নাম : শ্রী খগেশ্বর রায়

পিতা : মৃত মহেশ্বর রায়

গ্রাম : গণিপুর,

ডাক : খজাপুর,

ইউনিয়ন : এলুয়ারি

থানা : ফুলবাড়ি,

জেলা : দিনাজপুর

শিক্ষাগত যোগ্যতা : এইচ. এস. সি.

১৯৭১ সালে বয়স : ২০/২১

১৯৭১ সালে পেশা : ছাত্র,

বর্তমান পেশা : কৃষিকাজ

 

 

 

প্র: ১৯৭১ সালে আপনি কি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ?

 

উ: না,আমি আক্রান্ত হই নাই

 

প্র: আপনার এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ শুরু করলে আপনি কি করলেন ?

 

উ: আমি এখান থেকে ভারত চলে যাইতারপর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করিআমি ভারতে যাইয়া প্রথম শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করিওখান থেকে আমি চলে যাই গঙ্গারামপুর ইয়ুথ ক্যাম্পেতারপর হায়ার ট্রেনিংয়ে চলে যাই আবার শিলিগুড়িতেওখান থেকে ফিরে আসি তরঙ্গপুরেতরঙ্গপুরে আমাদের নামে আর্মস অ্যামুনিশন ইস্যু করা হয়ওখান থেকে আমরা আবার চলে আসি বলাহারেবলাহার থেকে আমাকে পাঠাইলো সিডি বন্দর এলাকায়এটা পার্বতীপুরেপার্বতীপুর এলাকার মধ্যে যুদ্ধ করার জন্য ওখানে আমাদের ১১ জনকে পাঠাই দিলোআমাদের পার্টির প্রধান ছিলো রায়পুরের সাইদুর রহমানবর্তমানে সে একটা রাইস মিলের মালিকএখনও বেঁচে আছেনআমরা মলত ঐ এলাকায় যুদ্ধ করেছিলামআমি যুদ্ধ করেছি পার্বতীপুরের শ্রীমঙ্গল এলাকায়, মাঝে মধ্যে ফুলবাড়িতেও আসছিলামবেজাই মোড়েও যুদ্ধ করছিলামওখানে আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় ভারতের ৯ জন সৈন্য মারা যায়এটা সম্ভবত:  ডিসেম্বরের ঘটনা

 

প্র: ১৯৭১-এর কোনো স্মরণীয় ঘটনা আপনার মনে আছে কি ?

 

উ: হ্যাঁ,স্মরণীয় ঘটনা মনে আছেআমরা তিনজন মুক্তিযোদ্ধা গেছিলাম একটা ব্রিজ উড়ানোর জন্যসিডি বন্দর ব্রিজযখন আমরা ঐ ব্রিজে এক্সক্লুসিভ ফিট করছিলাম তখন খান সেনারা আমাদের উপসি'তি টের পায়টের পাওয়াতে আমাদের উপর তারা গুলি বর্ষণ শুরু করেতখন ওখান থেকে আমরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে চলে আসতে সক্ষম হইআমরা আর পারি নাই পুলটা উড়াইতে

 

প্র: আপনার এলাকায় কখন পাকিস্তানি সৈন্যরা আক্রমণ করলো ?

 

উ: আমাদের এলাকায় পাকিস্তানিরা আক্রমণ করলো বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠি মাসের দিকেওরা গাড়ি নিয়া আসি বাড়িঘর,স্কুল,কলেজ,সব জ্বালাই পুড়াই দেয়া আরম্ভ করলোযেখানে বাঙালিদের দেখতে পায় গুলি বর্ষণ করে,নারী নির্যাতন করেআমার এলাকায় তারা নারী নির্যাতন  বেশি করেএ দিকে বেজাই মোড়ের পূর্বপাড়ায় প্রায় এক দেড়শো নারী পুরুষ খানেরা মারি ফেলে

 

প্র: সেই সময় আপনার পরিবারের কেউ শহীদ হয়েছিলো কি ?

 

উ: না,কেউ শহীদ হয় নাইআমরা তো তার আগেই ভারতে আশ্রয় নিছিলাম

 

প্র: আপনার এলাকায় কখন থেকে মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা শুরু হয় ?

 

উ: তৎপরতা মানে,এটা তো শুরু হয় আমরা ট্রেনিং নিয়া ফিরে আসার পরশ্রাবণ মাস থেকে বোধহয় এটা শুরু হয়েছে

 

প্র: তখন মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনোভাব কেমন ছিলো ?

 

উ: জনগণের মনোভাব ছিলো যে,মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করতে পারবে কি নাখান সেনাদের দেশ থেকে তাড়াতে পারবে কি নাপ্রথম দিকে জনগণ যথেষ্ট সন্দেহের মধ্যে ছিলো

 

প্র: আপনার গ্রাম বা এলাকায় রাজাকার কারা ছিলো ?

 

উ: রাজাকার তো বহুত ছিলোশিবপুরে ছিলোখজাপুরে আম্বিয়া ছিলো,তারপর আরও অনেকে ছিলোএদের নাম এখন আমার মনে নাইএই এলাকায় বহু রাজাকার ছিলো

 

প্র: শান্তি কমিটিতে কারা ছিলো ?

 

উ: শান্তি কমিটি এখানে ছিলো না

 

প্র: এ সকল স্বাধীনতা বিরোধীদের স্বাধীনতার পর ধরা হয়েছিলো কি ?

 

উ: না,তাদের ধরা হয়নিতারা বর্তমানে গ্রামেই আছেনিজ নিজ এলাকাতেই আছেঅনেকে কৃষিকাজ করে

 

প্র: যুদ্ধ শেষে গ্রামে ফিরে এলাকার অবস্হা কি দেখলেন ? বাড়ি-ঘর,স্কুল-মাদ্রাসা,মসজিদ-মন্দির,ব্রিজ-কালভার্ট ইত্যাদির ?

 

উ: গ্রামে ফিরে আসি দেখি খান সেনারা আমাদের বাড়িঘর জ্বালায়া পোড়াইয়া সব শেষ করে দিছেসব ভিটার মতো পড়ে আছেস্কুল-মাদ্রাসা, মন্দির সব শেষকোনোটাই ভালো ছিলো না

 

প্র: আপনার অস্ত্র কোথায় জমা দিলেন ?

 

উ: অস্ত্র আমি দিনাজপুর জমা দিছিসেখানে অস্ত্র জমা দিয়া বাড়ি আসি

 

 

 

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর নাম : আবদুল কাইয়ুম

সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ : নভেম্বর ০৪. ১৯৯৬

ক্যাসেট নম্বর : ৭৫-৭৬