তোমাদেরকে
ট্রেনিং
সেন্টারে
নেওয়া হবে তোমরা
সারিবদ্ধভাবে
দাঁড়াও। উনারা সবার
সাথে হাত
মিলাইয়া নিল। সিলেকশান
করার জন্য
উদ্যোগ নিল। তখন
দেখলাম যে
জাহাঙ্গীর
সাবের সমস্তটা শরীল
একবারে দাউদ
হইলে যেমন
চিকরা পাকরা
(এবড়ো থেবড়ো)
হয়ে যায়গা এই
ধরনের চিকরা পাকরা
হয়ে গেছেগা। তখন
জিগাইলাম যে
জাহাঙ্গীর
ভাই আপনার কি
হইছে। তখন
কইছে যে এক
যুদ্ধে আমি
যখন এডভান্স
করি তখন শেল
এর টুকরা
লাগছে সমস-
শরীরের মধ্যে। এরপরে
এখান থাইকা
সিলেকশান
কইরা তারা
চইলা গেল। দুইদিন পর
গাড়ি আসলো। ট্রেনিং
সেন্টারে নিল
আমাদের। আমাদের
সুন্দর একটা
পরিবেশ করলো
এমদাদুল বারী
সাব। আমাদেরকে
বিদায় দিল। রাত্রে গাড়ি
ছাড়লো। গাড়ি
যাইতে যাইতে
গকুলনগরে
নামাইল,নামানের পরে
সবারে শোয়াইল
মাটিতে। একজন একজন
কইরা চেক আপ
কইরা
ক্যাম্পের
ভিতরে ঢুকাইল। তখন এখানে
একজন ছিল নাম
আজাহার মিলন। ক্যাম্পের
কামন্ডার ছিল
দেলোয়ার
হোসেন। ব্যাটেলিয়ানে
একজন সি ও ছিল,উনি
বাঙালি এম.পি
সামসুল হক
সাহেব। তারা
রাত্রেই
আমাদেরকে
বললো যে এটা
ব্যাটেলিয়ান
সেন্টার। এখানে
ডিসিপ্লিন এর
প্রয়োজন আছে। আমরা সবাই
একটু ভয় পেয়ে
গেলাম। এরপরে
দেখা গেল যে
পরের দিন সকাল
থাইকা
সামান্য
সামান্য
ট্রেনিং এর বন্দোবস্ত হচ্ছে
কিন্তু পুরোপুরি
না। এরপর
এখান থাইকা
আবার তাদের
গাড়ি আসলো,গাড়ি
আইসা লইয়া গেল
আসাম। আসাম
নিয়া গেল
ট্রেনিং
সেন্টারে। দুইটা
ক্যাম্প ছিল
পদ্মা আর
মেঘনা। ক্যাপ্টেন
রাহুল ছিল
এখানে। দুইজন
ক্যাপ্টেন
ছিল। কুটুম্বপুরের
মান্নান সাব
ছিল। আর
বাংলাদেশের
পুলিশ
ইনসপেক্টর
ছিল শাহজাহান
(টিপু)। আমাদের
গ্রামে তখন
একজন ডিপ্লোম
ইঞ্জিনিয়ার
ছিল। খালেদ
মোশাররফ এই
এলাকার
গোপনীয়
খবরগুলা আনছে
তার থাইকা। সে
ম্যাপগুলা
কইরা দিত। এরপর
ট্রেনিং শেষ
কইরা যুদ্ধে
নামলাম।
প্র:
রাজাকার,আলবদর
বাহিনী আপনর
এলাকায় কি
করলো?
উ:
রাজাকার দুজন
ছিল। এরা তখন
কারো কোনো
ক্ষতি করে নাই। গ্রামের
লোকজনের কাছে
জানলাম এরা
কোনো ক্ষতি
করেনি। কিন্তু আলবদর
ছিল আবদুল
করিম সাব। উনি
পাঞ্জাবিদের
সহযোগিতা
করছে। তারপর
ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে
বাড়ি ধ্বংস
করছে। এরা
আবার আইডেন্টিটি
কার্ড বিতরণ
করছে। আর
রাজাকার
হিসাবে দুইজন
লোক ছিল একজন
হল আবদুর রব
আরেকজন সেলিম। তারা
আমাদের
এলাকায়ই ছিল।
প্র:
যুদ্ধের শেষে
আপনার অস্ত্র
কি করলেন?
উ:
যুদ্ধের শেষে
আমার অস্ত্র
জমা দিছি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
স্টেডিয়ামে।
প্র:
যুদ্ধের শেষে
আপনি আপনার
গ্রামে আইসা
গ্রামের অবস্হা কি
দেখলেন?
উ: গ্রামে
ধ্বংসের স্তুপ দেখছি। এইডারে
একট ধ্বংসের স্তুপ
বানাইয়া
লাইছে। কোনো
কিছু নাই। তখন একটা
ভ্রাতৃত্ববোধ
ছিল মানুষের
মধ্যে।
প্র:
যুদ্ধের শেষে
আপনি কি করলেন?
উ:
যুদ্ধের শেষে
আমি হাতিয়ার
জমা দিলাম। তখন আমাকে
সিলেকশান (সামরিক
বাহিনীর জন্য)
করছিল। কিন্তু আমি
আমার বাচ্চা
নিয়ে (৫ জন)
হাবুডুবু
খাচ্ছিলাম। আমাকে
আমার দাদী ঐ
জায়গায় যাইতে
দেয় নাই।
সাক্ষাৎকার
গ্রহণকারীর
নাম : এইচ. এম. ইকবাল
সাক্ষাৎকার
গ্রহণের
তারিখ : ২২
সেপ্টেম্বর
১৯৯৬
ক্যাসেট
:
কসবা ৫০