নাম : মো: ইউনুস আলী
ইনু
পিতা : মরহুম
ইয়াকুব আলী
গ্রাম : পাবলা, ডাক : দৌলতপুর
থানা : দৌলতপুর, জেলা : খুলনা
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : বি. এ.
১৯৭১ সালে
বয়স : ২৯
১৯৭১ সালে
পেশা : রাজনীতি
বর্তমান
পেশা : রাজনীতি
প্র: ১৯৭০
সালের
নির্বাচন এবং
তার পরবর্তী
ঘটনা প্রবাহ
সম্পর্কে
আপনি কি জানেন
?
উ: আওয়ামী
লীগ জাতীয়
পরিষদের
১৬৯টি আসনের
মধ্যে ১৬৭টি
আসন লাভ করলো। ইয়াহিয়া
খান প্রথম
দিকে গড়িমসি
করলেও পরে ৩ মার্চ
জাতীয়
পরিষদের
অধিবেশন
আহ্বান করলেন। কিন্তু ১ মার্চ
তিনি আবার সেই
অধিবেশন স্হগিত
ঘোষণা করলেন। তারপর তো
সারাদেশে
আগুন ঝরলো। আমাদের
মধ্যে ধারণা
জন্মালো যে, প্রবল
গণ আন্দোলন বা
সংগ্রাম ছাড়া পাকিস্তানিরা
কোনো অবস্হাতেই
আওয়ামী লীগকে
ক্ষমতা দেবে
না। আন্দোলন,সংগ্রামের
মাধ্যমেই
ক্ষমতা আদায়
করতে হবে। যুদ্ধের কথা
তখন অবশ্য
আমরা ভাবি নাই। কারো কারো
মনে এ ভাবনা
থাকলেও সেটা
প্রকাশ্যে আসেনি। তখন
আমাদের মনেই
হয়নি যে,যুদ্ধ করতে
হবে। এ
প্রসঙ্গে
আমার একটি কথা
মনে পড়ে। তৎকালীন ছাত্র
নেতা আবদুর
রাজ্জাক তখন
খুলনায় এসে
আমাদের মাত্র
কয়েকজনকে
নিয়ে একদিন
শাহিনূর
হোটেলে
আলাদাভাবে
একটা বৈঠক
করেছিলেন। সেই বৈঠকে
আভাসে উনি
আমাদের
বলেছিলেন যে,পাকিস্তানিরা
যদি ক্ষমতা না
দেয় তাহলে
হয়তো একটি
সশস্ত্র আন্দোলন
বা সংগ্রামে
আমাদের যেতে
হতে পারে। সে ক্ষেত্রে
আমাদের
সবাইকে জেলেও
যেতে হতে পারে। অতএব
তোমরা যারা
সিনিয়র,দায়িত্বশীল
কর্মী বা নেতা
আছো,তাদেরকে
সেইভাবে
মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে
থাকতে হবে। কিন্তু যুদ্ধ
করতেই হবে এমন
কোনো আভাস
তিনি আমাদের
সেদিন দেননি। তাছাড়া
আমাদেরও একটা
ধারণা ছিলো যে,হয়তো
একটা পর্যায়ে পাকিস্তানিরা
আওয়ামী লীগকে
ক্ষমতা
দিতেও পারে। তখন
আমাদের
নেতাদের কারো
কারো মনে
স্বাধীনতার
সুপ্ত বাসনা
থাকলেও সে কথা
প্রকাশ্যে
আমাদের কখনো
বলেননি। এ ছাড়া তখন
আমাদের
রাজনৈতিক
অভিজ্ঞতা বা
রাজনৈতিক
ধারণা তেমন ছিলো
না বলেই আমরা
সেটা বুঝতে
পারি নাই। হোক,ইয়াহিয়া
খান জাতীয়
পরিষদের
অধিবেশন
বাতিল করার পর
থেকেই প্রায়
প্রতিদিন
মিছিল,মিটিং শুরু
হলো।
১৯৭১
সালের মার্চ
মাসের শুরু
থেকে খুলনা,দৌলতপুর
এবং
খালিশপুরে
যতো আন্দোলন,মিছিল, মিটিং
জনসভা
অনুষ্ঠিত
হয়েছিলো তার
প্রায় সবটাতেই
আমার উপস্হিত
থাকবার
সৌভাগ্য
হয়েছিলো। তখন আমরা
দেখেছি,পরের দিন
হয়তো মিছিল
হবে,সেই
মিছিলের কোনো
আয়োজন আমরা
করি নাই,কোথাও
মাইকিংও করি
নাই অথচ
নির্দিষ্ট
সময়ে,নির্দিষ্ট
জায়গায় উপস্হিত
হয়ে দেখি
হাজার হাজার
লোক মিছিলের
জন্য সমবেত
হয়েছে। অনেক
জায়গায় তখন
পুলিশ, পাকিস্তান
সেনাবাহিনী
বা ইপিআররা
আমাদের
মিছিলে বাধা দেয়ার
চেষ্টা করে। কিন্তু জনগণ সে
সব উপেক্ষা
করে মিটিং
মিছিলে অংশ
নিতো। জনগণ
অনেক সময়
তাদের উপরে ইট
পাটকেল
নিক্ষেপ করতো। তখন পুলিশ
বা ইপিআররা
গুলি
চালিয়েছে। তারপরও কিন্তু মিছিল
হয়েছে। সেই
সময় পাকিস্তান
বিরোধী বা
পাঞ্জাবী
বিরোধী
আন্দোলনের
সঙ্গে
সম্পৃক্ত
হবার
মানসিকতা
মানুষের
মধ্যে তৈরি
হয়েছিলো। মানুষ মনে
করতো আন্দোলন
সংগ্রাম
করলেই হয়তো পাকিস্তানিরা
আমাদের হাতে
ক্ষমতা দেবে। জনগণ
নির্দেশের
জন্য অপেক্ষা
করতো। এই
পর্যায়েই
বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিব
১৯৭১ সালের ৭
মার্চ ঢাকার
রেসকোর্স
মাঠে এক ভাষণ
দিলেন। তাঁর
সেই ভাষণে
আমরা পরবর্তী
দিক
নির্দেশনা পেলাম।
প্র:
বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর
রহমানের ১৯৭১
সালের ৭
মার্চের ভাষণ
আপনি
শুনেছিলেন
কি-তিনি সেই
ভাষণে কি
বলেছিলেন ?
উ:
সেদিন আমি
ঢাকাতেই
ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর
ভাষণ শোনার
জন্যই আমি
ঢাকা গিয়েছিলাম। আমার
সঙ্গে খুলনার
তৎকালীন
ছাত্রনেতা
মরহুম
জাহিদুর
রহমানও ছিলো। শুনলাম
বঙ্গবন্ধুর
ভাষণ বেলা
৪টায়। আমরা
তাড়াতাড়ি
কাপড়-চোপড় পরে
সভার
উদ্দেশ্যে
রওনা হলাম। অবাক কান্ড!
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
রোকেয়া হল অতিক্রম
করে আমরা আর
সামনে এগুতেই
পারছিলাম না। চারদিকে
শুধু লোক আর
লোক। তখন
বাজে মাত্র
আড়াইটা। কিন্তু তখনই
ওখানকার
আশপাশ রাস্তা
সেদিন লোকে
লোকারণ্য। বহু কষ্ট
করেও আমরা
রেসকোর্সে
যাওয়ার সুযোগ পেলাম
না। রোকেয়া
হলের একটু
সামনে পর্যন্ত
যেতে পেরেছি,ওখানেই
আমরা দাঁড়িয়ে
পড়লাম
বঙ্গবন্ধুর
ভাষণ শোনার
জন্য। ৪টার
পর পরই
বঙ্গবন্ধু
জনসভায় আসলেন। গুরুগম্ভীর
কণ্ঠে
বঙ্গবন্ধু
সেদিন যে ভাষণ
দিলেন সে
ভাষণের তুলনা
হয় না। তাঁর
সেদিনের ভাষণ
বাংলাদেশের
ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয়
দলিল। তাঁর
বক্তৃতার
শেষে ছিলো, ‘এবারের
সংগ্রাম
স্বাধীনতার
সংগ্রাম,এবারের
সংগ্রাম
মুক্তির
সংগ্রাম’ কথাগুলো।
৭
মার্চে
মিটিংয়ের দু’দিন পর
আমরা খুলনা
রওনা হলাম। সেদিন গাড়ি
ঘোড়া প্রায়
বন্ধ ছিলো। আমরা লঞ্চে
অনেক কষ্টে
খুলনা ফিরে
আসি। আমরা
ছাত্র-যুব
নেতারা
খুলনার
বিভিন্ন মহল্লা,গ্রামে,ইউনিয়নে
সাংগঠনিক তৎপরতা আরো
জোরদার করি। যে সব স্হানে
আমাদের সংগঠন
ছিলো সে সব
সংগঠনের
মাধ্যমে
বিভিন্নস্হানে ‘সংগ্রাম
কমিটি’ গঠন করা হয়। ২৩ মার্চ পাকিস্তানি
পতাকার
পরিবর্তে
আনুষ্ঠানিকভাবে
সারা বাংলাদেশে
স্বাধীন
বাংলার পতাকা
তোলা হয়। খুলনাতেও
স্বাধীন
বাংলার পতাকা
উঠানো হলো। খুলনার
হাদিস পার্কে ছাত্র
সংগ্রাম
পরিষদ প্রথম এ
পতাকা তোলে। খুলনা
ছাত্র
সংগ্রাম
পরিষদের ১১
সদস্য বিশিষ্ট
একটি কমিটি
ছিলো। এই
কমিটির
কনভেনর ছিলো
স. ম. বাবর আলী। স. ম. বাবর
আলী এখন জাতীয়
পার্টির
সঙ্গে যুক্ত। খালিশপুর-দৌলতপুরেও
সেদিন
স্বাধীন
বাংলার পতাকা
উড়ানো হয়। হাজার হাজার
লোকের উপস্হিতিতে
দৌলতপুর বি.
এল. কলেজের
মাঠে সেদিন
স্বাধীন
বাংলার পতাকা
আমি প্রথম
তুলে ছিলাম। এদিন কিছু
বাড়ি এবং
প্রতিষ্ঠানেও
স্বাধীন বাংলার
পতাকা তোলা হয়। দৌলতপুর-খালিশপুরের
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনী এবং
সাধারণ মানুষ
সেদিন লাঠি
সোটা নিয়ে
স্বত:স্ফূর্তভাবে
দৌলতপুর বি.
এল. কলেজ মাঠে উপস্হিত
হয়েছিলো। আমরা লক্ষ্য
করেছি,মানুষের
মধ্যে
স্বাধীন
বাংলার পতাকা
দেখার প্রচন্ড
কৌতুহল।
২৩
মার্চের আগেই
খুলনার সব
এলাকাতেই ‘সংগ্রাম
পরিষদ’ গঠিত
হয়েছিলো। অঞ্চল
ভিত্তিক
সংগ্রাম
পরিষদ জেলা
সংগ্রাম পরিষদের
সঙ্গে এবং
জেলা আওয়ামী
লীগ নেতৃবৃন্দের
সঙ্গে
লির্য়াঁজো
মেইনটেইন
করতো। কেন্দ্রীয়ভাবে
যে নির্দেশ
আসতো সেই
নির্দেশগুলো
সাথে সাথেই
অঞ্চল
ভিত্তিক
সংগ্রাম পরিষদকে
জানানো হতো। খুলনার
বেশ কয়েকটি স্হানে
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনী গঠিত
হয়েছিলো। তারা
লাঠিসোটা
নিয়েই
ট্রেনিং নিতো। তাদের
হাতে আগ্নেয়
অস্ত্র ছিলো
না। আমাদের
দৌলতপুরেও
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনী গঠিত
হয়। তাদের
ট্রেনিংয়ের
দায়িত্বটা
দিয়েছিলাম যতদূর
মনে পড়ে বি. এল.
কলেজের ইউ. টি.
সি. প্রধানকে। তার নাম
ছিলো বাদশা। তার বাড়ি
মোল্লাহাটে। সে এখন
বোধহয়
পুলিশের এস.
পি.। সে বি.
এল. কলেজের
ছাত্র ছিলো। তার
সহযোগী ছিলো
আক্তার। সে
অবসরপ্রাপ্ত
আর্মি ছিলো। এছাড়াও
আমাদের এখানে
অঞ্চল
ভিত্তিক
ছোট-খাটো
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনী গঠিত
হয়েছিলো। ফুলবাড়ি
গেটে এই
দায়িত্বটা
পালন করতো চান
মিয়া আর আউয়াল। মোস্তফা ও
সোনালী মিলের
শ্রমিক
নেতারাও একটা
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনী গঠন
করে। খালিশপুরে
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনী গঠন
করে শহীদ। তাকে
কমিশনার শহীদ
বলে সবাই চেনে। সে
পরবর্তীকালে
খুলনা সিটি
কর্পোরেশনের
কমিশনার ছিলো। আমাদের এই
অঞ্চলটায় তখন
বিপুলসংখ্যক
বিহারী বাস
করতো। বেশ
কিছু পশ্চিম পাকিস্তানিও
ছিলো। তারা
বেশিরভাগ
পাঞ্জাবি। এরা
আগাগোড়াই
বাঙালি
স্বার্থের
বিপক্ষে ছিলো। তখন ওদের
প্রতি সজাগ
দৃষ্টি রাখা
হতো।
প্র:
পাকিস্তান
সেনা বাহিনীর
১৯৭১ সালের ২৫
মার্চের
আক্রমণ
সম্পর্কে
আপনি কি
শুনেছিলেন?
উ: ২৫
মার্চ রাত
১১টার দিকে
আমাদের
খুলনার এক নেতাকে
ঢাকা থেকে
একজন টেলিফোন
করে বলে যে,ঢাকার রাস্তায়
ট্যাংক নেমে
গেছে। সেনা
বাহিনী
ট্যাংক নিয়ে রাস্তায়
নেমে গেছে--এই
খবরটা আমরা ঐ
রাতেই পেয়ে
গেলাম। তখন
আমাদের মধ্যে
প্রচন্ড উৎকণ্ঠা। পরের দিন
সকালে আমরা
বিদেশী
রেডিওতে অনেক
খবর পেলাম। আমরা শুনলাম পাকিস্তান
সেনাবাহিনী
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়
ছাত্রাবাস,রাজারবাগ
পুলিশ লাইন
এবং পিলখানা
ইপিআর
হেড-কোয়ার্টারসহ
বিভিন্ন
জায়গায় আক্রমণ
করেছে। তারা
আক্রমণ
চালিয়ে
নির্বিচারে
বাঙালিদের হত্যা
করছে-এ খবরও
পেলাম। ঢাকার
খবর শুনে
আমাদের মনে
হলো পাকিস্তান
সেনাবাহিনী
খুলনাতেও
আক্রমণ করতে
পারে। তখন
আমরা সংগঠিত
হওয়ার চেষ্টা
করি।
প্র:
পাকিস্তান
সেনাবাহিনী
খুলনা কখন
আক্রমণ করে ?
উ:
সম্ভবত ২৮
মার্চ যশোর
ক্যান্টনমেন্ট
থেকে বেশ কিছু
সংখ্যক
গাড়িতে পাকিস্তান
সেনা বাহিনী
খুলনা আসে। অবশ্য তার
আগে থেকেই
খুলনা বেতার
কেন্দ্রে এবং
তৎকালীন স্টেট
ব্যাংকের
ওখানে কিছু পাকিস্তানি
সেনা ছিলো। যশোর থেকে
পাক বাহিনী
আসছে শুনে খুলনার
স্বেচ্ছাসেবকরা
তাদের
প্রতিহত করার
চেষ্টা করে। খুলনার
আশিকুর রহমান
পাক বাহিনীর
অবসরপ্রাপ্ত
ক্যাপ্টেন
ছিলেন। তার
সাথে আমার
পরিচয় ছিলো। পাক
বাহিনী ঢাকায়
আক্রমণ করার
পর আমি তার
সঙ্গে
যোগাযোগ
করেছিলাম। খুলনা শহরে
সেনাবাহিনীর
আরো কিছু
প্রাক্তন লোকজন
ছিলো। ক্যাপ্টেন
আশিকুর
রহমানের
মাধ্যমে
তাদের সংগঠিত
করা হয়। তখন
পুলিশের
লোকজনও
আমাদের সাথে
জড়িত হয়। আনসাররাও
আমাদের সাথে
যোগ দেয়। পাক বাহিনী
যেদিন খুলনা
আক্রমণ করে
সেদিন আমি
খুলনা
প্রোপারেই
ছিলাম। আমি
দৌলতপুরে যাই
সন্ধ্যার পর। সন্ধ্যার
পর ছাড়া দিনের
বেলায় ম্যুভমেন্ট
করার মতোন অবস্হা
তখন আমার ছিলো
না। খুলনা
প্রোপারে
থাকার সময়ই
শুনলাম যে,পাকিস্তান
আর্মি খুলনা
আসছে। তখনও
তারা
দৌলতপুরে আসে
নাই। তাদের
খুলনা আসতে
হলে
দৌলতপুরের
উপর দিয়েই আসতে
হবে। তারা
খুলনা আসার
পথে ফুলতলায়
প্রথম
বাধাপ্রাপ্ত
হয়। এরপর
বৈকালি এবং
নিউজ প্রিন্ট
মিলের সামনে
তারা আবার
বাধাপ্রাপ্ত
হয়। পরের
দিন আবার
দৌলতপুরে
তারা
বাধাপ্রাপ্ত
হয়। পাক
আর্মির
চার-পাঁচটা
কনভয়
দৌলতপুরে আসে। দৌলতপুরে
এসেই তারা
বিভিন্ন
মহল্লায় ঢুকে
পড়ে। তখন
আমরা
দৌলতপুরের
বিভিন্ন
জায়গায় তাদের
প্রতিরোধ
করার চেষ্টা
করি। দৌলতপুরে
এবং আশপাশ
গ্রামে যতো
বন্দুক
ছিলো-সেগুলো
আমরা আগেই
সংগ্রহ
করেছিলাম। আমরা
৩৫/৪০টার মতো
বন্দুক তখন
সংগ্রহ
করেছিলাম। বন্দুকগুলো
আমরা আনসার
এবং
স্বেচ্ছাসেবকদের
মধ্যে যারা
বন্দুক
ছুঁড়তে জানে
তাদের হাতে
দেই। দৌলতপুরে
যখন পাক কনভয়
আসে তখন
দৌলতপুরের হাদী
বলে একজন
প্রথম তাদের
উপর গুলি করে। সে বি.এল. কলেজের
ছাত্র ছিলো। ডা:
হালিমের
বাড়ির সামনেই
তাদের বাড়ি। তার বাবাও
ডাক্তার ছিলো। নওশের
ডাক্তার এবং
নজরুল
ডাক্তারের
বিল্ডিংয়ের
মাঝখানে
ছোট্ট একটা
গলি, ঐ
গলির ভিতর
দাঁড়িয়েই সে পাকিস্তানি
কনভয়ের উপর
গুলি ছোঁড়ে। তার
গুলিতে এক পাক
আর্মি আহত হয়ে
পড়ে যায়। তখন অনেকে
ধারণা
করেছিলো যে,ঐ পাক
আর্মি মারা
গেছে। যাহোক,পাক
আর্মি গুলির
শব্দে সঙ্গে
সঙ্গে গাড়ি
থেকে নেমে
চারিদিকে
ফায়ার শুরু
করে। এক
পর্যায়ে তারা
আহত সৈন্যকে
নিয়ে পিছনে
হটা শুরু করে। ওরা যখন
পিছনে সরছিলো
তখন আমরা কয়েক
হাজার লোক
ওদের পিছনে
পিছনে লাঠি
সোঠা নিয়ে
ধাওয়া করি। বর্তমান বি.
ডি. আর
ক্যাম্পের
পূর্ব
পার্শ্বের
গেট পর্যন্ত
আমরা
গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ করে
কোথা থেকে
একটা গুলি এসে
শ্যামাপদ বলে
এক ছেলের গায়ে
লাগে এবং
ছেলেটা সঙ্গে
সঙ্গে মারা
যায়। পাক
আর্মিই অনেক
দূর থেকে গুলি
করেছিলো যেটা
পরে বুঝলাম। রাইফেলের
গুলি যে এতো
দূর আসতে পারে
সে অভিজ্ঞতা
তখন আমাদের
ছিলো না। শ্যামাপদ
নিহত হলে
মুহূর্তের
মধ্যে লোকজন ছত্রভঙ্গ
হয়ে যায়। এরপর পাক
বাহিনী
বেপরোয়া গুলি
করতে করতে খুলনা
শহরে ঢুকে পড়ে। পাক
বাহিনী খুলনা
শহরের দখল
নিয়ে বিভিন্ন
জায়গায় অবস্হান
নেয়। সে সব অবস্হান
থেকে তারা
বিভিন্ন স্হানে
হানা দিতে
থাকে। আমাদের
এলাকার
সিদ্দিক
মুন্সীর
বাড়িতে তারা
আক্রমণ করে
প্রায় ১৬-১৭
জন লোককে গুলি
করে হত্যা করে।
খুলনা শহরে পাকিস্তান আর্মির তৎপরতা বেড়ে গেলে আমরা নদী পার হয়ে অপর পারে একটা স্কুলে সমবেত হলাম। ওখানে সমবেত হয়ে আমরা খুলনা রেডিও সেন্টার আক্রমণের পরিকল্পনা করলাম। ওখানে খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রধান কামরুজ্জামান টুকুও ছিলো। বাগেরহাটের তৎকালীন এম. পি. এ. শেখ আবদুর রহমানের নির্দেশে ওখানে আর একদল বাহিনীও তখন এসেছিলো। এই বাহিনীতে মূলত ইপিআর-এর প্রাক্তন সৈনিক এবং আনসার সদস্য ছিলো। খুলনা রেডিও সেন্টার আক্রমণের দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলো মেজর জলিল। মেজর জলিল তখন ফকিরহাটে অবস্হান করছিলেন। আমরা যখন জানলাম যে,ফকিরহাটে একজন বাঙালি মেজর আসছেন, তখন আমরা ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। আমাদের ক্যাম্পে তখন হাজার হাজার ছাত্র-যুবক যুদ্ধ করার জন্য সমবেত হয়েছিলো। কিন্তু তাদের মধ্যে ট্রেনিংপ্রাপ্ত লোকের সংখ্যা কম ছিলো। যাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে,এমন কিছু সংখ্যক লোক জলিল সাহেবের সঙ্গে এসেছিলো। তাদের কিছু সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য,আর কিছু পুলিশ এবং আনসার। আমরাও কিছু ট্রেনিংপ্রাপ্ত লোক সó