নাম
: ভূপেন্দ্র
নাথ মন্ডল
পিতা
: শ্রী
গোবিন্দচন্দ্র
মন্ডল
গ্রাম
: গোকুল,
ডাক
: মেলাবাড়ি
থানা
: ফুলবাড়ি,
জেলা
: দিনাজপুর
শিক্ষাগত
যোগ্যতা : সপ্তম শ্রেণী
১৯৭১
সালে পেশা : কৃষিকাজ,
বর্তমান
পেশা : কৃষিকাজ
১৯৭১
সালে বয়স : ২০
প্র:
আপনার এলাকায় কখন
পাকিস্তানিরা
আক্রমণ করলো ?
উ: ২৫শে মার্চের
পরে এবং এপ্রিলের
প্রথম দিকে।
প্র:
পাকিস্তানিরা
কিভাবে আক্রমণ
করলো ?
উ: পাকিস্তানিরা
ফুলবাড়িতে ক্যাম্প
করেছিল। সেই ক্যাম্প থেকে
তারা গ্রামে গ্রামে
যেত।
বাঙালিদের
যদি রাস্তঘাটে বা
হাটে বাজারে নাগাল
পাইত তাহলে নির্মমভাবে
হত্যা করতো। গ্রামের মানুষদের
ধরে নিয়ে সারিবদ্ধ
করে তারা গুলি
করে মেরে ফেলতো। আমার বাড়ির
তিনমাইল পশ্চিমে
বড়াইহাট নামক স্হানে
দুইশত লোককে লাইনে
দাঁড় করিয়ে পাকিস্তানিরা
গুলি করে হত্যা
করেছে।
প্র:
আপনার এলাকায় কখন
থেকে মুক্তিবাহিনীর
তৎপরতা শুরু হয় ?
উ: মে-জুনের
দিকে।
প্র:
তখন মুক্তিবাহিনী
সম্পর্কে জনগণের
মনোভাব কেমন ছিল
?
উ: মুক্তিবাহিনীর
প্রতি জনগণের মনোভাব
খুবই ভাল ছিল
প্র:
আপনার গ্রাম বা
এলাকায় রাজাকার
কারা ছিল ?
উ: আমাদের
গ্রাম হিন্দু প্রধান
গ্রাম। সে জন্য
আমাদের গ্রামে
কোন রাজাকার ছিল
না। তবে পার্শ্ববর্তী
গ্রামে রাজাকার
ছিল।
প্র:
শান্তি কমিটিতে
কারা ছিল, তারা এখন
কোথায় ?
উ: তারা এখন
গ্রামেই বসবাস
করছে।
প্র:
এই সকল স্বাধীনতা
বিরোধীদের ধরা
হয়েছিল কি ?
উ: না, হয় নাই। স্বাধীনতার
পর তারা ২/৩ মাস
আত্মগোপন করে থাকে। তারপরে বঙ্গবন্ধু
দেশে ফিরে তাদের
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা
করলে তারা প্রকাশ্যে
বের হয়ে আসে।
প্র:
আপনি কোন কোন এলাকায়
যুদ্ধ করেছেন ?
উ: আমি হামজাপুর, খানপুর, ধর্মপুর, রামসাগর
এলাকায় যুদ্ধ করেছি।
প্র:
আপনি কত নম্বর
সেক্টরে ছিলেন
?
উ: আমি সাত
নম্বর সেক্টরে
ছিলাম। এফ. এফ.
হিসেবে।
প্র:
যুদ্ধের দু’একটি স্মরণীয়
ঘটনা আপনার জানা
আছে কি, তাহলে বলুন
?
উ: হ্যাঁ, আছে। দেশ স্বাধীন
হবার কয়েকদিন আগে
খানপুর এলাকায়
আমরা যখন যুদ্ধ
করি, তখন
ভারতের আর্মিও
আমাদের সংগে ছিল। যুদ্ধে পাকিস্তানিদের
হাতে ১১জন ভারতের
সৈন্য ধরা পড়ে। তারপরে ভারতের
আর্মির সঙ্গে আমরা
মুক্তিযোদ্ধারা
দিনাজপুর শহর ঘেরাও
করে রাখি। প্রথম দিন আমরা
দিনাজপুর ঘেরাও
করতে পারি নাই। পরের দিন রাত্রে
আমরা ঘেরাও করি। কিন্তু আমাদের
পক্ষে ভারতীয় সৈন্য
উদ্ধার করা সম্ভব
হয় নাই। তার
পরেরদিন বেলা ৮/৯টার
দিকে দিনাজপুর
স্বাধীন হয়ে যায়। পরে শুনলাম, তাদেরকে
পাকিস্তানিরা
হত্যা করেছে। এ সময় আর একটি
দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। দিনাজপুর স্বাধীন
হবার পর আমাদের
কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা
ভারতীয় আর্মির
মোটর গাড়িতে দিনাজপুর
শহরে যাবার সময়
মাইন বিস্ফোরণে
আহত হয়ে পরে মারা
যায়।
রাস্তায়
মাইন পোতা ছিল। মাইনের উপর
নিয়ে মোটর গাড়ি
যাবার সময় সেটা
বার্ষ্ট হয়। কয়েকজন ভারতীয়
সৈন্যও আহত হয়। তবে তাদের
কেউ মারা গেছে
কিনা জানি না।
প্র:
যুদ্ধ চলাকালে
আপনি খান সেনাদের
হাতে কখনো আক্রান্ত হয়েছিলেন
কি ?
উ: না, আমি হই নাই। তবে আমার দলের
লোক হয়েছে।
প্র:
যুদ্ধের শেষে গ্রামে
ফিরে এলাকার অবস্হা
কি দেখলেন ?
উ: দেশ স্বাধীন
হলে আমি ছুটি নিয়ে
বাড়িতে আসি। এসে দেখি আমাদের
ঘরবাড়ি সব ধ্বংস
হয়ে গেছে। কোন ঘরবাড়ি ছিল
না। পরে সেখানে
কোনরকমে আমরা এক
বছর মাথা গুঁজে
থাকি। তারপরে
বাড়িঘর করেছি।
প্র:
যুদ্ধের শেষে আপনার
অস্ত্র কি করলেন
?
উ: অস্ত্র আমরা জমা
দিয়েছি।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী
: ভবেন্দ্রনাথ
বর্মণ
সাক্ষাৎকার গ্রহণের
তারিখ : অক্টোবর ১৮, ১৯৯৬
ক্যাসেট
নম্বর : ৭