নাম : শেখ আবদুল হান্নান

পিতা : মরহুম শেখ মোখলেছুর রহমান

গ্রাম : রণবিজয়পুর, ইউনিয়ন : ষাটগম্বুজ

ডাকঘর : কে. আলী দরগাহ

থানা : বাগেরহাট, জেলা : বাগেরহাট, (৭১-এ খুলনা জেলার অন্তর্গত মহকুমা )

শিক্ষাগত যোগ্যতা : এস. এস. সি.

১৯৭১ সালে বয়স : ১৭

১৯৭১ সালে পেশা : ছাত্র

বর্তমান পেশা : ব্যবসা

 

 

প্র: ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং তার পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে আপনি কি জানেন ?

 

উ: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হয়কিন্তু তারপর পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী যখন বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা হস্তান্তরে টাল বাহানা শুরু করে তখন আন্দোলন বিরাট আকার নিতে শুরু করেএই আন্দোলন বাগেরহাট থেকে শুরু করে, ঢাকা থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশেই ব্যাপক আকারে ছড়ায়ে পড়লোআমাদের বাগেরহাটে তকালীন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ আবদুর রহমান সাহেব এম. পি. নির্বাচিত হয়েছিলেনতাঁর নেতৃত্বে তখন সব কিছু আবর্তিত হচ্ছিলোতাছাড়া এখানে মোজাফফর ন্যাপের যে সংগঠন ছিলো, তার নেতৃত্ব দিয়েছেন অ্যাডভোকেট সবুর আহমদ সাহেবন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ভাসানী ন্যাপ যেটা ছিলো তার নেতৃত্ব তখন দিয়েছেন আমজাদ আলী গোরাই মিয়াঅন্য দলও ছিলোআন্দোলনরত সব দল নিয়ে সবার সমন্বয়ে সংগ্রাম পরিষদগঠিত হয়েছিলোএই সংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে আমরা তখন ছাত্রলীগের যারা সদস্য ছিলাম, আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন বা অন্য অঙ্গ সংগঠন যা ছিলো সবাই সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে নেমে পড়লাম

 

   পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত কমোডর মোয়াজ্জেম সাহেবের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হলো ঢাকাতেতিনি তখন একটা গোপন সংগঠন করতেন বলে শুনেছিআমাদের সৌভাগ্য হয়েছিলো আমি, আমার ভাই শেখ আবদুল মান্নান, পাঠান আবদুল মান্নান, তারপরে ভল্টু মিয়া এ রকম কিছু লোকের ঢাকায় কমোডর মোয়াজ্জেম সাহেবের এক গোপন মিটিং-এ অংশ নেয়ারঘটনাটা ঘটে ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকেএই মিটিংয়ে একে একে ফবপরংরড়হ হতে থাকে যে, দেশ স্বাধীন করতে হবে, স্বাধীন বাংলার পতাকাটা কি বা কেমন হবে, দেশের নামকরণ কি হবে ইত্যাদি বিষয়েতখন ঐ সভাতেই বলা হলো দেশের নাম হবে বাংলাদেশএবং পতাকা হবে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তপতাকার নমুনাটা ভল্টুমিয়া, পাঠান আবদুল মান্নান, শেখ আবদুল মান্নান এরা সংগ্রহ করে বাগেরহাট নিয়ে আসেন খুব গোপনেবাগেরহাটে তখনকার নামকরা দর্জি ছিলেন আনসার সাহেবআনসার দর্জি আওয়ামী লীগকে খুব ভালোবাসতেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতেনতার কাছে খুব গোপনে রাত বারোটার পর আমরা গেলামগোপনে তিনি পতাকাটা তৈরী করে দিলেন

 

   ছাত্রলীগের ভিতর তখন দুটো গ্রুপ ছিলোএক হচ্ছে নূরে আলম সিদ্দিকী আর আবদুল কুদ্দুস অন্যদিকে আ.স.ম. আবদুর রব এবং শাজাহান সিরাজএদের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত যে পতাকা সেই পতাকা সর্ব প্রথম উত্তোলন করেন আ.স.ম. আবদুর রবআমরা উনারই গ্রুপ করতামআমি বলেছি তখন ছাত্র লীগ দুটো গ্রুপে বিভক্ত ছিলোএই গ্রুপের কারণে যখন জানতে পারলাম যে আমরা যে গ্রুপ করি, সেই গ্রুপের নেতা আ.স.ম. রব ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটমূলে পতাকা উত্তোলন করছেন তখন আমরাও বাগেরহাটে পতাকা তোলার সিদ্ধান্ত নিলামবাংলাদেশের আর কোথাও স্বাধীন বাংলার পতাকা তখন উত্তোলন করা হয়েছিলো কিনা আমার জানা নেইতবে আমরা সেদিন সচেতনভাবেই বাগেরহাট সাবডিভিশনের সাবডিভিশনাল কর্তা এস. ডি. ও. সাহেবের অফিসের উপর যে পাকিস্তানি পতাকা উড়ছিলো সেটা নামায়ে বাংলাদেশের পতাকা তোলা হয়এম. পি. শেখ আবদুর রহমান সাহেবের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি আমাদেরকে পতাকা তোলার নির্দেশ প্রদান করেনসেদিন অর্থা ২ মার্চ আমি, আমার বড় ভাই, পাঠান আবদুল মান্নান, অশোককুমার দেবনাথ আর নজরুল ইসলাম নাম করে এক ছেলে এস. ডি. ও. বিলডিংয়ে উঠে যখন পাকিস্তানি পতাকাটা পাঠান আবদুল মান্নান নিচে নামালো তখন ট্রেজারীতে ডিউটিরত পুলিশ পাঠান মান্নানকে গুলি করতে উদ্যত হয়তার ভাগ্য ভালো এস. ডি. ও. সাহেবের হেডক্লার্ক দুদু সাহেব, আসল নাম এখন মনে নেই, তিনি পুলিশ সুবেদারকে গুলি না করতে বলেনপুলিশ ফোর্সকে থামিয়ে দেনপাঠান আবদুল মান্নান এস. ডি. ও. বিলডিং থেকে নিচে নেমে আসলে হেডক্লার্ক সাহেব তাকে দু চারটে চড় থাপপড় মেরে তাড়ায়ে দেননিচে তখন অনেক জনতা সমবেত ছিলোতখন মাইক হাতে ঘোষণা দিচ্ছিলেন আজকে বেঁচে নেই, আমিরুজ্জামান বাচ্চু, ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন তার অক্লান- পরিশ্রমে এখানকার আন্দোলন দানা বাঁধেআজকে তার কথা আমরা সবাই ভুলে গেছি, ভুলে যাওয়ার পথেআমিরুজ্জামান বাচ্চু মাইক হাতে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে আমাদেরকে সেদিন উজ্জীবিত করেছিলো, শরীরের রক্তকে গরম করে তুলেছিলোপতাকা তুলে ফিরে আসার পর শুনলাম যে, খুলায় যে সামরিক আইন প্রশাসকের আদালত ছিলো সেই সামরিক আইন প্রশাসকের আদালতে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছেখুলনায় তখন সামরিক আইন প্রশাসক ছিলেন কর্নেল শামস নামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একজন অফিসারএমন কি যারা তখনকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তাদের অনেকে আমাদেরকে ধিক্কার দিয়েছেন এবং বলেছেন যে পতাকাটা তোলা ঠিক হয়নিআমাদের বিরুদ্ধে গণ আদালতে বিচারেরও একটা দাবি উত্থাপিত হয়েছিলোএই পরিস্হিতিতে আমরা কজন গা ঢাকা দিয়ে পালায়ে থাকলাম

 

প্র: ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও এই দলকে ক্ষমতায় যেতে দেওয়া হলো না, এই পরিস্হিতিতে বাগেরহাটের মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিলো ?

 

উ: এই পরিস্হিতিতে তকালীন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে যে আন্দোলনের ঝড় উঠেছিলো তা থেকে বাগেরহাট কোনো অংশে কম ছিলো নাআমরা পিছায়ে ছিলাম নাবরং আমরা খানিকটা এগিয়ে ছিলামএ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথা মনে পড়ছেসম্ভবত মি: কাউথ নামে একজন পাঞ্জাবি ভদ্রলোক খুলনার এডিসি জেনারেল হিসাবে তখন দায়িত্ব পালন করছিলেনতিনি এ সময় আমাদের এখানে এসে আন্দোলনরত কলেজ ছাত্রদের উপর হঠা করেই গুলি করার নির্দেশ দেনআমরা তখন এডিসি কাউথের কাছে এর বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ জানিয়েছি, কৈফিয় চেয়েছিপ্রতিবাদ করেছিলেন সবুর ভাই, শেখ আবদুর রহমান সাহেব, আমজাদ আলী গোরাই মিয়া প্রমুখফলশ্রুতিতে এদের বিরুদ্ধে আবার ওয়ারেন্ট জারি হয়অন্যদের ধরতে না পারলেও শেখ আবদুর রহমান অ্যারেস্ট হয়ে কারাবরণ করেনপ্রতিদিন মিটিং মিছিল তো ছিলোইসমস্ত মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলো

 

প্র: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ঘটনা সম্পর্কে আপনি  কি জানেন এবং পরবর্তীতে আপনার এলাকার মানুষের ভূমিকা কি ছিলো ?

 

উ: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে যখন হানাদার পাকিস্তান বাহিনী আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে-তখন ঐ রাতেই এ খবরটা আমরা টেলিফোনে পেলাম বরিশালের এম. এন. এ. নূরুল ইসলাম মঞ্জু সাহেবের কাছ থেকেনূরুল ইসলাম মঞ্জু সাহেব বলেছিলেন ঢাকায় ক্র্যাকডাউন হয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন আপনারা প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেনএই সংবাদ বাগেরহাটের এম. পি. এ. শেখ আবদুর রহমান সাহেবের বাসাতে তিনি টেলিফোনে জানানআমরা তক্ষণা আবদুর রহমান সাহেবের কাছ থেকে পাক সেনাদের ক্র্যাকডাউনের খবর শুনলামপরদিন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র চিটাগাং থেকেও স্বাধীনতার ঘোষণাটি বার বার শুনতে পেলামপূর্ব পাকিস্তানে assembled একটা সিটিজেন রেডিও ছিলো আমাদেরসেই রেডিওর নভ ঘোরাতে ঘোরাতে আমরা হঠা করেই চট্টগ্রাম centre টা ধরতে পারিএই সংবাদ পাওয়ার পরে স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে আরো নিশ্চিত হওয়া গেলোএই সংবাদে বাগেরহাটের নেতৃস্হানীয় যারা ছিলেন, প্রকৃতপক্ষে যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তারা এগিয়ে আসলেনআমি আগেই বলেছি বাগেরহাটে কয়েকটা রাজনৈতিক পার্টির সমন্বয়ে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিলোতারা সবাই এগিয়ে আসলেনকালীন বাগেরহাট মহকুমার সরকারি প্রশাসনে ইউ.সি. সরকার নামে এক হিন্দু ভদ্রলোক second officer হিসাবে কাজ করছিলেনআর third officer হিসাবে ছিলেন জনাব নূরুল ইসলামএদের কাছে এম. পি. শেখ আবদুর রহমান এবং সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য সদস্য যারা ছিলেন তারা ট্রেজারির সমস্ত অস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষদের দেবার আহ্বান জানালেনতারা সরকারি কর্মকর্তাদের বললেন, বাংলার বুকে বাঙালিদের উপর যে অত্যাচার চলছে, যে গুলি হচ্ছে আমরা সেটা প্রতিহত করতে চাইআমরা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইসশস্ত্র বিপ্লব করতে চাইএ দেশকে মুক্ত করতে চাইতখন third officer জনাব নূরুল ইসলাম সাহেব ট্রেজারির চাবিটা দিয়ে বললেন যে, আপনারা ট্রেজারির চাবিটা জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে নিয়ে যাচ্ছেন, এইটে একটু দেখানআমরা সবাই নেতাদের সঙ্গে ছিলামআমরা অফিসারকে ঘেরাও দিয়ে ট্রেজারির চাবি নিয়ে সমস্ত অস্ত্র সংগ্রহ করলাম

 

   In the mean time মেজর এম. এ. জলিল, লেফটেন্যান্ট মেহেদী, ক্যাপ্টেন হুদা এরা বাগেরহাটে পৌঁছানএরা পৌঁছানোর পর আমরা ২৬ মার্চে ট্রেজারি থেকে যে অস্ত্র collection করেছিলাম সেইসব অস্ত্র আনসার বাহিনী এবং ইপিআর বাহিনীর যে সব সদস্য এখানে পালায়ে আসছিলেন তাদের ভিতর এবং পুলিশের retired সদস্য,retired army সদস্য এদের ভিতর অস্ত্রগুলো বন্টন করা হয়জলিল সাহেব বাগেরহাটে এসে বলেছিলেন খুলনায় যে বেতার কেন্দ্র আছে, আমি সেই বেতার কেন্দ্র দখল করে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশে যে মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে বা মুক্তিযুদ্ধ আমরা শুরু করেছি-এমন ঘোষণা দিতে চাইপরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ঠা এপ্রিল খুলনার গল্লামারীতে অবস্হিত রেডিও সেন্টার আক্রমণ করা হয়এখানে মেজর জলিল সাহেবের নেতৃত্বে সুবেদার মেজর, সুবেদার এবং হাবিলদার সমন্বয়ে বিভিন্ন গ্রুপ করে আক্রমণে পাঠানো হয়এই যুদ্ধে আমাদের দুইজন যোদ্ধা মারা যানএদের একজন হচ্ছে চিতলমারীর সুবেদার জয়নাল আবেদীনতিনি একটা গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেনআর অপর জন খুলনার রূপসায় বাড়ি হাবিবুর রহমান নাম করে এক ভদ্রলোকতিনিও ওখানে শাহাদাত বরণ করেনআমার জানামতে দুই জনই সেদিন মারা গেছিলেনঐ যুদ্ধে আমি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করিনিআমার তখন কোনো ট্রেনিং ছিলো নাতবে আমি তখন যারা যুদ্ধ করেছিলো তাদের সংগে থেকে রসদ supply করেছিঔষধপত্র, ডাব, রুটি এসব পৌঁছে দিয়েছিযুদ্ধে আমরা খুলনা রেডিও সেন্টার দখল করতে পারিনিএরপর আমরা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি

 

প্র: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে বক্তৃতা দেন, সেই বক্তৃতার কথা কি আপনি শুনেছেন ?

 

উ: তাঁর বক্তৃতার কথা আমি কেন সারা বাংলার মানুষ শুনেছেঐ বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু যে দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেটা আমার কাছে মনে হয়েছে যে, তিনি পরবর্তীতে কি অবস্হায় থাকবেন, কি অবস্হার ভিতর পড়বেন সেটা ভেবেই বোধহয় বলেছিলেন যে, আমি যদি হুকুম দেবার না পারি তাহলে তোমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুুর মোকাবেলা করবেআমরা ৭ মার্চের ভাষণে এটা উপলব্ধি করি যে দেশ স্বাধীন হতে যাচ্ছেতাঁর ভাষণ ছিলো আমাদের কাছে দিক্‌ নির্দেশনা

 

প্র: ১৯৭১ সালে আপনি আক্রান্ত হয়েছিলেন কি ?

 

উ: ১৯৭১ সালে আমি আক্রান্ত হইনিতবে আমি যখন প্রথমে ইন্ডিয়ায় যাই তখন প্রথম স্টেজেই ট্রেনিং সেন্টারে যেতে পারিনিকারণ ৯ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর এম. এ. জলিল সাহেব আমাকে যুদ্ধের জন্য যুবক ছেলে সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত করেনআমি বিভিন্ন টাইমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকেছিছাত্রলীগের ছেলে বা কৃষকলীগের লোক বা সচেতন নাগরিক যারা মুক্তিযুদ্ধে স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে চায়, তাদেরকে একত্রিত করে আনতে আমি বাংলাদেশের ভিতরে গেছি অনেকবারএমন কি বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসের সাহেব যিনি নদীর ওপার উত্তর বাগেরহাটে ধোপাখালি ছিলেন, তাঁর সঙ্গে আরো ১০/১২ জন লোক ছিলো; তাদেরকে আমি বাংলাদেশের ভিতর থেকে পথ দেখায়ে ইন্ডিয়ায় নিয়ে আসি জামরুলতলা ক্যাম্পে যেটা recruiting centre বা ক্যাম্প ছিলোএম. পি. শেখ আবদুর রহমান সাহেব এই ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. এ. জলিলআর শেখ আবদুর রহমান এম. পি. এ. ছিলেন political adviserবাংলাদেশ সরকারই এ নিয়োগ দিয়েছিলোআমি recruitment-এর দায়িত্বে থাকা অবস্হায় মেজর এম. এ. জলিল সাহেব আমাকে ট্রেনিং সেন্টারে পাঠালেন ট্রেনিং গ্রহণের জন্যট্রেনিং শেষ করে যখন সুবেদার তাজুল ইসলাম সাহেবের সঙ্গে দেশের ভিতর ঢুকতে যাচ্ছি-তখন আমরা যে গাড়িটাতে আসছিলাম, সেই গাড়িটিতে আমরা ৫০/৬০ জন মতো মুক্তিযোদ্ধা ছিলামগাড়িটি ইংল্যান্ডের bedford গাড়ি ছিলোএ সব গাড়ি যশোর থেকে ইন্ডিয়ায় আনা হয়েছিলো পাকিস্তানিদের কাছে যশোর পতনের আগ দিয়েআমাদের গাড়িতে তখন অনেক গোলাবারুদও ছিলোদেশের ভিতরে আমরা বাগ&#