নাম : শেখ আবদুর রহমান

পিতা : মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসাহাক

গ্রাম : আমলাপাড়া,

ইউনিয়ন : বাগেরহাট

ডাকঘর : বাগেরহাট,

থানা ও জেলা : বাগেরহাট (১৯৭১ সালে খুলনা জেলার অন্তর্গত)

শিক্ষাগত যোগ্যতা : এল.এল.বি.

১৯৭১ সালে বয়স : ৩৫

১৯৭১ সালে পেশা : আইনজীবী

বর্তমান পেশা : আইনজীবী

 

 

প্র: ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আপনি  কি জানেন ?

 

উ: নির্বাচনটার প্রধান ইস্যু ছিলো ছয় দফার ভিত্তিতে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার আদায়ছয় দফা আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে ছাত্রদের এগার দফা আন্দোলন,এ দুটোর ভিত্তিতে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার বা স্বাধীনতা আন্দোলন তখন দানা বেঁধে উঠছিলোএ দুটোর ভিত্তিতেই মানুষের মন-মানসিকতা গড়ে উঠেছিলোনির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি সামরিকজান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে টাল-বাহানা শুরু করলে এই অঞ্চলের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেএই সময়কার বিক্ষুব্ধ অবস্হা শুধু ঢাকায় না,সারা বাংলাদেশের মানুষই বিক্ষুব্ধ অবস্হায় ছিলোমনের কষ্টে তারা মিটিং মিছিল করছিলোএ মিটিং দিনে এবং রাতেও চলতোমিছিলের একটা প্রবাহ ছিলোআমি তো আমার এই বাড়িতেই বাস করতে পারি নাই,ফ্যামিলি আমি অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছিলামবাড়িতে মিছিল আসতো সব সময়,সকাল থেকে রাত ১০টা/১১টা পর্যন্ত আমার বাড়িতে মিছিল আসতোলাঠি-সোটা,দাও,কুড়াল,এ সব নিয়েও মানুষ আসতোতার অর্থ হচ্ছে পশ্চিমা সামরিক জান্তা যারা আমাদের উপরে অত্যাচার নির্যাতন করছে-এদের থেকে মানুষ মুক্তি চায়মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিলোএর আগে ছয় দফার আন্দোলনকে ঘিরে মানুষ কেমন জানি সংগ্রামী হয়ে গেলোআমাদের চেয়ে বেশি সংগ্রামী হতে লাগলো সাধারণ মানুষতারা যেন একটা যুদ্ধ অবস্হায় চলে যাচ্ছিলোএ রকম অবস্হা আমি আর কখনো দেখি নাইইতিহাসে পড়েছি,আমি ইতিহাসের ছাত্রফরাসী বিপ্লব পড়েছিঅন্যান্য বিপ্লবও পড়েছিকিন্তু আমাদের দেশে ১৯৭১ সালে যে গণ বিপ্লব সেটা কল্পনাও করা যায় না আজকের দিনে

   

১৯৭১ সালে বাগেরহাট একটা মহকুমা শহর ছিলোএখনকার মতো সুযোগ সুুবিধা তখন ছিলো নাশিক্ষিতের সংখ্যা ছিলো কমকিন্তু তখনই আমাদের মেয়েরা রাস্তায় মিছিলে নেমেছেদিনের পর দিন তারা মিছিল করেছে, শ্লোগান দিয়েছেবাগেরহাট শহরের সুনাম বহু আগে থেকেই ছিলোএকটা Intellectual area বলা যায়পি.সি. কলেজ (প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ) এখানেই ছিলোঅত্যন- সুনামের সঙ্গে এখানে পড়াশুনা হতোঅন্যান্য জেলা থেকে বাগেরহাট কলেজে বহু ছেলেমেয়ে পড়তে আসতোছাত্ররাও তৎকালীন সময়ে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেমহিলারা,শ্রমিকরা-এক কথায় আপামর জনসাধারণ একটা বিপ্লব ঘটিয়ে ফেললোএ সময় আমরা চুপ করে থাকতে চাইলেও বোধহয় চুপ করে থাকতে পারতাম নাতখন নেতা-কর্মী কোনো পার্থক্য ছিলো নাসর্বত্র মানুষের মধ্যে একটা আন্দোলন,সংগ্রামী চেতনাতাদের খাওয়া-দাওয়া ছিলো না,ঘুম ছিলো না,বিশ্রাম ছিলো নারাত দুপুরে মানুষ মিছিল নিয়ে চলে এসেছেতারা ঘুমাতো না,আমাদেরও ঘুমাতে দিতো নাতারা আমাদেরকে অনেক খারাপ কথাও বলতোখারাপ কথা মানে আপনারা ঘুমান,আন্দোলন আমরাই করিতখন বাধ্য হয়ে আমাদেরকে ঐ সাধারণ মানুষের সঙ্গে যেতে হয়েছেতখন তো আমি এম. পি. এ. ছিলামতারপরও তারা আমাকে কথা শুনাতে ছাড়তো নাঅনেক সময় খাওয়া-দাওয়া ছাড়া আমাদের মিছিলে অংশগ্রহণ করতে হতোআমি তো প্রায়ই খাওয়া-দাওয়া করার সুযোগ পেতাম না,বিশেষ করে মার্চ মাসের দিনগুলোতে

   

ক্ষমতা দেবে কি দেবে না-এ নিয়ে আমরা সন্দেহের মধ্যে ছিলামআমাদের নেতা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবও সন্দেহের মধ্যে ছিলেনআমাদের যে চার ছাত্র নেতা তারা তো ২ মার্চ ঢাকাতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েই দিলোআমরা বাগেরহাটেও স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে দিলামতারিখটা মনে নেইপাকিস্তানি পতাকা বাগেরহাট এস.ডি.ও. অফিসের উপর থেকে নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা তোলা হয় আমারই নির্দেশেযে সব ছেলেরা পতাকা তুলেছিলো তাদের মধ্যে পাঠান আবদুল মান্নান,আমার ভাগ্নে শেখ আবদুল মান্নান,হান্নান এরা ছিলোআরো অনেকেই ছিলো পতাকা উত্তোলনের সময়মনে পড়ছে আমাদের সবুর মিয়াও ছিলোআমি সেদিন বললাম যে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে ফেলো এবং বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দাওআমি কিন্তু বাগেরহাটে এই কামটা করেছিলামএ কারণে আমার against-এ পাকিস্তানি সামরিক জান্তার কাছে নালিশ জানানো হয়এখানকার যারা মুসলিম লীগের নেতা ছিলো তারা এবং আমাদের দলীয় কেউ কেউ উস্কানি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে দুইটা কেইস করা হয়েছিলোতখন তো আমরা কেসের ভয় করতাম না,যা হয় হবে-এমন ভাব ছিলো আমাদের মধ্যে

 

প্র: ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ঘটনা সম্পর্কে আপনি আরো কিছু বলবেন কি ?

 

উ: হ্যাঁ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে আমি সার্বক্ষণিক মানুষজনের পাশেই থাকতাম-এই জন্যে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, মানুষ যেন উচ্ছৃঙ্খল না হয়ে যায়, মানুষ যেন track-এর বাইরে চলে না যায়মানুষ যদি track-এর বাইরে চলে যায়-তাহলে পাকিস্তানিরা পৃথিবীর সামনে বলবে যে, এরা unrully peopleসুতরাং এদেরকে গুলি করে মারা যায় এবং পাকিস্তানিরা তা করবেবঙ্গবন্ধু আমাদের মিটিং ডাকতেন সপ্তাহে একবারতখন আমরা খুব উদগ্রীব হয়ে থাকতাম খবরের জন্যেআমার বাসার টেলিফোন নাম্বার ছিলো ডাবল ফোরবঙ্গবন্ধু সব সময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেনপ্রত্যেক মহকুমার আওয়ামী লীগ দলীয় প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির টেলিফোন নাম্বার বঙ্গবন্ধুর কাছে ছিলোটেলিফোনে আলাপ করতেন,এলাকার খবর নিতেনআমরাও বাগেরহাট মহকুমা সদর থেকে পল্লী অঞ্চল পর্যন্ত কোথায় কি ঘটছে,কি হচ্ছে,সব জানাতামআমি তো তখন মহকুমা আওয়ামী লীগ প্রেসিডেন্টআমি পরপর তিন টার্ম প্রেসিডেন্ট ছিলামএ সময় আমি এম. পি. এ. ছিলামআন্দোলনে আমি তখন একা ছিলাম না,আমার সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ ছিলো,যারা সাহায্য করেছেনতখন রাস্তাঘাট তেমন ভালো ছিলো না,কিন্তু প্রয়োজন পড়লে মানুষ ছুটে গেছেতারা বিশ-পঁচিশ-ত্রিশ মাইল দূরে বিভিন্ন থানায় অর্থাৎ আজকে যেটা উপজেলা বা থানা সেখানে যোগাযোগ করেছে,খবর এনেছেগ্রামের মানুষ উত্তাল তরঙ্গ হয়ে মহকুমায় চলে আসতো মিছিল নিয়ে

 

প্র: ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে আপনার এলাকার জনগণের মনোভাব কেমন ছিলো ?

 

উ: তখন মানুষের মনোবল অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিলোসবার মধ্যে জঙ্গী ভাব ছিলোতারা কেবল নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতো,বঙ্গবন্ধু কি নির্দেশ দেয়-তার জন্য

 

প্র: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া বক্তৃতার কথা কি আপনি শুনেছেন ? শুনলে কি শুনেছেন ?

 

উ: তাঁর বক্তৃতার সময় আমি তো তাঁর সঙ্গেই ছিলামকারণ আমি তখন তো এম. পি. এ.আমি সেদিন ঢাকাতেউনি বললেন যে,ইয়াহিয়া খান সাহেব আপনি আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেনআমাদের যুক্তিসংগত দাবি আপনি মেনে নেনগায়ের জোরে কিছু করার চেষ্টা করবেন নাকরতে চাইলে বাংলার মানুষ তা মানবে নাতিনি আরো বলেছিলেন-এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রামওটাই ছিলো প্রধান নেতার কাছ থেকে মূল দিক নির্দেশনা

 

প্র: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তার আক্রমণ সম্পর্কে আপনি কি শুনেছিলেন ? কখন কিভাবে শুনেছিলেন ?

 

উ: ঢাকা থেকে আমরা ৭ মার্চে মিটিংয়ের পর পরই রাতেই জীপে করে চলে আসলাম বাগেরহাটেতখন আমরা নির্বাচিত প্রথিনিধি-এম. পি. এ.,এম. এন. এ. যারা ছিলাম-তারা যার যার এলাকায় চলে গেলামতাছাড়া আমি পার্টির প্রেসিডেন্ট বা সভাপতি হিসাবে আমার দায়িত্ব তো সর্বাধিক ছিলো মহকুমার মধ্যেবঙ্গবন্ধু আমাদের বলে দিয়েছিলেন যে,তোমরা আমার নির্দেশের খুব বেশি অপেক্ষা করবে নাতোমরা সবই বুঝ, তোমরাও নেতা,সে অনুযায়ী তোমরা কাজ চালিয়ে যাবেআমি বেঁচে থাকি বা মারা যাই,নির্দেশ দিতে পারি বা না পারি,তোমরা তোমাদের মতো কাজ চালিয়ে যাবে,দেশ একদিন মুক্ত হবে,স্বাধীন হবেএ মনোবল নেতার ছিলো,আমাদের ছিলো,জনগণেরও ছিলো

   

এই খবরটা আমি রাত তিনটার সময় মানে ২৬ মার্চ নূরুল ইসলাম মঞ্জু যিনি পরবর্তীতে State Minister হয়েছিলেন বরিশালের,তিনি আমাকে টেলিফোনে খবরটা দিলেনতিনি আমার বাসার ৪৪ নম্বর টেলিফোনে কথা বলেছিলেন বরিশাল থেকেটেলিফোন করে তিনি বললেন,রহমান ভাই,crack down হয়েছে,যা আশংকা করেছিলাম তাই হলোবঙ্গবন্ধু আমাদের যেভাবে বলেছিলেন সে অনুযায়ী এখনই প্রস্তুতি নিতে হবেপাকিস্তানিরা এখন হামলা করবে আমাদেরকে আত্মরক্ষা করতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদেরকে মারতেও হবেটেলিফোন ছাড়ার পর ঐ কথাগুলো মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো

 

প্র: পাকিস্তানি হামলার পর আপনার এলাকার পরিস্হিতিটা কেমন ছিলো ?

 

উ: আমার মনে হয় তখন আমাদের জনগণ,আমাদের কর্মী বাহিনী এবং পরবর্তীতে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন তারা আমাদের চেয়েও অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েছিলেন,তাদের মনোবল এতো বেশি ছিলো যে,তারা যুদ্ধ করে মরে যাবে তবু মাথা নত করবে নাসবাইকে মনে হতে লাগলো সুভাষচন্দ্র বোস,সবাইকে মনে হতে লাগলো শেখ মুজিবুর রহমান

 

প্র: ১৯৭১ সালে আপনি  কি আক্রান্ত হয়েছিলেন ?

 

উ: আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকবারই আক্রান্ত হয়েছিআল্লাহতালা আমাকে মাফ করেছেনআমাদের এখানে রাজাকারদের বড় ঘাঁটি ছিলো,তারা বিপুল সংখ্যায় ছিলো-যা অনেক জেলায় ছিলো নাএখানে একটা লোক রজব আলী ফকির,রাজাকারদের লীডার ছিলোসে কত হাত লম্বা ছিলো তা মেপে দেখি নাই,তবে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি লম্বা ছিলোস্বাস্হ্যও ভালো ছিলোতার সংগে আরো অনেক রাজাকার ছিলোআসলে এই অঞ্চলটা মুসলিম লীগ প্রভাবিত অঞ্চলএটা আগে থেকেই চলে আসছেএটা সবুর খানের মহকুমাঅবশ্য উনি থাকতেন খুলনায়তবুও এখানে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিলো,প্রভাব ছিলোএমন একটা অঞ্চলে আমরা গুটি কয়েক লোক ফাইট করেছিআমার বয়স তো বলেছি ৩৫/৩৬ হবেতো আমি তাদের সংগে মোকাবেলা করেছিএখানে রোকা মিয়া ছিলেনরোকা মিয়া এম. এন. এ. ছিলেন পাকিস্তান আমলেমোজাম্মেল ডাক্তার সাহেব ছিলেন সাবেক এম. পি. এ. এবং খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেনএদেরকে খাটো করে দেখার কোনো কারণ নেইতাদের সংগে মোসলেম ডাক্তার সাহেব ছিলেনআলতাফ সাহেব ছিলেন,এম. এন. এ. আতাহার সাহেব ছিলেনএরা ক্ষমতা, অর্থ,বিত্তে কেউই কম ছিলেন নাতারা নেতা হিসাবেও বেশ শক্তিশালী ছিলেনলেখাপড়াও ভালো জানতেনআলতাফ সাহেব তো এল. এল. বি. অ্যাডভোকেট, আতাহার সাহেবও বোধহয় গ্রাজুয়েটআর মোজাম্মেল সাহেব তো ডাক্তার ছিলেনরোকা মিয়া অ্যাডভোকেট ছিলেন,মোসলেম সাহেব ছিলেন ডাক্তারবাগেরহাটে আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য সংগঠন বলতে ন্যাপের ভালো সংগঠন ছিলোদুটো ন্যাপেরই ভালো সংগঠন ছিলোএখন আমার সামনে বসে আছেন সবুর মিয়া,উনি মোজাফফর ন্যাপ করতেনতারপরে গোরা মিয়া ছিলেনতারও যথেষ্ট অবদান ছিলো স্বাধীনতা যুদ্ধেঅন্যান্য দল যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগী দল ছিলো সে সব দল বলিষ্ঠভাবেই এখানে নেতৃত্ব দিয়েছেকাজ করেছে

   

আমার বর্তমান এই বাড়িতে কয়েক বারই আক্রমণ করা হয়েছে আমাকে হত্যার জন্যএক চেয়ারম্যান আমার ভাগ্নে, সে একদিন আমাকে বললো যে,আজকে রাত্রে আপনি বাড়িতে থাকবেন নাআজকে রাতে আপনার জানের উপরে হামলা হবেকে,কারা বা কোথা থেকে সেই হামলা পরিচালিত হয়েছিলো সে কথা এখন আর আমি বলতে চাই না, অতীতের কথা সেটাসত্যিই সেদিন রাতে তারা আক্রমণ করলোপাকিস্তান আমলেই আমার নিজের রিভলবার ছিলোবন্দুকও ছিলোআমি ঐ দুটা নিয়ে রান্না ঘরে গিয়ে বসে থাকলাম-এ কথা ভেবে যে,যা হয় হবে,আমি পালিয়ে যাবো নাকেবল মূল ঘর ছেড়ে পাশেই রান্নাঘরে বসে থাকলামঐ রাতে মুসলিম লীগের পান্ডা ও তাদের দোসররা এসেছিলোপাকিস্তান আর্মি আমাদের এ অঞ্চলে তখনো আসে নাইখুলনা বাগেরহাটে তখনও এসে পারে নাইআমাদের হাতে তখন নেতৃত্ব ছিলোবলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিলোমুসলিম লীগের নেতারাও তখন দমে গেছেতবু আমাকে তারা শেষ করতে পারলে বাগেরহাটে একটা কিছু কর