নাম
:
মোসাব্বের
হোসেন
পিতা
:
শহীদ
মোফাজ্জল
হোসেন (১৯৭১
সালে পাকিস্তানি
সৈন্যদের
হাতে নিহত)
গ্রাম
:
নিজপাড়া,
ইউনিয়ন
:
বালাপাড়া,
ডাকঘর
:
কাউনিয়া
থানা
:
কাউনিয়া,
জেলা
:
রংপুর
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : বি. এ.
(অনার্স), ইতিহাস
১৯৭১
সালে বয়স : ১৩
১৯৭১
সালে পেশা : ছাত্র,
বর্তমান
পেশা : ব্যবসা
প্র:
১৯৭১ সালের
কথা কি আপনার
মনে পড়ে ?
উ: হ্যাঁ, আমরা সে
সময়
লালমনিরহাটে
বসবাস করতাম। রংপুরের
নিজপাড়া
গ্রামে
আমাদের বাড়ি। আমার বাবা
রেলওয়েতে
চাকরি করতেন। তিনি
রেলওয়ের
লালমনিরহাট
ডিভিশনাল
মেকানিকাল
ইঞ্জিনিয়ারিং
(ডি.এম.ই.)
অফিসের হেড
ক্লার্ক
ছিলেন। সেই
চাকরি সত্রে
তিনি
লালমনিরহাটে
ছিলেন। সাহেবপাড়ার
রেলওয়ে
কোয়ার্টারে
আমাদের বাসা
ছিলো। আমি
তখন ক্লাস
এইটে
লালমনিরহাট
মডেল হাইস্কুলে
পড়তাম। এখন
সেটা সরকারি
হাই স্কুল
হয়েছে। লালমনিরহাট
তখন রংপুর
জেলার অনর্গত
কুড়িগ্রাম
মহকুমার একটা
থানা ছিলো। কিন্তু
রেলওয়ের একটা
ডিস্ট্রিক্ট
ছিলো।
প্র:
১৯৭১ সালে
অসহযোগ
আন্দোলন
চলাকালে এবং তারপর
লালমনিরহাটের
অবস্হাটা কেমন
ছিলো ?
উ:
বঙ্গবন্ধুর ৭
মার্চের ভাষণ
রেডিওর
মাধ্যমে আমরা
পরদিন শুনলাম। সেই সত্র
ধরে
লালমনিরহাটে
মিটিং মিছিল
চলছিলো নিয়মিত। এখন আমার
মনে নেই, মার্চের
১৯/২০ তারিখে
বা আরেকটু আগে
১০/১২ তারিখের
দিকের ঘটনা। সেই সময়
মিলিশিয়া বা ঐ
জাতীয় কোনো
বাহিনীর ৩ জন
পশ্চিম পাকিস্তানি
আমাদের এখানে
এসেছিলো। ওদেরকে
বাঙালিরা
দেখে ক্ষিপ্ত
হয়ে যায়। উভয় পক্ষে
খুব বচসা হয়। এক
পর্যায়ে জনতা
ওদের ওপর
ভীষণভাবে ক্ষেপে
যায় এবং
ওদেরকে হত্যা
করে। এই
ঘটনার
প্রেক্ষিতে
লালমনিরহাটে
সে সময় বাঙালি
আর বিহারীদের
মধ্যে
রেষারেষি
প্রকট আকার
ধারণ করে। তখন
লালমনিরহাটে কিন্তু
বিহারীদের
রাজত্বই বেশি
ছিলো। লালমনিরহাটে
৬০% বিহারী
ছিলো আর ৪০%
ছিলো বাঙালি। তো তিন জন
পশ্চিম পাকিস্তানিকে
বাঙালিরা
মেরে ফেলায়
সেখানে
উত্তেজনা
খুবই বেড়ে
গেলো। তারপর
তো ২৫ মার্চ
ঢাকায়
ক্র্যাক ডাউন
হলো। পরে
আমরা বিদেশী
রেডিওতে
জানতে পারলাম
যে,
বঙ্গবন্ধুকে
অ্যারেস্ট
করা হয়েছে। সারা দেশ
ঝাঁপিয়ে
পড়েছে
স্বাধীনতা
সংগ্রামের
জন্য। লালমনিরহাটে
তখনও কিন্তু পাকিস্তানি
আর্মি যায় নাই। আমার মনে
আছে, পাকিস্তানি
আর্মি
এপ্রিলের ৩
তারিখে
লালমনিরহাট
আসে। সে দিন
শুক্রবার
ছিলো। এপ্রিল
মাসের ৩
তারিখে তারা
যখন
লালমনিরহাট শহরে
ঢুকছে তখন
তাদেরকে বাধা
দেওয়া
হয়েছিলো তিস্তা নামে
একটা ব্রিজ
আছে সেখানে। তিস্তা নদীর
ওপরে যে ব্রিজ
সেখানেই বাঙালিরা
যতটুকু পারে পাকিস্তানিদের
প্রতিরোধ
করার চেষ্টা
করে। আমি
দেখেছি- কেউ
বন্দুক, কেউ
লাঠি, যার যা আছে আর
কি,
কেউ
এয়ার গান নিয়া
পাকিস্তানি
সৈন্যদের
প্রতিরোধ
করার চেষ্টা
করছে আর কি। কিন্তু আসলে
তারা পাকিস্তানিদের
প্রতিরোধ
করতে পারে নাই। বেলা
তিনটা চারটার
দিকে পাকিস্তানি
আর্মিরা
লালমনিরহাটে
আসে আসে
ঢুকে গেলো। তখন সন্ধ্যা
হয় হয় সময়। এটা আমি
নিজেই দেখলাম। ৩ এপ্রিল পাকিস্তানি
আর্মি
লালমনিরহাট
শহরে ঢোকার
পরে গোলাগুলি
শুরু হয়ে গেলো। পাকিস্তানিরাই
গোলাগুলি
করছিলো। বাঙালিদের
আর কোনো
প্রতিরোধ
ছিলো না। আমার ফাদার কিন্তু
সেই সময় অর্থাৎ
মার্চ মাসে
যখন অসহযোগ
আন্দোলন
চলছিলো এবং সেই সময়
উত্তেজিত
বাঙালিরা যখন
বিহারীদের
ওপর চড়াও
হয়েছিলো, তখন আমার
আব্বা অনেক
বিহারীকে
আমাদের কোয়ার্টারে
আশ্রয়
দিয়েছিলেন। আমার
আব্বার বাসায়
মানে আমাদের
রেলওয়ে কোয়ার্টারে। আমার
আব্বা আগে
থেকেই সমাজকর্মমলক
কাজে জড়িত
ছিলেন। ১৯৩৯
সালে তিনি
আঞ্জুমানে
মফিদুল
ইসলাম-এর সঙ্গে
যুক্ত হন। ১৯৪২ সালে
আঞ্জুমানে
মফিদুল
ইসলামের
জেনারেল
সেক্রেটারিও
হয়েছিলেন। পাকিস্তান
আমলে একবার ৪
বছরের জন্য
কাউনিয়া
ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টও
হয়েছিলেন। মার কাছথেকে
শুনেছি ১৯৬৮
সালে রংপুর
এলাকায় খুব বড়
বন্যা
হয়েছিলো। তখন তিনি
তাঁর নিজ
এলাকায়
মানুষের বাড়ি
বাড়ি গিয়ে
বন্যার্তদের
মাঝে
সাধ্যমতো
সাহায্য করেন। তখন
আমাদের
এলাকায় স্কুল
ছিলো না। আমার বাবা
১৯৪৭ সালে
নিজের ছয় একর
জমি দান করে
নিজ উদ্যোগেই
একটা স্কুল
প্রতিষ্ঠা
করেন। তিনি
আজীবন সেটার সেক্রেটারি
ছিলেন। স্বাধীনতার
পর স্কুলটা
তার নামে
নামকরণ করা হয়-
শহীদ
মোফাজ্জল
হোসেন উ"চ
বিদ্যালয়। যাহোক, লালমনিরহাটে
তখন তাঁর কাছে
যে যখন
সাহায্য চেয়েছে
তিনি
সাধ্যমতো
করেছেন। মার্চ মাসে
যখন
বিহারীদের
জীবন মরণ
সমস্যা ছিলো
তখন তিনি
তাদের আশ্রয়
দিয়েছেন, খাবার দিয়েছেন। কিন্তু
দেখা গেলো ৩
এপ্রিল যখন পাকিস্তানি
আর্মি
লালমনিরহাট
ঢুকলো, তখন ওরা, মানে
বিহারীরা
আমাদেরকে
আশ্রয় দিলো না, ঘর থেকে
বের করে দিলো। তারা
জানালো, আমাদের
অসুবিধা আছে। বাঙালিদের
আমরা জায়গা
দিতে পারবো না। এরা কিন্তু
সবাই আমার
আব্বার কলিগ। তারপর
আমরা আশ্রয়
নিতে গেলাম
আরেকখানে। সেটাও আমার
আব্বার আর এক
বিহারী
সহকর্মীর বাসা। সেখানেও
দেখা গেলো একই
রকম অবস্হা। তারাও
আমাদের রাখলো
না। সন্ধ্যার
পর কিন্তু
আমরা বিছ্ছিন্ন হয়ে
গেলাম। তখন
বাঙালিরা যার
যার জীবন
বাঁচাতে ব্যস। আমার
আব্বা আম্মা
যে যে দিক
পারে চলে গেছে। আমি কিন্তু
প্রথম অবস্হায়
আমার আব্বার
সাথেই ছিলাম। আমার মা
ছিলো
আরেকখানে, আরেক
কোয়ার্টারে। পাশাপাশি
সব রেলওয়ে
কোয়ার্টার। সেই সময়
মানে ৩ এপ্রিল
রাতে কিছু
বাঙালি গিয়ে একটা
ঘরের মধ্যে
আশ্রয় নিলো। তা ধরেন, ২৫-৩০
জন বাঙালি হবে। আর
মহিলারা
পাশেই আর একটা
ঘরে বাচ্চা-টাচ্চা নিয়ে
থাকলো। সবাই
বললো, আমরা
একসাথে থাকি
যা হবার হবে। এরা সবাই
রেলওয়ের
স্টাফ এবং
তাদের পরিবার।
তিন
তারিখ রাতে যখন
আমরা ওখানে
ছিলাম তখন
শুনতে পাচ্ছি, আমার
এখনও মনে আছে- ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’ বলে
মেয়েদের করুণ চিৎকার। তারপরে
গাড়ির শব্দ। মনে হলো, গাড়িতে
তাদের কেউ
টেনে উঠায়ে
নিয়ে যাচ্ছে। রাত্রি
১১টা ১২টার
দিকে সে সব
শুনলাম আর কি। এ ভাবেই
সে রাত চলে
গেলো। পাকিস্তানিরা
৪ এপ্রিল
প্রথম কিলিং
শুরু করলো। প্রথম তারা
হত্যা করে ডা:
রহমান বলে
খুবই পপুলার
একজন
ডাক্তারকে। তিনি
বাঙালি ছিলেন
এবং রেলওয়ের
ডাক্তার ছিলেন। ওনাকেই
প্রথম গুলি
করে মারা হয়
লালমনিরহাটে। তারপর ৪
তারিখে আর
কিছু আমরা
শুনলাম না। সারা রাত
আমাদের খাওয়া
নাই-দাওয়া নাই। ঐ বাড়িতেই
আমরা মানে
আমরা সবাই
বদ্ধ ঘরে সে
রাতও কাটিয়ে
দিলাম। আর
কোনো
দুর্ঘটনা
সেদিন ঘটেছে
কিনা জানি না।
প্র:
আপনারা কার
বাড়িতে ছিলেন
মনে পড়ে ?
উ: ওটা
একটা গার্ডের
বাড়ি ছিলো। তিনি হিন্দু
সম্প্রদায়ের
মানুষ, রেলওয়ের
গার্ড ছিলেন। ৫ এপ্রিল
আমরা ঐ
বাসাতেই
ছিলাম। ঐ
যে বললাম, ২৫ থেকে
৩০ জন বাঙালি। এরা সব
আমার বাবার
কলিগ এবং
তাদের ছেলেরা। সব একখানে
জড়ো হয়েছিলেন
এই কারণে যে, আমরা
সবাই একত্রে
থাকলে সেইফ
থাকবো। ৫
এপ্রিলের কথা
আমার এখনও মনে
আছে, বেলা
তখন ৪টা সাড়ে
৪টা হবে। এমন সময় কিছু
ছেলে আমরা
সবাই যে বাসায়
ছিলাম সেখানে
ঢুকলো। ঢোকার
পরেই ওরা বললো
যে,
এই
বাড়িতে সব
বাঙালিরা আছে
এদেরকে ধরো। আর্মিরা
এদেরকে চাইছে। যারা
এসেছিলো তারা
সবাই ছিলো
অবাঙালি। ওরা বার বার
বলছিলো, পাকিস্তানি
আর্মিরা
এদেরকে চাইছে। এরপর
বিহারীরা দলে
দলে আসলো। বিহারীরা যে
যেভাবে পারলো
আমাদের ধরলো। এরপর আমি
আমার ফাদারকে
আর দেখি নাই। ওখান থেকে
ওরা আমার
বাবাকে ধরে
নিয়ে গেলো। এ সময় আমি
আবার করেছি কি
আমার এক চাচা
ছিলেন, আমি তার
সঙ্গে অন্যত্র
পালিয়ে
বাঁচার
চেষ্টা করলাম। আমরা
যেখানে ছিলাম
তার পাশের
ঘরটাতেই চাচা
ছিলেন। সেটা
বোধহয়
রান্নাঘর। চাচা আমাকে
বললেন, বাবা, তুমি আমার
সাথে আসো। আমরা রান্না
ঘরের
ছিটকানিটা বা
শিকল যেটা ছিলো-
সেটা বাইরে
থেকে দিয়ে দেই। কোনো রকমে
শিকলটা বাইরে
থেকে দেয়া
থাকলে হয়তো
তারা মনে করতে
পারে এই ঘরটায়
কেউ নাই। এ কাজটি
বোধহয় আমিই
করেছিলাম। কিন্তু
কিভাবে শিকল
দিয়েছিলাম
সেটা এখন আর
বলতে পারবো না। আমার
চাচার নাম
মনসুর, আমার আপন
চাচা নন। আব্বার
সহকর্মী। পাশাপাশি
কোয়ার্টারে
আমরা থাকতাম। তাকে চাচা
বলতাম। মনসুর
চাচা। তারপর
মনসুর চাচার
সাথে আমি ঐ
ঘরের ভেতরে
থাকলাম। আমার
ফাদারকে তার
আগে দেখেছি, ওখানে
একটা পায়খানা
ছিলো- মানে
টয়লেট যেটা, ঐখানে
তিনি দরজা
লাগিয়ে বসে
থাকলেন
বিহারীদের
হাত থেকে
বাঁচার জন্য। কিন্তু
বিহারীরা তো
ওখান থেকেই
তাঁকে ধরে
নিয়ে গেলো। অন্যদেরকেও
ধরলো। আমরা
দু’জন রান্না
ঘরে লুকিয়ে
আছি। কিছুক্ষণ
পর দু’টা
বিহারী ছেলে
এসে জোরে জোরে
বলছে, দেখি
তো রান্নাঘরে
কেউ আছে কি না। রান্না
ঘরের ভিতর
থেকে আমরা কিন্তু
তাদের কথা
শুনছি। তারপর
তারা তো
রান্নাঘরটা
খুলেই দেখে
আমরা দু’জন। আমাকে
একজন কলার
চেপে ধরলো। আর একজন আমার
আঙ্কেলকেও
ধরলো। তারা
বললো চলেন, আপনাদেরকেও
আর্মি ডাকছে। ওদের বয়স
মনে হলো ২০-২২
বছর। ওরা দু’জন
আমাদের নিয়ে
চললো। ঐ স্হান
থেকেই দেখা
যায় যেখানে
মানুষজন
কিলিং করা হয়েছে। সেটা
লালমনিরহাট
রিক্সা
স্ট্যান্ড। তো ঐ
জায়গায়
সবাইকে জড়ো
করলো। জায়গাটার
আগের নাম হচ্ছে
লালমনিরহাট
বাস স্ট্যান্ড। এখন যেটা
রিক্সা
স্ট্যান্ড। এখনও সেটা
রিক্সা
স্ট্যান্ডই
আছে। ঐ
জায়গায়
সবাইকে
জমায়েত করছে। আমাকেও
ধরে নিয়ে যাচ্ছে
ওখানে।
এটা
৫ এপ্রিলের
ঘটনা। বিকাল
৪টা-৫টার দিকে
হবে। এদিকে
আমাকে যখন
নিয়ে যাচ্ছে
তখন দেখলাম যে, মা রাস্তায়
বসে আছে। মাকে দেখে
আমি তাকে
জিজ্ঞাসা
করলাম, মা, তুমি
এখানে বসে আছো
! কিন্তু মা
আমার কথার
কোনো জবাব
দিলেন না। তো আমি আবারো
চিৎকার দিয়ে
মাকে বললাম যে, এরা তো
আমাকে ধরে
নিয়ে যাচ্ছে, তুমি
আমাকে বাঁচাও। তখন তো
আমাদেরকে
বাঁচানোর কেউ
নাই। তখন মা
বললো যে, আমি তো বসে
আছি তোমার
আব্বার জন্য। ওরা তোমার
আব্বাকে তো
নিয়ে গেছে
আর্মিদের কাছে। বিহারীরা
বলছে যে, সোনা দানা, টাকা
পয়সা যা আছে
দাও, তোমার
স্বামীকে
আমরা ফিরিয়ে
আনবো। মায়ের
কাছে মনে হয়
সে সময় আট দশ
ভরি সোনা ছিলো। টাকাও
ছিলো কিছু। সোনা-দানা, টাকা-পয়সা
সব বিহারীদের
দিয়েছেন
বললেন। মার
সামনে দিয়েই
বিহারী
ছেলেরা আমাকে
বাস
স্ট্যান্ডের
দিকে কলার ধরে
নিয়ে যাচ্ছে। আর ওখানে রাস্তায়
মাই মাদার
ওয়াজ ওয়েটিং
ফর হার
হাজবেন্ড। আব্বার জন্য
তিনি ওয়েট
করতেছিলেন। স্বামীর
চিন্তায় মা
এতোই চিনিত
যে তার ছেলের
কথা মনে নাই। আমি মাকে
২/৩ বার বলার
পর মার বোধহয়
হুঁশ হলো। তখন মা
ওদেরকে
অনুরোধ করলো
আমাকে ছেড়ে
দেয়ার জন্য। মা ওদেরকে
ছাইড়া দাও
বলার সঙ্গে
সঙ্গেই ঠা ঠা গুলির
আওয়াজ। গুলির
আওয়াজে আমি
ভীত সন্ত্রস্ত। ওখান থেকে
সব দেখাই যায়, দেখি
ওখানে
বিহারীরা
যাদেরকে ধরে
নিয়ে লাইনে
দাঁড়
করিয়েছিলো
তারা সব
মাটিতে
লুটিয়ে পড়লো। পাকিস্তানি
সৈন্যরা গুলি
করেছে। একটা
নির্মম
হত্যাকান্ড
যাকে বলে সেটা
আমার চোখের
সামনেই ঘটে
গেলো। আমার
বয়স তো তখন
মাত্র তেরো, এখনও
আমার চোখের
সামনে সে
দৃশ্য ভাসে। আমি ঐ
গুলির
আওয়াজের সাথে
সাথে বিহারী
দু’জন কিছু
বুঝে ওঠার
আগেই ওখান
থেকে দৌড়
দিলাম। দৌড়
দিয়া আমি আবার
আগের যে বাসায়
ছিলাম, ঐ বাসার পাশে
মহিলারা
যেখানে আশ্রয়
নিয়েছিলো
সেখানে আশ্রয়
নিলাম। আমি
ওখানে আশ্রয়
নিলাম
জায়গাটা
নিরাপদ ভেবে। আমি পরপর
গুলির আওয়াজ
পাচ্ছিলাম। আমার সাথে
যিনি ছিলেন
অর্থাৎ মনসুর
চাচা, তাঁর
ছেলে, আরো
কয়েকজন-
তাদেরকেও ঐ
সময় পাক
সেনারা গুলি করলো। তারপর
আমার এক বন্ধু, সে
ফুটবল
খেলোয়াড় ছিলো, তোতা
নাম, তাকেও
পাকিস্তানি
সেনারা তার
ফাদারের সাথে
ঐদিন হত্যা
করলো।
প্র:
লালমনিরহাটে
৫ এপ্রিল
তারিখে
বিহারী এবং
পাকিস্তানি
সৈন্যরা মিলে
কতজনকে ধরে
নিয়ে গিয়েছিলো
বলে আপনার মনে
হয়েছে।
উ: আমার
মনে হয়, ৫ তারিখে সব
মিলিয়ে আড়ইশ’, থেকে
তিনশ’ হবে। ম্যাক্সিমামই
রেলওয়ের
চাকরীজীবী আর
তাদের বড় বড়
ছেলেরা ছিলেন। বাইরের
লোক খুব কম
ছিলো।
প্র:
কতজনকে আপনি
মেরে ফেলতে
দেখেছেন ?
উ: বিকালে ৫টার দিকে যখন মার