নাম
:
মমতাজ আলী
পিতা
:
কলিমউদ্দীন
মহল্লা
:
গৌরিপাড়া-সুজাপুর,
পৌরসভা
:
ফুলবাড়ি,
ডাকঘর
:
ফুলবাড়ি
থানা
:
ফুলবাড়ি,
জেলা
:
দিনাজপুর
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : তৃতীয়
শ্রেণী পর্যন্ত
১৯৭১
সালে বয়স : ২২/২৪
১৯৭১
সালে পেশা :
ক্ষুদ্র
ব্যবসা,
বর্তমান
পেশা : বেকার
প্র:
১৯৭১ সালের
যুদ্ধের কথা
কি আপনার মনে
পড়ে ?
উ: হ,মনে আছে। তার আগে
১৯৭০ সালোত
আমরা নৌকায়
ভোট দিছিলাম। ভোট
দেওয়ার পর
টুকটাক করি
গন্ডগোল শুরু
হইলো। শহরত
মিছিল টিছিল
হয়। তারপরে
তো গোলাগুলি
হইলো সৈয়দপুর
ক্যান্টনমেন্টে। তখন
বিভিন্ন
ধরনের লোক
আসিলো
ফুলবাড়িত। তারপর ইপিআর-রা
আসিলো। তারা
এখানে ইপিআর
ক্যামেঙাত যে
খান আর বিহারী
আছিলো তাগো
সাথে লড়াই
করিলো। আবার
এপ্রিল মাসোত
খান আসি
ফুলবাড়ি ঢুকি
গেলো। আমরা
খানদের ঘেরাও
করিলাম। খানদের
গাড়ির টায়ার
বার্স্ট হয়া
একজনের পাও ভাঙি
গেলো। খানরা
ফুলবাড়ির
বিভিন্ন
সাইডে পজিশন
নিলো। খানদের
সাথে যুদ্ধ
হইলো। খানরা
পলাইয়া গেলো। কয়েকটা
খান ধরা পড়িলো। তার আগে
আমাদের একজন
কয়,মনে হয়
ওইহানে খানরা
লুকাইয়া আছে। আমরা সব
যায়া সেই
জায়গাটা
ঘেরাও করিলাম। তারা ধরা
পড়িলো। এটা
নিমতলার মোড়ে। পাঁচ জন
খান জনগণের
হাতে মারা
পড়িলো। এরপর
খানরা আবার
আসিয়া
ফুলবাড়ি
ঘেরাও করিয়া
দখল করিলো। আমরা
ছত্রভঙ্গ
হইয়া গেলাম। খানরা ঐ
দিক হইতে
লোকজনকে
মারিতে
মারিতে ঢোকে। আগে
ঢুকিলো
কানাহার। ওখানে আগুন
লাগাইলো। তখন আমরা
ছেলেমেয়ে সব ঐ
বর্ডার
এলাকায় নিয়া যাইয়া
থুইয়া আইছি। থুইয়া
আবার আমরা
বাড়িত আসি
দেখিলাম যে,বৃষ্টির
মতো গুলি। তখন আমরা আর
টিকতে পারি না। আমরা আবার
বাইর হইয়া
গেলাম। যখন
শান্ত হইলো
তখন আবার ফিরি
আসিলাম। বাড়িতে ধান
চাউল ছিলো। সে জন্য ফিরি
আসি বাড়িতেই
আছিলাম। দুইদিন পরে
খানেরা আসি
আমাক ধরিলো। আর ছাড়ি
দেয় না। আমাক
ধরিলো। তারপরে
ওসমান বুড়াক
ধরিলো। সাত্তারকে
ধরিলো। ওদেরকে
ছাড়িলো। কিন্তু আমাক
আর ছাড়ে না। মারপিট করে
কয়েকদিন পর
আমাক ছাড়ি
দিলো। খানদের
হাত থাকি ছাড়া
পাইয়াই আমি
ভারতের দিকে
রওয়ানা দিলাম। আর ঘরে
আসি নাই।
প্রথম
তালতলায় গেছি। ঠাকুর
পুকুরের
পার্শ্বে
তালতলা। ওটা
ইন্ডিয়ার
ভিতরে। ওখানে
আমি গেলাম। আগেই আমি
বাড়িত থাকি
কিছু চাউল
নিয়া গেছিলাম। কিছু টাকা
পয়সা আগে
পাঠাই
দিছিলাম। ওখানে থাকি
খাই আর চিন্তা করি, কি করি ? একদিনকা
আমি শিলপাটা
কিনার জন্যে
দাঙ্গার হাট
গেছিলাম। ওখানে আমাক
পিছন থাকি
একজন ধরি
ফেলিলো। তখন আমি চমকি
গেলাম আর
ভাবিলাম, কি
ব্যাপার ? যে
ধরিছে সে কয়
যে,
ভয়
নাই। সে আমাক
কয়,
দেখেন, আপনাদেরকে
দেশ বাঁচাইতে
হবে। আপনাদেরকে
যাইতে হবে। আমি কই কোথায়
যাইতে হবে। সে কয়
মুক্তিযোদ্ধাত
নাম দিতে হবে। তখন আমি
ভয় পাইয়া
গেলাম। সে
আমাক
ক্যামেঙাত
নিয়া গেলো। তার সাথে
যাইয়া দেখি
সেখানে
আমাদের
চিনাজানা
বহুত ছেলে
পেলে। ওরাও
ক্যামেঙাত
জমা হইছে। কাউক ধরি
আনছে, কেউ
নিজেই গেছে। আমাদেরকে
নিয়া গেলো
কাটলাতে। কাটলা থাকি
আবার নিয়া
গেলো
কামারপাড়া
ক্যামেঙাত। নিয়া
যাইয়া ওখানে
নামটাম লিস্ট
করি, মেডিকেল
টেডিকেল করি
খাওয়া দাওয়া
করাইলো। একদিন পর
মোটরত করি
নিয়া গেলো
শিলিগুড়ি। ওখানে
আমাদের
ট্রেনিং হইলো। ২১ দিন
ট্রেনিং হইছে। তারপর
আমাগরকে নিয়া
আসিলো
দাঙ্গারহাট। ওখানে
ক্যামেঙাত
খাওয়া দাওয়া
করিলাম। এরপর আমরা
আবার
ফুলবাড়ির
দিকে- আমাদের
জানা জাগায়
রওয়ানা হইলাম।
ফুলবাড়ি
থাকি
সন্ধ্যার সময়
বার হয়া রাত
১টার সময়
শালখুড়িয়া
গিয়া
পৌঁছিলাম। এটা
নবাবগঞ্জ
থানায়। ওখানে
যাইয়া একজনকার
বাড়িতে সেদিন
ছিলাম। পরের
দিনে
সন্ধ্যার সময়
চলি গেলাম
কাশিয়াডাঙ্গার
ওখানে। সেখানে
যাইয়া আমরা
একটা ব্রিজে
মাইন লাগাইয়া
উড়াই দিলাম। এটা রেলের
২০ নম্বর পুল, ওটা
আমরা উড়াই
দিলাম। ব্রিজটা
উড়াই দেওয়ার
পর খানরা
আমাদের উপর বৃষ্টির
মতোন গুলি
শুরু করিলো। আমরা ছত্রভঙ্গ
হইয়া যে যে
দিকে পারছি
চলি গেছি। পরের দিন
ভোরে সব এক
জায়গায় হইছি। আমরা
শালখুড়িয়ায়
যে ঠিকানায়
ছিলাম ঐ
ঠিকানায় আইছি। শালখুড়িয়ায়
আমরা দুইদিন
থাকিলাম। ওখান থাকি
আবার চলি
আসলাম মরা
পাড়ায়। মরা
পাড়ায় যখন
ঢুকিলাম তখন
রাইত ১টা বাজে। দুই/একটা
মানুষ দেখা
যায়। তাদের
আমরা বলিলাম
যে,
এই
ব্রিজটা আমরা
উড়াইবো। তখন তারা
আমাদের হাত
ধরে বলিলো যে, ব্রিজটা
উড়াইলে
আমাদের
বাড়িঘর
থাকিবে না। খানরা আসিয়া
সব ধ্বংস
করিবে। তোমরা
এই কাম করো না। তখন আমরা
ওখান থাকে
রিটার্ন হইয়া
চলি গেলাম। তিন দিন পর
আবার
মানুরুতপুর
গেলাম। ওখানে
যাইয়া একটা
ব্রিজে আমরা
মাইন
লাগাইলাম। রেল লাইনের
একটা ব্রিজোত। মাইনের
তারোত ম্যাচ
জ্বালায়া
আগুন লাগানোর সময়
খান আর
রাজাকাররা
টের পাইলো। টের পাইয়াই
বৃষ্টির মতো
গুলি শুরু
করিলো। ওরা
ওখানে কাছেই
কোথাও আছিলো। আমরা আর
আগুন লাগাইতে
পারিলাম না। ওখান থাকি
আমরা চলি আসিলাম। আবার
শালখুড়িয়া
আসিলাম। শালখুড়িয়া
আমরা কয়দিন
থাকিলাম। কয়দিন থাকার
পর আমাদের
কমান্ডার
বলিলো, এইখানে আর
কাজ হবে না। তখন আমরা
অন্য জাগাত
রওয়ানা দিলাম। যে দিন
রওনা হইলাম সে
দিন রাইত বাজে
১১টা, টেয়াপুকুইড়া, আমেরডাঙ্গা, বশির
মল্লিকের
বাড়ির পাশ
দিয়া আমরা যাইতেছি। তখন দেখি
যে সেখানে এক
জায়গায়
রাইফেল কাঁধে
নিয়া দুইজন
রাজাকার খাড়া
হয়া আছে। আমরা দূর থাকি
এটা দেখছি। ওরা রাইফেল
নিয়া ব্রিজ
পাহারা
দিতেছে। আমাদের একজন
ওদের
কাছাকাছি
যাইয়া দেখিলো
ওরা মোট ৪ জন। দুই জন
ঘুমাইতেছে। আর দুই জন
পাহারা
দিতেছে। একজন বিহারী
আর একজন
বাঙালি। আমরা সাত জন
বিভিন্ন দিক
দিয়া যাইয়া
ঘেরাও দিয়া ওই
দুইজনক
ধরিলাম। আর দুই জন
চিক্কর দিবার
ধরতেই আমরা
কলাম, চিক্কর
দিলে একদম শেষ
করে দিমু। তারপর বাকি
দুই জনাকও ধরা
হইলো। ৪
জন রাজাকার
ধরি আমরা আবার
রওনা দিলাম। মহালপুরের
ডাঙ্গা পার
হয়া আমরা
ধোলাত নামি। তখন
আমাদের দলেরই
দিনাজপুরের
এক ছেলে, ওর নামটা
আমার এখন
খেয়াল নাই, আমরা
সবাই তখন
ধোলাত নদীর
কাছাকাছি, সখন ওই
ছেলেটা হঠাৎ
পিছন থাকি তিন
রাজাকারক গুলি
করি মারি দিলো। ওর গুলিতে
তিন রাজাকারই
মারা গেলো। তখন আমরা ঐ
রাজাকার
তিনটাক ওখানে
ফেলি দিয়া ভারতে
ফিরি গেলাম। যায়া ভারত
ক্যামেঙাত
থাকিলাম।
ক্যাম্পোত দুই
দিন রেস্ট
নিয়া
আমাদেরকে ১০০
করি টাকা দিলো। ঐ টাকা
নিয়া আমরা চলি
গেলাম চরকায়। এটা
বিরামপুর
থানায়। ওখানে
আমরা বেশি দিন
টিকতে পারি
নাই। তিন দিন
ছিলাম ওখানে। তিন দিনে
আমরা কোনো কাজ
করতে পারি নাই। ওখান
থাইকা আমরা ব্যাক
করি চলি গেলাম
মোহনপুরে। মোহনপুরে
আমাদের আরও
ছেলেপেলে
ছিলো। তারা
সব আগে থাকিই
পজিশন নিয়া
ওখানে
গোলাগুলি
করতেছে। খানেরাও
তুমুল
গোলাগুলি
করতেছে। দূর থেকে
দেখা যায়
খানদের। আমরা যাওয়ার
পর যুদ্ধ
চলিলো ৪/৫
ঘন্টা। আমাদের
মুক্তিযোদ্ধাদের
মধ্যি থাকি
একজন শহীদ হইলো। ঐ
মুক্তিযোদ্ধা
আর আমাদের
বাড়ি
ফুলবাড়িতই। প্রিন্সিপালের
ভাই, নামটা
এখন মনে নাই। গোলাগুলি
চলার পর খানরা
পিছনে চলি
গেলো। খানদের
আর কোনো খোঁজ
খবর পাওয়া
গেলো না। পরবর্তীতে
শোনা গেলো যে
খানদের তিনজন
মারা গেছে। কিন্তু তাদের
কোনো লাশ আমরা
পাইলাম না। খানরা চলি
গেছে পর আমরা
আবার ক্যামেঙ
গেলাম।
ক্যামেঙ
যাওয়ার পর
আবার অর্ডার
হইলো চেরাডাঙ্গা
যাওয়ার। আমরা
চেরাডাঙ্গায়
চলি গেলাম। ওখানে যাইয়া
খানেদের সাথে
দুই দিন
গোলাগুলি চলিলো। ওখানে
গোলাগুলি
চলার পর আবার
অর্ডার হইলো
দিনাজপুরের
পশ্চিমে
যাওয়ার। আমরা আবার
ওখানে চলি গেলাম। ওখানে
একদিন
থাকিলাম। ওখান থাকি
আবার চলি
গেলাম
দিনাজপুরের
পশ্চিম সাইডে
কাঞ্চন
এলাকায়। আমরা
কাঞ্চনে ঢুকি
পড়িলাম। ঢুকি পড়ি
ওখানে আমরা
খান সেনাদের
হটাইতে খুব চেষ্টা
করিলাম। কিন্তু আমরা
পারিলাম না। আমরা
পিছনে হইট্যা
গেলাম। আবার
পরের দিনই
আমরা অ্যাটেম
নিলাম। কিন্তু
আমরা টিকতে
পারিলাম না। আমরা
ছিলাম মোট ৩০
জন। আমরা
ওখান থাকি
ব্যাক করি চলি
গেলাম
ইন্ডিয়া। ওখানে যাইয়া
এক ক্যামেঙাত
থাকিলাম ১৩
দিন। তারপর
আমাদের
পাঠাইলো
পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও। আমরা চলি
গেলাম
ঠাকুরগাঁও
ইস্টিশন পর্যন্ত। রেল
ইস্টিশনে চলি
গেলাম। ওখান
থিকে আবার চলি
গেলাম
পঞ্চগড়ের
দিকে। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও--ঐ
দিক দিয়ে
ঘুরিলাম। আমরা
থাকিলাম ২২
দিন। ওখানে
থাকার সময়
আমরা চার জন
একদিন রেকি
করতে বারাইছিলাম। একজন
গাইবান্ধার। আরেক জন
ছিলো বগুড়ার। আমি
ফুলবাড়ির, আরেক জন
ছিলো
দিনাজপুরের। আমরা
চারজন গেলাম। ওখানে
রেকি করবার যাইয়া
আমরা খানেদের
ফান্দে পড়ি
গেছিলাম। খানরা
আমাগোরক ধরি
ফেলছিলো। খান ছিলো তিন
জন। আর
রাজাকার ছিলো
৫ জন। আমরা ৩
জন খানেগোর
হাতে ধরা পড়ি
গেলাম। তখন
বেলা বাজে
চারটা-সাড়ে
চাইরটা। আমাদেরকে
নিয়া যাইতে
যাইতে ৫টা
বাজি গেলো। কিছু থাপ্পর
টাপ্পর
মারিলো। মারার পর
ওখানে একটা
স্কুল আছিলো
ছাপড়ার, ওখানে নিয়া
গেলো।
প্র:
তখন আপনাদের
হাতে কোনো
অস্ত্র ছিলো না
?
উ: না। খালি
গ্রেনেড ছিলো। ওরা যখন
ঘেরাও করছে
তখন আমরা
গ্রেনেড ফেলি
দিছি। তারপরে
তো আমরা ওখানে
ঘেরাও হইয়া
গেলাম। আমাদের
একজন পলাইয়া
গেলো। আর
আমাদের
তিনজনকে
আটকাইলো। ধরি নিয়া
স্কুলে তিন
জনকে তিন
জায়গায় থুইলো। দরজা তালা
মারি রাখি
গেলো। তখন
আমি মনে মনে
কচ্ছি, আমাদের জীবন
তো শেষ। আর
তো বাঁচার
কোনো পথ নাই। তখন আমি
দেখি কি স্কুল
ঘরের জানালার
কোনো শিক নাই। ওখানে আমি
যে কামরাত আছি
ওটার জানালার
শিক নাই। পাল্লা এমনি
খিল দেওয়া আছে। তখন আমি চিন্তা
করছি যে, কখন বেলা
ডুববে। এই চিন্তা
ভাবনা করতি
করতি বেলা
ডুবি গেলো। মাগরিবের
আজান হইলো। তারা বোধহয়
নামাজ পড়বার
গেলো। তখন
আমি জানলা
খুলি তার উপর
দিয়া পার হয়া
স্কুলের
পিছনে গেলাম। পিছে দেখি
একটা গর্ত, সেই
গর্তের ভিতর
গেলাম। দেখি
কোনো সাড়া শব্দ
নাই। তখন আমি
ক্রলিং করি
সামনে চলি
গেলাম। ক্রলিং
করি কিছুদূর যাইয়া
উঠি দৌড়
মারিলাম। আর দুই জন
ওখানে থাকিলো। তারপরে
আমি ক্যামেঙ
যাইয়া খবর
দিলাম যে, এই
ব্যাপার। এই ঘটনা। যে আগেই
পলাইয়া
গেছিলো তার আর
কোনো খবর নাই। তারপরে তো
আমাদের দলের
সবাই আসিলো। কিনুক সবাই আসার
আগেই খানেরা
ছেলে দু’টাক মারে
ফেলছিলো। আমরা খবর
পাইলাম, খানেরা ছেলে
দু’টাকে
মারি লাশ
দুইটা কোথায়
জানি ফেলছে। আমরা লাশও
উদ্ধার করতে
পারি নাই। লাশের কোনো
খোঁজ পাই নাই। আমরা
গোলাগুলি
করছিলাম। ওখানে তখন
খানেরা
লোকসংখ্যায়
বেশি হইয়া গেলো। গোলাগুলি
করি আমরা ওদের
সাথে আর পারি
নাই। তখন
আমরা পিছনে
চলি গেছি। আমরা আর ছেলে
দু’টাকে
উদ্ধার করতে
পারিলাম না। পরে ওখান
থাকি আমরা চলি
গেছি রুহিয়ার
ঐ দিকে। এটা
ঠাকুরগাঁওয়ে। ওখানে
যাইয়া ৮ দিন
না ১০ দিন
থাকিলাম। ওখানে আরো
কয়েক দল
মুক্তিযোদ্ধা
আইলো। ওখানে
আস্তে আস্তে আমরা প্রায়
১৫০ জন হয়া
গেলাম। একদিন
অর্ডার হইলো
নীলফামারীর
দিকে যাওয়ার। আমরা সবাই
মিলিয়া সেই
দিক রওনা
হইলাম। পথে
তিস্তা নদীর
পারে খান
সেনাদের সাথে
খুব লড়াই হইলো। তিন দিন
ধরিয়া যুদ্ধ
চলিলো। তাতে
আমাদের ২৫ জন
ছেলে মারা
গেলো।
প্র:
সেখানে খান
সেনারা কতজন
ছিলো ?
উ: ওরা কতজন ছিলো সে হিসাব আমরা পাইনি