নাম
:
মিজানুর
রহমান
পিতা
:
মৃত
তমিজউদ্দীন
গ্রাম
:
নতুন বাজার
(পার্বতীপুর), ইউনিয়ন
/ পৌরসভা :
পার্বতীপুর,
ডাক
:
নতুন বাজার, থানা :
পার্বতীপুর, জেলা :
দিনাজপুর
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : এস. এস. সি.
১৯৭১
সালে বয়স : ১৮
১৯৭১
সালে পেশা : ছাত্র
বর্তমান
পেশা : ক্ষুদ্র ব্যবসা
প্র:
১৯৭০ সালের
নির্বাচন এবং
তার পরবর্তী
ঘটনা প্রবাহ
সম্পর্কে
আপনি কি জানেন
?
উ:
নির্বাচনের
আগে থেকেই
দেশে আন্দোলন
চলতেছিলো। তারপর পাকিস্তানি
শাসকরা
নির্বাচন
দিলো। নির্বাচনের
আগে
বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর
রহমান একবার
পার্বতীপুর
আসছিলেন। আমরা হাজার
হাজার জনতা
তার ভাষণটা
শুনছিলাম। তারপর
ইলেকশন হলো। ইলেকশনে
আওয়ামী লীগ
জয়ী হলো। কিন্তু তারা
বঙ্গবন্ধুকে
ক্ষমতা দিলো
না। ১৯৭১
সালের
নির্বাচনের
পর ৭ মার্চে
তিনি ঢাকায়
ভাষণ দিলেন। তাঁর
ভাষণের পর
দেশের মধ্যে
আবার পুরোদমে
আন্দোলন শুরু
হইয়া গেলো। সেই আন্দোলন
চলার সময়
এখানে একদিন
কালো পতাকা
তোলা নিয়া
বিহারীদের
সঙ্গে আমাদের
গন্ডগোল হইলো। সঠিক
তারিখটা আমার
মনে নাই। সমঙর্ণ
পার্বতীপুরেই
কালো পতাকা
উঠানো হয়। কিন্তু
বিহারীরা
তাদের দোকানে
কালো পতাকা
উঠালো না। আমরা কয়েকজন
ছাত্র কালো
পতাকা তোলা
হইছে কিনা
সেটা দেখতে
বাইর হইছিলাম। বিহারীরা
কালো পতাকা
তোলে নাই দেখে
আমরা স্কুলে
ফিরে আসলাম। স্কুলে
আসি স্যারকে
বললাম যে, স্যার, কয়েক
জায়গায় কালো
পতাকা তোলা হয়
নাই। স্যারকে
এই কথা বলেই
আমি স্কুলের
বেল বাজালাম। বেলের
শব্দ শুনে সব
ছাত্ররা বের
হয়ে আসলো। তারপর আমরা
আবারো
ছাত্ররা
মিছিল করে পার্বতীপুর
টাউনে ঘুরলাম। এই মিছিল
নিয়া ঘোরার
সময় আমরা সবাই
দেখলাম সকলে
কালো পতাকা
তুলছে কিন্তু
কয়েকটা
বিহারী তাদের
দোকানে তোলে
নাই। বিহারী
বাচ্চু খানের
কাছে আমরা
ছাত্ররা মিছিল
নিয়া গেলাম। সেখানে
যাওয়ার পর
গন্ডগোল
বেঁধে গেলো। বিহারীরা
আমাদের
কয়েকটা
ছেলেকে চাকু
মারলো। তখন
জানের ভয়ে
ছাত্ররা এদিক
ওদিক
দৌড়াদৌড়ি করি
চলে যায়। ছাত্রদের
কেউ কেউ আবার
পার্বতীপুর
কলেজে যাইয়া
ওখানকার
ছাত্রদের
ঘটনাটা বলছে। ঘটনা শুনে
তখন কলেজের সব
ছাত্র বাহির
হয়ে আসছে। কিন্তু বড়
গন্ডগোল সে
দিন আর হয় নাই। বাঙালি
বিহারী
আলোচনা করি
গন্ডগোল থামাইয়া
ফেললো।
তারপর
আবার একদিন
বিহারী
বাঙালি
দাঙ্গা শুরু
হলো। রাতে
সেকেন্ড শো
চলার সময় হঠাৎ
সিনেমা হলে
দাঙ্গা শুরু
হইলো। ঘটনাটা
ঘটে
পার্বতীপুর
সিনেমা হলে। সিনেমা
হলটার নাম
ছিলো অমর টকি। তখন
বিহারীরাও
বাঙালিকে
মারে, বাঙালিও
বিহারীকে
মারে। বিহারীদের
সাথে মারামারিতে
না পারি
বাঙালিরা
রাতারাতি
পার্বতীপুর
থাকি জান নিয়া
পালায় গেলো। আমাদের
বাসা থেকে
সবাই পলায়ে
গেলো। আমাদের
বাড়ি দেখার
জন্য শুধু আমি
একাই লুকাই ছিলাম। পরদিন
সকালে
নামাপাড়ার ওই
দিক থেকে
বাঙালিরা
আবার
পার্বতীপুর
ঘেরাও করার
কিছুক্ষণ পর দেখা
গেলো যে প্রায়
১১টা ট্রাক
আসলো আপনার
সৈয়দপুর থাকি। ট্রাকে সব
সৈন্য ছিলো। আগে
আমাদের এখানে
বেঙ্গল
রেজিমেন্ট
কয়েকবার
আসছিলো। ওরা থাকার
সময় বাঙালিরা
একটু জোর
পাইছিলো। খান সেনা
বোঝাই
গাড়িগুলো
আসছে পর লোকজন
ছত্রভঙ্গ হয়ে
গেলো। ট্রাকের
সৈন্যগুলার
কিছু লাইন পার
হয়ে এদিকে
আসলো, অর্থাৎ
পূর্ব সাইড
দিয়া আর
কতকগুলা
পশ্চিম সাইড
দিয়া। কোনো
কথা নাই। ওরা সরাসরি
আসি ঐ সমস্ত
লোকদের ঘেরাও
দিয়া গুলি
চালাইলো। কয়েকটা
বেঙ্গল
রেজিমেন্ট
তখনও
পার্বতীপুর আছিলো। তারাও তখন
নামাপাড়ার
ওখানেই আছিলো।
প্র:
বাঙালিরা কি
নিরস্ত্র ছিলো ?
উ: না। বেশিরভাগ মানুষের
হাতে
লাঠিসোটা
ছিলো। কারও
কারও হাতে
বন্দুক ছিলো। দু’নলা বন্দুক, একনলা
বন্দুক। খানেদের
গুলির পর সবাই
জান ধরি পালায়
গেলো। খানেরা
পার্বতীপুরে
সেল্টার গাড়ি
বসলো। মার্চ
মাস তখন শেষ
হইয়া গেছে, যুদ্ধও
শুরু হইছে। যাহোক, আমরা এখান
থেকে সরে
গেলাম বেশ দরে। জায়গাটার
নাম হাবড়া। হাবড়াতে তখন
কতকগুলা
আনসার, বেঙ্গল
রেজিমেন্ট, ইপিআর, মুজাহিদ
আইছিলো। তারা ওখানে
একটা ক্যাম্প
তৈরি করলো। ক্যাম্প
তৈরি করে তারা
ওখানে
ডিফেন্সে
থাকলো। এপ্রিল
মাসের কোনো
একদিন, তারিখটা
আমার মনে নাই, সৈয়দপুর-পার্বতীপুর
থাকি খান
সেনারা ফুলবাড়ির
দিকে
যাচ্ছিলো। তাদের সঙ্গে
অনেক গাড়ি, কামান-রাইফেল। হাবড়ার
ওখানে একটা
বাগান ছিলো। সেই
বাগানেই কিন্তু
বেঙ্গল
রেজিমেন্ট, ইপিআর
আর মুজাহিদরা
বাংকার
করছিলো। হাবড়ার ওখান
থাকি কমপক্ষে
আড়াই মাইল দরে
চান্দাপাড়ার
দুইটা লোক ঐ
রোডের উপর
দিয়া যাচ্ছিলো। তখনই
খানেরা আসতেছিলো। খানেরা
লোক দু’টাকে আটক করি
বলছে যে, বেঙ্গল
রেজিমেন্ট
কাহা হ্যায়। তখন ঐ লোক
দু’টা নাকি
বলছে যে, ঐ বাগানে ওরা
আছে। যে সময়
খানেরা আসছে ঐ
টাইমে বেঙ্গল
রেজিমেন্ট, ইপিআর
কেউ আর রেডি
পজিশনে ছিলো
না। কয়েকজন
খালি বাংকারে
ছিলো। খান
সেনা আসছে- এ
সংবাদ পাইয়া তারা
প্রস্তুত হয়ে
যায়। খানেরা
ঐ লোক দু’টার কাছ থেকে
খবরটা নেওয়ার
পর সঙ্গে
সঙ্গে তাদের
গুলি করে মারি
দিলো। মারার
পর তারা
ফুলবাড়ির
দিকে রওয়ানা
করছে। হাবড়ায়
আমাদের
বেঙ্গল
রেজিমেন্ট, ইপিআর
আর মুজাহিদ
যারা ছিলো
তারা খান
সেনাদের বাধা
দিলো। বাধা
পাইয়া খানেরা কিন্তু
আর
অ্যাডভান্স
করতে পারে নাই। কমপক্ষে
আড়াই থেকে তিন
ঘন্টা যুদ্ধ
হয় এখানে। যুদ্ধ করতে
করতে আমাদের
বাঙালি
রেজিমেন্ট-ইপিআর-মুজাহিদরা
কেউ পিছে হটে
যায়, কেউ
বাংকারে আটকা
পড়ে। যারা
বাংকারে আটকা
পড়ছিলো
তাদেরকে খান
সেনারা
বেয়নেট চার্জ
করি ওখানেই
মারি দিলো। খানেরা
আমাদের সাত
জনকে মারি
ফেলছিলো। ৭টা লোক ছিলো
বাংকারে। বাঙালি
রেজিমেন্ট, ইপিআর, মুজাহিদ
আর যারা ছিলো
সব ছত্রভঙ্গ
হইয়া গেলো। তারা আর
টিকতে পারে
নাই। খানেরা
যাকেই দেখে
তাকেই পাখির
মতো গুলি করে মারি
দেয়। তখন
দেখলাম যে, আর
এখানে থাকা
যাবে না।
প্র:
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি
সৈন্যদের
হাতে আপানি
আক্রান্ত
হয়েছিলেন কি ?
উ: হ্যাঁ, যুদ্ধের
সময় হইছিলাম। আমি
মুক্তিযোদ্ধার
ট্রেনিং
নেওয়ার পর
আমাদের
অপারেশনে
পাঠালো
পার্বতীপুরেই। আমরা এক
জায়গায়
অপারেশন করতে
আসলাম। আমরা
মোট ১৫ জন
ছিলাম। ইন্ডিয়া
থাকি আমরা
পার্বতীপুর
আসি। কিন্তু
রাজাকার, আল-বদরদের
জ্বালায়
এখানে টিকা
খুব কঠিন ছিলো। এই এলাকায়
আজিজ মিয়া এবং
মতি মিয়া নামে
দু’জন খুব
বড় ধনী লোক
ছিলো। আমরা
খুব ভোরে
পাতারে অর্থাৎ
দুই গ্রামের
মধ্যবর্তী বিস্তৃত যে
জায়গা সেখানে
ছিলাম। পাতারের
জমিতে ধান
ছিলো বেশ। খুব ভোরে
শুনি যে, ১০ নম্বর হরিরামপুর
ইউনিয়নের ঐ
দিকে আজিজ
মিয়া আর মতি
মিয়াকে
খানেরা মারছে। তাদের
হাতিকেও গুলি
করে মারি দিছে। তখন আমরা
এই সংবাদ
পাইয়া ভোর
৫টার দিকেই
রওয়ানা হলাম। তখন
ভবানীপুরে
খানদের একটা ক্যাম্প
ছিলো। সেখানে
খান সেনা ছিলো
এবং রাজাকারও
ছিলো অনেক। ঐ এলাকায়
ওদের
অত্যাচারে যাওয়া
যায় না। তারপরও
আমরা ঐ এলাকায়
গেলাম। আমাদের
সবারই সঙ্গে
হাতিয়ার আছে। ফুলবাড়ি-পার্বতীপুর
রেল লাইনের যে
লাইনটা আছে
সেখানে
শেরপুর নামে
এক জায়গায়
একটা গুমটি ঘর
আছে। সেখানে
আমরা ডিফেন্স
নিলাম। কিছু
খান সেনা আর
রাজাকার রাস্তা দিয়া
যাচ্ছিলো আর
কিছু খান সেনা
রেল লাইন দিয়া
আসতেছিলো। কিন্তু
প্রথম তাদের
আমরা চিনতে
পারি নাই। ওদেরকে
দেখিয়া আমরা
মনে করলাম যে, লোকগুলা
বোধহয়
আমাদেরই হইবে। মনে করলাম
আজকে আমাদের ঐ
মুক্তিযোদ্ধারা
আর আমরা
মিলিয়া
খানদের ক্যাম্পটা
উড়াই দিতে
পারবো। তারা
যখন আরো
কাছাকাছি
হইছে তখনও
তাদের আমরা ঠিক
চিনতে পারি
নাই। তখন
আমাদের একটা
সিগনাল ছিলো
যে,
যদি
একটা গ্রেনেড
আমরা বার্স্ট
করি তা হলে আমার
অন্য
মুক্তিযোদ্ধা
মনে করবে যে, এটা
আমাদেরই দল বা
আমাদেরই দলের
লোক। তা হলে
তাদের বা
আমাদের
সন্দেহ দর
হবে। ওদেরকে
দেখার সাথে
সাথে আমরা
একটা গ্রেনেড
বার্স্ট করলাম। ওরাও একটা
গ্রেনেড
বার্স্ট করছে। তখন আমরা
মনে করছি যে, লোকগুলা
নিশ্চয়ই
আমাদেরই কিন্তু
অন্য কোনো
দলের হবে। তারপর আমরা
তাদের
কাছাকাছি
যাইতে ধরলাম। একদম কাছে
যাইয়া দেখছি
যে,
সর্বনাশ, এরা খান
সেনা। তখন
আমরা ফায়ারিং
করতে ধরলাম
ওদের ওপর। তখন খানরা
বলতেছে, এই শালে কিছ
লিয়ে ফায়ারিং
কর রাহে। আমি
পার্বতীপুর
টাউনেরই ছেলে। বিহারীদের
কাছ থেকে কিছু
উর্দু
শিখছিলাম। আমিও উর্দু
কথা বলতে পারি। তখন আমি
বললাম যে, ওস্তাদ হাম
লোক রাজাকার
হে। খানরা
বলে, আরে
শালে তুম লোক
কেয়া ফায়ারিং
কররাহে। আমি বলি, আপকো হাম
কভারিং কর
রাহাহে। বেশ চিৎকার
করেই আমাদের এ
সব কথা হচ্ছে। তারা
আমাদের ৪০০শ’ গজের
মধ্যে চলে
আসছে। আমরা
তখন কিন্তু
বেশ ফায়ারিং
করতেছি। খান সেনারাও
বুঝতে পারছে
আমরা রাজাকার
না। তখন ওরা
পজিশনে গেলো। রেল
লাইনের সাইডে
আমরাও পজিশনে
গেলাম। তখন
উভয় পক্ষে
তুমুল
ফায়ারিং শুরু
হইয়া গেলো। সারাটা দিন
যুদ্ধ চললো। কে যেনো
আমাদের ডিম
দিলো। আমরা
বলতে পারি না। ঐ ডিম
খাইয়া
সারাদিন
থাকলাম। ঐ যুদ্ধে
আমরা ১৭টা
বিহারী
রাজাকারকে
আটক করছিলাম। তাদের
কাছে
হাতিয়ারও
ছিলো। খানদের
আমরা জিন্দা
ধরবো- এমন পণ
আমাদের ছিলো। আমাদেরকে
ইন্ডিয়া থাকি
একবার বলছিলো
যে,
তোমরা
কি জিন্দা
খানকে আনতে
পারবা। আমরা
বলছিলাম, পারবো। এ দিকে যুদ্ধ
চলছে, আমাদের
সামনে দেখি এক
খান। তখন
আমার সঙ্গে
কালাম, ওবায়দুলসহ
৪/৫ জন ছিলো। সবাই বললো
আজকে একেই
নিয়া যাবো। ওকে আর মারার
কোনো নিয়ত
আমাদের হলো না। কালামের
সঙ্গে ছিলো এল
এম জি আর আমার
কাছে এস এল আর। খানটাকে
ধরার জন্য যেই
ঘেরাও দিতে
গেলাম তখন খানটা
ধান খেতের
মধ্যে দৌঁড়
দিলো। ওর
পিছনে আমি। দৌঁড়াতে
দৌঁড়াতে আমিও
একদম ওদের ক্যাম্পের
কাছে চলে গেছি। তখনই অন্য
মুক্তিযোদ্ধারা
আমাকে পিছন
থাকি বলছে যে, তুমি
তাদের
রেঞ্জের ভিতর
ঢুকি যাচ্ছো। আমার কিন্তু
ঐটা স্মরণে
ছিলো না। ওটা স্মরণ
হতেই ওর পিছনে
দৌড়ানো বন্ধ
করলাম। তখন
আর ওকে ধরতে
পারি নাই। কেবল ১৭টা
বিহারী
রাজাকার আমরা
ধরতে পারলাম। ঐ টাইমে
আমার আপন
চাচাকে
বিহারীরা
হত্যা করছিলো। আমার এক
বইন আর একটা
ভাইও নিহত
হইছিলো। আমার চাচাকে
ওরা জবো করে
মারছে। আমরা
মাটি দিতে
পারি নাই। আমাদের বাড়ি
পার্বতীপুর
টাউনেই ছিলো। আমাদের
মুক্তিযোদ্ধারা
আমাকে ১৭ জন
রাজাকারকে
দেখাইয়া বলছে
যে,
আজকে
এদের জন্য
তুমি
পার্বতীপুর
ছাড়ছো। তোমার
চাচাকে তুমি
মাটি দিতে
পারো নাই। তাদের কথা
শুনে হঠাৎ আমি
উত্তেজিত হয়ে
পড়ি। ভাবলাম
সত্যিই তো
এদের জন্য আজকে
আমরা বাড়ি
ছাড়লাম, চাচা মারা
গেলো। ভাই
বইন মারা গেলো। এখনও ঠিক
নাই দেশে ফিরে
যেতে পারবো কি
পারবো না। আমি তো
কোনোদিন
মানুষ সরাসরি
মারি নাই। আর বিহারী
রাজাকারও মনে
করে নাই যে
তারা মরবে। চাচা আর ভাই
বইনদের কথা
আমার মনে হওয়া
মাত্র ওদের ফল
ইন করে আমি
ব্রাশ মারছিলাম। ব্রাশের
সাথে সাথে
১৭টা একদম পড়ি
গেলো ভবানীপুরের
শেরপুর রেল
গুমটিতে। রাজাকাররা
মাটিত পড়ার পর
আমার আর যারা
সহযোগী
মুক্তিযোদ্ধা
ছিলো তারাও
ফায়ার করলো।
প্র:
আপনি কোথায়
কোথায় যুদ্ধ
করলেন ?
উ: আমি
যুদ্ধ করেছি
ভবানীপুর, পার্বতীপুর।
প্র:
আপনার এলাকায়
পাকিস্তানিরা
কখন আক্রমণ
করলো ?
উ:
তারিখটা আমার
মনে নাই। তারা
সৈয়দপুর থেকে
১১টা ট্রাকে
করে পার্বতীপুর
আসে। তারা
প্রথম কলেজের
ওখানে নামলো। নামার পরে
কোনো কথা নাই
তারা
দলবদ্ধভাবে
বাঙালি যারা
ছিলো তাদের
উপর গুলি শুরু
করে দিলো। তাদের
গুলিতে বহু
লোক
পার্বতীপুরে
মারা গেলো। তখন
পার্বতীপুর
টাউনের
বাঙালি যারা
ভাগতে পারছে
তারা ভাগছে আর
যারা ভাগতে
পারে নাই তারা
তো মারা গেছে।
প্র:
আর কি করছে ?
উ: নারী
নির্যাতন
করছে। নির্যাতনের
পর তাদের
হত্যা করছে। হত্যা
করার আগে আবার
মেয়েছেলেদের স্তন কাটছে। বাড়িঘরে
আগুন দিছে, লুট পাট
করছে বহুত।
প্র:
মুক্তিযুদ্ধের
সময় আপনার
পরিবারে কেউ শহীদ
হয়েছে কি ?
উ: হ্যাঁ, যাদের কথা আগে বললাম। আমার পরিবারে শহীদ হয়েছে আমার আপন চাচা। তার নাম আবদুস সালাম