নাম : এস. এম. এ. সবুর

পিতা : মোল্লা শের আলী

গ্রাম : চিতলমারি,

ডাকঘর : বাগেরহাট

থানা : বাগেরহাট,

জেলা : বাগেরহাট (১৯৭১ সালে খুলনা জেলার অন্তর্গত)

শিক্ষাগত যোগ্যতা : বি.এ. বিএড, এল.এল.বি

১৯৭১ সালে বয়স : ৩০

১৯৭১ সালে পেশা : আইনজীবী

বর্তমান পেশা : আইনজীবী

 

 

প্র: ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং তার পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে আপনি কি জানেন ?

 

উ: ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা বলার আগে আমাকে একটু পিছনের কথা বলতে হয়আমি তখন ন্যাপের (ওয়ালী) বাগেরহাট সাংগঠনিক জেলার জেনারেল সেক্রেটারি,সেন্ট্রাল কমিটির মেম্বার এবং খুলনা জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলাম১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর আমরা অনুভব করেছি,সাধারণ মানুষ অনুভব করেছে স্বায়ত্বশাসনের বিষয়টিআমরা স্বায়ত্বশাসনের কথা বলতামকেন স্বায়ত্বশাসনের কথা বলতাম, মানুষ পাক-ভারত যুদ্ধের ভিতর দিয়ে সেটা উপলব্ধি করলোমানুষ দেখেছে যে, অর্থনৈতিকভাবে তারা কতো অসহায়তারপরে প্রতিরক্ষা বলতে গেলে এই অঞ্চলে কিছুই নাইএই যুদ্ধের ভিতর দিয়ে বাঙালির যে হিস্যা,তার যে আত্ম নিয়ন্ত্রণ অধিকার-সেটা স্বচ্ছ হয়ে ওঠেআমরা আগে থেকেই ন্যাপের পক্ষ থেকে স্বায়ত্বশাসনের কথাটা বলে আসছিলামভাষা,সংস্কৃতি,অর্থনীতির পরিপূর্ণ বিকাশ,মানুষের আর্থ-সামাজিক মুক্তি-এ সব কথা বলেছিআমরা দীর্ঘদিন স্বায়ত্বশাসনের যে কথা বলে আসছিলাম সেটা ৬ দফার ভিতর দিয়ে একটা বাস-ব রূপ পেলোআমরা যেটুকু বুঝেছি আওয়ামী লীগ এটাকে অর্থাৎ ৬ দফাকে বলতে চেয়েছে জাতীয় মুক্তি সনদভাসানী ন্যাপের পক্ষ থেকে ৬-দফাকে বলা হচ্ছিলো এটা সি আই এ-র দালালদেরএরা সিআইএ-র দালালআমরা ৬ দফা স্বীকার করে বলেছি যে,এখানে তেমনভাবে কৃষকের কথা নেই,শ্রমিকের কথা নেইশিক্ষা ব্যবস্হার কথা নেই,বৈদেশিক সম্পর্কের কথা নেইজাতীয় মুক্তির সনদ হতে গেলে এ সমস- কথাগুলো থাকা দরকার, আসা দরকারসেজন্য আমরা এটাকে বলেছি অসম্পূর্ণপরবর্তীকালে ১১ দফার ভিতর দিয়ে এটা পরিপূর্ণ পেলো, পরিপূর্ণ রূপ পেলোসমস- মানুষের আশা আকাঙ্খার ভিত্তিতে প্রণীত হলো ১১ দফা১১ দফা যখন দেওয়া হলো তখন আমরা বুঝেছিলাম যে,৭০-এর নির্বাচনটা আসলে বাঙালি জাতির একটা অসি-ত্বের লড়াইতারা এটাকে অসি-ত্বের সংগ্রাম হিসাবেই নেবে

   

আমরা যখন রাজনীতি করতাম তখন আমাকে সব থেকে বেশি প্রভাবিত করেছে সেই সময়কার বিপ্লবী আন্দোলনের সর্ব ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির founder মেম্বার কমরেড নলিনী দাসবরিশাল জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ছিলেন তিনিএ সময় তিনি under ground অবস্হায় ছিলেনতিনি খুলনায় এসে আমাদের বলেছিলেন,এ লড়াই স্বাধীনতার লড়াইয়ে চলে যেতে পারে যদি পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ১১ দফা মেনে না নেয়,৬ দফা মেনে না নেয়  এ সময় সাধারণ মানুষ গণআন্দোলনের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলোএই শক্তি সম্মিলিতভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর চেয়েছিলোআপোসে,শান্তিপূর্ণভাবে যদি ক্ষমতা হস্তান্তর না হয় তাহলে ফলাফল অন্য দিকে চলে যেতে পারে এই উপলব্ধিটা আমাদের তখন ছিলো

 

প্র: ১৯৭০-এর নির্বাচনী ফলাফল সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ কি ?

 

উ: পরিষ্কারভাবে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে,total পাকিস্তান leadership টা ছিলো ওখানকার অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তানের যারা ভূস্বামী তাদের হাতেআর এরা মঁরফবফ হলো মিলিটারিদের দ্বারাআর ছিলো একচেটিয়া পুঁজির মালিক যেমন-আদমজী, দাউদ, বাওয়ানি, ইস্পাহানিওদিকে আমেরিকা তাদের International interest ঠিক রাখতে ছিলো সদা ব্যস্ত অন্যদিকে সিয়াটো,সেন্টো চুক্তি ছিলো পাকিস্তানের সঙ্গেআমরা এ সব দেখে এবং জেনে উপলব্ধি করেছিলাম যে ৭০-এর নির্বাচনী বিজয়টাকে পাক adminstration সহজভাবে নেবে নাতারা ৬ দফাকে স্বাভাবিক স্বায়ত্বশাসনের দৃষ্টিতে দেখবে নাকারণ এটাকে মেনে নিতে গেলে পশ্চিম পাকিস্তানের যে এক ইউনিট সেটাকে ভাঙতে হয় এবং তাহলে তাদের যে মূল উদ্দেশ্য,সেটা ব্যাহত হয়এটা পাকিস্তানি সামরিক জান্তা মেনে নেবে না

 

প্র: ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে আপনার এলাকার মানুষের মনোভাব কেমন ছিলো ?

 

উ: মার্চ মাসে তো ৬ দফা আন্দোলন থেকে ১১ দফার আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠেতারপর অসহযোগ আন্দোলন চলছিলোএর আগে মতিউর-এর মৃত্যু,আসাদের মৃত্যু,পাক মিলিটারির মহড়া,হামলা,বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ-সব মিলিয়ে মনে হয়েছিলো যে এখন আর পিছনে ফেরার পথ নেইএরপর তো ২৫ মার্চের কাল রাতসে রাতে বঙ্গবন্ধুর নামে যে বেতার ঘোষণা,সেই ঘোষণাতে পরিষ্কার হয়ে গেলো যে,যুদ্ধ অনিবার্য, it is a must. বাগেরহাট এলাকায় আমরা তখন যেটা দেখেছি,প্রথম পূর্ব পাকিস্তানের ম্যাপ খচিত যে পতাকা সেটা উড়িয়ে দেয়া হয়েছেমানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে পতাকাটা উড়িয়েছিলোপতাকা দেখার জন্য কিন্তু মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলোএই যে আবেগ,এটা শুধু আবেগ নয়,এর ভিতরে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছিলোমানুষ বোধহয় ঐ সময় দুলছিলোসাপ যেমন আঘাত করার আগে ফনা তুলে দুলতে থাকে,আমার মনে হয়,সমস্ত মানুষ সে ভাবে দুলছিলোআমি তখন মনে করেছি যে,এখন যদি বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন,আহ্বান জানান,ডাক মানে কূটনৈতিক কোনো বক্তৃতা বিবৃতি না,ওটা যেন সত্যিকারভাবেই লড়াইয়ের ডাক হয়-তাহলে মানুষ সরাসরি arms Struggle-এ যেতে প্রস্তুমানুষ লড়াই করতে প্রস্তুএ সময় লড়াইয়ে যাওয়ার জন্য যে মানসিক প্রস্তুতি সেই প্রস্তুতিটা মনে হয় সমগ্র দেশবাসীর ছিলো

 

প্র: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ আপনি শুনেছিলেন কি ? এ বিষয়টাকে আপনি কিভাবে দেখেন ?

 

উ: আমি তখন ঢাকায় ছিলামঐ দিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বসেই তাঁর বক্তব্য শোনার সৌভাগ্য আমার হয়েছিলোপ্রথমে যে বিষয়টি আমাকে আলোড়িত করে সেটা হচ্ছে মানুষের ভীড়মনে হয়েছিলো দেশের জাতীয় মহাআন্দোলনে মহানায়কের আবির্ভাব ঘটছেসমগ্র মানুষ তাঁর ভাষণ শুনতে আগ্রহী ছিলোতিনি কি বলেন-সেটাই ছিলো তাদের লক্ষ্যঅবস্হাটা তখন এমন একটা Position-এ চলে গিয়েছিলো যে, মানুষ সব কিছুর জন্যই প্রস্তুত ছিলোআমরা মনে করি যে,রাজনীতিতে highest আদালত হচ্ছে জনগণসেই জনগণের রায় যখন কার্যকর হচ্ছে না,তখন জনগণের আদালতের রায়কে কার্যকর করার জন্য একটা প্রস্তুতি নিতে হবেসেটা যুদ্ধও হতে পারে অথবা গণ আন্দোলন,গণসংগ্রামও হতে পারে,সশস্ত্র লড়াইও হতে পারেতাঁর সেই আহ্বান,৭ মার্চের আহ্বান এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’,এই বিষয়টাকে আমরা ধরে নিতে পারি একটা  গণঅভ্যুত্থান, একটা গণবিপ্লব

 

প্র: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তার আক্রমণ সম্পর্কে আপনি কি শুনেছিলেন,কখন কি ভাবে শুনেছিলেন ?

 

উ: ২৫ মার্চ রাতে যে আক্রমণটা ঢাকাতে হলো-সেই খবরটা আমরা বাগেরহাটে বসেই পেয়ে যাইবাগেরহাটে আগেই একটা সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়েছিলোএই কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে আমরা শুনতে পেলাম যে পিলখানায়,জগন্নাথ হলে,তারপরে রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্পে পাকিস্তানি সেনাদের হামলা হয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষও মারা গেছেতখন আমরা ঠিক বুঝতে পারছিলাম না যে প্রকৃত অবস্হা কিতবে যেটুকু খবর আমরা শুনছিলাম তাতে আমরা বুঝতে পারি যে,মানুষকে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হচ্ছিলোযুদ্ধটা পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিলো

 

প্র: ১৯৭১ সালে আপনি আক্রান্ত হয়েছিলেন কি ?

 

উ: আক্রান্ততো আমরা সবাইবাগেরহাটে যখন আক্রমণ হলো তখন আমরা আক্রান্ত হলামতখন আমি পিছনে চিতলমারীতে চলে গেলামতখন তো আমরা ধষৎবধফু ভধপব করছি পাকিস্তানিদের

 

প্র: আক্রমণটা কিভাবে হয়েছিলো ?

 

উ: এখানে হঠাৎ করেই হামলা হয়েছেআমরা তো practically retreat করেছি এখান থেকে  আবার চিতলমারীতে যখন পাক আর্মি হামলা করলো তখন আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিরোধ করতেকিন্তু যখন দেখলাম যে কম্বিং অপারেশন বলতে যেটা বুঝায় সেটা শুরু করেছে পাকিস্তানিরা তখন আমাদের retreat করা ছাড়া কোনো উপায় ছিলো না

 

প্র: আপনি কেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন ?

 

উ: আমি মনে করেছি যে,মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা আমার রাজনৈতিক দায়িত্বতার কারণ আমি ছাত্র অবস্হা থেকেই শিক্ষা কমিশন বাতিল আন্দোলন,৬ দফা এবং ১১ দফা আন্দোলন,তারপরে আইয়ুব-ইয়াহিয়া বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিআমরা তখন মিটিং করেছি,মিছিল করেছিএটা আমার রাজনৈতিক দায়িত্ব ছিলোযখন আন্দোলন সশস্ত্র রূপ নিচ্ছে তখন আমি মনে করেছি,আমাকে যদি রাজনীতি করতে হয়,তাহলে সশস্ত্র লড়াই সংগ্রাম ছাড়া,মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা ছাড়া There is no other alternative. তাই আমি একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে organise করেছিআমার সঙ্গে আরো অনেকে ছিলেন

 

প্র: আপনার এলাকায় কখন পাকিস্তানিরা আক্রমণ করলো, কিভাবে করলো ?

 

উ: প্রথম আক্রমণ হয় বাগেরহাটে ২৪ এপ্রিলরোড দিয়ে না এসে তারা নদী পথে চৌমোহনী থেকে  গানবোটে করে আসে এবং তারপর তারা মির্জাপুরে পৌঁছায়তারা গুলি করতে করতে ঢোকেতখন দেখা গেছে,যারা মুসলিম লীগ করতো, জামাতে ইসলাম করতো-তারা মনে করেছে বন্ধুরা আসছেতাই তারা তাদেরকে receive করার চেষ্টা করেছেকিন্তু তাদেরকেও রেহাই দেয় নাই পাকিস্তানি মিলিটারী,তাদেরকেও গুলি করে মারছেযেমন সাবেক education minister আমজাদ সাহেবের মামা পাকসেনাদের গুলিতে মারা যায়আমজাদ সাহেবের মামা, তার বাবা এবং তাদের বাড়ির আরো ৬-৭ জন সেদিন পাক আর্মির গুলিতে মারা গেছেঅবশ্য এটা প্রথম দিককার ঘটনা

 

প্র: পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আপনার বাগেরহাট অঞ্চলে কি ধরনের নির্যাতন-অত্যাচার করে ?

 

উ: পাকিস্তানিরা যে সব এলাকা বা জায়গা থেকে resistance-এর মুখোমুখি হয়েছে,যেখানে মুক্তিযুদ্ধটা ড়ৎমধহরংব হচ্ছে,আবার যেখানে অর্থ সম্পদ এবং নারী পাওয়া যাবে সেই পয়েন্টগুলো locate করেছে এবং সেইসব পয়েন্টগুলোতে তারা হামলা করেছেযেমন এখান থেকে চিতলমারীতে গেছে,তারপর  সেখান থেকে গোয়ালমাঠ,তারপরে তারা মোরেলগঞ্জে গেছেতারা মানুষকে ভীত সন্ত্রস্ত করার জন্য দক্ষিণ এলাকায় গেছেসেখানে তারা অগ্নিসংযোগ করেছে,নারী ধর্ষণ করেছে,তারপরে তারা মন্দির,মসজিদ-নির্বিশেষে আক্রমণ চালিয়েছেতাদের দুরকমের পরিকল্পনা লক্ষ্য করেছি-এক. মুক্তিযোদ্ধারা যেখানে organise হচ্ছে সেখানে তারা হামলা করে তাদেরকে হত্যা করে,উৎখাত করার চেষ্টা করেছে; অপরদিকে সাধারণ মানুষের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য অগ্নিসংযোগ,লুটতরাজ এবং গণহত্যা চালানো হয়েছে নির্বিচারে

 

প্র: গণহত্যাটা বাগেরহাটের কোন‌ জায়গায় বেশি হয়েছে

 

উ: গণহত্যাটা প্রথমত বাগেরহাটে হয়েছেযেমন চিতলমারীতে হয়েছেএটা মুক্ত এলাকা ছিলোহামলা হওয়ার আগে এখানে মেজর জলিল সাহেব আসেনক্যাম্প হয় বাগেরহাট স্কুলেতখন রাজনৈতিক মূল নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন এম.পি. এবং বাগেরহাট মহকুমা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমান সাহেবএক পর্যায়ে উনারা ক্যাম্পটা গুটায়ে নিয়ে নিলেনমেজর জলিল সাহেব এবং রহমান সাহেব চলে গেলেনউনারা চলে গেলে আমরা বাগেরহাট স্কুল থেকে ক্যাম্পটা শিফ্‌ট করলাম নাগেরবাড়িতেনাগেরবাড়িতে আমরা যখন শিফ্‌ট করি তখন মজিবুর রহমান, স্টুয়ার্ট মুজিবর রহমান বা মজিবুর রহমান হতে পারেতিনি কিছু সংখ্যক আনসার এবং কিছু পুরানো লোকজন নিয়ে এখানে অবস্হান নিলেনএখানে নতুন কমিটি করা হলোএখানে আসার পর আওয়ামী লীগ সেক্রেটারী সালাহউদ্দিন সাত্তার সাহেব কমিটির আহ্বায়ক হলেনআমি তখন ন্যাপের সেক্রেটারি হিসাবে যুগ্ম আহবায়ক হলামআমাদের ন্যাপের President,তারপরে সোহরাব সাহেব প্রাক্তন মিনিস্টার আবদুস সামাদের ভাগিনেয়,তারপরে লতিফ খন্দকার-এদেরকে নিয়ে কমিটি হলো নতুন করে যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্যসেখানে আমার কাজ ছিলো মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুট করা,politically মটিভেট করা ইত্যাদিকিন্তু তারপরের দিনই নাগেরবাড়িতে হামলা হলোআমাদের উপর হামলা হলে এক গ্রুপ এখা