নাম
:
পাঠান আবদুল
মান্নান
পিতা
:
মরহুম
মোহাম্মদ
তুগরল পাঠান
গ্রাম
:
নোনাডাঙ্গা,
ইউনিয়ন
:
কাড়াপাড়া
ডাকঘর
: পি.
সি. কলেজ,
জেলা
:
বাগেরহাট
(১৯৭১ সালে
খুলনা জেলার অন্তর্গত)
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : বি. এ. পর্যন্ত
১৯৭১
সালে বয়স : ২৫
১৯৭১
সালে পেশা : ব্যবসা
বর্তমান
পেশা : বেকার
প্র:
১৯৭০ সালের
নির্বাচন এবং
তার পরবর্তী
ঘটনা প্রবাহ
সম্পর্কে
আপনি কি জানেন
?
উ: ১৯৭০
সালে আমরা
যারা
ছাত্রলীগ
করতাম,আমাদের
পরিষ্কার
ধারণা ছিলো যে,পাকিস্তানি
সামরিক শাসক
প্রেসিডেন্ট
ইয়াহিয়া
সরকারের নির্যাতনমূলক
কার্যকলাপ
মানুষ
দীর্ঘদিন মেনে
নেবে না। আমরাও ইডা বরদাস্ত করি
নাই। আমরা
একটা
পরিবর্তন
আনতি
চাইছিলাম। এই পরিবর্তন
আনতি যাইয়ে ’৭০-এর
নির্বাচনে
আমরা যারা
ছাত্রলীগের
কর্মী ছিলাম,তারা
জানপ্রাণ
দিয়া কাজ শুরু
করি। আমরা
মনে মনে
প্রতিজ্ঞা
করি,সরকারের
পরিবর্তন
করতি হবে,আমাদের
ইলেকশনে
জিততি হবে। আওয়ামী
লীগেরও এই রকম
একটা মনোভাব
ছিলো। আমার
নাম শুনে তো
বুঝতি
পারতিছেন আমি
বাঙালি নই। আমি পাঠান,অবাঙালি
মানুষ। পারিবারিকভাবে
আমাদের ভাষা
বাংলা না। কিন্তু এই দেশ
বা এই দেশের
মানুষের
প্রতি,সমাজের
প্রতি আমার
একটা আকর্ষণ
প্রচন্ডভাবেই
ছিলো। আমার
মনে হয়েছে,আমি যে
আবহাওয়া,যে
জলবায়ুর ভিতর
মানুষ হয়েছি,বেড়ে
উঠেছি সেই
দেশেই একাত্ম
হয়ে সব কিছুতে
থাকি। আমি
ছিলামও সব
কিছুতে,যে কারণের
জন্যি আমরা
পারিবারিকভাবে
সবাই আওয়ামী
লীগরে পছন্দ
করতাম। ইলেকশানে
আমরা
ভোট দিয়ে
আওয়ামী লীগকেই
নির্বাচিত
করিছিলাম। ইলেকশনে
জেতার পর,একের পর
এক আমরা যে সমস্ত
কার্যকলাপ
দেখতি লাগলাম,তাতে মন
খারাপ না হয়ে
পারে না। আমাদের সাথে
কেন্দ্রীয়
আওয়ামী লীগ
নেতৃত্বের
একটা ভালো
যোগাযোগ ছিলো। আমাদের
এখানে শেখ
আবদুর রহমান
সাহেব ছিলেন এম.
পি.। তিনি
প্রগতিশীল,সৎ এবং
সাহসী
রাজনীতিবিদ
ছিলেন। আমার
বাল্যবন্ধু,ক্লাসমেট
হচ্ছে আবদুর
রহমান এম. পি.
সাহেবের আপন
ভাগ্নে শেখ
আবদুল
মান্নান। ছোটকাল
থেকেই এক সাথে
আমরা লেখাপড়া
করিছি। এক
সাথে
চলাফেরাও করি। তার মামা
এম. পি.এ. সেই
সুবাদে আমার
একটা ভূমিকা
ছিলো। আবদুল
মান্নানকে
সঙ্গে রেখে
প্রায় সব কাজই
আমি করতাম। আমার যেমন
চযুংরপধষ ঝঃৎবহমঃয
ছিলো তেমনি
অগ্রণী হয়ে
ভূমিকাও
রাখতাম
বিভিন্ন কাজে
কর্মে। আমি
আওয়ামী লীগের
সপক্ষে সব
জায়গায় অবদান
রাখতে চেষ্টা
করতাম।
পাকিস্তানি সামরিক জান্তার
কার্যকলাপ
থেকে আমরা
বুঝতি পারলাম
যে ওরা ক্ষমতা
ছাড়বে না। তো ক্ষমতা
যখন ছাড়বে না
তখন আন্দোলন
ছাড়া উপায় নাই। আমরা তলে
তলে
কামরুজ্জামান
টুকু,তারপরে
তার ভাই
আমীরুজ্জামান
বাচ্চু,তারপরে এম. পি.
এ. শেখ আবদুর
রহমান,খুলনার
কাইয়ুম-এদের
সাথে আন্দোলন
বিষয়ে একটা
ঘনিষ্ঠ
যোগাযোগ গড়ে
উঠলো। একের
পর এক কাজ
আমরা চালায়ে
যাতি লাগলাম। মিটিং
করতি লাগলাম। কেন্দ্র
থেকে যে সমস্ত নির্দেশ
আসতি
লাগলো-সেগুলো
মাইনে চলতি
লাগলাম। নির্বাচনে
জেতার পরও
আমরা ক্ষমতায়
আসতি পারতিছি
না। কেন
পারতিছি না,আমাদের
ক্ষমতা
দিচ্ছে না। এ জন্যি আমরা
খুব হতাশ হতি
লাগলাম। ’৭০
সালের
নির্বাচনে
জিতেও যহন
ক্ষমতায় আসতি পারি
না,তখন
আমরা পাকিস্তানি
মিলিটারি
সরকারের পিছনে
লাগলাম; ক্ষমতা
আমাদের নিতিই
হবে-এই রকমের
একটা মনোভাব
আমাদের মনের
ভিতরে জাগলো। এই
উদ্দেশ্যে
আমরা দিনের পর
দিন লোক
সংগঠিত করতি
লাগলাম। আমাদের
আন্ডার
গ্রাউন্ড
একটা দল ছিলো। কামরুজ্জামান
টুকুর
নির্দেশে
আমীরুজ্জমান
বাচ্চু,আমি,শেখ
মান্নান-আমরা
ঢাকায় গেলাম
ফেব্রুয়ারি
মাসের শেষের
দিকে। ঢাকাতে
কমোডর
মোয়াজ্জেম
সাহেব,শাজাহান
সিরাজ,তারপরে
আবদুল
কুদ্দুস মাখন,তারপর
আ.শ.ম. রব,নূরে আলম
সিদ্দিকী,মণি ভাই,সিরাজুল
আলম খান,তোফায়েল
ভাই-এদের নিয়ে
আমাদের একটা
মিটিং হইছিলো। সেই
মিটিংয়ে
কমোডর
মোয়াজ্জেম
সাহেব বলিছিলেন
যে এভাবে তো ওরা
ক্ষমতা দেবে
না,
ক্ষমতা
ছিনিয়ে আনতি
হবে। যদি
ছিনিয়ে আনতি
হয় তাহলি ওদের
সাথে আর মিলেমিশে
থাকার মতো
কোনো কায়দা
দেখতিছি না। ঐ
মিটিংয়ে আলোচনা
হয় যে,যদি
এই অঞ্চল
আলাদা
রাষ্ট্র হয়,তাহলি
আমাদের এই
দেশের নাম কি
হবে
এবং এর
ফ্লাগটা কেমন
হবে ? শেষমেষ
সিদ্ধান্ত হলো যে,এই
দেশের নাম হবে
‘বাংলাদেশ’। আর ফ্লাগ
হবে সবুজ
জমিনের মাঝে
হলদে কাপড় দিয়ে
বর্তমান
বাংলাদেশের
ম্যাপ। আমি
শাজাহান
সিরাজের কাছ
থেকে নমুনা
স্বরূপ সেই
ফ্লাগটা
নেয়ার চেষ্টা
করলাম। কিন্তু উনি আর
দেলেন না। তখন আমাদের
এক ভাই কলেন
যে,
থাক্ আমরা
ঐখানে বানায়ে
নিতি পারবো। তখন শুনে আসলাম
যে ওরা ২রা
মার্চ হাইকোর্টে
স্বাধীন
বাংলার পতাকা
তুলে দেবে। মনে মনে চিন্তা
করলাম যে,ওরা যদি
২রা মার্চ
তোলে,তাহলি
আমরা ৩রা
মার্চ
বাগেরহাটে
তুলে দেবো। এই রকমের
মনোভাব নিয়ে
আমরা চইলে
আসলাম ঢাকা থেকে।
২রা
মার্চ রাইত
বারটা-টারটার
সময় আমরা যখন
আনছার দর্জির
কাছ থেকে কাপড়
টাপড় নিয়ে
ফ্লাগ তৈরি
করবো, তখন
সবাই বললো যে,ম্যাপ
তো কাটতি পারি
না। তখন
বইতে যে ম্যাপ
ছিলো সেই
ম্যাপ নিয়ে
সমান করে
দর্জিরে দিয়ে
কাটায়ে তাই
দিয়ে আমরা
ম্যাপ বানালাম। ৩রা মার্চ
অ্যাসেম্বলি
বসার কথা ছিলো
কিন্তু বসলো না। এ দিন এম.
পি. আবদুর
রহমান
সাহেবের নিজ
এলাকা থেকে,নদীর
ওপার থেকে
হাজারে
হাজারে মানুষ
এখানে আইসে
তানার বাসার
সামনে জমায়েত
হতি লাগলো। সেই লোকজন
নিয়ে রহমান
সাহেব ঘোষণা
দিলেন যে,আমরা
সুন্দরবন
এলাকার সব
থেকে দক্ষিণ
এলাকার মানুষ,আমরাই
সর্বপ্রথম পাকিস্তান
গভর্নমেন্টের
বিরুদ্ধে
বিদ্রোহ
ঘোষণা করলাম। তিনি
বাংলাদেশের
নতুন ফ্লাগ
দেখিয়ে বললেন,এই যে
ফ্লাগ,এই ফ্লাগ
নিয়ে সমস্ত
বাগেরহাট
প্রদক্ষিণ
করো,তারপর
এই ফ্লাগ
তোমরা এস. ডি. ও
কোর্টে তুলে
দিবা। তখন
আমাদের
নেতৃত্ব
দিছিলো ভল্টু
মিয়া, তারপরে
মরহুম শামসু
প্রফেসর,জাফর
ডাক্তার,আতাহার
ডাক্তার, তারপরে
রশীদ আখঞ্জী, বারিক
শিকদার-এই সমস্ত
লোক। এই
মিছিলে ১২
থেকে ১৪ হাজার
মানুষ ছিলো। আমরা সমস্ত
বাগেরহাট শহর
প্রদক্ষিণ
কইরে কোর্টের
সামনে আসলাম। আমার কাছে
ছিলো স্বাধীন
বাংলার
ফ্লাগটা আর আওয়ামী
লীগের যে দলীয়
পতাকা, ইডা ছিলো শেখ
আবদুল
মান্নানের কাছে। আমরা
ঐখানে আসার
পরে বাঁশে
বান্ধা
ফ্লাগটা খুলে
নিয়ে এসডিও
কোর্ট
বিলডিংয়ের
উপরে চইলে গেলাম। উপরে যেয়ে
এস. ডি. ও-র
দোতলা
বিল্ডিংয়ের
উপরে চিলেকোঠার
পরে যে কাঠের
পতাকা দন্ড
ছিলো,যে
পতাকা দন্ডে
রোজ ৮ টার সময় পাকিস্তানি
ফ্লাগ তোলা
হতো আবার
নামাতো বিকাল
৫টার সময়। আমরা তখন পাকিস্তানি
পতাকা নামিয়ে
আমার কাছে যে
স্বাধীন
বাংলার ফ্লাগ
ছিলো সেটা
বাইন্ধে দিয়ে
উড়ায়ে দিলাম। তখন
আমাদের এখানে
শামসুদ্দীন
হায়দার সাহেব ছিলেন,রেজাউল
হক না,রেজাউল
করিম ঐ সময় এস.
ডি. ও ছিলেন,পাঞ্জাবি
লোক। এস. ডি.
ও-র হেড
ক্লার্ক ছিলো
শামসুদ্দীন
হায়দার সাহেব। আমাদের এই
কর্মকান্ড
দেখে
ট্রেজারির যে সমস্ত
পুলিশ আমাদের
দিকে রাইফেল
উচোয়ে ছিলো,শামুসদ্দীন
হায়দার সাহেব
দ্রুত তাদের
কাছে গিয়ে
বললেন,কোনো রকম
গোলাগুলি না
করার জন্য। তিনি
তাদেরকে
বললেন,ওটা আমরা পরে
দেখতিছি
কিভাবে কি করা
যায়। ঐখানে
ফ্লাগ আমি নিজ
হাতে তুললাম। আমার সাথে
শেখ আবদুল
মান্নান,শেখ আবদুল
হান্নান,অশোককুমার
দেবনাথ আর
মোটা নজরুল
নাম কইরে আর এক
ছেলে
ফরিদপুরে
বাড়ি-এই
পাঁচজন উপরে
উঠেছিলাম। আর নিচে ছিলো
হাজার হাজার
মানুষ। আর
আমীরুজ্জমান
বাচ্চু,কামরুজ্জামান
টুকুর ভাই, সে
মাইকিং
করতিছে,মাইক তার কন্ট্রোলে
ছিলো। আমরা
বাংলাদেশের
পতাকা তুলে
আসার পথে
সিঁড়ির গোড়ায়
ছিলো
শামসুদ্দীন
হায়দার সাহেব,তিনি
আমারে খুব
জোরে একটা চড়
মারিছিলেন। চড় মারার
পর কইছে,তোরা, এই কাজটা
করলি? এখনই
তো বাগেরহাটে
একটা
রক্তারক্তি
কান্ড ঘটে
যাবেনে। তোরা যে
কাজটা করলি
এখনো তো সে
কাজের সময়
হয়নি। এই
কাজ করবি তো
তোরা কয়দিন
পরে কর। এখনই
তোরা করলি কেন
? এখন
একটা
বিশৃঙ্খলা
শুরু হয়ে
যাবেনে। রক্তের
গঙ্গা বয়ে
যাবেনে। তখন আমরা
কলাম যা কইরে
ফেলাইছি তো
কইরে ফেলাইছি। তো উনি
কলেন এখন তো
তোগো নামে
রাষ্ট্রদ্রোহীর
কেস হয়ে
যাবেনে। এখন কি হবেনে। এর পর পরই
আমরা
মাইকে ঘোষণা
শুনলাম। মাইকে কছে,একটা
জরুরি বিষয়
নিয়ে জনসভা
হবে। সভায়
বক্তব্য
রাখবেন অজিউর
রহমান। তখন
তিনি ছিলেন
বাগেরহাট
মহকুমা
আওয়ামী লীগের
সেক্রেটারি। তারপরে
ছাত্তার খাঁ
সাহেব, জলিল সরদার
আর আমজাদ
আলী-এরাও
বক্তব্য
রাখবেন। আমরা তখন
ভাবলাম যে,এই কাজতো
করলাম, এরপর জানি
কোন্নির্দেশ
আসতিছে। এরা তো অন্য
কিছু একটা
করবেনে। এই রকম ভাবতি
ভাবতি আমরা সব
থাইকে গেলাম। তখন দু
দুটো রিভলবার
আমার কাছে। তো আমরা
সেইভাবে প্রস্তুতি
নিয়ে থাকলাম। ঐ দিন ঠিক
তিনটেয় মিটিং
শুরু হলো। মিটিং শুরু
হওয়ার পর
প্রথমে বোধহয়
ছাত্তার খাঁ
সাহেব
বক্তৃতা
করলেন। তিনি
বললেন,কয়েকজন
বাংলাদেশের
ফ্লাগ উঠাইছে
এখানে,কামটা ভালো
হয় নাই। পাগলা
রহমানের (এম.
পি. আবদুর
রহমান) কথামতো
এই সমস্ত হইছে। এরা খুব
খারাপ কাজ
করিছে। তারপরে
আওয়ামী লীগ
নেতা আমাদের
অজিউর রহমান,পরবর্তীতে
শহীদ,তিনি
বক্তব্য
দিলেন। তিনি
বললেন,আমাদের
পার্টির কোনো
ডিসিশান নাই। এরা যা
করতিছে ঠিক
করতিছে না,এরা
বিচ্ছিন্নতাবাদী। এর পরেই
বক্তব্য
রাখেন গোরা
মিয়া,আমজাদ
আলী গোরা মিয়া। তিনি
এমনভাবে
বক্তব্য
রাখলেন যে,তাতে
মরা মানুষ
জেতা হয়ে যায়। তিনি
বক্তৃতায়
কলেন যে,পাঠান,শেখ মান্নান, অশোক
দেবনাথ তারপরে
শেখ হান্নান,নজরুল
ইসলাম-এরা যে
কাজটা করিছে
তার জন্য এদেরকে
গণ আদালতে
নিয়ে বিচার
করা হোক। এই কথা বলাতে
আমরা তো
সেইভাবে প্রস্তুত
থাকলাম এবং
মনে মনে কলাম
কি বিচার করে
দেখা যাক। জলিল সরদার
এর বিরোধিতা
করে কলেন যে,এরা দেশ,সময় এবং
পরিস্হিতি
অনুপাতে যা
করিছে তা ঠিকই
করিছে। এরা
ঠিক কাজই
করিছে। এতে
যদি এদের
রাষ্ট্রদ্রোহী
খেতাব হয় তো
হোক। পাঞ্জাবিদের
সাথে বা পাকিস্তানিদের
সাথে মিলে
থাকার এখন আর
কোনো পরিস্হিতি
নাই। তিনি
বক্তব্য
রেখেই মঞ্চের
পিছনের দিক
দিয়ে দ্রুত
চলে যান। শুনিছি
পুলিশ ওরে
ধরার জন্যি
উদ্যোগ
নিছিলো। কিন্তু সে তখন
পলায়ে চলে
গেছে। আমাদেরকেও
ধরতি
পারে-কারণ
আমাদের কাছে
তখন তো অস্ত্র
ছিলো। তখন
ঐ জাগা থাকি
আমরা পলায়ে
চলি গেলাম। আমরা ক’জনা ঢাকায়
চলি গেলাম। ঢাকায় চলি
যাওয়ার পরে
আমরা সেখানে
থাকতি থাকতি ৭
মার্চে
বঙ্গবন্ধু
ভাষণ দিলেন।
প্র:
১৯৭১ সালের
মার্চ মাসে
আপনার এলাকার
মানুষের
মনোভাব কেমন
ছিলো ?
উ:
মেক্সিমাম
মানুষের
মনোভাব ছিলো
যে,হয়
ক্ষমতা দিক
আওয়ামী লীগের
হাতে,নতুবা
আমরা
আলাদাভাবে
চলবো,ওদের
সাথে এক সঙ্গে
থাকবো না। তখন
বাগেরহাটে কিন্তু খুবই পাকিস্তানি
ঘেঁষা লোক
ছিলো। যেমন-রজব
আলী,ইসহাক,মালেক,সিরাজ
মাস্টার,আকিজদ্দি,কাদের
মল্লিক,কাসেম
মাস্টার,মোসলেম
ডাক্তার,তারপরে
মোজাম
ডাক্তার,আশা
ডাক্তার,রহমান
কাজী,এবং
হবু কাজী বা
হাবিবুর
রহমান কাজী। এই সমস্ত লোকের
ধারণা হতিছে
যে এম. পি.
আবদুর রহমান
পাগলাই পাকিস্তান
বিরোধী
কাজকাম
করতিছে ওর
লোকজন নিয়া। সুতরাং
এগো এ্যারেস্ট
করায়ে দিতি
পারলি বা
মিলিটারি
পুলিশ দিয়া
ধরায়ে দিতি
পারলি এরা আর
এগোয় যাতি
পারবে না। এটা যদি না
হয়-তাহলি এগো
মাইরে ফেলতি
হবে-এমন চিন্তাও
তারা করছে। এ সব ঘটছে
মার্চ মাসে। আমি জানি, কোনো
দেশে যদি
বিপ্লব শুরু
হয় এবং সেটা
যদি গণঅভ্যুত্থানে
রূপ নেয়,তাহলি সে দেশ
একদিন না
একদিন
স্বাধীন
হবেই-এমন
ধারণা আমাদের
মধ্যে কাজ
করছিলো।
প্র:
১৯৭১ সালের ২৫
মার্চ
পাকিস্তানি
সামরিক জান্তার
আক্রমণ
সম্পর্কে
আপনি
কি
শুনেছিলেন ? কখন
কিভাবে
শুনেছিলেন ?
উ: আমার এক আত্মীয় বাড়ি আছে যশোরে। সেই সময় আমি কি একটা কাজের জন্যি যেন যশোরে যাচ্ছি। যাতি লাগলি সেখান থাকি বোধহয় ফুলতলা রাইখে যাইয়ে নোয়াপাড়ার মাঝে রাজঘাট,এই রাজঘাটের ওখানে দেখলাম যে ট্রাকে করে মিলিটারিরা আসতিছে। মনে মনে চিন্তা করছি যে,বোধহয় খুলনা সার্কিট হাউসের দিকেই যাতিছে। আমাদের বাস তো তখন চলতিছেই। বসুন্দিয়ার কাছাকাছি মহাকাল নাম করে যে জায়গাটা আছে সেই জায়গায় একটা স্কুল আছে,ওখানে দেখি যে,তাবু-টাবু গাইড়ে মিলিটারিরা জাঁকজমকভাবে অবস্হান করতিছে। বসুন্দিয়ার কাছাকাছি আসার সময় দেখি কি একদল মানুষ বসুন্দিয়ার দিক থেকে আসতিছে। তাদের কেরু কাছে লাঠি সোঠা, কেরু হাতে কচা, (এক ধরনের গাছের ডাল), কেরু হাতে দা, কেরু গায়ে জামা, কেরু গায়ে গেঞ্জি আছে, কেউ খালি গায় দৌড়াচ্ছে। ওদের যাওয়া দেইখে বাস ড্রাইভার গাড়ি থামায়ে দিছে। সে বলছে ভাó