নাম
: মীর্জা
গোলাম হাফিজ
পিতা
: মৃত
ফারাজউদ্দীন আহমদ
গ্রাম
: চক এনায়েতপুর,
ডাক
: বাদিলা
হাট
ইউনিয়ন
: বেতদীঘি,
থানা
: ফুলবাড়ি,
জেলা
: দিনাজপুর
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : এইচ.এস.সি. পর্যন্ত
১৯৭১
সালে পেশা : ছাত্র,
বর্তমান
পেশা : ব্যবসায়ী
১৯৭১
সালে বয়স : ২৩
প্র:
১৯৭০ সালের নির্বাচন
এবং তার পরবর্তী
ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে
আপনি কি জানেন
?
উ: ১৯৭০ সালের
নির্বাচন এবং তার
পরপর যে ঘটনা অর্থাৎ পাক স্বৈরশাসকরা
বাঙালিদের একক
সংখ্যাগরিষ্ঠতা
মেনে না নেয়ায়
এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি
করায় এই অবস্হার
উপরে একটি রাজনৈতিক
বিপ্লবী অবস্হা
বিরাজ করছিল। তখন বাঙালি
জাতি এবং বাঙালি
জাতীয়তাবোধের
প্রতি আমাদের একটা
আস্হা ছিল এবং
আমরা কিন্তু বাঙালি
জাতীয়তাবোধের
ভিত্তিতেই তখন
পাকিস্তানি শাসক
গোষ্ঠীকে ঘৃণা
করতাম এবং সেই
নিরিখে আমরা আন্দোলন-সংগ্রামও
করেছি।
প্র:
১৯৭১ সালের মার্চ
মাসে আপনার কি
মনে হয়েছিল ?
উ: সেটা এক
বিভীষিকাময় অবস্হা। গোটা দেশবাসী
যেমন মনে করেছে, আমার মনের
মধ্যেও তেমন ফিলিংস
হয়েছে। যখন
হানাদাররা আক্রমণ
করা শুরু করলো, ২৫ মার্চের
দিকে আক্রমণ শুরু
করলো, আমরা
তখন ফুলবাড়ি ছেড়ে
গ্রামের বাড়িতে
চলে আসি, সেখান থেকে
সরাসরি ভারতে চলে
যাই, গিয়ে
আশ্রয় গ্রহণ করি।
প্র:
আপনার এলাকার মানুষের
মনোভাব তখন কি
ছিল ?
উ: পাকিস্তানি
শাসক গোষ্ঠীর প্রতি
একটা প্রচন্ড ঘৃণা, বিক্ষোভ
এবং ক্ষোভ ছিল। কিন্তু গ্রামের
মানুষ তখন সরাসরি
যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি
নিচ্ছে এরকম মন
মানসিকতা অবশ্য
তখনও পুরোপুরি
তৈরি হয়নি। এটা পরবর্তী অবস্হায়
বিভিন্ন পরিসি'তির কারণে
হয়েছে। পরবর্তীতে
মানুষ একটা আন্দোলনমুখী
অবস্হায় চলে গেল।
প্র:
১৯৭১ সালে আপনি
আক্রান্ত আমার হয়েছিলেন
কি ?
উ: হ্যাঁ, ১৯৭১ সালে
পাক সেনারা প্রথম
যখন ফুলবাড়িতে
আসে তখন সর্বপ্রথম
আমি, শরীফ
এবং এখন যে এস পি
মন্টু সাহেব, তাঁর বাবা
মফিজ মাস্টারসহ
আমরা প্রথম এখানে
আর্মির গাড়িটাকে
প্রতিরোধ সৃষ্টি
করি, আমরা
বাধা দেই। তখন ফুলবাড়ি থানার
ঐ ভদ্রলোককে সবাই
সুফি সাহেব বলতেন, থানার ওসি
সাহেব ছিলেন। তো ওনার সহযোগিতায়
থানা থেকে কিছু
হাতিয়ারও আমরা
পেয়েছিলাম। সামরিক বাহিনীর
যেসব লোকজন আর্মি
গাড়ি নিয়ে এসেছিল, এসে ফুলবাড়িতে
ঢুকেছিল, তখন তাদের
বিরুদ্ধে আমরাই
প্রথম প্রতিরোধ
সৃষ্টি করি। সুদীর্ঘ সময়
তাদের সঙ্গে লড়াই
করার পর তাদের
কয়েকজনকে আমরা
হতাহত করতে সক্ষম
হই। তাদের দু’জন বোধহয়
মারা যায় এবং ১জন
বোধহয় আহত অবস্হায়
ধরা পড়ে।
প্র:
আপনি কেন মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ করলেন
?
উ: স্বাধীনতার
জন্যই মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ করেছি।
প্র:
আপনাদের এলাকায়
পাকিস্তানিরা
কখন আক্রমণ করলো
?
উ: ২৬ মার্চের
পরেই, সম্ভবতঃ
২৭ কি ২৮ মার্চ
থেকে পাকিস্তানি
সৈন্যরা সৈয়দপুর
থেকে মর্টার শেল
মারতে মারতে এদিকে
আসা শুরু করলো, যখনই ফুলবাড়িতে
অ্যাটাক হলো তখনই
আমরা ভারতে যাইয়া
আশ্রয় নিলাম। তখন বাড়িতে
থাকার মতো পরিবেশ
ছিল না। এখানে
আর্মিরা খুঁজতেছে
আমাদের। আমরা যারা একটু
ছাত্র রাজনীতির
সঙ্গে জড়িত ছিলাম
তাদের প্রতি ওদের
ধারণাও ছিল ঐ ধরনের। তাদেরকেই মলত: তারা
খুঁজতেছিল, আমরা জানতাম
এবং বিভিন্ন সত্র থেকে
আমরা জেনেছি, আমাদের
গ্রেফতার করতে
পারলে হত্যা করবে। তাই আমাদের
কোন গত্যনর ছিল না, তখন আমাদের
ভারতে পালিয়ে যাওয়া
ছাড়া আর পথ ছিল
না।
প্র:
তারা কিভাবে আক্রমণ
করলো, তাদের আক্রমণের
ধরনটা কি রকম ছিল
?
উ: ওরা যখনই
কোন এলাকায় প্রবেশ
করতো তখন দর থেকে মর্টার-টর্টার, শেল-টেল
মেরে, গুলি
করতে করতে আতঙ্ক
সৃষ্টি করতো, আতঙ্ক সৃষ্টি
করার পরে তারপরে
এলাকায় ঢুকতো। তারপর বেধড়ক
এলাকার সাধারণ
মানুষদের নির্যাতন
করতো, বাড়িঘরে
আগুন লাগিয়ে দিত, মেয়ে মানুষ
পেলে তাদের ইজ্জত
হরণ করার চেষ্টা
করতো। এইভাবে
তারা আক্রমণগুলো
করতো। মূলত: সেই সময়
তারা সন্ত্রাস সৃষ্টি
করার চেষ্টাই করেছিল।
প্র:
পাক সেনাবাহিনীর
হাতে আপনার পরিবারের
কেউ শহীদ হয়েছেন
কি ?
উ: হ্যাঁ, আমার বড়ভাই, আব্দুল
হাই নাম। এখানে পাক হানাদারদের
একটি গাড়ি গেরিলারা
মাইনের সাহায্যে
ধ্বংস করেছিল। এই রাস্তার
উপরে। চিন্তামণ
থেকে বিরামপুরে
যাওয়ার রাস্তায়
তাদের একটি গাড়ি
মাইন বিস্ফোরণে
উড়ে যায়। উড়ে যাওয়ার পর
এই গ্রাম থেকে
১৭/১৮ যুবককে ধরপাকড়
করা হয়। ১৭/১৮জন
যুবকের মধ্যে মাত্র
১জন ফিরে আসতে
পেরেছে। বাকি সবাইকে পাক
হানাদাররা তাদের
চিন্তামণ ক্যাম্পের
মধ্যে ব্যাপক নির্যাতনের
পর হত্যা করে। সবচাইতে ব্যাপক
নির্যাতন করা হয়েছিল
আমার বড় ভাইকে। তাঁকে নির্যাতন
বেশি করা হয়েছিল
এই কারণে যে, তাঁর এক
সময় মুজাহিদ হিসেবে
ট্রেনিং থাকায়
তিনি ভাল উর্দু
এবং হিন্দি বলতে
পারতেন। ভাল হিন্দি এবং
উর্দু বলতে পারার
কারণে তাঁকে তাদের
ভাষায় ‘দাসুস’ বা দুষমণ, খারাপ লোক
ভেবে নিয়ে তাঁকে
ওরা ব্যাপক নির্যাতন
করে, নির্যাতন
করে তাঁকে সেখানেই
মেরে ফেলা হয়। তখন আমি অলরেডি
মুক্তিযুদ্ধে
এবং যুদ্ধের একজন
সৈনিক হিসেবে কাজ
করছি। আর সেই
সময় যুদ্ধের শিবিরে
আমি জানতে পারলাম, আমার বড়
ভাইকে ধরে নিয়ে
যাওয়া হয়েছে এবং
তাঁকে হত্যা করা
হয়েছে।
প্র:
তখন মুক্তিবাহিনী
সম্পর্কে জনগণের
মনোভাব কেমন ছিল
?
উ: জনগণের
মনোভাব আমাদের
অঞ্চলে মোটামুটি
ভালই ছিল। মুক্তিযুদ্ধের
সময় আমরা গেরিলা
হিসাবে কাজ করলাম। সেই সময় সাধারণ
মানুষদের কাছে
যথেষ্ট সাহায্য
সহযোগিতা পেয়েছি
আমরা সাধারণ মানুষদের
সাহায্য নিয়েই
গ্রামগুলাতে আসতাম, বিভিন্ন
তথ্য জানতাম এবং
সেই তথ্যের ভিত্তিতে
আমরা পাকিস্তানিদের
মোকাবেলা করতাম।
প্র:
আপনার গ্রাম বা
এলাকায় রাজাকার
কারা ছিল ?
উ: অনেক রাজাকার
ছিল, অসংখ্য
রাজাকার ছিল। আমাদের এই
এলাকার প্রাণপ্রিয়
একজন ছাত্রনেতা, সফিউদ্দিন
তাঁর নাম ছিল। ফুলবাড়ি কলেজের
ছাত্র আন্দোলনে
যার অগ্রণী ভূমিকা
ছিল এবং পুরোধা
ছিল।
সে মুক্তিযোদ্ধা
হিসেবে গেরিলা
সঙটে
কাজ করতো। কোন এক সময় এখান
থেকে যাবার পথে
এখানকার স্হানীয় রাজাকারদের
দ্বারা সে আক্রান্ত হয় এবং তাঁকে
হাতিয়ার সহ রাজাকাররা
হাতেনাতে ধরে ফেলে। সে সহ আরো দুইজন
মুক্তিযোদ্ধা
ধরা পড়ে। এরা দুজন হিন্দু
সম্প্রদায়ের ছিলো। আমাদের সহকর্মী
ছিল তারা, তাদেরকে
অত্যন্ত নির্যাতন
করা হয়। নির্যাতনের
পর প্রথম হিন্দু
সম্প্রদায়ের মুক্তিযোদ্ধা
দু’জনকে গুলি
করে একটা বড় গাছ
ছিল এখানে খন্ডকের
(রাস্তার পাশে
ছোট মাঠ/খেলাধুলার
স্হান) মধ্যে, সেই গাছে
কয়েকদিন লটকায়ে
রাখা হয়েছিল। সম্ভবত : ১৫/২০
দিন কি একমাস সেই
লাশ গাছে ঝুলন্ত অবস্হায়
ছিল।
আর সফিউদ্দিনকে
অত্যাচার করে তাঁর
হাত পাগুলো ভেঙ্গে
দিয়ে পঙ্গু অবস্হায়
কয়েকদিন মিলিটারিরা
গ্রামে ঘুরিয়েছে
এবং সর্বশেষ তাঁকে
দিয়েই তাঁর হাতে
কোদাল দিয়ে গর্ত
খুঁড়ে নিয়ে সেখানে
গুলি করে হত্যা
করে ঐ গর্তেই তাঁকে
পুঁতে রাখে।
প্র:
আপনাদের যে দু’জন হিন্দু
মুক্তিযোদ্ধাকে
হত্যার পর গাছে
ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল
সে দু’জনের নাম কি
?
উ: দু’জনের নাম
....., আমার সঠিক
মনে পড়ছে না, একজনের
নাম সম্ভবত: শিবু
নাকি ....., অনেক দিনের
কথা তো, আমার মনে পড়ছে
না .....।
প্র:
তাদের বাড়ি কেথায়
ছিল ?
উ: তারা এখানকারই
ছিল।
আমাদের
ফুলবাড়ি অঞ্চলেই
তাদের বাড়ি ছিল। তাদের গ্রামের
নামটা মনে পড়ছে
না এই মুহূর্তে। প্রস্তুতি
থাকলে গ্রামের
নাম সংগ্রহ করতে
পারতাম। এরা এখানকারই
মানুষ ছিল।
প্র:
আপনার এলাকায় যারা
রাজাকার ছিল তারা
রাজাকার হলো কেন
?
উ: প্রশ্ন
হলো, মানুষ
তো সমাজে বিভিন্ন
শ্রেণীর থাকে। কিছু মানুষ
ঐ মুহূর্তে ছিল, যারা পাকিস্তানি
আর্মিদের জয় জয়কার
অবস্হা দেখে, তাদের আক্রমণের
তান্ডব দেখে কিছু
কিছু লোক ভীত সনস' হয়ে গেছে। কেউ বা লুটপাটের
আশায়, কেউ
লোভ লালসার বশবর্তী
হয়ে সহযোগিতা করেছে। বিভিন্নভাবে
গেছে। আর কিছু
কিছু মানুষ যারা
একটু পাকিস্তানি
সেন্টিমেন্টের
মানুষ ছিল, তখন থেকেই
মুসলিম লীগ করতো, এই সমস্ত মুসলিম
লীগ এবং পাকিস্তানি
মৌলবাদী মনোভাবাপন্ন
লোকগুলো তারা কিন্তু
রাজাকারের মধ্যে
চলে যায়। তারা চেষ্টাও
করে পাকিস্তানকে রক্ষা
করার জন্য। সেই নিরিখেই তারা
পাকিস্তানি আর্মিদের
পক্ষে কাজ করেছে
এবং পাকিস্তানি
আর্মিদের দ্বারা
বাঙালিদের অত্যাচার
নির্যাতনে যথেষ্টভাবে
সাহায্য-সহযোগিতা
করছে। এটা
কেউ মনের অজানেও করছে। কেউ সচেতনভাবেও
করছে।
প্র:
আপনার এলাকায় আল-বদর, আল-শামস
কারা ছিল ?
উ: আল-বদর, আল-শামস
এখানে তখনকার সময়ে
ছিল, ঐ যে
আপনার চেয়ারম্যান
ছিলেন একজন, তার নাম
হাজী ফজলার রহমান, তিনি বেঁচে
আছেন। আর একজন
মুক্তিযুদ্ধের
সময় অবশ্য মারা
গেছেন। আইজউদ্দীন
নাম, প্রাক্তন
চেয়ারম্যান। পাকিস্তানি
আর্মিদের সহযোগিতায়
ছিলেন। তিনি
ইচ্ছায় কি অনিচ্ছায়
ছিলেন তা আমি জানি
না। তবে উনি
সহযোগিতায় ছিলেন। অবশ্য পরবর্তীতে
তার উপরও পাকিস্তানিরা
অত্যাচার করে। অত্যাচারের
ভয়ে উনি পালিয়ে
যান।
আর এছাড়া
ফজলার রহমান মানে
যার কথা আগে বলেছি, সে হানদারদের
দালাল ছিল, পিস কমিটির
চেয়ারম্যান ছিল
এই অঞ্চলের। এই ব্যক্তিও
পাকিস্তানি আর্মিদের
যথেষ্ট সহযোগিতা
করেছে। তাকে
কোলাবরেটর কেসে
এক সময় হাজতবাসও
করতে হয়েছে। মোটর মিয়া
নামে এক লোক ছিল, এক চৌধুরী
পরিবারের, তিনিও অনেক
অত্যাচার নির্যাতন
করেছেন। তার ছেলেরাও করেছে
এই অঞ্চলে।
প্র:
শান্তি কমিটিতে
কারা ছিল ?
উ: শান্তি কমিটিতে
ঐ লোকগুলাই ছিল। যাদের কথা
বললাম তারাই ছিল।
প্র:
দেশ স্বাধীনের
পর এই সব রাজাকার, আল-শামস, আল-বদরদের
ধরা হয়েছিল কি
?
উ: এদের অনেককে
গ্রেফতার করা হয়েছিল। জেলেও পাঠানো
হয়েছিল তবে তারা
পরবর্তীতে ছাড়া
পেয়েছে। সাধারণ ক্ষমা
ঘোষণা এবং সুনির্দিষ্ট
মামলা যাদের বিরুদ্ধে
ছিল তাদের মামলার
কাগজপত্রে এবং
তথ্যে কোন সমস্যা
থাকায় তারা বেরিয়ে
এসেছে। তবে
অনেকেই কারাগারে
ছিল।
তার
মধ্যে দুই একজনকে
বিশ বছরের সাজাপ্রাপ্তও
হতে দেখেছি। গফুর নামে
এক লোক, আপনার ঐ মোহনপুর
ব্রিজ, সেখানে কোথায়
যেন বাড়ি, তার ২০ বছর
সাজা হয়েছিল। সে কয়েকটি
মার্ডার কেসের
আসামী ছিল এবং
সে রাজাকারও ছিল।
প্র:
তারা এখন কোথায়
?
উ: তারা অনেকেই
পুনর্বাসিত অবস্হায়
গ্রামেগঞ্জে বসবাস
করছে। কেউবা
মারা গেছে, কেউবা বেঁচে
আছে।
প্র:
আপনি মুক্তিযোদ্ধা
হিসেবে কোন সেক্টরে
এবং কোন এলাকায়
কাজ করেছেন ?
উ: আমি ৭ নম্বর সেক্টরে ছিলাম। আমাদের প্রথমে বালুরঘাট থেকে মালদহতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। মালদহতেই একটা হল ঘরের মধ্যে আমাদের বাছাই করা হয় এবং তারপর সেখান থেকে সরাসরি আমাদের শিলিগুড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। শিলিগুড়িতে আমরা উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পরে, আমরা আর গেরিলা যুদ্ধে থাকি না। আমাদের সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা হয় তরঙ্গপুরে। তরঙ্গপুরে আমাদের ভারতীয় পক্ষে একজন কমান্ডিং অফিসার ছিলেন সম্ভবত: সি আর দত্ত নাকি অন্য কোন নাম, তার সঠিক নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তার নির্দেশে ওখান থেকে সরাসরি আমাদের সাড়ে ৪০০শ’ মুক্তিযোদ্ধার একটি দলকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় হিলি সেক্টরে। হিলি সেক্টরে যুদ্ধের সময় উল্লেখযোগ্য যে বিষয়টি, সেটা হল একটা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আমরা একটা বাংকার দখল করতে গেছিলাম। একটা যুদ্ধের ময়দান দখল করতে গেছিলাম। সেই যুদ্ধ করতে যেয়ে ঐ দিনই কয়েক মিনিটের মধ্যে আমি আমার কোমঙানির ৮০জন ছেলেকে হারিয়েছি। ৮০জন মুক্তিযোদ্ধাকে। ঐ মুক্তিযোদ্ধাদের হারানোর পর, তখন অলরেডি দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। একথা কিন্তু আমরা তখনও বুঝতে পারিনি, জানতেও পারিনি। তো দেশ স্বাধীন হওয়ার এবং পতাকা উড়ার পাঁচদিন পরও আমরা ঐ বাংকারের মধ্যে যুদ্ধরত অবস্হায় ছিলাম। তারপর যুদ্ধ করার সময় অনেকটা বলতে পারেন, আমরা শংকিত হয়ে গেলাম, যে দিন আমাদের ৮০জন মুক্তিযোদ্ধা মারা যায় সে দিন রাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা এখান থেকে চলে যাব। তো আমাদের কোমঙানির যে কমান্ডিং অফিসার ছিল, সে কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশ ছাড়াই আমি আমার কোম্পানির বাকি যারা জীবিত সদস্য ছিল তাদেরকে নিয়ে আমি রাতের অন্ধকারে সেখান থেকে একরকম পালিয়ে আসার মতো চলে আসি, যুদ্ধের ভয়াবহতার কারণেই। তো যখন আমরা চলে আসি ব্যাক করে, ঠিক সে সময় আমরা গ্রামের লোকদের