নাম : মোল্লা
শহীদুল ইসলাম
পিতা : মরহুম
আফসার উদ্দীন
মোল্লা
গ্রাম/মহল্লা
:
দৌলতপুর জুট
মিল হাইস্কুল, দৌলতপুর
থানা : দৌলতপুর, জেলা : খুলনা
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : ?
১৯৭১ সালে
বয়স : ২৬
১৯৭১ সালে
পেশা : চাকরি
বর্তমান
পেশা : শিক্ষকতা
প্র:
পাকিস্তান
সেনবাহিনীর ১৯৭১
সালের ২৫
মার্চের
আক্রমণ
সম্পর্কে
আপনি কি
শুনেছিলেন বা
কি জানেন ?
উ: আমরা পরদিন
শুনলাম যে,
পাক
বাহিনী ঢাকার
পিলখানা, রাজারবাগ
পুলিশ লাইন,
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়সহ
আওয়ামী লীগের
বড় বড় নেতাদের
বাড়িতে
আক্রমণ করে
বাঙালি ইপিআর,
পুলিশ,
ছাত্রসহ
অনেক সাধারণ
লোককে গুলি
করে মেরে
ফেলেছে। এই সংবাদ
খুলনাতে আসার
পর গোটা
খুলনার মানুষ বিক্ষোভে
ফেটে পড়ে। ২৬ মার্চ
খুলনার
বিভিন্ন
জায়গায় মিছিল,
পিকেটিং
হয়। খুলনা
সার্কিট
হাউসে আগে
থেকেই কিছু
মিলিটারি
ছিলো। তারা
তখন বিভিন্নস্হানে
টহল দেয়া শুরু
করে। ২৭
মার্চ যশোর
ক্যান্টনমেন্ট
থেকে অনেক
মিলিটারি
খুলনায় আসে। সেদিনই
একদল
মিলিটারি
খুলনা
নিজউপ্রিন্ট
মিলের সামনে
দিয়ে যাওয়ার
সময়
নিউজপ্রিন্ট
মিলের
সিকিউরিটি
গার্ড আবদুল
হক তার দু’নলা
বন্দুক দিয়ে
তাদের গাড়ির
উপরে গুলি করে। আবদুল
হকের
বন্দুকের
গুলিতে দুইজন
পাক সেনা গুলিবিদ্ধ
হয়। এ সময়
বেলায়েত নাম
করে এক শ্রমিক
নেতা আমাদের
জানালো যে,
মিলিটারি
বহর
খালিশপুরের
দিকে আসছে। তোমরা সবাই
সরে যাও। সে সময় আমি
মিলের মধ্যেই
ছিলাম। পাক
মিলিটারি
খালিশপুর,
দৌলতপুর
এসেই
গুলিগালা
শুরু করে। তাদের
আক্রমণে
হার্ডবোর্ড
মিলের
বর্তমান কর্মচারি
আবাসের দুই জন
মারা যায়। তখনও
নিউজপ্রিন্ট
এবং
হার্ডবোর্ডের
কয়েকজন
সিকিউরিটি
গার্ড হক
সাহেবের
নেতৃত্বে মিলিটারিদের
সঙ্গে যুদ্ধ
করে। তখন পাক
বাহিনীর
গুলিতে
ওখানেই দুই
তিনজন মারা
যায়। মিলিটারিদের
ব্যাপক গুলি
গোলায়
বাঙালিদের প্রতিরোধ
ভেঙে যায়। আমি মিল থেকে
পালিয়ে নদীর
ওপারে এক
বাসায় আশ্রয়
নেই। অন্যরা কে
কোথায় গেলো
আমি আর খোঁজ
পেলাম না। এরপর ৩১
মার্চ আমি
দেশের বাড়ি
চলে যাই।
প্র: ১৯৭১
সালে পাক
বাহিনীর হাতে
আপনি আক্রান্ত
হয়েছিলেন কি ?
উ: না,
আমি
আক্রান্ত হই
নাই।
প্র: আপনি
মুক্তিযুদ্ধে
অংশগ্রহণ
করেছিলেন কি ?
উ: আমি
প্রত্যক্ষ
মুক্তিযোদ্ধা
হিসেবে যুদ্ধ করিনি। তবে আমি
মুক্তিযোদ্ধাদের
সহযোগী ছিলাম। আমি
আমার এলাকায়
ওড়াকান্দি
মুক্তিযোদ্ধা
ক্যাম্পে
ছিলাম। ওখানে
কয়েকশ’ মুক্তিযোদ্ধা
ছিলো। আমি
ওদের খাওয়া
দাওয়ার
ব্যাপারটা
তদারক করতাম। এ ছাড়া
বিভিন্ন
ব্যাপারে
তাদের
সাহায্য
করতাম।
প্র: ১৯৭১
সালে আপনার
পরিবারের কেউ
শহীদ হয়েছিলো
কি ?
উ: আমার এক
চাচাতো ভাইকে
পাক আর্মি
হত্যা করে। সে তার এক
আত্মীয়ের
বাড়ি থেকে
আসার সময়
আশিয়ানিতে
মিলিটারিরা
তাকে ধরে। এরপর
নির্যাতন করে
তাকে হত্যা
করে।
প্র: আপনি
গ্রাম থেকে
খুলনায় কোন
মাসে ফিরে আসেন
?
উ: আমি এখানে
ফিরে আসি
ডিসেম্বরের
১৮/১৯ তারিখে।
প্র:
খুলনায় ফিরে
এসে কি দেখলেন
?
উ: ফিরে এসে
দেখলাম
মুক্তিযোদ্ধারা
এখানে বিভিন্ন
জায়গায়
ক্যাম্প
করেছে। দৌলতপুর
জুট মিলের
ওখানে
মুক্তিযোদ্ধাদের
যে ক্যাম্প
ছিলো তার
কমান্ডার
ছিলো মুজিবুর রহমান। বিহারী যারা
এখানে তখন
চাকরি করতো
তাদের
সম্পর্কে অভিযোগ
ছিলো যে, তারা
বাঙালিদের
উপর তখন অনেক
অত্যাচার
করেছে। তাদের
মধ্যে যারা
ক্রিমিনাল
ছিলো তাদের
মুক্তিযোদ্ধারা
ধরে এনে এনে
বিচার করছে। বিহারীরা
বিভিন্ন
জায়গায়
পালিয়ে ছিলো। সেজন্য
মুক্তিযোদ্ধারা
তাদের সবাইকে
ধরতে পারে নাই। মতিউল্লা
এদের প্রধান
ছিলো। সে
স্বাধীনতার
কয়েকদিন আগে
নিজেই
আত্মহত্যা
করে বলে শোনা
যায়। বিহারীরা
বাঙালিদের
উপর অনেক
অত্যাচার করেছে। যেমন
আমাদের এখানে
শ্রমিক
ইউনিয়নের
সভাপতি ছিলো
কাজী খলিলুর
রহমান। তার
ছোট ভাইকে
বিহারীরা
জবাই করে
হত্যা করে। হাউজিংয়ে তখন
অনেক বাঙালি
ছিলো। বিহারীরা
তাদের এক এক
করে ধরে ধরে
হত্যা করেছে। ফিরে এসে
এসব শুনলাম। বাড়িঘর
অনেক ভাঙা
ছিলো। কারো
বাড়িতেই
মালামাল ছিলো
না।
সাক্ষাৎকার
গ্রহণকারীর
নাম : মাহবুবুর
রহমান মোহন
সাক্ষাৎকার
গ্রহণের
তারিখ : মার্চ ২২, ১৯৯৭
ক্যাসেট
নম্বর : ৫৬