নাম
:
মীর্জা
তসমিম-উল
ইসলাম বাবলু
পিতা
:
মৃত মীর্জা
ফজলুল করিম
পৌরসভা
:
ঠাকুরগাঁও,
ডাক
:
ঠাকুরগাঁও
থানা
:
ঠাকুরগাঁও,
জেলা
:
ঠাকুরগাঁও
(১৯৭১ সালে
দিনাজপুর
জেলার অন্তর্গত
মহকুমা)
শিক্ষাগত
যোগ্যতা :
ম্যাট্রিক
১৯৭১
সালে বয়স : ৩৪/৩৫
১৯৭১
সালে পেশা : ব্যবসায়ী,
বর্তমান
পেশা : কৃষি কাজ
প্র:
১৯৭০ সালের
সাধারণ
নির্বাচন এবং
তার পরবর্তী
ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে
আপনি কি জানেন?
উ: ৭০ সালের
নির্বাচন
গণ-অভ্যুত্থানের
মধ্য দিয়ে
অনুষ্ঠিত
হয়েছিলো। সে সময় সারা
পাকিস্তানে
আওয়ামী লীগ
নিরঙ্কুশ
বিজয় লাভ
করেছিলো। সেই
নির্বাচনে
ঠাকুরগাঁও
সদর থেকে
আওয়ামী লীগের
প্রার্থী
জনাব ফজলুল
করিম বিজয়ী হন। তিনি এখনও
বেঁচে আছেন। আমার বড়
ভাই জনাব এস.
আর. মীর্জার
ক্লাস ফ্রেন্ড
ছিলেন তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ের
উত্তরে
পঞ্চগড় থেকে
নির্বাচনে
জিতেছিলেন
আওয়ামী লীগ
প্রার্থী
সিরাজুল ইসলাম। নির্বাচনের
পর পাকিস্তানের
শাসক গোষ্ঠী
ক্ষমতা হস্তান্তরে
টালবাহানা
করায় ১৯৭১
সালের মার্চ
মাস থেকে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ
আন্দোলন শুরু
হয়। এ সময়
আমার বড় ভাই
অবসরপ্রাপ্ত
উইং কমান্ডার এস.
আর. মীর্জা
ঢাকা থেকে
ঠাকুরগাঁওয়ে
আসেন। তিনি
সম্ভবত: ১৯৭১
সালের ১৪
মার্চে
ঠাকুরগাঁও
এসেছিলেন। ঠাকুরগাঁওয়ে
যাঁরা আওয়ামী
লীগের নেতা
ছিলেন তাঁরা
প্রায় সবাই আমার
বড় ভাইয়ের
বন্ধু অথবা
বন্ধুস্হানীয়
ছিলেন। বড়
ভাই এস. আর.
মীর্জা দেশের
পরিস্হিতি
আলোচনার জন্য
কয়েকজন
আওয়ামী লীগ
নেতাকে আমাদের
বাসায় আমন্ত্রণ
জানালেন। এদের নিয়ে
আমাদের
বাসাতেই
সেদিন এক
গুরুত্বপূর্ণ
আলোচনা হয়। আলোচনার পর
একটা সশস্ত্র সংগ্রামের
প্রস্তুতি
গ্রহণের
জন্যও সেদিন
বেশ কিছু
সিদ্ধান্ত নেয়া
হয়েছিলো। এটা হয়েছিলো
সম্ভবত: ১৪
মার্চ অথবা ১৫
মার্চ সন্ধ্যায়। সেই বৈঠকে
এম.পি. ফজলুল
করিম,ঠাকুরগাঁও
আওয়ামী লীগের
সহ-সভাপতি
আবদুর রউফ, সভাপতি
আবদুল লতিফ,সাধারণ
সম্পাদক আবদুর
রশীদ মোক্তার
প্রমুখ উপস্হিত ছিলেন। এ ছাড়া
আমি এবং আমার
বড় ভাই এস. আর.
মীর্জা সেই বৈঠকে
উপস্হিত ছিলাম। এই বৈঠকে
দেশের পরিস্হিতি নিয়ে
আলোচনার পর
বেশ কিছু
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ
করা হয়। তখন
দেশে অসহযোগ
আন্দোলন
চলছিলো। এই বৈঠকের
আগে আমি
ঢাকাতেও একবার
গিয়েছিলাম। আমি
ব্যক্তিগতভাবে
আওয়ামী লীগার
ছিলাম না। ঢাকায়
যাওয়ার পর
সার্বিক
রাজনৈতিক অবস্হা
পর্যবেক্ষণ
করে আমার
পরিষ্কার
ধারণা হলো যে,এবার যে
আন্দোলন শুরু
হয়েছে তাতে
দেশ স্বাধীন
হবেই। তখন
থেকে আন্দোলন
সংগ্রামের
পক্ষেই আমি
আমার অবস্হান গ্রহণ
করি। আমাদের
বাড়িতে
আওয়ামী লীগ
নেতৃবর্গ ও
অন্যদের নিয়ে
যে সভা হলো ১৪
অথবা ১৫ মার্চ
সন্ধ্যায়
সেখানে
অন্যান্য
সিদ্ধান্তের মধ্যে
একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়
যে,যুদ্ধের
প্রস্তুতি
নেয়ার জন্য
ঠাকুরগাঁওয়ে
আর্মস
ট্রেনিং শুরু
করা হবে। সে সময়
ঠাকুরগাঁও
হাই স্কুলের
স্কাউট টিচার ছিলেন
ইউসুফ আলী
সাহেব। ৪৭ সালে
পাকিস্তান
আন্দোলনের
সময়ও তিনি
বিশেষ ভূমিকা
রেখেছিলেন। তাঁর
নেতৃত্বেই
ঠাকুরগাঁওয়ের
যুব সমাজকে নিয়ে
ট্রেনিং শুরু
করা হয়। এই
ট্রেনিংয়ে অস্ত্রের
ব্যবহার
শেখানো হতো। এই
ট্রেনিংয়ের
জন্য আমি
গোলাগুলি
দিয়ে সাহায্য
করেছিলাম এবং
এই ট্রেনিং
শুরুর মধ্য
দিয়ে
ঠাকুরগাঁওয়ের
আন্দোলন নতুন
মাত্রা লাভ
করে।
প্র:
ট্রেনিংয়ের
জন্য
আমর্স-অ্যামুনিশন
কিভাবে
সংগৃহীত হলো ?
উ: আমর্স
লোকালিই ছিলো। অ্যামুনিশন
আমি নিজেই
দিয়েছিলাম। এই
ট্রেনিংয়ের
জন্য আমার বড়
ভাই এস. আর.
মীর্জা এবং
ভগ্নিপতি
পাকিস্তান বিমান
বাহিনীতে
কর্মরত
অফিসার এ. কে.
খন্দকার-এর
কাছ থেকে আমি
প্রচুর
বন্দুকের
গুলি
এনেছিলাম। তাছাড়া আমার
কাছে পয়েন্ট
টু-টু বোর
রাইফেলের গুলি
ছিলো। এই
গুলি সব সময়
আমার কাছে জমা
থাকতো। সে
সময় আমি খুব
শিকার করতাম। আমার খুব
নেশা ছিলো
পাখি শিকার
করার। সে
জন্য সব সময়
আমার স্টকে
যথেষ্ট গুলি
থাকতো। যাহোক,ঠাকুরগাঁওয়ে
যে ট্রেনিং
শুরু হয়েছিলো
তার জন্য আমি
১১ থেকে ১২শবন্দুকের
গুলি এবং
পয়েন্ট টু-টু
বোর রাইফেলের
গুলি ৫ থেকে ৭
হাজারের মতো
দিয়েছিলাম।
প্র:
ঠাকুরগাঁওয়ে
আর্মস
ট্রেনিং কোন্দিন
থেকে শুরু হলো
?
ট্রেনিং
সস্পর্কে
কিছু বলবেন কি
?
উ: এটা
১৪/১৫ মার্চে
আমাদের সেই
আলোচনার পর
দিন থেকেই বলা
যায় প্রস্তুতি শুরু
হয়ে গেলো। কিন্তু আর্মস
ট্রেনিং আরো
পরে শুরু হয়। এই
ট্রেনিংয়ে
প্রায় ২৫০
থেকে ৩০০শছেলে
যোগ দেয়। তারা
বিভিন্ন
ক্যাটাগরির
ছিলো। কেউ
ছাত্র,কেউ শ্রমিক। সাধারণ
লোকজনও ছিলো। আরো একটা
বিষয় লক্ষণীয়
ছিলো যে,এই
ট্রেনিংয়ে সব
মতের লোকই
অংশগ্রহণ
করেছিলো
অর্থাৎ
সেখানে বিশেষ
কোনো দলের
লোকই কেবল ছিলো
না।
প্র:
এ সময়
ট্রেনিংসহ
অন্যান্য
বিষয়ে লিডারশীপ
কাদের হাতে
ছিলো ?
উ:
লিডারশীপ
আওয়ামী
লীগারদের
হাতেই ছিলো। কিন্তু কাজের
ক্ষেত্রে সব
দল মতের মানুষরাই
ছিলেন। সে
সময়
ঠাকুরগাঁওয়ে
একটা
ব্যতিক্রমী
ব্যাপার ছিলো। সেটা
অবশ্য এখন আর
নাই। সে সময়
যে কোনো বিষয়ই
হোক না কেন,সেটা
সংগ্রাম-আন্দোলনই
হোক বা কোনো
আত্মীয়তাতেই
হোক বা বড়
ধরনের
খাওয়া-দাওয়াতেই
হোক,সেখানে
জাতি-ধর্ম,দল মত
নির্বিশেষে
আমরা সবাই
একত্রিত হতাম
এবং কাজ করতাম। তখন
আওয়ামী লীগ,ন্যাপ,কমিউনিস্ট
পার্টির
লোকজনসহ আমি
নিজেও এর সঙ্গে
জড়িত ছিলাম
ঘনিষ্ঠভাবে। আমি নিজেও
তখন আন্দোলন
পরিচালনাকারীদের
একজন ছিলাম। দল মত
নির্বিশেষে
আমরা সবাই
ছিলাম। এমন
কি একজন
সরকারি
কর্মকর্তা,তার নাম
আবদুর রেজা,ওয়াপদার
ইঞ্জিনিয়ার
ছিলেন,তিনিও
আমাদের সঙ্গে
সক্রিয়ভাবে
কাজ করেন। সে সময়
ঘনিষ্ঠভাবে
মুক্তি
সংগ্রামের
কাজের সঙ্গে
যাঁরা যুক্ত
ছিলেন- তাঁরা
হলেন- জনাব ফজলুল
করিম এম.পি.,এ. রশীদ
মোক্তার,জেনারেল
সেক্রেটারি
ঠাকুরগাঁও
আওয়ামী লীগ,এ. রউফ
সহ সভাপতি
আওয়ামী লীগ,কামরুল
ইসলাম কামু,মস্কোপন্থী
কমিউনিস্ট
পার্টি,এ্যাডভোকেট
মোহাম্মদ
হোসেন,ন্যাপ (ওয়ালী
খান),মীর্জা
রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী
লীগ,আজগর
হোসেন,আওয়ামী লীগ,ডা:
ফরিদ,আওয়ামী
লীগ,আকবর
হোসেন,আওয়ামী লীগ,বলরাম
গুহঠাকুরতা,ন্যাপ
(ওয়ালী খান),মীর্জা
ফখরুল ইসলাম
আলমগীর,অধ্যাপক,তিনি
ভাসানী ন্যাপ
রাজনীতির সঙ্গে
যুক্ত ছিলেন,অ্যাডভোকেট
নুরুল হক,ন্যাপ
(ওয়ালী খান)
এবং
বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান-এর
পরিবারের
সঙ্গে
ঘনিষ্ঠভাবে
যুক্ত সৎ ও
নিবেদিত
প্রাণ আওয়ামী
লীগ নেতা আবুল
হাসনাত ভোলা।
প্র:
ট্রেনিংয়ে কি
কি অস্ত্রের
ব্যবহার
শেখানো
হয়েছিলো এবং এ
সময় আর কি ঘটনা
ঘটে ?
উ: তখন
শুধু পয়েন্ট
টু-টু রাইফেল
এবং বন্দুক
দিয়ে ট্রেনিং
দেয়া হয়েছিলো। কিছু ডামি
রাইফেলও ছিলো। এই
ট্রেনিংটা
ঠাকুরগাঁও
স্কুলের মাঠে
দেয়া হয়েছিলো। এটাকে
লোকে টাউন
ক্লাব মাঠও
বলে। এই
ট্রেনিংয়ের
পাশাপাশি
ঠাকুরগাঁওয়ে
জনসভা এবং
মিছিলও
নিয়মিত
হচ্ছিলো। এই সময়টায় আন্দোলন-সংগ্রাম
পরিচালনার
জন্য একটা
অ্যাকশন
কমিটিও গঠন
করা হয়েছিলো। এই
অ্যাকশন
কমিটি তিন
ভাগে বিভক্ত
ছিলো। যদি
কোনো কারণে
প্রথম গ্রুপ
ক্র্যাশড হয়ে
যায় তবে
দ্বিতীয়
গ্রুপ এর
নেতৃত্ব নেবে। যদি
দ্বিতীয়
গ্রুপ
ক্র্যাশড হয়ে
যায় তবে তৃতীয়
গ্রুপ এর
নেতৃত্ব নেবে। আর তৃতীয়
গ্রুপ
ক্র্যাশড হয়ে
গেলে যা পারো
তাই করো ব্যবস্হা ছিলো। এই
অ্যাকশন
কমিটির
বিভিন্ন
গ্রুপে আমরা
সব দল মতের
লোকই ছিলাম। আওয়ামী
লীগ,ন্যাপ,কমিউনিস্ট
পার্টির
লোকজনসহ আমি
নিজেও ছিলাম।
প্র:
অ্যাকশন
কমিটির প্রথম
গ্রুপে কারা
কারা ছিলেন ?
উ: আমার
যতদূর মনে পড়ে আওয়ামী
লীগ থেকে এম.
পি. ফজলুল
করিম,আবদুর
রশীদ মোক্তার,অ্যাডভোকেট
আবদুর রউফ
প্রমুখ। ন্যাপ ওয়ালী
থেকে
এ্যাডভোকেট
মোহাম্মদ হোসেন
এবং
এ্যাডভোকেট
বলরাম
গুহঠাকুরতা। কমিউনিস্ট
পার্টি থেকে
কামরুল হাসান
কামু এবং
আওয়ামী লীগের
নিবেদিত
প্রাণ নেতা
আবুল হাসনাত
ভোলাও ছিলেন। এ ছাড়া
ইঞ্জিনিয়ার
আহমদ রেজা এবং
আমি ছিলাম। আমরা এ কজনই ছিলাম
প্রথম গ্রুপে। দ্বিতীয়
গ্রুপে এবং
তৃতীয় গ্রুপে
কারা কারা ছিলেন
সেটা এখন আর
আমার মনে নাই।
প্র:
অ্যাকশন
গ্রুপের
কার্যক্রম সম্পর্কে
কিছু বলবেন কি
?
উ:
অ্যাকশন
গ্রুপ
প্রকাশ্যে
কোনো সভা
করেনি। তবে
আমরা নিয়মিত
সকাল বিকাল
বৈঠকে বসতাম। ঠাকুরগাঁও
চৌরাস্তার পাশেই
সংগ্রাম
কমিটির অফিস
ছিলো। এখন
যেটা আওয়ামী
লীগ অফিস,সেখানে
আমরা নিয়মিত
বসতাম। মিটিং
মিছিলের
আয়োজন করা হতো। অ্যাকশন
কমিটির সভা
গোপনে হতো। কোনো দিন
আমার বাসায়,কোনো
দিন সংগ্রাম
কমিটির অফিসে,কোনো
দিন ফজলুল
করিম এম. পি.
সাহেবের
বাসায়। আবার
কোনো দিন
খাদেমুল
ইসলাম
সাহেবের
বাসায় হতো। অ্যাকশন
কমিটির যে
তিনটি কমিটি
করা হয়েছিলো- সেসব
খাদেমুল
ইসলাম
সাহেবের
বাসাতে মিটিং
করেই করা
হয়েছিলো। খাদেমুল
ইসলাম সাহেব
মারা গেছেন। তিনি একজন
ভালো আওয়ামী
লীগ নেতা
ছিলেন। এম.
পি. হয়েছেন
কয়েকবার। মানুষ
হিসাবেও বেশ
ভালো ছিলেন।
প্র:
১৯৭১ সালের ২৫
মার্চ পাকিস্তানি
সেনাবাহিনীর
আক্রমণ সম্পর্কে
আপনি কি
শুনেছিলেন ?
উ: তখন
আমার মনে
হয়েছে দেশ
এবার স্বাধীন
হবেই। ২৫
মার্চের আগেই
সৈয়দপুরের
বিহারিরা
পাকিস্তান
আর্মির
সহায়তায়
বাঙালিদের উপর
আক্রমণ করে। ২৫
মার্চের আগেই
আমি ও বর্তমান
পৌরসভা চেয়ারম্যান
আকবর হোসেন
একবার
সৈয়দপুরে
গিয়েছিলাম। তখনো এরকম
একটা ঘটনা
প্রত্যক্ষ
করলাম। যাহোক,২৫
মার্চের
রাতের ঘটনা
আমরা পর দিনই
রেডিও মারফত
শুনতে পাই। এ ছাড়া এখানে
ইস্ট পাকিস্তান
রাইফেলস-এর
একটা উইং ছিলো। সেই উইং
হেড
কোয়ার্টারেও
ওয়্যারলেসের
মাধ্যমে
ইপিআর হেড
কোয়ার্টার
থেকে ঢাকার
খবর এসেছিলো। তাদের কাছ
থেকেও আমরা
ঢাকাতে পাকিস্তান
আর্মির
আক্রমণের খবর
পাই।
২৫ মার্চে
ক্র্যাকডাউনের
পর ২৬ তারিখেই
ঠাকুরগাঁওয়ে
প্রচন্ড
বিক্ষোভ হয়। হাজার
হাজার মানুষ
রাস্তায় নেমে
আসে। সম্ভবত:
২৭ মার্চ
তারিখের দিকে
এখানে ইপিআর-রা
রিভোল্ট করে। ঠাকুরগাঁও
ইপিআর ক্যাম্পের
পশ্চিম পাকিস্তানি
ইপিআর-রা নাকি
কাজিমউদ্দীনকে
অ্যারেস্ট করতে
চেয়েছিলো। সুবেদার
কাজিমউদ্দীন
আগে থেকেই
বাঙালি ইপিআর
সৈনিকদের বলে
রেখেছিলো যে,যদি এ
রকম কোনো ঘটনা
ঘটার উপক্রম
হয়- তা হলে
তিনি সিগনাল
দেবেন এবং তখন
যেন বাঙালি
ইপিআর সবাই
রিভোল্ট করে।
ঠাকুরগাঁও
ইপিআর উইং-এ
সিনিয়র
সুবেদার ছিলেন
কাজিমউদ্দীন। তাঁর সাথে
আমার যোগাযোগ
ছিলো। তিনিও
আমার সাথে
যোগাযোগ
রাখতেন। তাঁর সঙ্গে
২৫ মার্চের
আগে যখনই দেখা
বা যোগাযোগ
হয়েছে,তখনই তিনি বলতেন,আপনারা
এমন কিছু
করবেন না যাতে
পাকিস্তানিরা
পাল্টা ব্যবস্হা গ্রহণ
করে। কিন্তু
বাঙালির এ
সংগ্রামের
প্রতি তাঁর
সমর্থন ছিলো। ২৫
মার্চের আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে
বেশ কয়েকটা বড়
সভা-সমাবেশ
এবং মিছিল
হয়েছিলো। আমাদের
মিছিল করতে
ইপিআর-রা সে
সময় বাধা দিতো। আমার ঠিক
তারিখটা মনে
নাই,সে
দিনও ইপিআর
বাহিনী মিছিল
করতে বাধা
দিয়েছিলো এবং
শেষ পর্যন্ত
সেই
মিছিলে তারা
গুলি
চালিয়েছিলো। সেদিন
গুলিতে ২ জন
নিহত হয়েছিলো। এটা ২৫
মার্চের আগের
ঘটনা হতে পারে।
২৭ মার্চ সম্ভবত: রাত দশটা কি সাড়ে দশটা হবে,আমি বাসাতেই ছিলাম। আরও কয়েকজন আমার বাসাতে ছিলো। এম. পি. ফজলুল করিম-এর স্ত্রী ও সেদিন আমার বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। আমরা আলোচনা করছিলাম যে,দেশের এই পরিস্হিতিতে এখন কি করা যায়। ঠাকুরগাঁও শহরের রাস্তাঘাটের বিভিন্ন স্হানে আমরা ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিলাম। এমন সময় ইপিআর রিভোল্ট করলো। এই খবর জেনে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাদের সাপোর্ট দিলাম। ইপিআর-রা রিভোল্ট করে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এলো। ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসে তারা ওয়াপদা অফিসের কাছে ক্যাম্প করলো। এটা ইপিআর ক্যাম্পের পাশেই। সেখানে ওয়াপদার একটা ওয়ার্কশপ ছিলো। সেই ওয়ার্কশপেই তারা ক্যাম্প করে। যে রাতে তারা রিভোল্ট করে সেই রাতেই আড়াইটা-তিনটার দিকে ইপিআর-এর কয়েকজন সদস্য আমার বাসায় আসে। সুবেদার কাজিমউদ্দীন,সুবেদার মতি এবং আরও কয়েকজন এসে আমার বড় ভাই এস. আর. মীর্জার কথা জিজ্ঞাসা করলো। আমি বললাম,তিনি তো এখানে নেই। তখন ওরা আমাকে বললো,আপনি এখানকার কমান্ড নেন। তখন আমি কাজিমউদ্দীনকে বললাম,দেখেন কাজিমউদ্দীন সাহেব,আপনি আমাকে চেনেন,কিন্তু