নাম : মোহাম্মদ কায়কোবাদ

পিতা : মৃত সাজ্জাদ হোসেন মিয়া

গ্রাম : পই, ডাক : ফুলতলা

থানা : ফুলতলা, জেলা : খুলনা

শিক্ষাগত যোগ্যতা : এম. এ.

১৯৭১ সালে বয়স : ৩৬

১৯৭১ সালে পেশা : অধ্যাপনা

বর্তমান পেশা : অবসর জীবন

 

 

প্র: ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং তার পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে আপনি কি জানেন ?

 

উ: এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে আমার নিজের সম্পর্কে কিছু কথা বলতে হয়১৯৭০ সালে আমি খুলনা বি. এল. কলেজে বাংলা বিভাগের লেকচারার ছিলামচাকরি সূত্রে তখন আমি খুলনাতেই অবস্হান করছিলামআমার গ্রামের বাড়ি বর্তমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানার দুর্গাপুর গ্রামেএখন আমি স্হায়ীভাবে খুলনাতেই বসবাস করছি

 

   ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় আমি আই. এ. ক্লাসের ছাত্র ছিলামসেই সময় ছাত্র ইউনিয়নের প্রতি আমার কিছুটা অনুরাগ ছিলোকিন্তু প্রত্যক্ষভাবে ছাত্র রাজনীতি তখন আমি করিনিমাঝে মধ্যে মিটিং মিছিলে যোগ দিতামকিন্তু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় আমি স্বতস্ফূর্তভাবে মিটিং মিছিলে যোগ দিয়েছিতখন থেকেই আমি নিজেকে পাকিস্তানি ভাবতাম নাএই ভাবনা নিয়ে পরে অনেকের সঙ্গে আমার তর্ক বিতর্ক পর্যন্ত হয়েছেআমি সব সময় বলতাম যে, আমি আগে বাঙালি, তারপরে মুসলমানসচেতনভাবেই এই কথাটা তখন আমি বলতাম

 

   আমি ছাত্র জীবনে এবং ছাত্র জীবন শেষে অনেক গ্রামে ঘুরেছিতখন দেখেছি মানুষ রাজনীতিটা  তেমন না বুঝলেও প্রাত্যহিক জীবনে বাঙালির সংস্কৃতিটা তারা পালন করতোসাধারণ মানুষ আরবি মাসের কথা বলতো না, বলতো বাংলা মাসের কথাতারা বাংলা পঞ্জিকা অনুসরণ করতোবাংলা মাস অনুযায়ীই তারা সমস্ত হিসাব-নিকাশ করতোফলে, সাধারণ মানুষের মনে বাংলা, বাঙালি, পালা-পার্বন, নবান্ন, হালখাতা বা নববর্ষ পালন ইত্যাদি বিষয়গুলি গভীরভাবেই স্হান করে নিয়েছিলোবাঙালিত্ব ছিলো তাদের হৃদয় জুড়ে, সে হিন্দুই হোক আর মুসলমানই হোক

 

   ১৯৭০ সালের নির্বাচনে কিন্তু বাঙালি, বাঙালিত্ব সামনে এসেছেএই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়কিন্তু তখনকার পাকিস্তানি শাসকরা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা দেয় নাইপাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেছিলেনকিন্তু ১ মার্চে এক বেতার ভাষণে তিনি সেই অধিবেশন স্হগিত ঘোষণা করলেনআমরা তখন বুঝতে পারলাম যে, পাকিস্তানিরা সহজে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা দেবে নাদেশ এক প্রচন্ড সংঘর্ষের দিকে এগুবে বলেও মনে হলো৭ মার্চ থেকে দেশে বেশ জোরেশোরে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়তখন আমরা মনে করেছিলাম যে, অসহযোগ আন্দোলনের ফলে পাকিস্তানি শাসকরা জনগণের রায় মেনে নেবেএখন আমার স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, একটা রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংঘর্ষের দিকে-তখন যে আমরা এগোচ্ছি-সে সম্পর্কে আমাদের কারো কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিলো নান্তত: ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধারণা ছিলো নাআমাদের সবার মধ্যে শুধু সন্দেহ হয়েছিলো যে, বাঙালির দাবি পাকিস্তানিরা সহজে মানবে নাকিন্তু এর প্রতিকার কিভাবে হবে সেটা আমরা অনুমান করতে পারিনিশুধু আমি কেন আমার চারদিকে যারা ছিলো তারাও আমার মতো অবস্হায় ছিলোযুদ্ধ যে আসন্ন এই ব্যাপারটা আমাদের কোনো ধারণার মধ্যেই ছিলো নাযদিও পাকিস্তানিদের প্রতিরোধ করার জন্য মার্চের মাঝামাঝি থেকে দেশের বিভিন্নস্হানে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করা হয়খুলনাতেও গঠিত হয়েছিলোকিন্তু তাদের কর্মকান্ড ছিলো ঐ লেফ্‌ট রাইট করা পর্যন্তইতাদের অস্ত্র ছিলো বাঁশের লাঠি বা কাঠের লাঠিতখন লোকে জানতো না চাইনিজ রাইফেল কি, মর্টার কি বা ট্যাঙ্ক কি জিনিসতখন বাঙালি সিভিলিয়ানদের কাছে অস্ত্র কোথায় ? অস্ত্র ব্যক্তিগতভাবে কারো কারো কাছে হয়তো ছিলোসেগুলো তো একনলা বা দুনলা বন্দুকআর কিছু টু টু বোরের রাইফেলএ ছাড়া তো আর কিছু বাঙালির হাতে ছিলো নাএই অবস্হাতেই তো পাকিস্তানিরা হঠাৎ করে আমাদের আক্রমণ করলো

 

প্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বক্তৃতা  আপনি শুনেছিলেন কি--শুনলে কি শুনেছিলেন ?

 

উ: বক্তৃতা তো ৭ মার্চে আমরা শুনতে পাইনিআমরা সেদিন রেডিওর সামনেই বসে ছিলামসময় হয়ে গেলো অথচ বক্তৃতা প্রচার করা হলো নানির্ধারিত সময়ে রেডিওতে আমরা তাঁর ভাষণ শুনতে পেলাম নাফলে, আমাদের মধ্যে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা ভীষণভাবেই ছিলোপর দিন জানতে পারলাম যে, ভাষণটা সেদিন প্রচার করতে দেওয়া হয়নিযাহোক, পরের দিনই আমরা সেই ভাষণ রেডিওতে শুনেছিতখন ঘরে ঘরে রেডিও ছিলো নাযাদের কাছে রেডিও ছিলো সেই রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্যে শয়ে শয়ে লোক রেডিও সেটের সামনে সমবেত হয়েছিলোতাঁর বক্তৃতা আমাদের রোমাঞ্চিত করেছিলোতিনি তাঁর ভাষণে যার কাছে যা আছে তাই নিয়ে শত্রুকে প্রতিরোধ করার কথা বলেছিলেনতিনি স্বাধীনতার কথা বলে ছিলেন, মুক্তির কথা বলেছিলেনতাঁর ভাষণের পর থেকেই সারা দেশে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়

 

প্র: পাকিস্তান সেনা বাহিনীর ২৫ মার্চের আক্রমণ সম্পর্কে আপনি কি শুনেছিলেন বা কি জানেন ?

 

উ: এটা শুনেছি বলতে গেলে ২৭ মার্চ তারিখের বিকেলের দিকে২৫-২৬ মার্চ রাতে ঢাকায় কি ঘটেছে-সে সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারিনিকেবল দুই একজন লোকের মুখে কানাঘুষা শুনেছি যে, ঢাকায় ভয়ঙ্কর রকম কিছু একটা ঘটেছেতার পরদিন অর্থাৎ ২৭ তারিখে আমরা বিস-ারিত শুনলামআমরা জানতে পারলাম যে, পাকিস্তান আর্মি ঢাকায় আক্রমণ করে বিপুল সংখ্যক লোককে মেরে ফেলেছেএ সব আমরা ২৭ মার্চ তারিখে কিছুটা লোকমুখে কিছুটা রেডিওতে শুনলামএটা শুনে আমার মনে হলো যে, এবার লড়াই হবেকিন্তু লড়াইয়ের প্রস্তুতি যে কি হয়েছে না হয়েছে সে সম্পর্কে তো সাধারণভাবে আমরা অবহিত ছিলাম নাতখন তো খবরের কাগজও নেইপাকিস্তান রেডিওতে কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে নাবিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা বা  রেডিও অস্ট্রেলিয়া খুব ভালো করে ধরা যেতো নাফলে, কি হচ্ছে না হচ্ছে-সে সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতে পারছিলাম নাআমরা এক ধরনের হতাশার মধ্যে পড়লাম যে, এবার কি হবে ! তখন শহরের মধ্যবিত্তের মধ্যে একটা ভয়ংঙ্কর ভীতি যে, কি করে আত্মরক্ষা করা যাবে

 

   পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার ব্যাপারটা আওয়ামী লীগের অ্যাকটিভ কর্মী বা নেতা ছাড়া সাধারণ মানুষ অর্থাৎ যারা সরাসরি রাজনীতি করতো না, তারা ঠিক কতটুকু তখন বুঝতে পেরেছিলো সেটা আমি জানি নাআমি নিজে কিন্তু বুঝতে পারিনিআমার এ রকম মনে হবার কারণ ছিলোখুলনার দুচার জন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে আমার আগে থেকেই যোগাযোগ ছিলোতাদের সাথে আমি বিভিন্ন সময় কথা বলেছিলড়াইয়ের ব্যাপারটা খুলনার নেতারা কেউ জানতেন বলে মনে হয় নাতারা বলেছেন আলোচনা হচেছআমরাও দেখছি প্রতিদিন আলোচনার রির্পোট প্রকাশিত হচ্ছেআলোচনায় প্রগ্রেস হচ্ছেকাজেই ২৫ মার্চের আগে প্রতিটি দিন আমাদের মনে হয়েছে যে, একটা ফয়সালা হয়ে যাচ্ছেতখন তো মিটিং মিছিল সমানে চলছিলো দাবি আদায়ের জন্যসেই সব মিটিং মিছিলে আমরাও গেছিস্লোগান দিয়েছিআমরা না হয় কলেজে চাকরি করতামকিন্তু দেখেছি সরাসরি যারা সরকারি চাকরি করে তারা পর্যন্ত অফিস থেকে দলে দলে বেরিয়ে এসে মিটিং মিছিলে অংশ নিচ্ছে৭ মার্চ দুপুর থেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই দেশ চলছিলোএই অবস্হায় তো ২৫ মার্চ রাতে আকস্মিকভাবে পাকিস্তানিরা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো

 

   ঐ সময় আমি মহেশ্বরপাশায় রাস্তার পাশেই এক বাড়িতে ছিলাম২৯ মার্চ দুপুর থেকে দেখা গেলো, যারা আওয়ামী লীগার ছিলেন তারা অনেকেই আত্মগোপন করছেনআরও দেখা গেলো কয়েকদিন আগেও যারা আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দিয়েছে তাদের একটা অংশ রাতারাতি পাকিস্তানের এবং মুসলিম লীগের ভক্ত হয়ে গেছেঅথচ এরাই পাকিস্তানিদের ঠেকাতে ২৬ মার্চের সকালে রাস্তা কেটে দিয়েছে বা রাস্তার উপরে গাছ ফেলেছেতারা পাক বাহিনীকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেবন্দুক যোগাড় করে লড়াই করবার প্রস্তুতি নিয়েছেকিন্তু যখনই পাক আর্মি খুলনা দখল করে নিলো তার একদিন পরই দেখা গেলো যে, এদের মধ্যে অনেকেই তাদের চেহারা বদল করে ফেলেছেতারা রাতারাতি আবার টুপি যোগাড় করে পাঞ্জাবি পায়জামা পরে খাঁটি মুসলমান সাজবার চেষ্টা করছেআর যারা প্রকৃত মুসলিম লীগার ছিলো তারা তো তখন উল্লাস করছেআওয়ামী লীগের লোকেরা তখন আত্মগোপন করেছেআর মুসলিম লীগাররা ফাঁক বুঝে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার চেষ্টায় গর্ত থেকে মুখ বার করে নিজেরাই এগিয়ে গিয়ে পাক আর্মির সঙ্গে কোলাবরেশনের চেষ্টা করতে থাকেএর মধ্যে তাদের আত্মরক্ষার কোনো ব্যাপার ছিলো নাযেখানে শতকরা ৯০ জন লোক আন্দোলন করছে বা করেছে সেখানে দুচারজন লোক যখন পাকিস্তানিদের কাছে এগিয়ে যায় তখন ব্যক্তি স্বার্থটাই বড় বলে মনে হয়

 

   তখন দেখা গেছে যে, দৌলতপুরের বাঙালি, যারা বড় বড় পাটের ব্যবসায়ী ছিলো, তারা আগ বাড়িয়ে কর্নেল শামস এর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেএদের মধ্যে কয়েকজন পশ্চিম বাংলা থেকে উদ্বাস্ত হয়ে আসা বাঙালি মুসলমান ছিলোকর্নেল শামস খুলনার মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ছিলো২৮ মার্চ যখন যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাক আর্মি খুলনায় আসে তখন রাস্তার দুধারে গুলি করতে করতে এসেছেরাস্তার দুধারে যে সব গ্রাম বা বস্তি ছিলো সে সব তারা পুড়িয়ে দেয়পাক আর্মি খুলনায় আসার দুদিন আগে থেকে অনেকেই অনুমান করছিলো যে, যশোর থেকে আর্মি আসছেআমরা শুনলাম যে, পথে লোকজন তাদের বাধা দিচ্ছেফুলতলাতে বাধা দিয়েছেআমাদের এলাকাতেও রাস্তা কেটে দেওয়া হলোবড় বড় কাঠের গুড়ি ফেলে রাখা হলোঝোঁপ জঙ্গলের মধ্যে কিছু ছেলে বন্দুক নিয়ে লুকিয়ে থাকলো যে, পাক আর্মি আসলে তাদের গুলি করা হবেপাকিস্তানিরা আসার পর দেখা গেলো যে, পথের দুধারে যে বসি-গুলা গড়ে উঠেছিলো রেললাইনের পাশে বা রাস্তার পাশে, সেগুলার একেকটায় ধপ করে আগুন জ্বলে উঠছে এবং সেটা পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছেগ্রামের দিক লক্ষ্য করেও আর্মি গুলি ছুঁড়েগুলির শব্দ ছিলো বিকটআমি যে বাড়িতে ছিলাম সেই বাড়িতেও গুলি এসে পড়তে লাগলোরাইফেলের গুলি এতোদূর আসবে আমি ভাবিইনিসেদিন আমি মহেশ্বরপাশাতেই ছিলামবাড়িটা সদর রাস্তা থেকে একটু দুরেবাড়ির মধ্যে আমি বসে ছিলামরাস্তাঘাটে তখন কোনো লোকজন ছিলো নাসবাই তখন ভয়ে এখানে ওখানে লুকাবার চেষ্টা করছেখুলনা আসার সময় পাক আর্মি কিন্তু কোনো গ্রামে ঢোকেনিসোজা রাজপথ ধরে খুলনাতে গিয়ে পজিশন নিয়েছেখুলনা পৌঁছে তারা সার্কিট হাউস, জেলা অফিস দখল করে নেয়খুলনার বিভিন্ন জায়গাতে তারা ঘাঁটি গাড়লোএরপর শুরু হলো তাদের তৎপরতা

 

   মুসলিম লীগাররা তো পাক সেনাদের সহযোগিতা করার জন্য আগ বাড়িয়েই ছিলোএদের কাছ থেকেই পাক আর্মি ইনফরমেশন নিলো যে, যেখানে যেখানে প্রতিরোধ হয়েছে-সেটা কারা  করেছে, কারা রাস্তা কেটেছেপাক আর্মি ঐসব অঞ্চল এবং সেখানকার লোকজনদের টার্গেট করলো প্রথমেএর পাশাপাশি প্রত্যেক দিন কোনো না কোনো গ্রামে ঢুকে তারা ভয়ভীতি, অত্যাচার চালানো শুরু করলোতারা গানবোটে নদীর আশপাশ গ্রামেও যাওয়া শুরু করলোবিভিন্ন জায়গায় হামলা করে পাক আর্মি ত্রাস সৃষ্টি করতে লাগলোএকদিন সকালবেলা শুনলাম যে পাক আর্মি তিনটা লোককে গুলি করে হত্যা করে খুলনার সাউথ সেন্ট্রাল রোডে ফেলে রেখেছেতারা তিনজনই হিন্দুতার মধ্যে একজন হচ্ছে ব্রজলাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ব্রজলাল-এর ভাইপোতাকে তার বড়ি থেকে ডেকে এনে গুলি করে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখেরাস্তায় সারাদিন ফেলে রেখে রাতে কে বা কারা তাদের লাশ সরিয়ে নেয়একদিন পর আমি ওখানে লাশ দেখতে গিয়েছিলাম

 

   এরপর তো শুরু হলো মানুষজনের পালিয়ে যাওয়াএপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে লোকজন দলে দলে পালিয়ে যেতে লাগলোএ সময় থেকে লুটপাটও শুরু হয়ে গেলোরাজাকার বাহিনী তখন তৈরি না হলেও পাক আর্মির সমর্থনকারী এবং একদল সুযোগ সন্ধানী লুটপাট শুরু করেএদের বেশির ভাগই ছিলো মুসলিম লীগ সমর্থক১ বৈশাখের পর থেকে মহেশ্বরপাশা, ফুলতলা দ্বীপ, বাদামতলা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে লোকজন পালিয়ে যেতে থাকেঐ সব এলাকায় হিন্দুরা বেশি ছিলোপাক আর্মি ঐ সব এলাকায় আক