নাম : শেখ
কামরুজ্জামান
টুকু
পিতা : মরহুম
শেখ মোহাম্মদ
বদিউজ্জামান
গ্রাম : সুনগর, ডাকঘর :
রাখালগাছি
থানা : বাগেরহাট, জেলা :
বাগেরহাট (’৭১-এ
খুলনা জেলার অন্তর্গত
মহকুমা)
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : বি. কম.
১৯৭১ সালে
বয়স : ২৭
১৯৭১ সালে
পেশা : রাজনীতি
বর্তমান
পেশা : ব্যবসা
প্র: ১৯৭০
সালের
নির্বাচন এবং
তার পরবর্তী
ঘটনাপ্রবাহ
সম্পর্কে
আপনি
কি জানেন ?
উ: ১৯৭০ সালে
আমি রাজনীতি
করতাম। খুলনা
জেলা আওয়ামী
লীগের আমি তখন
প্রচার সম্পাদক
ছিলাম। খুলনা
জেলা আওয়ামী
লীগ
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনীরও আমি
জেলা প্রধান
ছিলাম। আমরা
আগে থেকেই বাংলাদেশের
স্বাধীনতার
প্রশ্নে
ছাত্রলীগের
তখনকার নেতা
সিরাজুল আলম
খানের সঙ্গে
বাঙালি
জাতীয়তাবাদের
প্রশ্নে,বাংলাদেশ
প্রশ্নে,বাংলার
স্বাধীনতার
প্রশ্নে আমরা
বেশ ক’বার
আলাপ আলোচনা
করেছিলাম। আমাদের
সাধ্যমতো সেই
সময় প্রস্তুতি
গ্রহণের
চেষ্টাও
করেছিলাম। আমরা ধারণা করতাম
যে এই দেশ
একদিন
স্বাধীন হবে।
নির্বাচনে
আওয়ামী লীগ
সংখ্যাগরিষ্ঠতা
অর্জন করে। নির্বাচনের
পর আমরা
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনী গঠন
করলাম। বিভিন্ন
জায়গায়
জনগণকে
সংঘবদ্ধ
করারও চেষ্টা
করলাম। নির্বাচন
পরবর্তীতে যে
আন্দোলন শুরু
হলো সেই
আন্দোলনে আমি
স্বাভাবিকভাবে
জড়িত হয়ে
পড়লাম। শ্রমিকদের
বিভিন্ন
সময়ের
প্রতিরোধ
আন্দোলনেও
আমি অংশ নিয়েছিলাম। আমি তখন
আন্দোলনের
মধ্যেই ছিলাম। আমরা
আন্দোলনের
মধ্যদিয়ে
সচেতনভাবেই
স্বাধীনতার
পক্ষের
স্লোগানগুলোকে
সামনে নিয়ে এসেছিলাম। যেমন-‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার
আমার ঠিকানা’ ‘বীর
বাঙালি অস্ত্র
ধর বাংলাদেশ
স্বাধীন কর।’ নির্বাচনে
বিজয়ী হওয়ার
পরও সামরিক
শাসক আওয়ামী
লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর
না করায় গণ
আন্দোলন আরো
তীব্রতর হয়।
প্র: ১৯৭১
সালের মার্চ
মাসে আপনার
এলাকার মানুষের
মনোভাব কেমন
ছিলো ?
উ: তখন আমাদের
অধিকাংশ
মানুষই
স্বাধীনতার
পক্ষে পাকিস্তানি
হানাদারদের বিরুদ্ধে
রুখে
দাঁড়াবার
জন্য প্রস্তুত
হচ্ছিলো। দু’চার
জন মানুষ যদিও
এর বিরুদ্ধে
ছিলো। কিন্তু সামান্য
এই
বিরুদ্ধ
শক্তি তখন
তাদের অস্তিত্ত্ব
কোনো রকমেই এ
সমাজে
প্রতিষ্ঠিত
করতে পারেনি।
প্র: আপনি
১৯৭১ সালের ৭
মার্চে
বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর
রহমানের বক্তৃতা
শুনেছিলেন কি ?
উ: হ্যাঁ
শুনেছি। ৭ মার্চের
বক্তৃতায়
তিনি
নির্বাচনের
কথা,পূর্ব
পাকিস্তানিদের
উপরে
অত্যাচারের
কথা,বঞ্চনার
কথা বলেছেন। তারপর
ভাষণের শেষে
এসে বললেন যে, ‘এবারের
সংগ্রাম
স্বাধীনতার
সংগ্রাম,এবারের
সংগ্রাম
মুক্তির
সংগ্রাম’। তিনি আহ্বান
জানালেন,তোমাদের
যার কাছে যা
আছে তাই নিয়ে
শত্রুর মোকাবিলা
করতে হবে।
প্র: ১৯৭১
সালের ২৫
মার্চ
পাকিস্তানি
সামরিক জান্তার
আক্রমণ
সম্পর্কে
আপনি কি জানেন
?
উ: ২৫ মার্চ
রাতে আমরা তখন
খুলনাতে
ছাত্র এবং আমাদের
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনী নিয়ে
শহরে টহল দিচ্ছিলাম। সারা শহরে
শান্তি-শৃঙ্খলা
রক্ষার কাজ
করছিলাম আমরা। কারণ
ইতিমধ্যেই
সরকারী
প্রশাসন নিস্ক্রিয় হয়ে
গেছে এবং
প্রশাসনিক
দায়িত্ব,শান্তি-শৃঙ্খলার
দায়িত্ব
অনেকখানি
আমাদেরকে
পালন করতে
হচ্ছিলো। আমরা ঐদিন
রাতে টহল
দানরত ছিলাম। খালিশপুরে
ফায়ার
ব্রিগেডের
ওখানে ফায়ার
ব্রিগেডের
লোকেরা
আমাদেরকে
থামালো। আমাদের কাছে
কিছু
অস্ত্রপাতিও
ছিলো। ওরা
থামিয়ে বললো
যে,ঢাকাতে
গোলমাল হচ্ছে,আর্মি
ক্র্যাকডাউন
করেছে এবং
তারা মানুষ মেরে
ফেলছে। আর্মির
গোলাগুলির
খবর পেয়ে আমরা
ঐখান থেকে তাড়াতাড়ি
রওয়ানা দেই এই
চিন্তা করে যে, এ বিষয়ে
সিদ্ধান্ত
নেয়ার জন্য
আমাদেরকে
খুলনা আওয়ামী
লীগের
প্রেসিডেন্ট
আবদুল আজিজ
সাহেবের
বাসায় এখনি
যেতে হবে। আমি সবাইকে
নিয়ে সেখানে আসার
আগেই দূর থেকে
দেখি যে, আর্মি তাঁর
বাড়ি ঘিরে
ফেলেছে। তখন আমরা
আওয়ামী লীগ
দলীয় তখনকার
এম. পি. মহসীন
সাহেবের
বাড়িতে গেলাম। তাঁর
বাড়িও দেখলাম
যে আর্মি ঘিরে
রেখেছে। এই অবস্হার
মধ্যে
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনী,কর্মী,ছাত্র-যারা
নেতৃত্বে
ছিলাম তারা ঐ
রাতের মধ্যেই
আওয়ামী লীগ
নেতাদের বাড়ি
ঘেরাও হয়ে
যাওয়ার কারণে
দিশেহারা হয়ে
পড়লাম। পাক
আর্মি ঐ রাতেই
অনেককে ধরে
নিয়ে গেলো। অনেক নেতা
আত্মগোপন
করলো। আমরা
ছাত্ররা যারা
ছিলাম তারা
তখন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত
নিলাম। ঢাকা
থেকে আগেই
আমাদের ছাত্র
নেতৃবৃন্দ
যেভাবে বলে
দিয়েছিলেন
অর্থাৎ আ.স.ম.
আবদুর রব
সাহেব,সিরাজুল আলম
খান সাহেব,শাজাহান
সিরাজ সাহেব
যেভাবে
বলেছিলেন-সেভাবেই
যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি
নেয়া শুরু
করলাম। আমাদের
আগে থেকেই
কিছু কিছু বেআইনী
অস্ত্রপাতি
জোগাড় করা
ছিলো। আমাদের
হাতে কিছু
বোমাও ছিলো। আমাদের
স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনীকে
আমরা কিছু ট্রেনিংও
দিয়েছিলাম। ছাত্রলীগের
‘জয়বাংলা
বাহিনী’কে কিছু
ট্রেনিং দেয়া
হয়েছিলো। আমরা ঐ দিন
রাতেই পাকিস্তানিদের
প্রতিরোধের
জন্য নেমে
পড়লাম। ’৭১-র
মার্চে
অসহযোগ আন্দোলন
চলার সময় থেকে
আমাদের সঙ্গে
একটা জীপ
থাকতো। জীপটা
সবার কাছে
পরিচিত ছিলো। তাই ঐ
জীপটা ফেলে
দিয়ে আমরা এখন
পাইওনিয়ার কলেজ
যেখানে তার
পেছনের বাড়ি
থেকে একটা
গাড়ি ঐ রাতেই
হাইজ্যাক
করলাম। এরপর
আমাদের যেসব
পয়েন্টগুলোতে
আমাদের স্বেচ্ছাসেবক
বাহিনী
ছিলো-তাদেরকে
নিয়ে ঐ রাতেই
যশোরের দিকে
নোয়াপাড়া পর্যন্ত
গেলাম। তারপর
ফুলবাড়ি গেট,ফুলবাড়ি
গেট পার হয়ে
আলি মঞ্জিল পর্যন্ত
অগ্রসর হয়ে
ওখানকার
সাধারণ
মানুষদেরকে
আমরা খবর
দিলাম যে,পাকিস্তানিরা
অ্যাটাক
করেছে,এখনই
ব্যারিকেড
তৈরী করতে হবে। ওরা সবাই রাস্তাঘাট
কাটা আরম্ভ
করে দিলো। রেললাইন
উপড়ানো শুরু
হয়ে গেলো। আমি
শ্রমিক-জনতাকে
পাকিস্তানি
হামলার খবর
দিয়ে ফিরে
আসার পথে
বর্তমান নিউমার্কেটের
একটু এপাশে
যখন এসেছি-তখন
আমার গাড়িটা
আর্মি পযধংব
করলো। আমরা
খুব দ্রুত
হাইজ্যাক করা
আমাদের সেই
গাড়িটা
চালিয়ে নিয়ে
এসে এক জায়গায়
গাড়িটা ফেলে রেখে
পায়ে হেঁটে
টিভি সেন্টার
ক্রস করে রোডে
উঠলাম। এ
ভাবেই রাত ভোর
হয়ে গেলো।
পরের
দিন ২৬ মার্চ। আমাদের যে
বিল এলাকা
ছিলো সেখানে
আমরা যোগাযোগ
করে যাদেরকে
পেলাম তারা
একত্রিত হলাম
ঐ বিল এলাকায়। আমরা একটা
সভা করলাম। সেখানে
আওয়ামী লীগের
এখানকার নেতা
বারী সাহেব,উনি
ছিলেন,ন্যাপ নেতা
আমাদের জামান
সাহেব উনার
পুরো নাম কাজী
শামসুজ্জামান,উনি
ছিলেন। আমি
ছিলাম,ছাত্রলীগের
নেতৃবৃন্দ
ছিলো। আমরা
সবাই ঐ বিলে
গিয়ে
উঠেছিলাম। তারপর
বাচ্চুদের
বাড়িতে বসে
আমরা মিটিং
করলাম। ঐ
সভায় একটা
কমিটিও গঠন
করলাম
যুদ্ধকে
সংগঠিত করার
ক্ষেত্রে দায়িত্ব
পালন করার
জন্য। আমরা
এখানকার
ইপিআর,আনসার,পুলিশের
সঙ্গে
যোগাযোগ
করলাম এবং
অস্ত্র জোগাড়
করার চেষ্টা
করলাম। আমরা
২৬ মার্চ
রাত্রিবেলা
আমাদের
সংগৃহীত অস্ত্র
দিয়ে খুলনার
সার্কিট
হাউজে আক্রমণ
পরিচালনা
করলাম যেখানে পাকিস্তানিরা
ছিলো। ঘন্টা
দুয়েক আমরা
গোলাগুলি
করেছিলাম। ওখানে যে
আর্মি ছিলো
তারা বের হয়নি,ভেতরেই
ছিলো সারা রাত। এই আক্রমণ
ছিলো
বিচ্ছিন্ন,উদ্দেশ্যহীন। ২৭ তারিখে
বয়রায় আমাদের
সঙ্গে পাকিস্তানিদের
সংর্ঘষ হলো। ২৮ মার্চ
তারিখের দিকে
দেখা গেলো যে, খুলনা
শহর পাকিস্তানিদের
নিয়ন্ত্রণে
চলে গেছে। আমরা তখন
নদীর ওপারে
চলে গেলাম,রূপসা
নদীর ওপারে। তখন শহর
থেকে লোকজন
বেরিয়ে
যাচ্ছে
গ্রামের দিকে। হাজার
হাজার মানুষ
সব বেডিংপত্র
নিয়ে যার যা সম্বল
ছিলো তাই নিয়ে,ঘরে
তালা দিয়ে
বেরিয়ে পড়েছে
নিরাপদ
আশ্রয়ের আশায়। আমরা
ছাত্রদের
সংগঠিত করলাম
রূপসা নদীর
ওপারে গিয়ে। ওখানে
কিছু পুলিশের
লোক,কিছু
আনসারের লোক, কিছু
ইপিআর
বাহিনীর লোক
আমাদের সাথে
যোগ দিলো। ওখানে বসেই
আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি
নিলাম। যুদ্ধ
প্রস্তুতির
প্রথম পর্বেই
আমরা দু’শোর ওপর
রাইফেলও
যোগাড় করে
ফেললাম। আমাদের
ট্রেনিং চলতে
থাকলো। এ
সময় বরিশাল
থেকে মেজর এম.
এ. জলিল আসলেন
বাগেরহাটে। উনার সাথে
আমরা দেখা
করলাম। দেখা
করার পর উনি
আমাদেরকে
খুলনা রেডিও
সেন্টার দখল
করার একটা
পরিকল্পনার
কথা বললেন। তো উনি
আর্মির মানুষ
আমরা তখন
যুদ্ধবিদ্যায়
পারদর্শী নই। আর্মির
লোক হিসাবে
আমরা তাঁর
নির্দেশ বা
পরিকল্পনা
গ্রহণ করলাম
এবং সেখানে
আমরা যুদ্ধের
জন্য এলাম। সুবেদার
মেজর জয়নাল
আবেদীন এলেন। বাগেরহাটে
বসেই মূল
পরিকল্পনা
তৈরি করা হলো।
আমরা
গল্লামারীতে
খুলনা রেডিও
সেন্টার আক্রমণ
করলাম। ঐদিন
আমাদের
কয়েকজন শহীদ
হলো। আমরা
রেডিও ষ্টেশন
দখল করতে পারি
নাই। পাক
আর্মির সাথে
সেই যুদ্ধে
আমাদের
কয়েকজন শহীদ
হলো
এবং আমরা
কিছু
অস্ত্রপাতিও
হারিয়ে ফেললাম। আমরা
ইতিমধ্যে যে
শক্তি সঞ্চয়
করেছিলাম সেটা
প্রায় ধ্বংস
হয়ে গেলো ঐ
যুদ্ধে। কারণ পাক
আর্মির সাথে
সরাসরি যুদ্ধ
করার অভিজ্ঞতা,অস্ত্রশস্ত্র,সামর্থ্য,ট্রেনিং
কোনোটাই
আমাদের ছিলো
না। আমরা
বাগেরহাটে
ফিরে গেলাম। বাগেরহাটেও
আর্মি গেলো। আমরা
প্রতিরোধের
চেষ্টা করলাম। সেখানে
একটা খন্ড
যুদ্ধ হলো। এ সময়
বাগেরহাট
জেলা আওয়ামী
লীগের
সেক্রেটারি
রিয়াজুর
রহমানকে [?] বাগেরহাট
থানা আটক করলো। আমরা থানা
থেকে তাকে
ছিনিয়ে আনার
জন্য থানা আক্রমণ
করলাম। এ
প্রক্রিয়ায়
আমাদের সাথে
ছিলেন
বাগেরহাটের
রফিকুল ইসলাম
খোকন। উনি
যদিও তখন
ভাসানী
ন্যাপের লোক, কাজী
জাফরদের সাথে
ছিলেন। তিনি
প্রস্তুতি
গ্রহণ
করেছিলেন আগে
থেকেই। ওনাদের
সাথে একত্রে
আমরা থানা
আক্রমণ করি। এ আক্রমণও
আমাদের সফল
হয়নি। আস্তে
আস্তে আমাদের
অস্ত্রপাতি
নষ্ট হয়ে গেলো। আমাদের
অস্ত্রপাতি
রক্ষা করতে
পারলাম না। যুদ্ধে
নেতৃত্ব
দেবার মতো
যোগ্যতা
আমাদের তখন
ছিলো না। ঐ সময় খবর এলো
যে,ভারতে
ট্রেনিং এর ব্যবস্হা
হয়েছে। বাগেরহাট
থেকেই আমি
কোলকাতা চলে
গেলাম।
কোলকাতা
থেকে আমি
ট্রেনিং-য়ে
চলে গেলাম। ট্রেনিং
শেষে সেখান
থেকে
ব্যারাকপুর
ফিরলাম। ট্রেনিং হলো
দেরাদুনে। আমরা মুজিব
বাহিনীতে
জয়েন করলাম
বি.এল.এফ. নামে। সিরাজুল
আলম খান,তোফায়েল
আহমদ,আবদুর
রাজ্জাক
প্রমুখের
তত্বাবধানে
এবং ইন্ডিয়ান
আর্মির
জেনারেল
ওবানের
নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান
আর্মিরই একটা
অংশ আমাদের
ট্রেনিং-এর ব্যবস্হা
করে। প্রায়
দেড় মাস পৌনে
দুই মাসের মতো
আমরা দেশের
বাইরে ছিলাম। ট্রেনিং
নিয়ে যখন দেশে
ফিরে
আসলাম-তখন
দেখলাম যে
রাজাকাররা সব
জায়গায় ঘাঁটি
করে ফেলেছে। দেখলাম
বিভিন্ন
জায়গায়
জনগণের মনোবল
অনেকটা ভেঙে
পড়েছে। অধিকাংশ
মানুষের মৌন
সমর্থন
থাকলেও অনেকে
আবার পাকিস্তানিদের
দালালেও
পরিণত হয়েছে। ফেরার পথে
মুড়োগাছা
নামে এক
গ্রামের একটা
গ্রুপ যারা
ট্রেনিংয়ের
জন্য
গিয়েছিলো-তাদেরকে
ওখানে আমরা না
রেখে আমাদের
সাথে নিয়ে
আসলাম। মুজিব
বাহিনীর মূল
যুদ্ধ কৌশল
ছিলো অঞ্চলকে সংগঠিত
করা,অঞ্চলের
মানুষকে
ট্রেনিং
দেওয়া,অঞ্চলের
মানুষদের
রাজনীতি
সচেতন করা, ব্যবস্হাপনার
জন্য বা সংগঠন
পরিচালনার
জন্য গ্রাম
কমিটি গঠন করা
এবং গ্রাম
কমিটির হাতে
গ্রামের ব্যবস্হাপনা
তুলে দিয়ে
তাদের
মাধ্যমে
সাহায্য
সহযোগিতা
নেওয়া। এ
ভাবেই আমরা
এগুচ্ছিলাম। এ ভাবে
এগুতে এগুতে
এক সময় আমরা
দু’একটা
ছোট খাটো
সংঘর্ষে
জড়িয়ে পড়লাম। পাকিস্তানিদের
দ্বারা
যেখানে আক্রান্ত হয়েছি
সেরকম দু’একটা
সংঘর্ষ ছাড়া
প্রথম দেড় দুই
মাস আমরা কোনো
যুদ্ধ করিনি।
আমরা শ্যামনগর,আশাশুনি,কালিগঞ্জ,দেবহাটা,সাতক্ষীরা,তালা,পাইকগাছা,ডুমুরিয়া,
বৈঠাঘাটা,দাকোপ,রামপাল
এবং শরণখোলা
অঞ্চলে আমরা
৮০টা মতো
ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা
করতে
পেরেছিলাম। এ সমস্ত
অঞ্চলেই আমরা বাস
করছিলাম,খাচ্ছিলাম
দাচ্ছিলাম
আবার জনগণের
মধ্যে মিশে
গিয়ে জনগণকে
সংগঠিত করে,জনগণকে
দিয়ে রাত্রে
ডিউটি করিয়ে,খাবার-দাবার
ইত্যাদির ব্যবস্হা
করিয়ে,জনগণকে
ট্রেনিং দিয়ে
এবং এ সব
অঞ্চলে যারা
পাক আর্মির
সাথে
সহযোগিতা
করতে পারে বা
করছিলো তাদেরকে
নিশ্চিহ্ন
করে ফেলা বা
আত্মসমর্পণ
করানো ছিলো এই
পর্বের কাজ। এর পরে
আমরা
আক্রমণাত্মক
অভিযানে নামি। ডিফেন্সিভ
পর্ব পার হয়ে
আক্রমণাত্মক
অভিযানে যখন
আমরা নামি তখন
প্রথম
আক্রমণটা করি
পাইকগাছা
রাজাকার
ক্যাম্পে। এটা অক্টোবর
মাসের কোনো
একটা সময়ে। আমার
তারিখটা ঠিক
মনে নেই। আমি বি.এল.এফ.-এর
জেলা
কমান্ডার
ছিলাম।
এই যুদ্ধে আমি নিজে সক্রিয়ভাবে উপস্হিত ছিলাম। পাইকগাছা আক্রমণের পর আমরা বড় আড়িয়া রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করলাম। বড় আড়িয়া রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করার পর ঐ অঞ্চল প্রায় একটা মুক্ত এলাকার মতো হয়ে গেলো। শুধু কপিলমনির শক্ত রাজাকার ক্যাম্পটা থাকলো। ক্যাম্পটা বেশ বড় ছিলো। ওখানে রাজাকার ছাড়াও পাক আর্মি ছিলো। আমরা চিন্তা করলাম বি.এল.এফ. ছাড়াও আরও যারা মুক্তিযোদ্ধা ঐ অঞ্চলে ছিলো তাদেরকে সংগঠিত করে একত্রে আমরা যুদ্ধে যেতে চাই। নেভীর রহমত উল্লাহ সাহেব ওখানে ছিলেন। স. ম. বাবর আলী সাহেব একটা গ্রুপ তৈরি করে সেখানে ছিলেন। অবশ্য যুদ্ধের প্রথম দিকে স. ম. বাবর আলী আমার সাথেই ছিলেন। আমরা খুলনাতে যখন প্রথম প্রতিরোধ তৈরী করি